বিশেষ-সংবাদ
আইসিইউর অপেক্ষায় রমেক হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল
একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যেখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও শয্যা না থাকায় অপেক্ষমাণ তালিকাতেই থেকে যাচ্ছেন রোগীরা। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে যাওয়ার আগেই কারও কারও মৃত্যু হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ভর্তি রোগীদের অন্তত ১০ শতাংশের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অথচ হাসপাতালটির আইসিইউতে শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার অনুরোধ আসে। বিপরীতে ১০টি শয্যা থাকায় চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগী অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লিখিয়েও শয্যা পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
আইসিইউ বিভাগের পরিদর্শক ডা. তৌহিদ সরকার ডলার বলেন, ‘প্রতিদিন বহু রোগীর আইসিইউর জন্য রিকোয়েস্ট আসে। আমরা সব রোগীর অনুরোধ রাখতে পারি না। অনেক রোগী আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেডের সঙ্গে আইসিইউতে জনবল এবং বিভাগের জায়গা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে উত্তরবঙ্গের এই বিশাল জনগোষ্ঠী সেবা বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’
১০ শয্যার আইসিইউতে বিপুল চাপ
ইউএনবির হাতে আসা রমেক হাসপাতালের আইসিইউতে অপেক্ষমাণ ১২ জন রোগীর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই আইসিইউ শয্যা না পেয়ে মারা গেছেন। তাদের কয়েকজনের স্বজনের সঙ্গে কথাও বলেছে ইউএনবি।
রংপুর নগরীর ধাপ সাতগাড়া এলাকার মহসেনা বেগমের মেয়ের জামাই শফিক জানান, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তার শাশুড়িকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শফিক বলেন, ‘আইসিইউর রোগী ১০ মিনিট বাইরে রাখার সুযোগ নেই। অথচ তিন দিন অপেক্ষার পরও আইসিইউ বেড না পেয়ে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। কয়েক দফা রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। গত বুধবার শাশুড়ি মারা গেছেন। আমার রোগীটা সময়মতো আইসিইউ সাপোর্ট পেলে হয়তো আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতেন।’
কুড়িগ্রামের ৭২ বছর বয়সী রহিচা বেগম স্ট্রোকের পর প্রথমে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাসেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে স্বজনরা তাকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ নেওয়া হয়।
তার ছেলে আরমান ফেরদৌস বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর অচেতন অবস্থায় আমার মাকে কোনো কারণ জানানো ছাড়া রিলিজ দিয়ে বলা হয় আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে না। আবার এক দিন পর নেফ্রোলজির চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আইসিইউতে সিট আর পাইনি। আমার মা মারা গেছে।’
কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা গড়াতিপাড়া থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ৪৫ বছর বয়সী বিউটি বেগমকে রমেক হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ২ জুন জরুরি ভিত্তিতে তাকে অস্ত্রোপচার বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নিতে হবে এবং আইসিইউ শয্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকের অনুমতিপত্র নিয়ে দফায় দফায় চেষ্টা করেও আইসিইউ শয্যা মেলেনি। পরদিন ৩ জুন দুপুর ১২টায় মারা যান বিউটি বেগম।
তার ভাতিজির জামাই নূর আলম বলেন, ‘আইসিইউ পেলে শাশুড়িকে বাঁচাতে পারতাম। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে অনেক খরচ। রোগী মারা যাওয়ার পরও ওরা (বেসরকারি হাসপাতাল) রেখে দেয়। এ জন্য বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। আমার রোগী ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনটা আইসিইউ বেড ফাঁকা হয়েছিল। কিন্তু আমার রোগীকে নেয়নি। যাদের বড় বড় লোক আছে, তারাই আইসিইউতে বেড পায়।’
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এলাকার ৮০ বছর বয়সী মো. সোবহান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে রমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গত ১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে পরদিন ২ জুন রাত ৩টায় মারা যান তিনি।
তার নাতনি হ্যাপি বেগম বলেন, ‘দাদুকে আইসিইউতে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু আইসিইউ ফাঁকা ছিল না। সময়মতো আইসিইউতে নিতে না পারায় আমার দাদু মারা গেছে। এত বড় একটা হাসপাতাল। এখানে মাত্র ১০টা আইসিইউ দিয়ে কীভাবে চলে।’
১৫ ঘণ্টা আগে
বছরের ৮ মাসই জলাবদ্ধতা, ব্রিটিশ আমলের টানেলে জনদুর্ভোগ চরমে
ঘটনা ছোট, কিন্তু সমস্যা পাহাড়সম। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক, অথচ বছরের ৮ থেকে ১০ মাস সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকার এই চিত্র যেন উন্নয়নের মাঝে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি। ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত টানেলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। যুগ যুগ ধরে টানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
২ দিন আগে
