বিশেষ-সংবাদ
লালমনিরহাটে সড়ক খুড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, জনদুর্ভোগে স্থানীয়রা
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পাঁচ মাস ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা চিঠি দিয়েও তাদের কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, ভাদাই ও পলাশী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক মহিষখোচা-বুড়িরহাট জেসি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় কাজ পায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া এলাকার মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী দরপত্র শেষে গত ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ২৬ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক খুঁড়ে, কিছু গাইডওয়াল নির্মাণ করে এবং প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পর প্রথম বিল হিসেবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলজিইডির সুনাম রক্ষায় একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ শতাংশ লাভে কাজটি কিনে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলামের ভাই আলম কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই লাভের হিসাব ধরে কাজ করলে লোকসান হবে বুঝতে পেরে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এ কারণে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও এলজিইডির কোনো চিঠির জবাব দিচ্ছে না। ফলে কাজটি বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করা হোক।
স্থানীয় স্কুলছাত্রী সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘প্রতিদিন অটোরিকশায় এ পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অটোরিকশায় উঠলেই ভয় লাগে। অটোরিকশা শুধু কাঁপে; কখন যে গর্তে পড়ে হাত পা ভেঙে যায়, সেই আশঙ্কায় থাকি।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শাওন বলেন, তিন-চার বছর ধরে ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করেছি। দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুর পরই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন আগের চেয়েও কয়েকগুণ দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন মনে হয়, আগের খানাখন্দরই ভালো ছিল, মাঝে মধ্যে গর্ত থাকলেও কিছু স্থান ভাল ছিল; এখন পুরো পথেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
মহিষখোচার ব্যবসায়ী গোলাম কবির বলেন, সড়কটি খুড়ে রাখায় ৫ মাস ধরে বড় ট্রাক ঢুকছে না। ফলে ছোট ট্রাকে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি সড়ক সংস্কার করতে যদি ৬ মাস সময় লাগে। তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য করব কীভাবে?
অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।’
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছি কাজ সমাপ্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সাড়া দিচ্ছে না। কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওই ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করেছি। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুতই মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
১১ ঘণ্টা আগে
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বেইলি সেতু বিধ্বস্ত, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন কয়েক গ্রামের মানুষ
ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত তিন শতাধিক পরিবার। নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি লোহার বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেতুর ওপর থাকা দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য বেঁচে যান।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বেইলি সেতুর অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়লে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, চেল্লাখালী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গতকাল (সোমবার) সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রানীগাঁও এলাকায় ভাঙনের কারণে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানিবৃদ্ধির ফলে আয়নাপুর ও কাড়াগ্রাঁও এলাকায় তীব্র স্রোত ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করে। এতে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রবিবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। সোমবার সকাল থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে নিম্নাঞ্চলের অন্তত তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টার দিকে তা কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ২১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে সোমেশ্বরী নদীর পানি ২৪ দশমিক ১৭ মিটার এবং মহারশি নদীর পানি ২১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি না এলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
১ দিন আগে
সাভারবাসীর জন্য বিভীষিকাময় দিন আজ
আজ ২১ জুলাই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এই দিনটি ছিল সাভারবাসীর জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। সেদিন কারফিউ অমান্য করে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে (কম্পিপ্লিট শাটডাউন) অংশগ্রহণ করে। দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং রাতে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চব্বিশের ২১ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকা জেলার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) (বর্তমানে কারাবন্দি) আবদুল্লাহিল কাফির নেতৃত্বে মহাসড়ক থেকে ছাত্র-জনতার ওপর দফায় দফায় গুলি চালানো হয়। সড়ক-মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মারমুখী ভঙ্গিতে যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শন এবং সশস্ত্র মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
সেদিন সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এপিসি, জলকামানসহ ৩০ থেকে ৩৫টি যানবাহনের বহর নিয়ে মহাসড়কজুড়ে টহল দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল মহড়াও চলতে দেখা যায়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিতে এদিন ছয়জন নিহত হন। দুপুরের পর থেকে রাতভর সাভার পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশত বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়। আন্দোলনকারী ও নিরীহ পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে সেদিন আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী।
তার আগের দিন ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিতে মুরগি ব্যবসায়ী কুরবান শেখ ও ফারুক হোসেন নিহত হন, আহত হন প্রায় অর্ধশত মানুষ। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আরও তিন ব্যক্তি পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হন।
২১ জুলাই সকাল থেকে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে শত শত ছাত্র-জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। থানা বাসস্ট্যান্ড, পাকিজা মোড়, সাভার বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, রেডিও কলোনি, বিশমাইল, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল ও জামগড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ শটগান ও ছররা গুলি ছোড়ে।
সংঘর্ষের পর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ব্যক্তিদের বাড়ি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
১ দিন আগে
আদিতমারীতে অবৈধ স্থাপনার দখলে সরকারি জমি, ঈদগাহ-সড়কের ধারে বসছে হাট
