নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।