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কুমিল্লার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৯৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকেরও ৯৭০টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ২ হাজার ১০৭টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২১৩ জন। ফলে ৮৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ হাজার ৪১৯ জন। ফলে ৯৭০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এতে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এই সময়ে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন শিক্ষক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও দাপ্তরিক সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পাঠদানে সময় ও মনোযোগ কমে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।’ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলার অধিকাংশ উপজেলাতেই একই চিত্র বিরাজ করছে। দেবিদ্বার, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, তিতাস, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, সদর দক্ষিণ, আদর্শ সদর, লাকসাম ও হোমনাসহ প্রায় সব উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে পাঠদানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি একজন করে হেড ক্লার্ক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।’
লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিক্ষকসংকট একটি বড় সমস্যা। প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়, যার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। শিক্ষার মান ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভিত্তি। এই পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেন না। এর প্রভাব পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও পড়ে। তাই শিক্ষকসংকট দ্রুত নিরসন করা উচিৎ।’
তবে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালের পর থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাকার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না। তারপরও শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।’
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট দূর করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩ দিন আগে
বেইলি সেতু ধসে মতলব-দাউদকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে কয়েক উপজেলার মানুষ
চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কে দাউদকান্দির খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু হঠাৎ ধসে পড়ায় চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, হাইমচরের ঢাকাগামী লাখ লাখ লোকের দুর্ভোগ চরমে ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ এ সেতুটি ধসে পড়ে। সেই থেকে এ গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের সীমাহীন কষ্ট।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় মজনু মিয়া, আবুল কাসেমসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাতে হঠাৎ এ সেতুটি হুমমুড় করে নিচে ধসে পড়ে। সে সময় নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে চলা কয়েক হাজার ইটভর্তি একটি বাল্কহেডের ওপর সেতু পড়ায় সেটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডের ১৬/১৭ জন শ্রমিক কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচান।
তারা আরও জানান, ওই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ অনেক মুল্যবান জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা দেশি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার মফিজ বকাউল, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেনসহ দুর্ভোগে পড়া অন্যান্য যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে সরাসরি গুরুতর রোগী নিয়ে যেতে ও ফিরতে দৈনিক যাতায়াত করত। তবে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তাদের এখন ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে ভিন্ন পথে গৌরীপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যায় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়, জ্বালানি তেল; লাগছে অতিরিক্ত ভাড়া।
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আব্দুল হামিদও একই কথা জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, এখানে নতুন পাকা সেতু হবে। এটির জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নড়বড়ে বেইলি সেতুটির নাটবল্টু খোলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।
তবে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী লোকজন জনস্বার্থে ভাঙা এ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।
৫ দিন আগে
সুরমার ভাঙনে বিলীন ছাতকের স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে বাউসা-কেশবপুরের হাজারো মানুষ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
৬ দিন আগে
খানাখন্দে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনার ঝুঁকি
একটি গর্ত এড়িয়ে সামনে এগোতেই আরেকটি গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, কোথাও ক্ষয়ে গেছে সড়কের বুক। আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় বোঝার উপায় নেই কোথায় সড়ক, কোথায় গভীর গর্ত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গতি কমিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ হাজারো যানবাহন। গর্তে পড়ে দুলছে ভারী যান, আতঙ্কে থাকছেন যাত্রী ও চালকরা। সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে দুর্ঘটনা, আর গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও অর্থনীতির প্রাণরেখা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমতলী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শুধু এই অংশেই নয়, চট্টগ্রামের সিটি গেট থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। চালক ও নিয়মিত যাত্রীরা জানান, কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়েই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, পদুয়ার বাজার থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট থেকে সুয়াগাজী বাজার পর্যন্ত দুই পাশের লেনেই অসংখ্য গর্ত চোখে পড়ে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় খানাখন্দ, কোথাও আবার আগের মেরামতের অংশ ভেঙে নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সুয়াগাজী বাজার থেকে লালবাগ পর্যন্তও একই অবস্থা। ভারী যানবাহন গর্তের ওপর দিয়ে চলার সময় হেলেদুলে যাচ্ছে। এতে পেছনে থাকা ছোট যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার, হাড়িসর্দার, মিরশ্বানী, কালীরবাজার ও নানকরা এলাকাতেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা পিচ ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গার মেরামত আবার নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জোড়াতালি দেওয়া অংশ উঁচু-নিচু হয়ে নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়েছে।
