সারাদেশ
পাবনা সফর শেষে আগামীকাল ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি
চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার নিজ জেলা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে রাষ্ট্রপতি গতকাল (রবিবার) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে আরিফপুর সদর কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি পাবনা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এছাড়া আজ তিনি ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং সন্ধ্যায় জুবিলী ট্যাংক এলাকায় নিজের বাসভবনে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
গত ২৮ মার্চ চার দিনের সফরে পাবনা যান রাষ্ট্রপতি। সেদিন দুপুরে বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে পাবনার শহিদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তিনি। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহজাহান, পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্টেডিয়াম থেকে পাবনা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
৬৬ দিন আগে
সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে কোতোয়ালী থানাপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম মোফাজ্জল হক সৌরভ (৩২)। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ সিলেট নগরীর লামাবাজারের ‘তন্বী কিচেন’ নামে একটি হোটেলের মালিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৌরভ নগরীর ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়ের ‘রিল্যাক্স ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। ওই হোটেলের কর্মচারীরা গতকাল (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৬৬ দিন আগে
তিন ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু
আকস্মিক কুয়াশায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চালু হয়েছে। এর আগে, ভোর ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ পদ্মায় ঘন কুয়াশার কবলে আটকা পড়ে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পদ্মা নদী অববাহিকা আকস্মিক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি দেখা দেয়। এরপর মাঝ নদীতে দুটি ফেরি আটকে পড়ার খবরে সাড়ে ৪টা থেকে ফেরিসহ সকল নৌযান বন্ধ রাখা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতের পর থেকে পদ্মা অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে, ভোর ৪টার দিকে চারদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা যায়।
এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এনায়েতপুরী নামক একটি রো রো এবং বাইগার নামক একটি কে-টাইপ ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে পড়ে। চারদিকে কিছুই দেখতে না পেয়ে ফেরি দুটি মাঝ নদীতেই নোঙর করে থাকে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিসি।
ফেরি নোঙর করে থাকার খবর পেয়ে উপায় না পেয়ে কর্তৃপক্ষ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সময় পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) ফেরি খানজাহান আলী, কেরামত আলী ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে। একইভাবে, ৪ নম্বর ঘাটে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা ও শাহ পরান নামক দুটি রো রো ফেরি এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ইউটিলিটি পেরি হাসনাহেনা নোঙর করে থাকে।
অন্যদিকে, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪ নম্বর ঘাটে কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি ঢাকা এবং ৭ নম্বর ঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি রো রো ফেরি নোঙর করে থাকে।
এদিকে, নদী অববাহিকার পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কেও কুয়াশার কবলে পড়ে যানবাহন। যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে অতিমাত্রায় ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখতে না পেয়ে যানবাহনগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিন ভোর পাঁচটার দিকে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো সতর্কতার সঙ্গে ধীরে গতিতে চলছে।
মোটরসাইকেল নিয়ে তেল আনতে পাম্পের দিকে যাওয়া রাকিবুল হক নামের এক ব্যক্তি বলেন, দিনের বেলায় অনেক লম্বা লাইন হয় বলে ভোরে রওনা করেছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে গাড়ি চালাতে খুব ভয় করছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কুয়াশায় নদীপথ অন্ধকার হয়ে আসায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ভোর চারটার দিকে ঘাট ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে আটকা পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাড়ে ৪টার দিকে ফেরি বন্ধ করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধের পর সকাল পৌনে ৭টার দিকে কুয়াশা কম দেখে মাঝ নদীতে থাকা ফেরিগুলো ঘাটের দিকে আসে। ঘাটে নোঙরে থাকা ফেরিগুলো একে একে ঘাট ছেড়ে যায় বলে জানান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
৬৬ দিন আগে
ভাটারায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে পড়েছিল একাধিক মদের বোতল
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্লাটের কক্ষ থেকে আনিপা নিন্দিয়া (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালের দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত আনিপা চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার একলাসপুর গ্রামের আশফাক ভূঁইয়ার মেয়ে। বর্তমানে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
আনিপার ছোট ভাই আকিল ভূঁইয়া বলেন, গতরাতে বাসায় ফিরে আমার আপুর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে দেখি, ও অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। পরে আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হানুল ইসলাম জানান, গতরাতে খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। এ সময় ওই নারীর আশপাশে বেশ কয়েকটি খালি মদের বোতল পাই। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
