সারাদেশ
সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তঃনগর ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আগুন লেগেছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা।
বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টায় সিলেট স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনটি সিলেট স্টেশন থেকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পারাইরচক এলাকায় যাওয়ার পর ইঞ্জিনে ধোঁয়া ও আগুনের ফুলকি দেখা যায়। বিপদ আঁচ করতে পেরে চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। আগুন লাগার পর ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দিলে যাত্রীদের অনেকে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের বগি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক যাত্রী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রেনটিকে নিরাপদ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। টোকাইদের একটি বস্তা ইঞ্জিনের বগির ওপরে রাখায় সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইনসপেক্টর টিটব শিকদার জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিনের সাইলেন্সারের কাছে ভুলবশত কিছু কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। ইঞ্জিন কিছুক্ষণ চলার পর সাইলেন্সার অতিরিক্ত গরম হয়ে কাপড়ে আগুন লাগে। আমাদের তিনটি ইউনিটসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রায় ২০ মিনিট পর ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। আগুনের কারণে ইঞ্জিনের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলেও জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
২১ দিন আগে
কুমিল্লায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ৫৯ হাজার পশু
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় কোরবানির পশু নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় খামার ও পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলায় এবার পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার জেলার কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি। এছাড়া ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৩টি। জেলার অধিকাংশ খামারেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৯২৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বুড়িচং উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৯৪টি, বরুড়ায় ১৭ হাজার ৬৪৭টি, চৌদ্দগ্রামে ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫১৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পশু প্রস্তুত হয়েছে মেঘনা উপজেলায়, সেখানে প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৩২টি। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যাও পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলার বিভিন্ন খামারে এখন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম খামারে গিয়ে পছন্দের পশু কিনে বুকিং দিয়ে রাখছেন। খামারিরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুগুলোর জন্য রেখেছেন বাহারি সব নাম।
কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার নূর জাহান এগ্রো ফার্মের মালিক খামারি মো. মনির হোসেন জানান, তার খামারে এবার ৭২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন আকার ও জাতের এসব গরুর মধ্যে ব্রাহমা ও সাইওয়ালসহ উন্নত জাতের গরুও রয়েছে। খামারের গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী, তুফান, ফাইটার, মামা-ভাগিনা ও এলবুনুর মতো আকর্ষণীয় নামে।
তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা নিয়মিত খামারে আসছেন এবং দরদাম করছেন। যারা আগে কিনে রাখছেন, তাদের গরু ঈদের আগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের খামারে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে।’
কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাসোয়া এলাকার খামারি জামাল হোসেন জানান, তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৪টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা গরুর সংখ্যাই বেশি।
তিনি বলেন, ‘পশুর খাবারের দাম কিছুটা বাড়লেও গরুর বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ক্রেতারা খামারে এসে দেখে যাচ্ছেন এবং কেউ কেউ অগ্রিম বুকিংও দিচ্ছেন।’
সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকার খামারি আব্দুল মমিন মিয়া বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন ও সরকারি প্রশিক্ষণ পাওয়ায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। এবার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘কুমিল্লায় এ বছর কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। খামারিদের উৎসাহ, সরকারি সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদন বেড়েছে।’
তিনি আরও জানান, পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, জেলার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারের প্রবণতা না থাকলেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশি পশু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার খামারিরা এখন বাণিজ্যিক পশু পালনে অনেক বেশি সচেতন। ফলে জেলাটি কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।
২২ দিন আগে
ময়মনসিংহে শাশুড়িকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীকে (৬৫) হত্যার দায়ে তার জামাই সুজিত শীলকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন। ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাসিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর বোর্ড বাজার গ্রামের বাসিন্দা সুজিতের সঙ্গে তার স্ত্রী ইতি রানী শীল ও শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীর পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরে ২০২১ সালে ৬ অক্টোবর রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে সুজিত তার স্ত্রী ইতিকে হত্যার উদ্যেশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় সুজিতের শাশুড়ি বিষয়টি টের পেলে তাকেও দা ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন তিনি।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে জ্যোৎস্না রানী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় ইতির বড় বোন সন্ধ্যা রানী শীল বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন।
২২ দিন আগে
ময়মনসিংহের দুটি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ঘোড়াঘাট নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘোড়াঘাট নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত পানি প্রবেশ করায় আরও বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, সীমান্তবর্তী গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে দুই ইউনিয়নের দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২২ দিন আগে
