সারাদেশ
ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়
ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও রিছাং ঝর্ণায় ঈদের দিন পর্যটক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিই বেশি দেখা গেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, টানা ছুটির বাকি দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও রহস্যময় গুহা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান।
বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া গুহার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল ভিন্নরকম রোমাঞ্চকর। অনেক পর্যটকের ভাষ্য, বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
এদিকে, প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় কিছুটা হতাশ হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছুটি হলেও এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি। তবে সামনে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী তারা।
হোটেল অরণ্য বিলাসের সহকারী ম্যানেজার রাজিব দে বলেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটক বাড়লে ব্যবসাও চাঙা হবে বলে তারা আশা করছেন।
ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি মোবাইল টিমও কাজ করছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রহস্যময় গুহা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, নয়নাভিরাম লেক, মায়াবিনী লেক, হাতিমাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর ও তৈদু ছড়া ঝর্ণা।
৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের এমপি দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ্জ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলামের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হবে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তার। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘসময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
৬ দিন আগে
নাটোরে পুকুর থেকে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর হাজীপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে মিলন প্রাং (৪৫) নামে নিখোঁজ এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন প্রাং গত বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে বাড়ির পাশের কালামের পুকুরপাড়ে তার ব্যবহৃত জামা ও জুতা পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যান। আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পুকুরে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তার স্ত্রী শাবানা খাতুন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনের মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিলন প্রাং দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যেতেন।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে জানিয়েছেন নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) নুরে আলম বলেছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
৬ দিন আগে
ভারতে ১৭ মাস কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৩৬ যুবক
ভারতে ১৭ মাস কারাভোগের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ফেরত আসারা বগুড়া, খুলনা, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, ভারতে গার্মেন্টসে ভালো কাজের আশায় ৩৬ বাংলাদেশি যুবক অবৈধপথে দালালের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাই গিয়েছিলেন। পরে অনুপ্রবেশের দায়ে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর দেশটির আদালত তাদের ১৭ মাস সাজা দিয়ে চেন্নাই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরেন।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
ফেরত আসা এক যুবক বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে ভারত গিয়েছিলাম। সেখানকার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে খুব ভালো লাগছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাঠ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা যুবকদের গার্মেন্টসে কাজ দেওয়ার কথা বলে দালাল চক্র তাদের ভারতে নিয়ে যায়। পরে তারা সেখানে প্রতারণার শিকার হন। আজ (শুক্রবার) তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এ মাঠ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ৩৫
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভেল্লাপাড়া সেতু এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও একটি লেগুনার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা রওনা দিলে পথে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস বেপরোয়া গতিতে অন্য একটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গিয়ে সামনে থাকা লেগুনাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুটি যানবাহনই সঙ্গে সঙ্গে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ঈগল পরিবহনের বাসচালক গাড়ি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ি ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম জানান, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থেকে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এমন দুর্ঘটনায় ঈদুল আজহার আনন্দমুখর দিনে হঠাৎ বিষাদের ছায়া নেমে আসে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় ২৫ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।
মৃত শিশু আরিমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৮৬ জন, সিলেটে ৪২, হবিগঞ্জে ২১ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়েছে।
৬ দিন আগে
মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে ঝিনাইদহে একজন নিহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে একটি শরবত ও চায়ের দোকানের পাশে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার।
পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভর মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের গ্রামবাসী জানতে পারলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, শুভ ও আবু তালেব আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
