সারাদেশ
মিয়ানমার থেকে ফের গুলি, টেকনাফ সীমান্তে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জীম্বংখালী-সংলগ্ন নাফ নদ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলো— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ কামালের ছেলে সোহেল এবং একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে ওবায়দুল্লাহ।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং জীম্বংখালী বিওপির পূর্ব পাশে নাফ নদ-সংলগ্ন কেওড়া বাগানে লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায় সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ। এ সময় হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহর মামা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সোহেলের বাঁ পা ও হাতে গুলি লেগেছে এবং ওবায়দুল্লাহর মাথায় গুলি লেগেছে। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদের প্রায় ৫০০ গজ ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকে সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কের দিন পার করে আসছিল। এখন আবারও সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হলো।
৩৮ দিন আগে
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুজনই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের প্রার্থী।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চরবোরহান এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের ব্যাপারে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে, হাসান মামুনের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরাই প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নিজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত।’ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
৩৮ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘ঢাকা মেইল-২’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে করে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশন ছেড়ে কিছু দূর যাওয়ার পরই ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বগিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে আপ ও ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এই রুটের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
এই বিষয়ে আজ সকালে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, রাতে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ভৈরব বাজার জংশনে পৌঁছে। পরে সামনে অগ্রসর হওয়ার সংকেত পেয়ে জংশনের প্রায় ১৫০ মিটার দূরে গিয়ে ইঞ্জিন থেকে চতুর্থ কোচটি লাইনচ্যুত হয়। এতে স্টেশনের আপ ও ডাউন উভয় লাইন বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই লাইন থেকে ট্রেন সরানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলছে।
৩৮ দিন আগে
ঢামেকে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে রোগীর আত্মহত্যা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে নাজমীন (২০) নামে এক রোগী আত্মহত্যা করেছে। তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাজনীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমীনের মা পারভিন বলেন, ‘দুই মাস আগে আমার মেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম। এরপর গত রবিবার তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছি। আমার মেয়ের স্বামী রায়হানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তার পক্ষে চিকিৎসা সেবার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে মেয়ে আমাকে বলে, “মা তোমাদের আর কষ্ট দেব না। তোমরা আমার মেয়েকে দেখে রেখো।” এর কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে আট তলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে হয়তো তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো যেত। কিন্তু সে যে এমন একটি কাজ করবে, বিষয়টি আমরা বুঝতেই পারিনি।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে পালিয়েছে ছেলে
নেশার টাকা না পেয়ে নিজের বাবা-মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতমাইল হৈবতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আছির উদ্দিন (৭০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া (৬০)। আহত দম্পতি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে আছির উদ্দিনের ছোট ছেলে সাদ্দাম তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম প্রথমে তার বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে বটি দিয়ে দুজনেরই বাঁ হাতে আঘাত করেন। এতে তারা আহত ও রক্তাক্ত হন। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সাদ্দাম পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশীরা আহত আছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের হাতে ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাদ্দামকে আটক করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত যশোর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩৯ দিন আগে
দুই শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ নারীর, গাজীপুরে নিহত ৩
গাজীপুরের পূবাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী ও দুই শিশু নিহত হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া আখাউড়া অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি পূবাইল বাজার (ফাটপাড়) রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি আখাউড়ার দিকে যাওয়ার সময় এক নারী দুই শিশুকে নিয়ে দ্রুত ট্রেনের সামনে চলে যান। এরপর তাদের নিয়ে তিনি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে পাওয়া ভোটার আইডি কার্ড থেকে দেখা যায়, ওই নারীর নাম হাফেজা খাতুন মালা। আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবার নাম মোজাম্মেল হক, বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সোমবাজার এলাকায়।
নিহত দুই শিশুর বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পূবাইল রেলস্টেশন মাস্টার মুসা। তিনি বলেন, পূবাইল বাজার রেলগেটের কাছেই এক নারী দুই শিশুকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে মরদেহ উদ্ধার এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
৩৯ দিন আগে
রাজশাহীতে বাসচাপায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। এছাড়া একজন নারী ও পুরুষের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মুকুল হোসেন (৩৫), মোজাম্মেল হক (৫০), রিফাত হোসেন (৩০), আমিন (৪০) ও দুই শিশু। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পুঠিয়া থেকে হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া নারী ও পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’
ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনার পর বাস চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শককে (এসআই) অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তারা অবরুদ্ধ থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করেনি কারাবন্দি সাদ্দামের পরিবার!
স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো আবেদন করা হয়নি। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ওই সভাপতির প্যারোলে মুক্তির আবেদনসংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।
যশোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনের বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দি সাদ্দামকে বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছিল। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তার পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে কারা ফটকে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে কারাবন্দি সাদ্দাম স্ত্রীকে চিঠি লিখতেন। কারাগারে বন্দি অবস্থায় যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি—এ ধরনের তথ্য মিথ্যা, কারণ যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় মরদেহ কারাগারে এনে দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূ কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালীর বিরুদ্ধে।
৪০ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
খিলগাঁওয়ে বাসা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নিজ বাসায় শাহানুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খিলগাঁওয়ের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় এ ঘটনাটি ঘটে।
পরে অচেতন অবস্থায় শাহানুরকে রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ফারুক।
নিহত শাহানুর রহমান রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বিল গজারিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
নিহতের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি পারিবারিক কারণে কিছুদিন যাবত মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। আজ সন্ধ্যার দিকে কাউকে কিছু না বলে ঘরে গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ করে রাখেন। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় আমরা পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে দেখি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে প্যান্টের কাপড় গলায় পেঁচিয়ে তিনি ঝুলে আছেন। পরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান আমার ভাই আর বেঁচে নেই।’
মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খিলগাঁও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
৪০ দিন আগে