সারাদেশ
কোরবানির বাজার মাতাতে আসছে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ‘কালা বাবু’ও ‘ধলা বাবু’ নামের বিশালাকৃতির এই দুই গরুর মোট ওজন প্রায় ৮৫ মণ। গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে খামারে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন কৌতূহলবশত, আবার কেউ আসছেন কোরবানির জন্য পছন্দের গরুটি কিনতে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মে’ বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে গরু দুটি।
খামারজুড়ে এখন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশাল দেহের কারণে গরু দুটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’কে একনজর দেখতে।
খামার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালন পালন করা হয়েছে গরু দুটি। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাওয়ানো হয়। সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলমূলও খাওয়ানো হয়েছে তাদের।
খামারের কর্মীরা জানান, গরু দুটিকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে।
খামারের এক কর্মচারী বলেন, সকালে গরু দুটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতেও আলাদা খাদ্যতালিকা মেনে খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে গরু দুটিকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। বর-কনের আদলে সাজসজ্জা করায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। গলায় রঙিন ফিতা, মাথায় অলংকার ও শরীরে নকশা করা কাপড় পরিয়ে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বিশাল আকৃতির কারণে গরু দুটি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারের শ্রমিকদের। দর্শনার্থীদের অনুরোধে মাঝে মাঝে খামারের বাইরে বের করা হলেও তখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে চেষ্টা করেও গরুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।
খামারের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরু দুটি বড় করেছি। কালা বাবুর চার দাঁত এবং ধলা বাবুর দুই দাঁত উঠেছে। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালো খাবার দেওয়ায় গরুগুলো এমন আকৃতি পেয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন। আবার অনেকে আগ্রহ নিয়ে দামও জানতে চাচ্ছেন। আমরা কোরবানির জন্য ভালো ও স্বাস্থ্যকর গরু মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় পশু মোটাতাজাকরণে যাতে কেউ ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে। এ সময়ে কালা বাবু ও ধলা বাবুর কথা তিনি জানেন বলে জানান।
২৩ দিন আগে
পবিপ্রবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর থেকে সব অনুষদের ক্লাস, পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তারা।
এদিকে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুমকি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব ও সুলতান সাওকাত হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই ঘটনায় আগে থেকেই বহিষ্কৃত দুমকি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রিপন শরীফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার থেকে হামলার বিচার এবং উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।
এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘এ আন্দোলনের আদৌ কোনো যৌক্তিকতা নেই। অবৈধ ও বেআইনি আবদারকে কেন্দ্র করে কতিপয় কর্মকর্তা ও শিক্ষক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন।’
এর আগে, সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার অপসারণ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে প্রক্টর, শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
ওই হামলার ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন।
২৩ দিন আগে
গাজীপুরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
মামলা, ষড়যন্ত্র ও মব সৃষ্টি করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গাজীপুরে ডুয়েট গেট এলাকার একটি হলরুমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সংস্থায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া মামলা, মব সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভিন্ন সংস্থায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা, মব সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে বন্ধ থাকা নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত চালু করা এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আফসার উদ্দিন, ইসহাক পিকু, সাইফুল ইসলাম শুভ ও সাওদা আক্তার বক্তব্য দেন।
২৩ দিন আগে
ফেনীতে বাসচাপায় ঝরল মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা-ছেলের প্রাণ
ফেনীতে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাসচাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। নুর আলম ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় নুর আলমের ভাগ্নি আফজাল মিঠু আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগ্নেকে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেলে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে দ্রুতগতির একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নুর আলম নিহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিরবের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি থামিয়ে চালক পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, বাসচাপার ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পলাতক বাসচালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৩ দিন আগে
দিনাজপুরে সম্পত্তির অংশীদারত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা এবং সৎভাই খুন
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সম্পত্তির অংশীদারত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে দ্বিতীয় পক্ষের দুই সন্তানের ছুরিকাঘাতে বাবা ও সৎভাই খুন হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর ৬টার দিকে ওই ঘটনা ঘটেছে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল নবী জানান, গৃহকর্তা দুলু মিয়ার দুই স্ত্রীর ৪টি ছেলে রয়েছে। পিতার প্রায় ১৬ বিঘা জমির অংশীদারিত্ব ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৬টার দিকে দ্বিতীয় পক্ষের দুই ছেলে সাদেকুল এবং সাকিব ধারাল ছুরি দিয়ে বাবা দুলু মিয়ার এবং সৎ ভাই কাবিলকে হত্যা করেছেন। এ সময় আরেক সৎ ভাই হাবিল আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সাদেকুল এবং সাকিব আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৩ দিন আগে
কুমিল্লায় এপ্রিল মাসে ১০টি খুন ও ২০টি ধর্ষণের মামলা
কুমিল্লায় ক্রমাগত অপরাধে বাড়ছে উদ্বেগ। গত এপ্রিল মাসে জেলায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৫৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্চ মাসে এই মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৭টি।
এ মাসে জেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাসে ৬৭টি মামলা বেশি হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত আইনে মামলা।