পুলিশ জানায়, পাখিমারা গ্রামের লাল্টু, মশা ফকির, মাহাবুব ও বাদশার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হরিশপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হরিশপুর গ্রামের খয়বর মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের গলায় মারাত্মক আঘাত লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) ভোরে দেলোয়ার মৃত্যুবরণ করেন।
ওসি অসিত কুমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
অধিকাংশ চরাঞ্চলে নেই ঈদের আনন্দ, হয়নি পশু কোরবানি
উত্তরের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে এবার ঈদুল আজহা এসেছে নিঃশব্দ বেদনা হয়ে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা শত শত চরে নেই উৎসবের রঙ, কোরবানির আনন্দ। কোথাও ঈদের দিনেও হাঁড়িতে ওঠেনি মাংস, কোথাও আবার নদীভাঙনের আতঙ্কে মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বসতভিটা।
রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় প্রায় ৭০০টি চর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর কুড়িগ্রামে, প্রায় ৪৫০টি। প্রতিটি চরে বসবাস করে ১৫০ থেকে ৫০০ পরিবার। এসব চরবাসীর প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। কিন্তু এবার আলু, ধান, ভুট্টাসহ প্রায় সব ফসলেই লোকসানের কারণে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে। অধিকাংশ চরেই হয়নি পশু কোরবানি।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধান এলাকার কৃষক মকবুল হোসেনের বয়স এখন ৬৮। জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে মাঠে-ঘাটে। কিন্তু এবারের ঈদ তার কাছে উৎসব নয়, বরং দীর্ঘশ্বাসের আরেকটি দিন। উঠানে ধান শুকালেও ঘরে নেই ঈদের আনন্দ, শিশুদের নতুন জামার হাসিও নেই।
১১ বিঘা জমিতে আলুচাষ করে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান গুনেছেন তিনি। এখনও তার মাথায় আড়াই লাখ টাকার ঋণ। ভেবেছিলেন বোরো ধান হয়তো কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু ভালো ফলন হলেও বাজারদর তাকে আরও হতাশ করেছে।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ৯৫০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ধান, আলু, ভুট্টা—সবখানেই লোকসান। কয়েক দফা কালবৈশাখীতে সবজিও নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষিকাজে এবার শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। মনে কোনো শান্তি নেই। ঈদের আনন্দও নেই।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর বুকে দ্বীপচর ফলিমারীতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। গত কয়েকদিন ধরে নদীভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চরে। ঈদের দিনেও নদীর তীরে চলেছে ভাঙন। ফলে উৎসবের বদলে উৎকণ্ঠাই এখন সঙ্গী। গত বছর এই চরে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি হলেও এবার কোনো পশু কোরবানি হয়নি।
৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় সড়কের সাইড পোস্টের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, তিন বন্ধু আহত
কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দেয় সড়কের সাইড পোস্টে। এতে মোটরসাইকেলের চালকসহ তিন আরোহী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেঙে গেছে সড়কের দুই সাইড পোস্ট। ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১১টার দিকে কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর নির্মিত যদুবয়রা সেতুর দক্ষিণপাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ননের লালনবাজার এলাকার ফুলচাদের ছেলে রবিন শেখ (১৮), ফারুকের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৮) ও আবু তালেবের ছেলে টুটুল হেসেন (২০)। সম্পর্কে তারা তিন বন্ধু। তারা যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঈদে বিনোদনের জন্য তিন বন্ধু রবিন, ফরহাদ ও টুটুল একটি মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন। তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যদুবয়রা সেতু থেকে জয়বাংলা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের সাইড পোস্টে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিন বন্ধু সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও দুর্ঘটনায় সড়কের দুটি সাইড পোস্ট ও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যদুবয়রা সেতুর সামনের সড়কে পড়ে থাকা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি স্থানীয়রা সরানোর চেষ্টা করছেন। সড়কের সাইড পোস্ট দুটি ভাঙা। ভিড় করেছে উৎসুক জনতা।
এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী মো. সাইদুল বলেন, তিনজন আরোহীর মোটরসাইকেলে ৮০ থেকে ৯০ গতিবেগ ছিল। মোড় ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে দুটি খুঁটি ও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে। তিনজনই গুরুতর আহত।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের পা, হাত, কোমর ও কানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় আহত ফরহাদ হোসেন জানান, মাত্র ১০ মিনিট আগে তিন বন্ধু ঈদে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। গাড়ির গতি একটু বেশি ছিল। মোড় ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কাটি লাগে। এতে তিনজনই হাত,পা, কানসহ বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছি। কর্তব্যরত চিকিৎসক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তিনজনের অবস্থাই গুরুতর। সেজন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের সাইড পোস্টে সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনবন্ধু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোটরসাইকেল ও খুঁটি দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে গাড়ি না দেওয়া ও সড়কে নিয়ন্ত্রণে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২
পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গলাচিপার গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গলাচিপা পুলিশ জানায়, উপজেলার কালিকাপুর থেকে গলাচিপার উদ্দেশে বেপরোয়া গতিতে চলা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেলে গতি অতিরিক্ত থাকার কারণে চালক তামিম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে পুনরায় সজোরে ধাক্কা লাগে সাইকেলটির।
এতে মোটরসাইকেলচালক তামিম হাওলাদার ঘটনাস্থলেই এবং আরোহী মন্নান হাওলাদার (২৫) গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানায় পুলিশ।
৭ দিন আগে