সারাদেশ
খুলনায় ছিনতাইকারীর গুলিতে প্রাণ গেল আরেক ছিনতাইকারীর
খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় এক ছিনতাইকারীর ছোড়া গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে চড়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমারঘাট-সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করেন। ছিনতাইকারীরা তাহিদুলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেন তাহিদুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়েন। এতে তাদের নিজেদের এক সহযোগী সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়ার দেয়াড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত তাহিদুল বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
৬৯ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ৩৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বোয়ালখালী নতুন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
দীঘিনালা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরই মধ্যে দোকানগুলোর মালামাল ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাজারের আশপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাজার পরিচালনা কমিটির দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জুতার দোকান, কসমেটিকস, সেলুন, ফার্মেসি ও স্বর্ণের দোকান রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সহায়-সম্বল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা বিএনপি নেতারা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
৬৯ দিন আগে
গেটের টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বিয়ের আনন্দ, আহত ৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়েছে।
বরপক্ষের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বরপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৯ দিন আগে
পদ্মায় বাসডুবি: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬) বেঁচে ফিরেছেন। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে।
নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহুর্তে কীভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পড়লেন, তা তিনি বলতে পারছেন না, তবে নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি তিনি।
মুঠোফোন খোয়া গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল। তার দাবি, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান শেখের মরদেহ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে ফিরেছেন।
বুধবার দুপুর আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি কয়েক মিনিট দেরিতে খোকসা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠে বলে জানান কাউন্টার মাস্টার। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।
খাইরুল ইসলাম জানান, তার আসন নম্বর ছিল বি-২। তার ঠিক পাশের ছিটে সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার তিনি সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল।
তিনি বলেন, ‘এ সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। আমি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়ি। এ সময় হাতেগোনা কয়েকজন বাসযাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। তবে নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী আমার হাতের মুঠোফোনটি নিয়ে নেন। প্রথমে ভেবেছিলাম যে উনি আমাকে বাঁচানোর জন্য হাত বাড়িয়েছেন, কিন্তু তীরে ওঠার পর তাকে আর খুঁজে পাইনি।’
দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলেও জানান তিনি।
খাইরুল আরও জানান, বাসের প্রতিটি আসনে যাত্রীতে ঠাঁসা ছিল। প্রায় প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। আসনে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়ে। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যানের চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
সৌহাদ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও বি-২ আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিল। তাদের একজন জীবিত ফিরেছেন। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিল। ওই বৃদ্ধ ও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনি কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনেও নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানান এই কাউন্টার মাস্টার।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকাধীন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বাসটি ছাড়ে। এর বেশি তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
৭০ দিন আগে
সিলেটে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন মেঘারগাঁও রহিমার বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ জন কনস্টেবল আহত হন।
গ্রেপ্তার আলী হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মেঘারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি মামলায় আদালতের রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলী হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানার দিকে রওনা দেয় পুলিশ। এ সময় পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান উপজেলা কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একই গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে হামলা ন। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাগরসহ তিন কনস্টেবল আহত হন।
খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত বিএনপি নেতা তাজুল ইসলামের মেয়ে খাদিজা ও সুমাইয়া, নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের হাবিবুল্লাহর মেয়ে হাজেরা এবং আমির মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর চাপের মুখে আড়াই ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে হাতকড়াসহ আলী হোসেন পুনরায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
৭০ দিন আগে
স্বাধীনতা দিবসে বীর প্রতীক আজিজুল হককে ‘ভুলে গেল’ জেলা প্রশাসন
লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীককে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে দাওয়াত না পাওয়ার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় সরকার ৪২৬ জন বীর সন্তানকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। এর মধ্যে লালমনিরহাটের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক একজন। স্বাধীনতা দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসে সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে দাওয়াত করা হয়। এ সময় তাদের সম্মান জানানো হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের দেওয়া হয় উন্নতমানের খাবার।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সম্মান জানায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিধিমতো, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কার্ড দিয়ে তাদের দাওয়াত করা হয়।
