সারাদেশ
দিনাজপুরে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের ডাক
দিনাজপুরে টোলের নামে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ১২ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাকসহ সংগঠনের সদস্যচালিত সব ধরনের যানবাহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক-শ্রমিক যৌথ পরিষদের নেতারা। অন্যদিকে, ট্রাক টার্মিনালে টোল আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সড়কে টোল আদায়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক।
দিনাজপুর জেলা ট্রাক-মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি সৈয়দ সপু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক দিনাজপুর জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ডভ্যান পিকআপ ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সাদাকাতুল বারীর সই করা চিঠির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনালের পরিবর্তে সড়ক-মহাসড়কে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার ২ জন কর্মচারী এবং আরও ২ জন বহিরাগতকে দেওয়া হয়েছে চাঁদা আদায়ের দ্বায়িত্ব।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে আপত্তি জানিয়েও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে পৌর প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে গত ৫ মে ট্রাক মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের সভায় মিলিত হয়েছিলেন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে আগামী ১২ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উভয় সংগঠনের সদস্যচালিত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, গতমাসে ১২ তারিখে দিনাজপুর পৌরসভার দ্বায়িত্বে থাকা প্রশাসক রিয়াজউদ্দিনের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রাক টার্মিনালে টোল আদায়ে ইজারাদার নিয়োগে স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু কেউ দরপত্র দাখিল করেননি।
গত ৩০ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত মাসিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ এপ্রিল ইস্যু করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, টার্মিলালের খাস টোল আদায় করার জন্য পৌরসভার বাজার পরিদর্শক কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, আদায়কারী শামিম আহমেদ এবং ২ জন ট্রাক শ্রমিক রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও শহিদ জামিলকে নিয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে টোল আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধকতার কারণে ১৪৩২ বঙ্গাব্দে টোল আদায় করা যায়নি। এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গঠিত কমিটিকে খাস টোল আদায়ে বাধা দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি টোল আদায়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
২৮ দিন আগে
যশোরে অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে শিশুখাদ্য বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা
যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে এ জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ঠিকানাবিহীন একটি কারখানায় তৈরি এসব খাদ্যপণ্য বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করছিলেন। পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় এবং অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ও রঙ ব্যবহারের অভিযোগে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এসব খাদ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কিডনি জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে। একইসঙ্গে জব্দ করা খাদ্যপণ্য নষ্ট করা হয়।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান খান ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মো. সেলিমুজ্জামান খান।
২৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে ক্যাম্পাসে যান মুফতি আমির হামজা। সে সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে কলেজের প্রবেশদ্বারের মুখে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিলেন। আমির হামজা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মঞ্চে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন এবং ব্যানার হাতে নিয়ে মঞ্চের পাশে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত, এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, সে সময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দও পেয়েছি, আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম। আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন, কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন, মনে করছেন আমি লেবাস পরে আছি, মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজকে। আপনাদের যা করা লাগে, আমি তাই করব। আর আমি ‘ভুয়া’ না কী, আপনাদের দেখাব আজকে। আপনাদের যে কয়জনের তালিকা ইতোমধ্যে আমার কাছে আছে, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামে নালিশ দেব একেবারে উপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় কলাপসিবল গেট আটকে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
পরে আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু নয়। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমি বলছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।
প্রসঙ্গত, কলেজের বিশাল এই খেলার মাঠ বাদ রেখেই আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে প্যান্ডেল তৈরির জন্য গত ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রায় ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন ওই গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন।
রাতের আঁধারে এই গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একজনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
২৮ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
২৮ দিন আগে
রংপুরে সেচ ঘর থেকে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি সেচ ঘর থেকে এক কৃষকের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজার রহমান স্থানীয় সেচ মেশিনের মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার (৬ মে) রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে চোরচক্র সেচ ট্রান্সমিটার চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সমিটার নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, উমরপুর এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
২৮ দিন আগে
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় আনিছুর রহমান (৬৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) রাতে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার গুয়াখোলা এলাকার মৃত মজিদ সরদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের নওয়াপাড়া বাজারে আনিস প্লাজা নামে একটি বহুতল মার্কেট রয়েছে। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ আনিস প্লাজায় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে চান। কিন্তু আনিছুর রহমান তাকে ঘর ভাড়া দিতে রাজি হননি। এর জের ধরে শাহ মাহামুদ গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে আনিছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নওয়াপাড়ার তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহ মাহামুদ পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
২৮ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় মো. ইমন হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হোসেন পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকালে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাটি করার সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর খাগড়াছড়ি সংগঠক অমর চাকমা দাবি করেছেন, নিহত ইমন তাদের সহযোগী সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি প্রসিতপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
২৮ দিন আগে
কক্সবাজারে লাবণী পয়েন্ট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্র সৈকত-সংলগ্ন ড্রিংকস কর্নারের সামনে একটি দোকানের মেঝে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পর্যটন করপোরেশনের ড্রিংকস কর্নার-সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি ও ফার্স্টফুড দোকানের মেঝেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৯ দিন আগে
ধর্ষণে মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: নেত্রকোনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
নয়মুল হাসান বলেন, শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থী এখন সাত মাসের অন্ত্বঃসত্ত্বা। সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শারিরীক গঠন দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির পরিবার তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বাড়িতে আসার পর শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যান। এ সময় নির্জন স্থান পেয়ে ওই শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪-এর সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার এড়াতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অপরদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমকি দিয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
২৯ দিন আগে
নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইল সদর উপজেলায় আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২০) নামে এক গৃহবধুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাকিব শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাকিব শেখকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত খাদিজা খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থেকে সোমবার (৪ মে) নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে আসেন সাকিব শেখ ও তার স্ত্রী। সাকিব মাদকাসক্ত ও কর্মবিমুখ হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তার স্বামী সাকিব। পরে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি 'দুর্ঘটনা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, হাসপাতালে নিহতের পরিবার দাবি করে, অসাবধানতাবশত বটির ওপর পড়ে গিয়ে চাঁদনী আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত এবং সাকিবের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৯ দিন আগে