সারাদেশ
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে থানা ঘেরাও
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিপাকে পড়েন থানার সেবাগ্রহীতারা।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনানুযায়ী সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
এর আগে, সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সন্ধ্যা ৭টা থেকে কোতয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে মূল দরজা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। তার আগে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দাবিসহ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
এদিকে, সুহানের গ্রেপ্তারের খবরে রোববার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে কাজে ফিরেছেন শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা জানান, আন্দোলনের নামে হাসপাতালের ডাক্তারকে মারধরের প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট করছিলেন।
বরিশালের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার মামলাসহ জুলাই অভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া আরও একটি মামলায় সুহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল আমাদের। তাই আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিই। সেখান থেকে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে ধরে নিয়ে গেছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা এখন থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।’
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, আমরণ অনশন
এর আগে, রোববার আন্দোলনের নামে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে শেবাচিমের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার ওপর হামলা, হত্যা করতে আঘাতসহ মারধর-জখম করাসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে গত ২৩ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা।
১৯৯ দিন আগে
ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে গৃহশিক্ষকের যাবজ্জীবন
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ওই ছাত্রীর গৃহশিক্ষক মাশরুর রহমান সজীবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আতোয়ার রহমান এই সাজা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বিশেষ পিপি আব্দুল লতিফ লতা।
সাজা পাওয়া মাশরুর রহমান সজীব যশোর পালবাড়ি তেঁতুলতলা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকা বাড্ডার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী যশোর শহরের একটি কলেজে ভর্তি হন। এরপর পালবাড়ি এলকায় ফুফুর বাড়ি থেকে পড়াশোনা করতেন। গৃহশিক্ষক হিসেবে তাকে পড়াতেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সজীব। একপর্যায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৬ সালের ১৫ জুন বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সজীব ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাদের সম্পর্ক উভয় পরিবারে জানাজানি হয়ে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সজীব ওই ছাত্রীকে তার আত্মীয়ের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন। তিনি গোপনে তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও-ও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সজীব ঘোরাতে থাকেন এবং যোগোযোগ বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলে শিশুহত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এরপর গত বছরের ৩০ জুলাই সজীবের মাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, সজীব ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবেন না। শুধু তাই নয়, সজীব অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলেও জানান তার মা।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৭ আগস্ট যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় করেন ওই ছাত্রী।
আদালতের তৎকালীন বিচারক অভিযোগের তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আসামি সজীবকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় সজীব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
১৯৯ দিন আগে
দুদকের মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মকর্তা কারাগারে
জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন তারা। তবে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।
আত্মসমর্পণ করা ৬ কর্মকর্তা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বিলাল আহমদ চৌধুরী, সেকশন অফিসার বেলাল উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ, মো. রেদোয়ান, আব্দুল মজিদ ও তানভীর আহমদ। তারা সবাই দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি।
দুদকের আইনজীবী লুৎফুল কিবরিয়া শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের চার্জশিটভুক্ত ৬ আসামি মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে রায়হান হত্যা: জামিনে মুক্ত প্রধান আসামি এসআই আকবর
ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ৫৮ জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে ২৪ এপ্রিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউজিসি ২০২৩ সালে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা করে দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
মামলায় তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী ছাড়া আরও ৫৬ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।
১৯৯ দিন আগে
নোয়াখালীতে পুকুরের ঘাটে শামুক কুড়াতে গিয়ে ২ বোনের মৃত্যু
নোয়াখালীর সেনবাগে পানিতে ডুবে আপন দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন একই গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে বিবি মরিয়ম অহি (১০) ও সিদরাতুল মুনতাহা ছহির (৬)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা উভয়ই স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুই বোন একসঙ্গে ঘরের পাশের পুকুর ঘাটে যায়। সে মুহূর্তে তারা ঘাটে একটি শামুক দেখতে পায়। বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় বড় বোন অহি পুকুরে ঘাটে থাকা শামুক কুড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার ছোট বোন বড় বোন ছহির ও পুকুরে ডুবে যায়।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
পরে সকাল ৭টার দিকে দুই বোনকে অচেতন অবস্থায় পুকুরে ভাসতে দেখে তাদের বাড়ির এক চাচা উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার উপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ জানান, পুকুরের ঘাটলায় শামুক কুড়াতে গিয়ে বড় বোন পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছোট বোনও পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায়। কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৯ দিন আগে
মেহেরপুর সীমান্তে ৩৯ নারী পুরুষকে হস্তান্তর বিএসএফের
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার সময় কাজিপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪৭ এর নিকট বিজিবি'র কাছে তাদের হস্তান্তর করে বিএসএফ।
পতাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১১ সদস্যের ভারতের ১১ বিএসএফের গান্দিনা ক্যাম্পের এসি সুনিল কুমার ও বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, কাজিপুর বিওপি নায়েব সুবেদার কায়ূম হোসেন ও আসাবুর রহমান।
আরও পড়ুন: আজ ৪৫ জনকে পুশইন ও ২৭ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ
এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, হস্তান্তর করা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে সীমান্তে এনে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
১৯৯ দিন আগে
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন করার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জেলা বিএনপি ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।
