সারাদেশ
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনাঘাট এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন—রামিজুল (১৫), মনির হোসেন (৪৫), বদরুল হুদা (৯), তুহিন শেখ (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২), ওসমান গনি (৩০), আল আমিন (৩০), নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), শংকর (২৫), কাওসার (৩০) ও আমির (২৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের ড্রেসিং চলছে। এখনও পর্যন্ত তাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ জানা যায়নি।
২২ দিন আগে
ভিসির অপসারণ দাবিতে পবিপ্রবিতে টানা তৃতীয় দিন চলছে অবস্থান কর্মসূচি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
একইসঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিচারের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আহত করেছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তিনদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার কেউই ক্যাম্পাসে আসছেন না।
তারা অবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
২২ দিন আগে
সাভারে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মামলা, পৌর কর্মকর্তাকে শোকজ
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ-সংলগ্ন প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ২ একর ১৭ শতাংশ সরকারি জমি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি জায়গার সীমানা প্রাচীর ভাঙতে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টরকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাভার মডেল থানায় বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকারকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আর্জির সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে আটটি স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ২ একর ১৭ শতাংশ জমি টিনের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। গত সোমবার দুপুরে বিপুলসংখ্যক হকার সেখানে গিয়ে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং টিন নিয়ে যান।
এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া টিনের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে হকাররা ভাঙচুর চালান। এ সময় ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করেন এবং ভবিষ্যতে বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন।
স্থানীয়দের দাবি, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ভূমি প্রশাসন জানিয়েছে, ওই জমিতে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সরকারি জমি দখলে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগে কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. সেলিম আহম্মেদকে শোকজ করা হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সোমবার তদন্ত কমিটি গঠন করে জবাব পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, সরকারি জমি দখলের চেষ্টায় জড়িতদের শনাক্ত এবং লুট হওয়া টিন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
২২ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৬ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ মাস ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১১ মে জামালপুরের সদর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ মে বিকেলে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
এছাড়া, গত ৫ মে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আজ (বুধবার) ভোরে মৃত্যু হয় তার।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৯৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২২ দিন আগে
ফেনীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে শিরিন আক্তার (৩৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে)সন্ধ্যায় ইউনিয়নের চোছনা গ্রামের পশ্চিম জের কাছাড় এলাকার একটি নির্জন নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিরিন আক্তার জের কাছাড় গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার স্বামী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিরিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর কেনা জমির পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চলছিল। মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাকে বাসায় না পেয়ে সন্তানরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহের ভিত্তিতে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে বালু সরাতে শুরু করলে একটি কক্ষের ভেতর বালুর নিচ থেকে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম অথবা নিহত নারীর বড় ছেলে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দুজনই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুল একই এলাকার জমিদার বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ছেলে রাজু জানান, মঙ্গলবার বিকেলে তার মাকে বাসায় না পেয়ে নতুন নির্মাণাধীন বাড়িতে খুঁজতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে সাইফুল নামে এক শ্রমিককে কাজ করতে দেখেন। মায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বালুর নিচে তার মায়ের মরদেহ দেখতে পান।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
২২ দিন আগে
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত, আহত ২
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ট্রাকচাপায় একটি অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে মেহেরা পেট্রোল পাম্পের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাতনামা দুই যাত্রী নিহত হন। আহত দুইজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হতাহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
২২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিলেট থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগীর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বয়স ৭ মাস এবং অন্যজনের ১০ মাস। ৭ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেট জেলায় এবং ১০ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন ভর্তি হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ২৮৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭২ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি আছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৪৭ জনের হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৭৩ জন, সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ দিন আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২৩ দিন আগে
কুমিল্লায় হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার এক আসামিকে পেটানোর পর কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভুঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাইফুল মেম্বারের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় লতিফ আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে ৩ দিন আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।
এরপর গতকাল (সোমবার) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, ৯৯৯ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় লতিফকে উদ্ধার করি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করি। তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশের একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় মামলা করা হয়নি।
২৩ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২৯টি শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া সোমবার (১১ মে) থেকে আজ মঙ্গবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৬টি শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ মাস বয়সী আরও এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, রবিবার (১০ মে) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে সোমবার (১১ মে) বিকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
গোলাম মাওলা বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৭০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৪৫ শিশু আর মৃত্যু হয়েছে ২৯ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ২৮ শিশু।
তিনি আরও বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিন আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার করা হচ্ছে।
২৩ দিন আগে