সারাদেশ
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সমঝোতা সভায় তারা অংশ নেননি। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, কর্মবিরতি অবসানের আশায় সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করেন তিনি। বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধি, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কেউ আলোচনায় অংশ নেননি। আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছেন তারা।
কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হট্টগোল ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগত রোগীরা জরুরি বিভাগে ভর্তি বা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসা চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। স্বজনদের গালাগালি ও হট্টগোলে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হয়েছে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এর আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলীকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেননি। তার শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে তাকে স্বজনদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে হাজির করা হবে বলে সম্মতি দিয়েছেন স্বজনরা।
৫২ দিন আগে
রংপুরে পুলিশ হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
রংপুরে হারাগাছ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পিয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হারাগাছ থানার বাহারকাছনার তেলিপারার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় মাদকসেবী পলাশের ছুরিকাঘাতে এএসআই পিয়ারুল গুরুতর আহত হন। পরে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলাসহ আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে গ্রেপ্তার করে। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণসহ উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ আদালত আসামি পলাশের মৃত্যুদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন।
এছাড়া আরও দুটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ এস এম মাহামুদুল করিম (লিটন) জানান, অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায়ে বাদীপক্ষ পুরোপুরি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
৫২ দিন আগে
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫২ দিন আগে
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
টাঙ্গাইল সদরে আগামীকাল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড বিতরণের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
একই দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জুড়ী উপজেলার ১ হাজার ১০০ জন কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষি বিমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে ভূমিহীন (৫ শতাংশের কম জমির মালিক), প্রান্তিক (৫–৪৯ শতাংশ) ও ক্ষুদ্রসহ (৫০–২৪৯ শতাংশ) মোট ৫টি শ্রেণিতে কৃষকদের বিভক্ত করে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
৫২ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হৈচৈ ও চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি বা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রাতে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যান।
এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তারা তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপর আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেটের তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, বারবার হামলা এবং চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে কাজে যোগ দেয়নি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। অচলাবস্থা অবসানে দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় প্রধানসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।
৫২ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৫২ দিন আগে
হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে: বিসিসি প্রশাসক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। তিনি বলেছেন, বরিশালে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) নগরীর মল্লিকা কিন্ডারগার্টেনে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিসিসি প্রশাসক বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা রয়েছে। বর্তমান সরকার হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দেশের চারটি সিটি করপোরেশনে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ৩৩ হাজার ৬০০ জন এবং প্রি-স্কুল পর্যায়ে ৮ হাজার ৬০০ জনসহ মোট ৪২ হাজার ২১০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।
টিকাদান অনুষ্ঠানে বরিশালের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫৩ দিন আগে
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসবের বর্ণিল সূচনা
পাহাড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়েছে।
চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া ও খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু।
খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট দিয়ে রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচন করেন।
এ সময় রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই ছিল এই আয়োজন।
ফুল পূজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এ সময় ফুল পূজা পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিনী জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
আগামীকাল বাংলা বছরের শেষ দিন চাকমাদের মূল বিজু। মূল বিজুর দিন পাহাড়ি পল্লীর ঘরে ঘরে নানা ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হবে একধরনের সুস্বাদু নিরামিষ জাতীয় সবজি, যা ‘পাজন’ নামে পরিচিত।
পাজনের স্বাদই অন্যরকম। একেবারেই আলাদা। এই পাজনের সবজি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা ফল, ঐতিহ্যবাহী ঘরে তৈরি পিঠা। সেদিন সবার দুয়ার খোলা থাকে। এ যেন পারস্পরিক সম্পর্কের সম্মিলন।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালিত হবে চাকমাদের ‘গইজ্জা পইজ্জা’ উৎসব। সেদিন হবে পাড়া পাড়া ঘুরে বেড়ানো। আর আনন্দ স্নাত উল্লাস।
৫৩ দিন আগে
নিয়মবর্হিভূত তল্লাশি: রাবি হল সংসদের তিনজনের সিট বাতিল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে নারী থাকার সন্দেহে নিয়মবর্হিভূত তল্লাশি চালানোর ঘটনায় রাকসু হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) তিনজনের আবাসিকতা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই হলের সহ-সভাপতিকে (ভিপি) শোকজ করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
আবাসিকতা বাতিল হওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন— হল সংসদের এজিএস হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরবি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিব জুবায়ের এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ জিম। এছাড়া ওই হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী অবস্থান করছে, এমন সন্দেহে হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইনের নেতৃত্বে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো নারীকে না পেয়ে তারা চলে যান। এতে ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছনার অভিযোগ তোলেন। পরে এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষের কক্ষে সভা ডাকা হয়। সেখানে হল সংসদের নেতাদের ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় এজিএসসহ কয়েকজন অনুপস্থিত থাকায় সভা স্থগিত করা হয়। এরপর রাতভর ওই হলে উত্তেজনা বিরাজ করে।
এর আজ (রবিবার) ভোর ৫টায় সভা শেষে তিনজনের আবাসিকতা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় হল প্রশাসন।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো। সেইসঙ্গে হলের ভিপি মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বলেন, তল্লাশির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কাজ এখতিয়ারবহির্ভূত। হলে কোনো তল্লাশি হলে তা প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু ঘটনায় আমরা ‘মব’ হতে দেখেছি। তবে বর্তমান প্রশাসন মবের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তৎপর। কোনোভাবেই মব তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ আমরা দেব না।
৫৩ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৩ শিশু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে ১১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দিন সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে সব রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
৫৩ দিন আগে