সারাদেশ
দিনাজপুরে পৃথক স্থান থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সায়েলা পারভীন (৩৩) নামের এক নারীর এবং খানসামায় শফিকুল ইসলাম নামের এক রিকশাচালকের গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। তবে দুজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কালাইচড়া গ্রাম থেকে পারভীনের এবং দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মুন্সিপাড়া মহল্লায় শফিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ পৃথকভাবে উদ্ধার করে পুলিশ।
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেদ জানান, মুন্সিপাড়া মহল্লায় শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ায় রিকশাচালক শফিকুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার স্বজনরা। তিনি ঢাকায় রিকশা চালাতেন। দুই সন্তানের জনক ছিলেন তিনি।
পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ভার ছিল তার কাঁধে। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা তার পরিবারের।
অন্যদিকে, নবাবগঞ্জের কালাইচড়া গ্রামের বাবার বাড়ির বসতঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সায়েলা পারভীন মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, স্বামী পরিত্যক্ত সায়লা পারভীন ৬-৭ বছর ধরে বাবার বাড়ীতে আশ্রিত ছিল। আজ (বুধবার) সকালে তার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৯ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মো. মনির হোসেন (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২-এর সদস্যরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) র্যাব-১২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র্যাব-১২-এর অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার সয়দাবাদ মোড় এলাকায় সিয়াম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার মনির বগুড়া জেলার ধনুট উপজেলার উত্তর শহরা বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
৯ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর জোনায়েদ মিয়া (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের একটি বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জোনায়েদ পশ্চিম বাগহাটা গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আজীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে জোনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে স্বজন ও প্রতিবেশিরা বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে এবং মাইকিং করেও জোনায়েদের কোনো সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে তার পরিবার। বুধবার সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় কচুরিপানার ভেতর জোনায়েদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা স্বপন মিয়া বলেন, জোনায়েদ পানিতে ডুবে মারা যায়নি। তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে গেছে। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আলামত সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
জাবির নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হলের সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ভীতিপ্রদর্শন করে বাসায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৩২) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
বিশাববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। গতকাল (মঙ্গলবার) তারিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তরিকুল ইসলাম তার মুখে টেপ লাগিয়ে বেঁধে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুড়ে যাওয়ার ক্ষতের ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তরিকুল কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সুযোগে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, গতকাল রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে আমাদের ফোর্স গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জাবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
৯ দিন আগে
বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ গেল কৃষকের
বান্দরবান জেলার লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা (৬০) নামের এক আদিবাসী বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ত্রিশডেবা ডলুঝিরি পাড়ায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ক্যচিং মং মার্মা বাচিং কারবারি পাড়ার বাসিন্দা বাচিং মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যচিং মং মার্মা নিজ ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে যান। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও ক্যচিং মং মার্মা বাড়িতে না ফিরলে স্বজনেরা খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে ক্যচিং মং মার্মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্যচিং মং মার্মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে উচিংহ্লা মার্মা জানান, ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে আমার বাবা বন্যহাতির কবলে পড়েন। ওই হাতির পায়ের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, হাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা নিহতের ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৪
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আশুরা আক্তার পাখি (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পাখির বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার রহিমানগর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবুল বাশারের মেয়ে ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া তার শ্বাসনালীতে দগ্ধজনিত ক্ষত হয়ে গিয়েছিল যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
এর আগে একই ঘটনায় নুরজাহান আক্তার ও তার ছেলে শাওন এবং দেবর সুমনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ পাখি আক্তারের মৃত্যু হলো।
এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও ৫ জন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস লাইন থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। ঘটনার পর দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
৯ দিন আগে
নিখোঁজের ৪ দিন পর লোকটিকে পাওয়া গেল শিকলবন্দি অবস্থায়
চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর আলমডাঙ্গার এক ব্যক্তিকে দর্শনা থেকে হাত–পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. বিপুল (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুল সাত্তার মন্ডলের ছেলে।
তার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর পোস্ট অফিস এলাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার হঠাৎপাড়া এলাকার পাকা রাস্তার পাশে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে দূর থেকে দেখে তারা ভেবেছিলেন কোনো ভবঘুরে পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে হতবাক হয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা বলেন, রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে একজন মানুষ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি হাত-পায়ে লোহার শিকল বাঁধা। তখনই আমরা পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দর্শনা হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানায় তার নিখোঁজ-সংক্রান্ত একটি জিডি ছিল। বিষয়টি জানার পর তাকে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ৪ দিন আগে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। আমরা দর্শনা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
৯ দিন আগে
চাঁদপুরে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, আহত ৪
চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধনাগোদা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহত দম্পতি সৌরভ (২২) ও রাহেলা আক্তারকে (২০) চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা চাঁদপুর সদর উপজলার পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রানা সাহা জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবস্থাই এখন আশঙ্কমুক্ত। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, তারা নৌকা চড়ে মতলব উত্তর থেকে মতলব দক্ষিণে আসার পথে নৌকাটি খেয়াঘাট এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নৌকার মাঝিসহ ৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
১০ দিন আগে
কুমারখালীর কাপড়ের হাটের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার ঘোষণা এমপি আফজালের
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী কাপুড়িয়া হাট পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা–কুমারখালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমের অভিযোগ সামনে আসে। এসব বিষয়ে এমপি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অস্বাস্থ্যকর প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও একটি সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন এ সংসদ সদস্য।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমারখালী পৌরসভা শাখার নেতা ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১০ দিন আগে
চট্টগ্রাম–কুমিল্লার বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে দুই মন্ত্রী
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ন্ত্রণে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন। পরে তিনি আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীদের বিস্তারিত জানান।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন, ৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি। ভর্তিকৃত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের ৪ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্যাস লিকেজ থেকে সারাবছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে এবং আজকে সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরো একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় এই তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে তিন মন্ত্রণালয় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব কিভাবে এই দুর্ঘটনাকে কমিয়ে আনা যায়।’
সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, ‘এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক শিশু বাচ্চা সহ নারীরা আহত হয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের সাপোর্ট লাগে আমরা সেই ধরনের সাপোর্ট দেব।’
পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা নাসির উদ্দিন জানান, ‘আজকেও সেহরির পরে শিশু বৃদ্ধসহ বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। আমরা এই ধরনের ঘটনা আমরা প্রায়ই পাই। আমাদের এখানে চিকিৎসায় তাদের কোন সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিকিৎসার ব্যাপারে সাহায্য পাব। আমাদের চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা পাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম থেকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আমাদের চিকিৎসকরা বিষয়টি জানতেন এবং আমাদের অতিরিক্ত জনবল ডিপ্লয় করা ছিল। চট্টগ্রাম থেকে আনার পথে একজন নারী এখানে মারা যায়। অনেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। আইসিইউ ও এইচডিইউতে তাদের চিকিৎসা চলছে। ৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।’
১০ দিন আগে