প্রেমের টানে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায়, এরপর বিষ খেয়ে হাসপাতালে যুবক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। প্রেমের পরিণতি দিতে বিয়ে করতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে এসে মেয়ের বাড়িতে অনশনে বসেন যুবক। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার একপর্যায়ে বিয়েতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় অভিমানে বিষপান করে এখন হাসাপাতালে ভর্তি ওই যুবক।
চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এখন দুই পরিবারের কেউই ওই যুবকের আর কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়।
যুবকের নাম ইলিয়াস সরদার। বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর ধরে টিকটক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ইলিয়াসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায় এক তরুণীর। দুজনের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ইলিয়াস চলে আসেন মেয়ের বাড়িতে। এসে বিয়ের দাবি জানালে একপর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার মানতে নারাজ। উল্টো তার বাবা-মা তাকে বকাবকি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিমানে ওই যুবক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি, কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়েও হচ্ছে না। আমার বাবা-মা না আসায় আমাদের বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাব।
বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামের এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ বের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত, তবে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
আজ (বুধবার) সকাল পর্যন্ত ওই যুবকের পরিবার থেকে কেউ হাসপাতালে আসেনি বলেও জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে ফিরলেন ২ নারী
ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশি দুই নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন— হ্যাপি খান (৪৩) ও মারিয়া হাওলাদর (২৬)। তারা বাগেরহাট জেলার খেজুর বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের নয়া দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তারা দেশে ফেরেন।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ (বুধবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২২ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
২২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
বুধবার (১৩ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২ বছর ৩ মাস বয়সী হাফিজা আক্তার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১ বছর ৪ মাস বয়সী রাইসা জান্নাত এবং ছাতকের ৮ মাস বয়সী আরিয়া জান্নাত। এদের মধ্যে দুজন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (বুধবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছে ১১০ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫০ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে।
কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে।
হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমএ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত ১১ মে থেকে ৩২ শয্যার বিশিষ্ট ‘হাম আইসোলেশন ইউনিট’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ৫ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। সবমিলিয়ে বর্তমানে সিলেটে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর মুনীর রাশেদ বলেন, ‘হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এজন্য শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ হাম আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।’
এদিকে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৭টি শিশু।
২২ দিন আগে
কোরবানির বাজারে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিণত হয়েছে খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ। নারায়নগঞ্জবাসীর আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই মহিষটি। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এলবিনো জাতের মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে সরেজমিনে গিয়ে নানা জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ কোরবানির পশুর পাশাপাশি দেখা মেলে ব্যতিক্রমী এই গোলাপি মহিষের।
সাড়ে তিন বছর বয়সী এলবিনো জাতের মহিষটির মাথার চুল তুলনামূলক বড়। খামারিরা তার নাম দিয়েছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মহিষটির চলাফেরাতেও আছে রাজকীয় ভাব।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়। এর পর থেকে খামারে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। মহিষটি ইতোমধ্যে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে ক্রেতা মহিষটি নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, মহিষটির মাথার সামনের চুল অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় আমরা ওর নাম রেখেছি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাবও তেমন শান্ত। এটি এলবিনো জাতের মহিষ। এ জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। উত্যক্ত না করলে সহজে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না।
ব্যতিক্রমী নাম ও গোলাপি রঙের কারণে প্রতিদিনই খামারটিতে মহিষটি দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
শহরের পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দেখতে আসছে। আমরাও দেখতে এসেছি।’
আরেক দর্শনার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, মহিষটি দেখতে খুবই সুন্দর। চুলগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের মতো।
খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পর বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিদিন দুই বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুষি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাদের খামারে প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্র এখন গোলাপি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রতিদিন অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ মহিষটিকে শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন খামারে। ব্যতিক্রমী মহিষটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার। ৬ হাজার ৫৩৫টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে ১ লাখ ১৩ হাজার। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে আলোচনার কথাও তিনিও শুনেছেন বলে জানান।
২২ দিন আগে
শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত শুরু সকাল ৯টায়
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত উপলক্ষে প্রস্তুত্তিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সভায় সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২২ দিন আগে