সারাদেশ
দিনাজপুরে ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ বাসযাত্রী
দিনাজপুরের বিরামপুরের চন্ডিপুরে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বাস হেরিটেজ স্লিপার কোচের সঙ্গে বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে বাসের ২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর।
রবিবার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুইজনের মধ্যে মোশারফ হোসেন বাবু (৫৭) মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের দক্ষিণ রাহিখাল গ্রামের খবির উদ্দিন শেখের ছেলে। অন্যজনের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।
বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআাই) এরশাদ জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানতে পেরেছি। অন্যজনের পরিচয় বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
৬৭ দিন আগে
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় ‘হত্যা’
নড়াইলে তেল না পেলে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে এক ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৫) চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাহিদ সরদার উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে ছিলেন তিনি। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে বাগবিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাকটিকে। পরে ওই ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন উঠতি ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে, উড়ে গেছে বেড়া ও ছাউনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে অনেক ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ভিজে যায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাতাসে উড়ে গিয়ে ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অনেক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, তামাক, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরের মাঠ ও গাছের ডালে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোচা আসা ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব খেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফসলের ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়া ঝড়ে গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং তিস্তাচরাঞ্চলের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ভোটমারী এলাকার চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, চড়া দামে সার, বীজ ও সেচ দিয়ে তিন বিঘা জমিতে করা ভুট্টা খেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচা আসা গাছ পড়ে গেলে আর ফলন হবে না। ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরের টিনও পাথরের আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে।
তামাকচাষি শাহ আলম বলেন, তামাক পাতা ভেঙে শুকাতে দেওয়া ছিল। শিলাবৃষ্টির আঘাতে খেতে থাকা ও শুকাতে দেওয়া সব তামাক পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে তামাকের গুণগত মান ও ওজন কমে যাবে, ফলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। প্রায় একশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
৬৮ দিন আগে
ভোট দেওয়ায় তালাক: তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেনীর সেই গৃহবধূ
স্বামীর নিষেধ উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তালাকপ্রাপ্ত ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরার সংসার এখনও জোড়া লাগেনি। সামাজিক চাপে পড়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জহুরা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জহুরা ও তার পরিবার আলাদাভাবে বসবাস করছেন। তিন সন্তান নিয়ে তিনি বর্তমানে শাশুড়ির সঙ্গে থাকছেন। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তার স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসারও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় আলেম প্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব। এ সময় তিনি জহুরা ও তার শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরাকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া তার পরিবারের খরচ বহনে প্রতি মাসে অর্থ সহায়তা এবং তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ নিয়মিত প্রদান করা হবে।’
তিনি আরও জানান, জহুরার পরিবারের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ফলোআপে রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে বিএনপি পরিবারের নেতারা ফেনী সফরে এসে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করবেন।
এ সময় তিন সন্তান ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চান গৃহবধূ জহুরা।
ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় লোকজন সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
৬৮ দিন আগে
বজ্রপাতে শৈলকূপায় দুই কৃষক নিহত, আহত আরও ৪
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রনজিত বিশ্বাস ও প্রকাশ বিশ্বাসসহ আরও চার কৃষক।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, খড়িবাড়িয়া গ্রামের প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস (২০) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে সুশীল বিশ্বাস (৪০)।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, হতাহত কৃষকরা আজ (শনিবার) দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত ও চার কৃষক আহত হন। খবর পেয়ে হতাহতদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. এহতেশাম শহীদ জানান, বজ্রপাতে হতাহতদের শরীর ঝলসে গেছে।
৬৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট
চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসা শক্তিশালী ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। কম্পন আর বিকট শব্দে ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর ইউনিটের সদস্যরা এ ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
স্থানীয়রা জানান, ল্যান্ডমাইনগুলো বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় আকাশ। ল্যান্ডমাইন খুঁজে পাওয়ার ২৯ দিনের মাথায় এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই কদিন পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছিল ওই এলাকা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে নালা তৈরির জন্য কোদাল দিয়ে খুড়ছিলেন। এ সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসে ৩টি শক্তিশালি ল্যান্ডমাইন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এরপর আজ (শনিবার) সকালে ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুপুরে সেখান থেকে একে একে ৭টি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এরপর তারা প্রথমে ৪টি এবং পরে বাকি ৩টি ল্যান্ডমাইনও নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিকট শব্দ এবং কম্পন অনুভূত হয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৬৮ দিন আগে
বরিশালে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার
বরিশালে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে। নগরী ও জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় তালুকদার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ৩০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি মোটরসাইকেলে। আর পেট্রোল নেই বলে সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল বরাদ্দ পাচ্ছে না। ফলে অনেক স্টেশন দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তেল বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট বেশি বলে জানা গেছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম তাই আগেভাগেই তেল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে করে গাড়িচালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে নিয়মিত ট্রিপ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাড়া বাড়ানোর চাপও তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং চাহিদা বৃদ্ধিই এই সংকটের প্রধান কারণ। তবে অনেকে মনে করছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন পাইকারি তেল ব্যবসায়ীরা।
রাব্বি ফিলিং স্টেশনের মালিক সুমন খান বলেন, আমাদের পাম্পে প্রতিদিন ১৬ হাজার লিটার ডিজেলের দরকার, সেখানে তিন দিন পরপর ১০ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রোল-অকটেনের অবস্থা একই; চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল দিচ্ছে ডিপোগুলো।
৬৮ দিন আগে
যাত্রীবেশে কাউন্টারে ইউএনও, সিরাজগঞ্জে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে জরিমানা
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে বাস কাউন্টারের এক প্রতিনিধিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সোনামুখী বাজারের বাস কাউন্টারে ছদ্মবেশে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই কাউন্টারে ঈদ-পরবর্তী যাত্রায় ৩৫০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এমন অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের অভাব ছিল। পরে ইউএনও নিজেই মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ পরে টিকিট কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ায় কাউন্টার প্রতিনিধি রুবেল হোসেন তার অপরাধ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে আর এমন অপরাধ করবেন না বলে মুচলেকা দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান।
৬৮ দিন আগে
মানিকগঞ্জে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করল তার বন্ধু
মানিকগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিক মিয়া (২৮)। তিনি ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রফিক মিয়া ও গ্রেপ্তাররা একে অপরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা রফিককে কালীগঙ্গা নদীর তীরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আরিফ মিয়া ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৬৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থি ২৭ আইনজীবীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ২
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে মিছিল, স্লোগানসহ ফুল দেওয়ার ঘটনায় সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীপন্থি ২৭ জন আইনজীবীর নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জন আসামি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মণীষ কান্তি দে (মিন্টু) ও অ্যাডভোকেট এম জিয়াউর রহমান শামীম। মণীষ কান্তি দে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি)। জিয়াউর রহমান শামীম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।
মামলার এজহার থেকে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের করা মামলার বাদী সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনুরুল হক। এজহারে আসামি হিসেবে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহরের স্মৃতিসৌধে মিছিল, স্লোগানসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তারা মিছিল নিয়ে জেলা কালেক্টরেট এলাকায় স্মৃতিফলকে যান। সেখানে স্লোগান দিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মিছিলে ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে ওই স্লোগানের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওসি রতন শেখ বলেন, যারা স্মৃতিফলকে মিছিল করেছেন ও স্লোগান দিয়েছেন, মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, এই সংগঠনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তারা মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন; মিছিলের ছবি, ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে প্রচারও করেছেন। এটি তারা করতে পারেন না।
৬৮ দিন আগে