৬৭ দিন আগে
শেষ রক্ষা হলো না, যশোরে আটক সেই ঘাতক ট্রাকচালক
তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকের চাকায় হত্যার ঘটনার হোতা ট্রাকচালক সুজাত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬-এর একটি দল। এর আগে, বেনাপোল থেকে ট্রাকটি জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নড়াইলে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ (রবিবার) বিকেলে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে তেল না পেয়ে ট্রাকচালক সুজাতকে কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদুল মোল্যাকে পাম্পের অদূরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল সেতু এলাকায় নাহিদ ও জিহাদ মোল্যাকে ট্রাকচাকা দিয়ে পালিয়ে যান সুজাত।
ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদ উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্পটির ব্যবস্থাপক নাহিদ। তেল না পেয়ে ট্রাকচালক তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করার হুমকি দেন সুজাত। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ গ্রামে যাচ্ছিলেন নাহিদ ও পাম্পের কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে একটু দূরে গেলে পেছন থেকে এসে সুজাত তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জেলার সকল পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পাম্প মালিক সমিতি।
পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু জানান, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
৬৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কাতার প্রবাসী নিহত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেলবাহী লরির নিচে পড়ে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মহাসড়কের বাহুবলের শেওড়াতলী আখঞ্জী ফিলিং স্টেশনের কাছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোতালেব। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বুড়িনাও গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত মোতালেব দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে পুটিজরী গ্রামে শশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানদের সিএনজি অটোরিকশায় বাড়িতে পাঠিয়ে নিজে মোটরসাইকেলে রওনা হন। যাত্রাপথে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় একটি ইটের সঙ্গে মোটরসাইকলের ধাক্কা লাগলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীতমুখী তেলবাহী লরির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
গত ৪ মাস আগে মোতালেব কাতার থেকে দেশে আসেন। আগামী ৮ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় তার মাথা ও মুখ থেঁতলে গেছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
৬৭ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে চাইলেও ফার্মেসিগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু।
অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।
কোনো কোনো ফার্মেসি ওষুধের গায়ে উল্লিখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে উদ্যোগী হলেও তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে; অনেক সময় ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি এবং সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি হয়। তাদের দপ্তর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, তবে মূল্য নির্ধারণ করে না। এ সময় কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সীমিত পরিমাণ ডিসকাউন্ট দেয়। কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা। এর বেশি নেওয়া যাবে না, তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৬৭ দিন আগে
চাঁদপুরে বালুর ট্রাকের নিচে পিষ্ট হলো ৩ বছরের শিশু
চাঁদপুর সদরের রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মণিহার গ্রামে গুদারাঘাট সড়কে লালু মিয়ার বাড়ির সামনে লুকোচুরি খেলার সময় থেমে থাকা বালুবাহী ট্রাকের নিচে পিষ্ঠ হয়ে আরিয়ান নামের ৩ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানান নিহত শিশুটির স্বজনরা। আরিয়ান পার্শ্ববর্তী হাজীগঞ্জ উপজেলার মোহম্মদপুর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে ছিল।
স্বজনরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ২ দিন আগে সে তার মায়ের সঙ্গে খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। আজ (রবিবার) সকালে শিশুটি বাইরে খেলতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির এই করুন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মামা আ. রাজ্জাক ছৈয়াল জানান, আজ সকালে অন্য শিশুদের সঙ্গে লুকোচরি খেলতে খেলতে একপর্যায়ে ট্রাকের নিচে লুকায় আরিয়ান। এমন সময় ড্রাইভার খেয়াল না করে ট্রাক চালানোর চেষ্টা করেন। তিনি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে এগোতে চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের লোকজন ড্রাইভারকে চিৎকার করে থামতে বলে, কিন্তু ততক্ষণে শিশুটি চাকার নিচে পিষ্ঠ হয়ে গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটিকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে দ্রুত হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. জব্বার বলেন, মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
৬৭ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
৬৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে আইয়ুব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদীঘি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আইয়ুব আলী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৬৭ দিন আগে