সারাদেশ
ছেলের স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আবু সাঈদের মা
আজ ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বছরপূর্তি। এই দিনে সারা দেশে বিজয় উৎসব হলেও ছেলের স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখাই এখন একমাত্র ইচ্ছা বলে জানিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছে, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আছি। যেন এ দেশে আর কোনো দিন ফ্যাসিস্টের জন্ম না হয়। এ দেশে আর যেন বৈষম্য, হানাহানি, খুনোখুনি না থাকে।’
পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামের জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের পৈতৃক নিবাসে ছেয়ে আছে শূন্যতা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন বাড়িতে, রয়েছে তার ব্যবহৃত জামা-কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্রও।
তবে প্রকৃতির নিয়মে সব আগের মতো চললেও বাবা-মায়ের কাছে আবু সাঈদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
রংপুর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের জাফরপাড়ার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন আবু সাঈদ। বাড়িতে ঘরের পাশেই আবু সাঈদের কবরের সামনে নিষ্পলক দাঁড়িয়ে ছিলেন মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেন।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: আইন উপদেষ্টা
মা মনোয়ারা বলেন, ‘আমার সন্তানের কারণে বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। আমার ছেলের মতো যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়—এটাই সবার কাছে আমার দাবি। সে যে চেতনা নিয়ে বুকের রক্ত দিয়েছে, সেই চেতনার বাংলাদেশ দেখে মরলে শান্তি পাব।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে এখন সবাই আসেন, জানতে চান আমার ছেলের আত্মদানের কথা। সকাল হচ্ছে, সন্ধ্যা হচ্ছে, মানুষজন আগের মতোই বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাজার মানুষের ভিড়েও আমার বুকে এক শূন্যতা বিরাজ করে। এক বুক হাহাকার নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে আমার। সেই শূন্যতা কে পূরণ করবে? আমি একজন মা হিসেবে আমার ছেলের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আছি।’
বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের আত্মদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। দেশের মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।’
আন্দোলনে তার ছেলের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছেলেরা পড়াশোনা করে চাকরি না পাওয়ায় আন্দোলন করেছে। এটা ছিল ন্যায্য দাবি।’
আবু সাঈদের হত্যাকারীদের ব্যাপারে মকবুল হোসেন বলেন, ‘যে পুলিশ সদস্য আমার ছেলের বুকে গুলি চালিয়েছে, সেই পুলিশসহ অন্যান্য হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
২১৩ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, তবে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি কিছুটা কমলেও তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এতে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ফের বন্যা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৬টায় পানির পরিমাণ ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
তবে রবিবার সকাল ৬টায় এ পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের উজানে ভারী বর্ষণের কারণে হঠাৎ নদীতে পানি বাড়ে। এতে তিস্তা তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
রাতেই হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে গেছে আমন ধানের চারা, সবজির মাঠ, পুকুর। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। এখন নৌকা ও ভেলাই চলাচলের একমাত্র ভরসা। প্লাবিত নতুন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী;কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী ও নোহালী; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী; সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়ন।
আরও পড়ুন: তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু জানুয়ারিতে, ব্যয় হবে ১২ হাজার কোটি টাকা
পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল দিন থেকে পানি বাড়তে বাড়তে রাতেই ঘরে ঢুকে গেছে। গরু-ছাগল নিয়ে খুব বিপাকে পড়েছি। কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি লোক খোঁজ নেয়নি। আমরা কি কখনো স্থায়ী সমাধান পাবো না?’
খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের জালাল মিয়া বলেন, ‘সারারাত পানি ঢুকেছে। রান্না বন্ধ। বাচ্চারা স্কুলেও যেতে পারছে না। কেউ দেখতে আসছে না। রাজনৈতিক নেতারা শুধু তালিকা নিচ্ছে, ত্রাণ বা সহায়তা কিছুই দিচ্ছে না।’
পাউবো লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন, ‘রোববার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। এখন কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে। দুই-তিন দিন এই পরিস্থিতি স্থায়ী হতে পারে। তবে পানি আবার বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
২১৪ দিন আগে
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোগান্তি
কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন সপ্তাহ ধরে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে সিলেট নগরীসহ পুরো বিভাগে প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে অবস্থিত ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ আচার্য বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ‘আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যেই এটি আবার চালু করা সম্ভব হবে।’
গ্রিড উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন পরীক্ষা ও পরিদর্শনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ আচার্য বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা দলটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করছে। সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে সিস্টেম সঠিক প্রমাণিত হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এই সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা যাবে বলে আমরা আশা করছি।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব চুরির পর ভেঙে নিচ্ছে দেয়ালও
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এখান থেকে সিলেট বিভাগের চারটি জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় বর্তমানে সিলেট পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে সিলেটে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং আরও বেড়েছে। এতে ওই চার জেলায় মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এ ছাড়া, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় প্রতিদিনই পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং চলতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপও হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
২১৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বাসভাড়া নিয়ে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন গণপরিবহন শ্রমিকরা।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকেই এই ধর্মঘট চলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (রবিবার) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে সিলেটগামী একটি বাসে সুবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা শান্তিগঞ্জের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে বাসভাড়া নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে এই তর্ক হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করেছেন । তাছাড়া শিক্ষার্থীরা ওই বাসের হেলপার ও চালককে মারধর করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ৮ দাবি, না মানলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
এর প্রতিবাদে রবিবার বিকালে তারা প্রায় ২ ঘণ্টা সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে উভয়দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিকাল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
তবে, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন জানান, শুধু সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে এ কর্মবিরতি চলছে, পুরো বিভাগে নয়।