রবিবার (১০ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিগত সময়ে প্রতিমাসে জেলায় যে পরিমাণ মামলা হয়েছে তার মধ্যে এপ্রিল মাসে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃপক্ষ বলছেন, এর দুটো কারণ হতে পারে। প্রথমত, বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ দমনে বেশি পরিমাণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলার সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলায় চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
জেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণী থেকে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে জেলায় খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০টি, ধর্ষণের ঘটনায় ২০টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ২৮টি, চুরির ঘটনায় ৪১টি, অপমৃত্যুর মামলা ৬০টি, মাদকদ্রব্য আইনে ২০৫টিসহ দস্যুতা, ডাকাতি ও আহত হওয়ার ঘটনায়ও মামলা দায়ের হয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণীতে তুলনামূলক গুরুতর অপরাধের ৭টি ক্ষেত্রে মামলা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এছাড়া পাঁচটি ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মানে অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি একটি নেতিবাচক দিক। অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক জীবনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, মামলা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে ভুক্তভোগীরা বেশি বেশি আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন । অপরাধ দমনে সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে পশু পরিবহন, জাল টাকা রোধ, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ করাসহ শপিং মল ও পশুর হাটে নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৩ দিন আগে
শার্শায় ৪২ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলাট মাদরাসা: বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে অবস্থিত ‘পাঁচভুলাট দাখিল মাদরাসা’। খুলনা বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখলেও দীর্ঘ ৪২ বছরেও মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভবন। অবকাঠামোগত চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জরাজীর্ণ টিনশেডেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদরাসার টিনশেড ঘর দুটির জরাজীর্ণ দশা। টিনের চালে শত শত ছিদ্র, নেই দরজা-জানালাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার ভয়ে দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভোরেই ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে লেখাপড়া করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সাফল্যে শীর্ষে, সুযোগ-সুবিধায় শূন্য
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বসার জায়গাটুকুও নেই। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি ছোট্ট হলুদ ঘরে শুধু জরুরি নথিপত্র রাখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত এখানে মোট ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে এবতেদায়ীতে ১৬২ জন এবং দাখিলে ৩৫০ জন।
প্রতি বছর এই মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং অনেকেই কর্মজীবনে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ এই সাফল্যও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে একটি পাকা ভবন এনে দিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের আকুতি
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন জানায়, গরমের সময় মাদরাসার পুরাতন টিনশেডে ক্লাস করা যায় না। আমাদের অনেক বান্ধবী গরমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।
আলিম ও দাখিলের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসনাইন বলেন, ঘরগুলোর দরজা-জানালা নেই। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। কখন ঘরগুলো বাতাসে ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এমন কষ্ট নিয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছি আমরা।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা ও ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, শ্রেণিকক্ষের একেবারে বেহাল অবস্থা। টিনের চালগুলো জরাজীর্ণ। ঘরের বেড়া নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়; তখন শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। তবু আশপাশে বড় মাদরাসা না থাকায় এখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
মাদরাসায় একটি পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোনো ভবন নেই, শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে কষ্ট করে বসতে হয়। অনেক শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে প্রবল আতঙ্কে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়বৃষ্টির ভয়ে মাদরাসা ছুটি দিতে হয় বাধ্য হয়ে। অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এই অবস্থায় এখানে পাঠাতে চান না। নতুন ভবনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নূরুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কোন ঘোষণা আসেনি। ওই মাদরাসা ভবনের জন্য আবেদন করা থাকলে নতুন পাকা একটি ভবন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাস হবে। তখন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটির টিনশেড ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
২৪ দিন আগে
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২৮ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৮৯ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৮ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১ মে) ভোরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ২৪৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এবং ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
ফেনীতে মুক্তিপণ দাবির পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ
ফেনীতে নিখোঁজ হওয়ার পর ডোবা থেকে হাসান (১৮ মাস) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) সকালে দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্ল্যাহপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার কমল নগরের বাসিন্দা তারেক ও তারজিনা আক্তার দম্পতির ছেলে।শিশুর বাবা মোহাম্মদ তারেক জানান, গত ৯ মে সকালে বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় হাসান। সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে। প্রথমে তাদের কাছে ১২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেন তারা। এ বিষয়ে গতকাল (রবিবার) শিশুটির পরিবার দাগনভূঞা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
দাগনভূঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, আজ (সোমবার) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি কোনো চক্রের কাজ। তদন্তে জানা গেছে, ফোন করে হুমকি দেওয়া নম্বরটি নওগাঁর।
তবে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবিরর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২৪ দিন আগে