এসময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আহমেদসহ সর্বদলীয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাটাখালি থেকে নওয়াপাড়া মহাসড়ক অবরোধ, ২৪ আগস্ট রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি, ফকিরহাট, মোল্লাহাট সেতুতে, পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি। এছাড়া সোমবার একই সময়ে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।
তিনি বলেন, বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার বিষয়ে আমরা সবদল এক সঙ্গে হয়েছি। আসন বহাল রাখার জন্য আমরা সবকিছু করতে রাজি আছি।
সম্মেলনে উপস্থিত সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রেজাউল করিম বলেন, আসন কমানোর এই প্রস্তাব একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নির্বাচন কমিশন যদি এই প্রস্তাব থেকে ফিরে না আসেন, তাহলে এত কঠিন আন্দোলন করা হবে। যার সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশন নেই।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকে সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, চারটি আসন থেকে তিনটি আসন করা হলে জেলাবাসী নানাভাবে বঞ্চিত হবে। নির্বাচন কমিশন যদি চারটি আসন বহাল না রাখেন, তাহলে বাগেরহাটকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল। ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি অংশ কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এরপর থেকেই বাগেরহাট জেলাবাসী ক্ষোভে ফুসে ওঠে। একের পর এক কর্মসূচি দিতে থাকে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এমনকি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছেন বাগেরহাটবাসী। আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৯ দিন আগে
আত্রাইয়ে লাঠির আঘাতে চাচা নিহত, ২ ভাতিজা গ্রেপ্তার
নওগাঁর আত্রাইয়ে লাঠির আঘাতে চাচা আজিজার রহমান (৬৮) নিহতের ঘটনায় দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ আগষ্ট) ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে আত্রাই থানা পুলিশ। এদিন দুপুরের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আত্রাই উপজেলার তেজনন্দী ভাটো পাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের দুই ছেল বাবু ও আলিম। তারা দুজনেই নিহতের ভাতিজা।
এর আগে গত সোমবার (১৮ আগষ্ট) সন্ধ্যায় বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা আজিজার রহমানের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
জানা যায়, জমি-জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টায় ভাতিজাদের সঙ্গে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে চাচা আজিজার রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ভাতিজাসহ কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ভাতিজার লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই চাচা আজিজার রহমান নিহত হন। পরে নিহতের ছেলে মুকুল হোসেন বাদী হয়ে আত্রাই থানায় ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই ভাতিজারা পালিয়ে যায়।
মামলার প্রেক্ষিতে আত্রাই থানা পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাটোর জেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুই ভাতিজা বাবু ও আলিমকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, আজিজার রহমান নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তাররা মূল আসামি। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। বাবু ও আলিমকে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে।
১৯৯ দিন আগে
কোম্পানীগঞ্জে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদাপাথরে লুটের ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন চলছে উদ্ধার অভিযান। গতকাল (সোমবার) থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: সাদা পাথর লুট: সিলেটের ডিসি ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওকে বদলি
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সন্ধা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। এখন পর্যন্ত খনিজ সম্পদ ব্যুরোর মামলায় ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাপাথরে লুটপাটে জড়িতদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।’
এর আগে, সোমবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার টিলাপাড়া, রঙ্গিটিলা, কান্দিপাড়া ও সালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধানখেত এবং কারো কারো বাড়ির উঠান, পথের ধারে ঘাস লতাপাতায় লুকানো অবস্থায় রাখা প্রায় ৫ হাজার ১০০ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে প্রশাসন।
এদিকে, সাদাপাথর লুটপাট নিয়ে দেশজুড়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সোমবার ওএসএডি করা হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে। এ ছাড়া অন্য একটি আদেশে বদলি করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকেও।
১৯৯ দিন আগে
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে যশোরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে যশোরে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সপ্তাহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার মুহাম্মদ রফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মৎস্য চাষি ও সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, যশোরে মৎস্য খাত সঠিকভাবে পরিচালিত হলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।’
তিনি বলেন, অধিকাংশ সমস্যাগুলো মৎস্য ঘের, বিল ও বাওড় কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। অপরাধীরা ঘের বাওড়-কেন্দ্রিক আশ্রয় নিয়ে থাকে, তারা যেন এসব জায়গায় অপরাধীরা যেন আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়ে চাষিদের সতর্ক থাকতে হবে। মৎস্য চাষিদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করণীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসসহ জেলায় ল্যাব প্রতিস্থাপনের জন্য আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি মৎস্য খাতকে বাঁচাতে চীনা জাল ব্যবহারে সতর্কতা করেন।’
জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের পরিবর্তনের আলোকে মৎস্য খাতেও আধুনিকায়ন প্রয়োজন, না হলে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে এবং দেশীয় মাছ রক্ষার্থে সবার সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।
সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদান রাখার জন্য হ্যাচারি মালিক ও মৎস্য চাষিদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৎস্য কর্মকর্তা ও অতিথিগণ যশোর পৌর পার্কের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
১৯৯ দিন আগে
সিলেটে মাইক্রোবাস চাপায় অটোরিকশাচালক নিহত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মাইক্রোবাসের চাপায় এহিয়া (৩০) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাওনপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এহিয়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত জাহিদ মিয়ার ছেলে।
পুশিল জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা অটোরিকশা ও বিশ্বনাথ থেকে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বাওনপুর এলাকায় পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় অটোরিকশা-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে অটোচালকের মাথায় একটি বড় রড ঢুকে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি; আহত হন আরও তিন জন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ।
এই দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বাওনপুর নামক স্থানে সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
২০০ দিন আগে