তদারকির অভাবে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার অধিকাংশ হাট এখন বসছে ঈদগাহ মাঠ, ভাড়াকৃত জমি কিংবা সড়কের ধারে। এতে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, উপজেলার রাজস্ব আদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হাট-বাজার ইজারা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত হাট ও বাজার থেকে বার্ষিক ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করে। নিয়ম অনুযায়ী, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট হাট-বাজারের উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বরং অধিকাংশ হাট-বাজারের সরকারি জমি এখন অবৈধ দখলে। শুধু দোকানঘর নয়, ড্রেন, টিউবওয়েল ও শৌচাগারও দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাজারগুলোতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি জমি দখল করে একজন ৪-৫টি পর্যন্ত দোকানঘর ও গুদাম নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন। এসব দোকানের জন্য মোটা অঙ্কের জামানত ও মাসিক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজারে চলাচলের পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কাদা-পানি মাড়িয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, আর পণ্য কেনাবেচায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারাও। এতে একদিকে হাটের মূল নকশা বদলে গেছে, অন্যদিকে হাটুরেদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত জামানত ও ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরকারি জমি অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় ইজারাদাররা বাধ্য হয়ে ভাড়াকৃত জমি বা সড়কের পাশে হাট বসাচ্ছেন। এতে তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খাজনা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সড়কের পাশে হাট বসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে সরকারি রাজস্ব আদায়ও। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ ইজারাদারদের।
২ দিন আগে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদপুরে সেতুতে ফাটল
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় বর্তমানে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি-সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর।
প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর স্থানে আগে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় চার মাস আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে সেতুটির বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল প্রকল্পটির গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
৩ দিন আগে
ঝুঁকিতে খুলনা আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে গতকাল (শুক্রবার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।
তারা আরও বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
৪ দিন আগে
লামায় সড়ক ও সেতু নির্মাণে অনিয়ম-ধীরগতির অভিযোগ, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের মানুষ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে না পারায় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়ে কাজ করা এবং ঠিকাদারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারী-চাককাটা সড়কের দুই কিলোমিটার কার্পেটিং নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ কন্সট্রাকশন কাজটি পেলেও বাস্তবে কাজটি করছেন বান্দরবানের ঠিকাদার মেহেদী হাসান। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বর্তমানে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরুতেই সড়কের স্কুলপাড়া এলাকার সচল ও ব্যবহৃত পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেতুর রড, ইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ শেষ না করেই সচল পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার প্রয়োজন কী ছিল?
৬ দিন আগে
৫৪ বছরেও মেলেনি বিভাগীয় স্বীকৃতি, ঝিনাইদহে ডাক বিভাগের কর্মচারীদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে গ্রাহক
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি ডাক বিভাগের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা এখনও বিভাগীয় কর্মচারীর স্বীকৃতি পাননি। মাত্র ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকার ভাতায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির ‘ন্যায্য’ দাবিতে গত ৬ জুলাই থেকে ঝিনাইদহসহ সারা দেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ফলে ঝিনাইদহে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ডাকসেবা। এতে করে সাধারণ গ্রাহকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত গোপালপুর শাখা পোস্টমাস্টার রিপন হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহে ১০৪টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ৩০০ জন এবং সারা বাংলাদেশে ৮ হাজার ৫৪৩টি ডাকঘরে মোট ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত আছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিগত ৮ বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি আমাদের কোনো উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসও নেই। বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
৭ দিন আগে
পানের বরজে বদলে গেছে নওগাঁর তিন গ্রামের ভাগ্য
একসময় যেখানে কৃষকের স্বপ্ন সীমাবদ্ধ ছিল মৌসুমি ফসলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে, সেখানে আজ পানের বরজ এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর এখন শুধু তিনটি গ্রামের নাম নয়; এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন, কৃষকের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
উত্তরের জেলা নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম—জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর। গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সবুজের এক অনন্য বিস্তার। চারদিকে সারি সারি পানের বরজ, যেন সবুজের ভেতরে আরেক সবুজের রাজ্য। স্থানীয়দের কাছে এখন এই জনপদ পরিচিত ‘পানের গ্রাম’ নামে। একসময় ধান চাষনির্ভর এই এলাকার কৃষকরা এখন পানের আবাদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন নতুন অর্থনীতির ভিত্তি।
প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস এই তিন গ্রামে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, যেদিকে চোখ যায়, সেখানেই পানের বরজ। প্রতিটি বরজ যেন কৃষকের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সাফল্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম থেকে স্বচ্ছলতায় পৌঁছে যাওয়ার গল্প।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার উঁচু ও বন্যামুক্ত বেলে-দোআঁশ মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া পানের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থা, আগাছামুক্ত জমি, সঠিক পানি নিষ্কাশন ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও কার্যকর চাষাবাদ পদ্ধতি। নিজেদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শও তাদের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। তবে সড়কটি যেন আর সড়ক নেই, অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরে গেছে সেটি। কোথাও আবার বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। ভাঙা সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করে এলজিইডি। তবে ১০ টন ধারণক্ষমতার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের অসংখ্য বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় বেহাল দশা হয়েছে সড়কটির।
এলাকাবাসী জানায়, কুমারখালীর দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই নানাবয়সি দুই থেকে তিন লাখ মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সংস্কারের পর দ্রুতই ভেঙে গেছে সড়কটি। ভাঙা সড়কে চলতে ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুত ভারী যানবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
৯ দিন আগে