সারাদেশ
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩২ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ২৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১০২ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ডা. গোলাম মাওলা জানান, গত ৫ মে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৫ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৩১৭টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮৩টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৩২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
বদলগাছীর ৪০ মণের ‘সোনামানিক’, দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ
আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকৃতির গরু নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘সোনামানিক’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। প্রায় ৪০ মণ ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
উপজেলার আধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফরের বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের ষাঁড়টি। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছে সেটি ছোটখাটো পাহাড়ের মতো মনে হয়। কালো ও লাল রঙের মিশেলে গড়া গরুটির শক্তপোক্ত গঠন সহজেই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
মালিকের দাবি, নেপলিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় দেড় হাজার কেজি, অর্থাৎ ৪০ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউবা আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করছেন।
গরুর মালিক আবু জাফর বলেন, ‘সোনামানিককে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করেছি। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া খাইয়েই প্রায় চার বছর ধরে লালনপালন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে যাচ্ছেন।
গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করবেন বলে জানান আবু জাফর।
স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু জানান, প্রতিবছরই আবু জাফরের পরিবার বড় আকৃতির গরু পালন করে থাকেন। তবে এবার ‘সোনামানিক’ আকার ও ওজনের কারণে আলাদা করে সবার নজর কেড়েছে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি গতকাল ষাঁড়টি দেখতে আবু জাফরের বাড়ি গিয়েছিলাম। ষাঁড়টির ওপর নজর পড়তেই মনে হলো কোনো হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সেলফি তুললাম, ভিডিও করলাম আমার কাছের বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজন দেখানোর জন্য।’
বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় ৫৪ হাজার ৮২০টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আধাইপুর ইউনিয়নের ‘সোনামানিক’ নামের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে। মালিক যেন ন্যায্যমূল্য পান, সেটিই আমার প্রত্যাশা।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সোনামানিককে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত গরুটি কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
২১ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
২১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে: প্রতিমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা শুনে আহতের চিকিৎসার খবর নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাট জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
দগ্ধরা হলেন— নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০)।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত আহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ এবং চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুরে ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ ক্যান্টিনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে উপস্থিত প্রায় ১২ জনের হাত, মুখ ও পা পুড়ে যায়। পরে সহকর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, বুধবার দুপুরে ১২ জন দগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের দগ্ধের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়া তিনজনকে আইসিইউ এবং এইচডিইউতে রাখা হয়েছে।
২১ দিন আগে
গাজীপুরে দুই দশক আগে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই দশক আগের এক হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান আসামি আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামি আহাদকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবুলকে এক বছরের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ায় বাকি আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলে। তিনজনকে দণ্ডিত করা হলেও অন্য সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন।
মামলার বাদী কামরুল হাসান জানান, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মানিক মন্ডলকে। এ ঘটনায় বাদীসহ আরও পাঁচজন আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাদীপক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
২১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ঝরল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারির সঙ্গে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করেন খাদেমুল হক। এ সময় বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।
সহযোগীদের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন খাদেমুল। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট বিজিবির ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২১ দিন আগে
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে আহত রেশমী মারা গেছে
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমী আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
গত ৭ মে রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহিদ মিনার গলিতে সশস্ত্র হামলায় রাজু নামে এক যুবক নিহত হন। ওই সময় বাসার বাইরে দোকানে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয় শিশু রেশমী। একটি গুলি তার বাঁ চোখে লাগে।
প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত শুক্রবার থেকে সে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
এ ঘটনায় নিহত রাজুর মা সকিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৈয়দুল করিমকে কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।
২১ দিন আগে
গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধা, ১৪ মে (ইউএনবি)— গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে সংক্রমিত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন না থাকায় এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ইয়াসমিন সুলতানা (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ইয়াসমিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ির বাসিন্দা।
কঞ্চিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুর কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এতে অন্তত ২ শিশু ও ২ নারীসহ ১৩ জন আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিনের জন্য নিয়ে আসা হয়, কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দোকান থেকেও অনেকের ভ্যাকসিন কেনা সম্ভব হয়নি। এরপর তারা রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আক্রান্তদের মধ্যে জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেয়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া মারা যান। ৮ মে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আফরোজা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) মারা গেছেন ইয়াসমিন নামের এক নারী। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রমেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে সোমবার প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ৫ জনের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও যারা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
নতুন জীবনে পা রাখলেন কুড়িয়ে পাওয়া সেই ছোট্ট শিশু স্বপ্না
মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে অসহায় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুকে। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে না পারা সেই শিশুটির চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের শঙ্কা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই শিশুই আজ নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন।
স্বপ্না আক্তার নামের সেই তরুণী বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ তার নতুন জীবনের সূচনা করে দিল।
বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আবেগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। এ ঘটনায় উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। ফলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রেই তার বেড়ে ওঠা। এখান থেকেই তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। ২০২৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন বলেন, ‘স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায়, তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।’
জানা গেছে, স্বপ্নার পাত্রও সিলেটের বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি করেন। বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি স্বপ্নাকে সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার দেন। এছাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয় এবং একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ বিয়েতে ১০০ কাপ দই উপহার দেয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।’ তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ ও পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই
২১ দিন আগে
বেনাপোলে যৌথ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ আটক ২
যশোরের বেনাপোলে র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ধান্যাখোলা এলাকায় এ অভিযান চালায় র্যাব-৬ (সিপিসি-৩, যশোর) ও ৪৯ বিজিবির সদস্যরা ।
আটকরা হলেন— বেনাপোল পোর্ট থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের মিনহাজুল (৪৮) এবং একই এলাকার ইমরান হোসেন (৩৪)।
র্যাব সূত্র জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-৬ ও ৪৯ বিজিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ধান্যাখোলা এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরপূর্বক তাদের জব্দকৃত আলামত বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে র্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২১ দিন আগে