ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও রিছাং ঝর্ণায় ঈদের দিন পর্যটক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিই বেশি দেখা গেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, টানা ছুটির বাকি দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও রহস্যময় গুহা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান।
বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া গুহার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল ভিন্নরকম রোমাঞ্চকর। অনেক পর্যটকের ভাষ্য, বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
এদিকে, প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় কিছুটা হতাশ হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছুটি হলেও এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি। তবে সামনে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী তারা।
হোটেল অরণ্য বিলাসের সহকারী ম্যানেজার রাজিব দে বলেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটক বাড়লে ব্যবসাও চাঙা হবে বলে তারা আশা করছেন।
ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি মোবাইল টিমও কাজ করছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রহস্যময় গুহা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, নয়নাভিরাম লেক, মায়াবিনী লেক, হাতিমাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর ও তৈদু ছড়া ঝর্ণা।