সারাদেশ
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
১৯ দিন আগে
কুমিল্লার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এবং উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে পৃথক সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন— চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারুক (২৫) এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার ভরাইতলী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে বাতিসা এলাকার রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী মো. ফারুককে একটি অজ্ঞাতনামা লরি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
অপরদিকে, প্রায় একই সময়ে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় কারখানা শ্রমিক মিজানুর রহমানকে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি এসে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
২০ দিন আগে
শরীয়তপুরে পদ্মায় ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির হাত-পা
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা কেদারপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা-সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে জোয়ারে ভেসে আসা একটি ব্লকের সঙ্গে আটকে থাকা সাদা রঙের পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিব্যাগটি খুলে দেখতে পায়, সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির দুটি হাত কনুই পর্যন্ত এবং দুটি পা হাঁটু পর্যন্ত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অঙ্গগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিব্যাগের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডি ফরিদপুর টিমকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২০ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাটিতে পুতে রাখা মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উজ্জ্বল শেখকে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় উজ্জ্বল নামের এক ভাটা শ্রমিককে সন্দেহ করছেন তিনি। এর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালিশও হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এ সময় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুতে রাখা মানুষের পা বাইরে বের হয়ে আছে। সেখানে কয়েকটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দিয়ে আনা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা। এর বিপরীত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের হাকিম উল্লাহর।
তিনি বলেন, ‘পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেয়। গ্রামের লোকজন এর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন, মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমি মাপার আমিনদের এনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে হওয়ায় সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।
২০ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল ২০ শিশু
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে ২০ বাংলাদেশি শিশু।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে শিশু ও ৭ জন ছেলে শিশু রয়েছে।
ফেরত আসা শিশুরা যশোর,নড়াইল, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে তারা অবৈধপথে দালালের মাধ্যমে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের পশ্চিবঙ্গে গিয়েছিল। সেখানে তাদের বাবা-মা বাসা বাড়িতে ও মাঠে কাজ করতেন। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে পুলিশের হাতে আটক হয় তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের কিশোলয়-সুরকন্যাসহ ৭টি শেল্টারহোমে তাদের রাখা হয়। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় তারা দেশে ফিরে।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে তিনটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান ওসি শাখাওয়াত হোসেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, মহিলা আইনজীবী সমিতি ও রাইটস যশোর নামে তিনটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারত ফেরত শিশুদের আজ (বৃহস্পতিবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর।
২১ দিন আগে
রেলে বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রেলওয়ের লাইন, সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শুধু লোকোমোটিভ (স্বচালিত রেলযান) ও কোচ পরিচালনায় বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করা গেলে লোকোমোটিভ এবং কোচ আমদানির সময় সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব হবে। সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য এবং রেলের সমস্যাগুলো দূর করতে আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের শহীদ শাহাবউদ্দিন হলরুমে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মাত্র তিন মাস হয় সরকারে এসেছে। আমাদের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলোকে উত্তরণ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই, কারণ জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমাদের রেলের লোকোমেটিভ, ইঞ্জিন, কোচ এগুলোর স্বল্পতা রয়েছে। রেলের যে সমস্যাগুলো রয়েছে আমাদের সক্ষমতা সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমরা এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্ঠা করছি।
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটসহ সারা বাংলাদেশে ডুয়েলগেজ ডবল রেল লাইন, ঢাকার সঙ্গে নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা, ময়মনসিংহ স্টেশনের আধুনিকায়ন ও রিমডেলিং, যানজট নিরসনে লেভেল ক্রসিংগুলোর আধুনিকায়ন, বন্ধ লোকাল ট্রেন চালুকরনের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ, ইঞ্জিন সঙ্কট দূরীকরণসহ যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করার বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।
ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মতবিনিময়ের আগে সিটি করপোরেশনের নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। এর আগে, মন্ত্রী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ফুটওভার ব্রিজের স্থান ও বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলুসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযাগ, রংপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসকের অবহেলায়’ দুর্ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার খেজমতপুর বাজার এলাকায় হাইওয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হন আব্দুর রউফ (৮০) নামের এক পথচারী। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ডা. নাজমুন নাহার ও কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম সময়মতো চিকিৎসা দেননি। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় অবহেলায় ফেলে রাখার কারণেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। আমাদের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক।
২১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ সাত বছরের শিশু মুন্নাও মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শিশুটি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মুন্নার বোন কথার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাত বছর বয়সী এ শিশুটিরও শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাবা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং বড় মেয়ে মুন্নি (১০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিশু সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই কক্ষের তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমা হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
২১ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ খুন: আসামি ফোরকানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত নয় পুলিশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কিনা—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জিএমপির পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফোরকান মোল্লা।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকারচালক ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৮ মে রাতে চাকরির কথা বলে শ্যালক রসূল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নিহত শারমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মোল্লা পলাতক ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান মেহেরপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এক ট্রাক সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকা থেকে একটি মোবাইল কুড়িয়ে পান। ওই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কিছুক্ষণ পর নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা কি না, কিংবা তিনি মারা গেছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
২১ দিন আগে
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপে ব্ল্যাকমেইল, আটক ৩
হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাউফল উপজেলার বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আজাহার খান, কবির হোসেন ও যুবলীগ নেতা রাসেল তালুকদারসহ তিনজনকে আটক করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পটুয়াখালী শহরের বনানী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হানি ট্র্যাপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা একজন চাকরিজীবীর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে