সারাদেশ
কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন রাতেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়কের উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর এলাকার ফাঁকা মাঠ নামক স্থানের একটি লিচু বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই ঘটনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানায় নিয়ে এসে বসিয়ে রাখে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী (২৬) পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি। বারো মাইল এলাকার ওই হোটেলে কাজ শেষ করে রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় উপজেলার মসলেমপুর ফাঁকা মাঠ এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন— মসলেমপুর গ্রামের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগ এলাকার মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু মন্ডল ওরফে টিপু (৪২), এজাজুল (৪২) এবং ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে পুলিশ ভেড়ামারা থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাতভর তাদের থানায় রাখা হয়। সে সময় সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলেও ভেড়ামারা থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ভুক্তভোগী নারীকে রাতেই থানায় নেওয়া হলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও তাকে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা শেষে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে ওই নারী দাবি করেছেন যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি।’
২১৫ দিন আগে
পাহাড় ধস, বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় খাগড়াছড়িসহ সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের একটি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে ছোটবড় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতভর ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে মাটি জমে যায়। ফলে ভোর থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-বাঘাইছড়ি সড়কের একটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। মাটি সরানোর কাজ চলছে। তবে জেলার অন্যান্য সড়কগুলো স্বাভাবিক রয়েছে।’
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন, ‘সড়কে পড়ে থাকা মাটি সরাতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রশাসনের
এদিকে, দীঘিনালার দ্বিতীয় শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে খাগড়াছড়িতে থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত। ইতোমধ্যে চেঙ্গি, মাইনি নদীসহ ছাড়া খালগুলো পানিতে ভরে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে খাগড়াছড়ি জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
২১৫ দিন আগে
পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার সময় একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর নাওডোবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়া থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার সময় একটি অজ্ঞাত বাস মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।
নিহতদের একজন হলেন মোহাম্মদ আলী অন্তু। তিনি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অপর ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, আহত ১
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নকিব আকরাম হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে শিবচর হাইওয়ে থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
২১৬ দিন আগে
গেটম্যানবিহীন রেল ক্রসিংয়ে ট্রাক্টরে ট্রেনের ধাক্কা, গুরুতর আহত চালক
রংপুরের পীরগাছায় গেটম্যানবিহীন একটি রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একটি ট্রাক্টর দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে ট্রাক্টরচালক আসাদ মিয়া (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে উপজেলার চৌধুরানী এলাকার সুবিদ রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত আসাদ মিয়া উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের সুবিদ গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।
পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জেনারুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি রেলক্রসিংটি অতিক্রম করছিল। এ সময় ট্রাক্টরটি রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি চালকসহ নিহত ৪
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর নিয়ে বের হন আসাদ মিয়া। সুবিদ রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ করে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন এসে ট্রাক্টরটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহত চালককে উদ্ধার করে রমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুবিদ রেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত সেখানে গেটম্যান নিয়োগ এবং সুরক্ষিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
২১৬ দিন আগে
শার্শায় সরকারি চালের বস্তা ছিনতাই, বিএনপির ২ কর্মী গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শার উলাশী ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ আগস্ট) বিকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শার্শার ধলদাহ গ্রামের রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস ও মোসলেম বিশ্বাসের ছেলে লাল্টু বিশ্বাস। তারা ওই এলাকার বিএনপির কর্মী।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার রামপুর ধলদা গ্রামের মোড়ে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমিনুর রহমানের অনুসারী বলে জানা গেছে।
শার্শার উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ জানান, উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ধলদা মোড়ে ভিডব্লিউভি তালিকাভুক্ত প্রত্যেক নারী সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিন বস্তা করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নারীরা নিজ দায়িত্বে ভ্যান করে চাল বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ধলদা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইয়ানুর, রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস, সুরত আলীর ছেলে মশিয়ার এবং আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল ভ্যান থামিয়ে তিন বস্তা করে চাল ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেন।
এব্যপারে শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, অভিযুক্তরা কেউ আমার লোক নয়। কেবল বিএনপি পরিবারের সদস্য। তাদের দলে কোনো পদও নেই। চাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শোনার পর শুক্রবার সকালে গ্রামে দলের সভা ডাকা হয়। পরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরিউল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাল নারীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
২১৬ দিন আগে
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে জাবিতে শ্রমিক নিহত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নির্মাণাধীন লাইব্রেরি ভবন থেকে পড়ে মো. আরিফুল ইসলাম (৪০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রাত ১০টার দিকে।
নিহত আরিফুল ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন লাইব্রেরি ভবনের লেকচার থিয়েটারের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
এরপর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক নিংতম বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন শ্রমিক আরিফুলকে নিয়ে মেডিকেলে আসা হয়। তারা জানান, তিনি একটি ভবনের ওপর থেকে পড়ে গেছেন। তার মুখে আঘাত ছিল ও দাঁত পড়ে গিয়েছিল। অবস্থা গুরুতর দেখে আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত এনাম মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাইব্রেরির ভবনটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে অনিক ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড।