২১৪ দিন আগে
নাটোরে চাঁদার টাকা নিতে গিয়ে ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা আটক
নাটোরের গুরুদাসপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার সময় নাজমুল হাসান নামে এক যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটকের পর তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এনএসআই, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে নাজমুল হোসেনকে আটক করা হয়।
নাজমুল গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় মহল্লার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, নাজমুল হোসেন নিজেকে এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফোন দেন।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জুলহাস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, নাজমুল নিজেকে এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দুদকের ভুয়া চিঠি তৈরি করেন। এরপর গত তিন দিন ধরে গুরুদাসপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে খাদ্যগুদামে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
ঘটনাটি জেলা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের কাছে জানালে, জেলা প্রশাসক খোঁজ নিয়ে দুদকের ওই চিঠিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন।
এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নাজমুলকে আটকের পরিকল্পনা করে এনএসআই। পরে রবিবার রাতে তাকে চাঁদার টাকা নেওয়ার জন্য মডেল মসজিদের সামনে আসতে বলা হয়। ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা নাজমুল টাকা নিতে এলে সেখানে আত্মগোপনে থাকা সেনাবাহিনী, এনএসআই ও পুলিশ সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাজমুল নিজেকে প্রকৌশলী বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এই প্রথম এমন কাজে জড়িয়েছিলেন তিনি। পরে নাজমুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল হক খন্দকার।
২১৪ দিন আগে
খুলনায় ঘের ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা
খুলনার দৌলতপুরে আল আমিন (৩০) নামে এক মাছের ঘের ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৩ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরপাশা বণিকপাড়া খানাবাড়ি এলাকার খানাবাড়ি রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা দিঘীর পূর্বপাড় এলাকার সাহেদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর বণিকপাড়া খানাবাড়ি পল্লবের বাড়ি সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা আল আমিনকে হত্যা করে তার লাশ ফেলে রেখে যায়। রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: রংপুরের পীরগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা
ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি, কালো রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ গলাকাটা অবস্থায় এক যুবকের লাশ বণিকপাড়া খানাবাড়ির সামনে পড়ে আছে। পরে জানতে পারি, মোটরসাইকেলটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা কেউ বলতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবকের গলাকাটা হয়েছে। তার পরনে ছিল গেঞ্জি ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’
ওসি জাহিদুল জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
২১৪ দিন আগে
সিলেটের ধলাই নদীর স্রোতে যুবক নিখোঁজ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীতে উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে তীব্র স্রোতে আফতাব উদ্দিন (৩১) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আফতাব উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে।
স্বজনরা জানান, আফতাব সকাল ৭টার দিকে ধলাই নদীতে লাকড়ি কুড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, নদীর স্রোতের টানে ভেসে গেছেন আফতাব।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে পদ্মা নদী থেকে দুই বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে আফতাবকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অন্ধকার নেমে আসায় অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, ধলাই নদীর স্রোতে এক যুবক ভেসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। সোমবার সকাল থেকে ডুবুরি দল আবারও তাকে উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
২১৪ দিন আগে
রংপুরে দোকান উদ্বোধনে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ২, আহত ১৩
রংপুরে একটি সারের দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন।
রবিবার (৩ আগস্ট) রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের সাহাবাজ (আমতলা) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— পীরগাছা উপজেলার জোবেদ আলীর ছেলে শাহাবুদ্দিন (৪৫) এবং মিঠাপুকুর উপজেলার শরিফুল ইসলাম (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহাবাজ বাজারে নজর আলী নামে এক ব্যক্তি নতুন একটি সারের দোকান চালু করেন। এ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যে প্যান্ডেল সাজানো হয়, সেখানে একটি বিদ্যুতায়িত বাঁশের সংস্পর্শে এসে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বিদ্যুতায়িত হয়ে কাঠমিস্ত্রীর মৃত্যু, আহত ৩
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, ‘কেন এমন ঘটনা ঘটলো, সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
২১৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন রাতেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়কের উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর এলাকার ফাঁকা মাঠ নামক স্থানের একটি লিচু বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই ঘটনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানায় নিয়ে এসে বসিয়ে রাখে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী (২৬) পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি। বারো মাইল এলাকার ওই হোটেলে কাজ শেষ করে রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় উপজেলার মসলেমপুর ফাঁকা মাঠ এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন— মসলেমপুর গ্রামের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগ এলাকার মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু মন্ডল ওরফে টিপু (৪২), এজাজুল (৪২) এবং ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে পুলিশ ভেড়ামারা থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাতভর তাদের থানায় রাখা হয়। সে সময় সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলেও ভেড়ামারা থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ভুক্তভোগী নারীকে রাতেই থানায় নেওয়া হলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও তাকে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা শেষে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে ওই নারী দাবি করেছেন যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি।’
২১৫ দিন আগে
পাহাড় ধস, বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় খাগড়াছড়িসহ সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের একটি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে ছোটবড় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতভর ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে মাটি জমে যায়। ফলে ভোর থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-বাঘাইছড়ি সড়কের একটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। মাটি সরানোর কাজ চলছে। তবে জেলার অন্যান্য সড়কগুলো স্বাভাবিক রয়েছে।’
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন, ‘সড়কে পড়ে থাকা মাটি সরাতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রশাসনের
এদিকে, দীঘিনালার দ্বিতীয় শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে খাগড়াছড়িতে থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত। ইতোমধ্যে চেঙ্গি, মাইনি নদীসহ ছাড়া খালগুলো পানিতে ভরে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে খাগড়াছড়ি জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
২১৫ দিন আগে