এ দাওয়াত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার পর প্রতি বছর সকল জাতীয় দিবসে দাওয়াত পেলেও এবার তাকে দাওয়াত করেনি জেলা বা উপজেলা প্রশাসন। প্রতি বছর জাতীয় দিবসের জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বিচারকের দায়িত্বসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হক। এ বছর তাকে দাওয়াত না দেওয়ায় জেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানুকেও জেলা প্রশাসন দাওয়াত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আজিজুল হক বীর প্রতীক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার আমাকে দাওয়াত করেনি। তবে কেন করেনি তা আমি জানি না। প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচিতে যাই, এবার না যাওয়ায় বিভিন্ন জনের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) একজন রাজাকার, তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি সম্মান জানাতে চান না।’
লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক এসএম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ‘জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্তকে সম্মান না জানানো অপরাধ। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করা উচিৎ।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত করেছি। বীর প্রতীককে দাওয়াত না করার বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদের যথেষ্ট পরিমাণ কার্ড দিয়েছি।
মুক্তিযোদ্ধারা আপনাকে রাজাকার বলেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন কত জনে কত কিছু বলবেন।’
৭০ দিন আগে
কক্সবাজারে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে চলার সময় একই লেনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল-আরোহীর মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতরা হলেন— ঢাকা মহানগরের উত্তরখান আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং অলিউল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম শিশির (৩০)।
দুর্ঘটনার বিষয়ে চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুইজন নিহত এবং একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭০ দিন আগে
নড়াইলে পেট্রোল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসী মো. আকাশ মোল্যাকে (২২) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার সমাইজপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আকাশ মোল্যা (২২) নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মো. জিহাদুল মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে চা খাচ্ছিলেন আকাশ। এ সময় মাইজপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ৪০ থেকে ৫০ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যান।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত আকাশকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের পরের দিন মাইজপাড়া পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে হোসেনপুর গ্রামের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে আকাশের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহত আকাশ মোল্যার বাবা মো. জিহাদুল মোল্যা বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। ছেলেকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে যাচ্ছি। ছেলের অবস্থা ভালো না। তার শরীরে অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাত। শুনেছি তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭০ দিন আগে
রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে চালকরা
সারা দেশের মতো রংপুরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য পরিবহনের চালকরা। পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল-চালকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নগরীরর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ প্রায় সবগুলো পাম্পেই মোটরসাইকেল-চালকদের দীর্ঘ লাইন। আবার অনেক পাম্প কালো কাপড়ে ঢাকা।মোটরসাইকেল-চালকদের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহে তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা তেল সংগ্রহ করছেন। তবে দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষার পর মাত্র ১০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও অপেক্ষার পর জানা যাচ্ছে তেল শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেল পাম্প কর্মচারী ও মালিকদের সঙ্গে প্রায় তর্কাতকির মতো ঘটনা ঘটছে। আবার কোথাও কোথাও এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ রহমান পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে সময় হাতে নিয়ে পাম্পে এসেছি। এক ঘণ্টা হলো, তবু লাইন শেষ হচ্ছে না। কখন যে তেল পাব, তার কোনো ঠিক নেই।’
জুম্মন আলী বলেন, ‘শ্বশুর বাড়ি যাব। কমপক্ষে ৫০০ টাকার তেল লাগবে। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পেলাম মাত্র ১০০ টাকার। অনেক অনুরোধ করেও ১০০ টাকার বেশি পাওয়া গেল না। এই ১০০ টাকার তেল দিয়ে কীভাবে চলব?’
রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘২০০ বা ৩০০ টাকার তেল দিলে কিন্তু পাম্পের লাইন ধরতে হতো না। বাইকাররা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন এবং লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।’
স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালকরা তো তেল ইচ্ছা করে বেশি নিয়ে গিয়ে খায় না। প্রয়োজনেই তো তেল দরকার, সেটাও পাচ্ছি না। অথচ, মন্ত্রী অনবরত তেলের সংকট নেই বলে মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন; মন্ত্রীর লজ্জাও নেই।’
রংপুর পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, ‘সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যতটুকু তেল রয়েছে, সেটির সরবরাহও দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোটরসাইকেল-চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুদ করছেন। এমন আশঙ্কা থেকে ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থাকবে।’
এ সময় তিনি পাম্পের নিরাপত্তায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।
যমুনা পেট্রোলিয়ামের রংপুর অঞ্চলের বিক্রয় কর্মকর্তা মোহসিন আলী জানান, ‘ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
৭০ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
বাসডুবির ঘটনায় ডুবুরি দল ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার আগে, দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১) ও ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭) এবং একই মহল্লার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর (১১) এবং একই উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে বাসচালক আরমান খান (৩১), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫) এবং সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮); গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩) এবং ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশুসন্তান আরমান (৭ মাস)।
এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসচালক আরমান খান এবং দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) নামের নারীর মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
৭০ দিন আগে