শ্রমিক নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী মোমিনুল করিম বলেন, ‘আপাতত সেখানে আমাদের কাজ বন্ধ আছে। আর আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। তবে কিছু শ্রমিক সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জেনেছি। আজকে আমাকে ফোন করে জানানো হয়, একজন শ্রমিক পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। এর বাইরে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।’
আরও পড়ুন: প্রভোস্টবিহীন জাবির কাজী নজরুল হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
বিষয়টি বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে; এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এত বড় ঘটনা ঘটেছে, অথচ আমাকে কেউ জানায়নি। সকালে যেটি ঘটেছে, সেটি আমি রাতে জানতে পারলাম।’
তিনি বলেন, ‘শনিবার সকাল ১০টায় জরুরি প্রশাসনিক মিটিং ডেকেছি। ভুক্তভোগীর জন্য শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িতদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয়— সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
২১৬ দিন আগে
প্রেমিকার বিয়ের দিন যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’
নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রেমিকার বিয়ের দিন সৈয়দ মাসুম বিল্লাহ (২০) নামের এক যুবককে আহত উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বাঁ হাতের একটি আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার পর গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের সীমান্তবর্তী কাশিয়ানী এলাকার মধুমতি সেতুর পাশ থেকে মাসুমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন এক অটোরিকশাচালক। পরে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাসুম লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত সৈয়দ রকিবুল ইসলামের ছেলে।
স্বজনরা জানান, উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মাসুমের। তবে পারিবারিকভাবে মেনে না নেওয়ায় সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। বুধবার (৩০ জুলাই) এলাকা ছেড়ে ঢাকায় কাজের সন্ধানে মাসুম বড় বোনের বাসায় ওঠেন। তবে শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে প্রেমিকার বিয়ের খবর শুনে তিনি সকাল ৬টার পর লোহাগড়ায় পৌঁছান। সকাল ৯টার দিকে চাচাতো ভাই তরিকুল মোবাইলফোনে কল করে জানতে পারেন মাসুম লোহাগড়ায়। তরিকুল তাকে অনুরোধ করেন বাড়িতে ফেরার জন্য। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি মাসুমের।
অটোরিকশাচালক সুজন বলেন, ‘তাকে যেখান থেকে উদ্ধার করি, সেখানে দুর্ঘটনার কোনো চিহ্ন ছিল না। জিজ্ঞেস করছিলাম, আশপাশের কেউ দুর্ঘটনার কথা শোনেননি। মাসুমের আহত শরীর দেখে মনে হয়েছে, সম্ভবত তাকে কেউ গাড়ি থেকে ফেলে রেখে গেছে।’
নিহতের চাচা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাসুম সকালে ঢাকা থেকে ফিরে প্রেমিকার বিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। এ কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামের সাইফুল মোল্যার কাছে প্রেমিকার বাবা সকালে ফোন দিয়ে জানান মাসুম ঝামেলা করছে। তার ছেলেপেলেরা মাসুমকে পেলে অবস্থা খারাপ হবে। আমরা খবর পাই, মানিকগঞ্জ বাজারের এক পার্লারে প্রেমিকার সঙ্গে মাসুম দেখা করে কথা বলেছে। ওইদিকে হুমকির খবরে আমরা মাসুমকে খুঁজতে বের হই, কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিল। পরে হাসপাতাল থেকে একজন ফোন করে তার আহত হওয়ার খবর দেন।’
আরও পড়ুন: খুলনায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
শরিফুল ইসলামের দাবি, বড় গাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট হলে তো হাত-পা অক্ষত থাকার কথা না। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, তার বাঁ হাতের একটা আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা মাসুমকে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় মাসুমের প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাসুম বিল্লাহকে মৃত অবস্থায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে থানায় নিয়ে আসি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
২১৭ দিন আগে
খুলনায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
খুলনার দিঘলিয়ায় আলামিন সিকদার (৩৩) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের নন্দনপ্রতাপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আলামিন ওই গ্রামের কাওসার শিকদারের ছেলে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
কামারগাতী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল জানান, আজ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আলামিনের স্ত্রীর সাবেক স্বামী মো. আসাদুল ঝিনাইদহ থেকে এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীকে আলামিন কেন বিয়ে করেছেন— এই ক্ষোভ থেকেই আসাদুল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামিনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ তদন্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন এসআই জামিল।
২১৭ দিন আগে
খুলনায় বাড়িতে ঢুকে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
খুলনায় বাড়িতে ঢুকে মনোয়ার হোসেন টগর নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন সবুজবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক ওই এলাকার বাসিন্দা জামাল হাওলাদারের ছেলে। মসজিদের পাশে নিজের বাড়িতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আরও পড়ুন: রংপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা নিহত
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবক রংয়ের ঠিকাদার ছিলেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে কয়েকটি যুবক তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগে তাকে ছুরিকাঘাত করে। বুকের ডান পাশে আঘাতটি লাগে। এরপর ওই ঠিকাদার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই বলেন, রাত সোয়া ১০টার দিকে ৩ জন যুবক তার বাড়িতে আসে। তাদের দরজা খুলে দিলে আলাপের একপর্যায়ে ওই তিনজনের একজন টগরের বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকারীরা নিহতের পূর্বপরিচিত। তাদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।
২১৭ দিন আগে
বান্দরবানে অপহরণের দুই দিন পর শিশুকে উদ্ধার
অপহরণের দুই দিন পর পুলিশি অভিযানে বান্দরবানে ৭ বছরের এক শিশু উদ্ধার হয়েছে।
গত বুধবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ওই শিশুকে মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউছার জানান, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি এলাকায় সৌদি প্রবাসি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহেদা বেগম তার ১১ বছর বয়সী কন্যা সন্তান এবং ৭ বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন অপহরণকারী তার বাড়িতে গিয়ে ঢেউটিনের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর শাহেদা বেগমের ছেলেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরেরদিন অপহরণকারীরা মা শাহেদা বেগমের মোবাইলে ফোন করে ছেলেটিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় আসামি ধরতে গিয়ে র্যাবের ৭ সদস্য আহত, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
পুলিশ সুপার জানান, অপহরণের সংবাদ পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এবং কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক আভিযানিক দল ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় অপহরণকারী দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। অপহরণের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
২১৭ দিন আগে