সারাদেশ
কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের মধ্যেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদ মার্কেট, রেল স্টেশন রোড, কাজীপাড়া ও সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও একই চিত্র দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিজে কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এদিকে, কালবৈশাখীর সঙ্গে দফায় দফায় বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। অনেক পরীক্ষার্থী জানান, সকালে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পাশাপাশি রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসজর আহমেদ জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌরসভার শ্রমিকরা বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে ড্রেন পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পৌর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সমস্যা কমাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন জলাবদ্ধতা নতুন নয়। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
৩৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সড়ক ভেঙে ডুবছে হাওর, দুশ্চিন্তায় কৃষক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার এরনবিল (ইকরাছই) হাওরে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর হয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে মনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হামিদপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে এই পানি হাওরে প্রবেশ করছে। এতে এখনও হাওরে থাকা জমির ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইকরাছই হাওরে মোট ১১৪ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে কৃষকরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হেক্টর জমির ধান সফলভাবে ঘরে তুলেছেন। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বর্তমানে হাওরের বাকি ধান রক্ষা করাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওর এলাকার কৃষকরা জানান, পাহাড়ি ঢল আসার সময়টি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ায় তারা আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। সড়ক ভেঙে পানি ঢোকায় এখন অবশিষ্ট পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী যৌথভাবে ভাঙন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, যে সড়কটি ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে, সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাঁধ নয়, এটি একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকা দিয়ে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের কারণে মনাই নদীর পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে সড়কটির একটি অংশ ভেঙে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদিও অধিকাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে, তবুও অবশিষ্ট ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় জনতা ও প্রশাসন মিলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
৩৭ দিন আগে
ইঞ্জিনে ত্রুটি, ৬ ঘণ্টা পর ফেনী ছাড়ল চট্টলা এক্সপ্রেস
ইঞ্জিনে ক্রুটির কারণে ফেনীর প্ল্যাটফর্মে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার পর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ট্রেনটি রাজধানীর দিকে রওয়ানা হয়। এর আগে, সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ফেনী স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের সাত শতাধিক যাত্রী।
রেলওয়ে কর্মকর্তা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে ট্রেনটি আটকা পড়েছে। ট্রেনটির ইঞ্জিনের ট্যাবলেট কভার থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের চেষ্টা করতে গেলে সহকারী লোকোমাস্টার মোহাম্মদ কাওসার ধোঁয়ায় আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অনেক যাত্রীকে স্টেশনে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করতে দেখা গেছে। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন বলেন, ফেনী থেকে যেসব যাত্রীর এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের অনেকে টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
৩৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আহত বা নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফিরোজ খান জানান, আজ (সোমবার) সকাল ৯টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসকরা ৩ জনের মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বৌদ্ধ ভান্তে রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
৩৭ দিন আগে
ফরিদপুরে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে আটক করা হয়েছে। আটককালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।’
গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ কোদাল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
৩৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত, হাওরে ধান কাটার সময় সতর্কতা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তারা।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুরে আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে, জমির উদ্দিন তখন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও, সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার দেওখালী গ্রামের নূর হোসেন (৫৭), নূর হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল (৩৭)। তাদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সোহরাব আলী (৬২), তার স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা প্রতিবেশী। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে আশ্রাব আলীর ওপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আসামি সোহরাব আলীর হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরের দিন নিহত আশ্রাব আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্ত, ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে নূর হোসেন, সহিদুল ও উজ্জল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এই রায়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলী, স্বরূপা খাতুন ও রেহানা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামালায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।
৩৮ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে জমির বিরোধে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত
কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার হারুয়া কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) সকালে শামীমের ভাতিজা লিংকন বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে পালিয়ে যান।
এরপর শামীম ও তার মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শামীমের পেটে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের চার থেকে পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দোকান ও সম্পত্তি নিয়ে শামীম ও লিংকনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। লিংকন জোরপূর্বক তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছিল। এই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩৮ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকাবাসীর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, ২-৩ সপ্তাহ আগে নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার বোরহান মিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার শিহাবের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে যান। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় বোরহান মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল তাদের মধ্যে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে শিহাব দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে জড়ান শিহাব ও বোরহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোরহান তার লোকজনদের নিয়ে শিহাব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় পশ্চিম পাড়া এলাকাবাসীর সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় রাতের আঁধারে টর্চের আলো জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩৮ দিন আগে
রাজধানীতে নারী আনসার সদস্যের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর কদমতলী থানার একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার শেলী (২৭) নামে এক নারী আনসার সদস্যের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে কমিশনার মোড় এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত শারমিন আক্তার শেলী একজন নারী আনসার সদস্য ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে, সেখানকার শাহ আলম হাওলাদারের মেয়ে ছিলেন। আগে তিনি জুরাইন এলাকার পূর্ব ধোলাইপাড়ে থাকতেন এবং বর্তমানে কদমতলীর ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
এদিকে, বাসার মালিক আঞ্জুমান আরা ডলি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি শেলীকে স্ত্রী পরিচয়ে কাবিননামা দেখিয়ে তার বাসাটি ভাড়া নেন। তিনি মূলত গ্রামের বাড়িতে থাকেন এবং দুই মাস পরপর এসে ভাড়া নিয়ে যান। তাই এ ঘটনার বিষয়ে এর বেশি কিছু জানতে পারেননি বলে জানান তিনি।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মুশাহিদুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কমিশনার রোডের ৯৮৪/১ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় পৌঁছায় পুলিশ। এ সময় ফ্ল্যাটটির দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। সুরতহাল শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে হত্যা করে দরজায় তালা দিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
৩৮ দিন আগে