এ ছাড়া আমজাদের বাজার, বসন্তপুর, কেওছিমুড়া থেকে ফেনী সীমান্ত পর্যন্ত এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারসহ আরও কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির কারণে গর্ত তৈরি হয়েছে।
আমতলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা কাভার্ডভ্যানচালক জামাল উদ্দিন বলেন, দিনের বেলায় গর্ত দেখা যায় বলে কোনোভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। কিন্তু রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে ডুবে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ভারী যানবাহন নিয়ে সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা থেকে নিয়মিত কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের গর্তের কারণে বাসে চলাচলের সময় প্রায়ই তীব্র ঝাঁকুনি লাগে। স্বাভাবিক গতিতে চলার সময় হঠাৎ গর্তে পড়লে পুরো বাস কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের নিয়ে চলাচল করতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত থাকায় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বাসচালক আবুল খায়ের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। কিন্তু বিভিন্ন স্থানের গর্তের কারণে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
আমীর হোসেন নামে আমতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গর্ত মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকায় রাস্তার নিচের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সড়কটি পর্যবেক্ষণ করে স্থায়ীভাবে মেরামত করা দরকার।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপ থাকায় বর্ষাকালে এসব গর্ত দ্রুত বড় হচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পিচ বা বিটুমিন দিয়ে স্থায়ী সংস্কার সম্ভব নয়, কারণ তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
৭ দিন আগে
পীরগঞ্জের চতরাহাটের জায়গা বেদখল, বাজার বসছে সড়কে
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের চতরাহাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ ব্যক্তি হাটের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইকলিমপুর মৌজায় অবস্থিত চতরাহাটের নামে সিএস ও এসএ রেকর্ডভুক্ত আটটি দাগে মোট ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ভূমি কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে হাটের কার্যক্রম মূল নির্ধারিত জায়গার বাইরে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমি কার্যালয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাটের ৭৮ নম্বর দাগের ১৬ শতক এবং ১৭০ নম্বর দাগের ৯ শতক জমি নীতিমালা অনুসরণ না করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নূরে আলম বলেন, হাটের জমি বর্তমানে অন্তত ৪০০ জনের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালে ৩০৮ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
তার ভাষ্য, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাটের নির্ধারিত জায়গা দখলে থাকায় কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কের ওপর হাট বসায় প্রায়ই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সরকার পতনের পর ২০২৪ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এক বছরের জন্য ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা নেন। তিনি বলেন, হাটের দখলমুক্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। পরে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করেন। তবে জমি বুঝে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে ইজারা নবায়ন করেননি।
তার দাবি, হাটটি দখলমুক্ত করা গেলে ইজারামূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন বলেন, ২০২০ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাটের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪০০ দোকান নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে বলে তার ধারণা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
৮ দিন আগে
দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠলেও দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এখনও মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নাগরিক সুবিধার অনেকটাই তাদের কাছে রয়ে গেছে অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাগজোত ও সুখারঘাটে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরবাসীকে। বর্ষাকালে উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিতে হয় ভ্যান, ট্রলি, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরাঞ্চলের ভেতরে কিছু সড়ক নির্মিত হলেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা বা জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
৮ দিন আগে
কুশিয়ারা নদীর তলদেশে জমছে বিষাক্ত ধাতু, ঝুঁকিতে স্থানীয় জনজীবন
বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণ কুশিয়ারা নদীর তলদেশ। ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলি মাটিতেও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর প্রভাবে স্থানীয় পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার জন্য কুশিয়ারা নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব স্থানের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পলি মাটিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গড়ে এই সংখ্যা ২ হাজার ৮০০টি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনায় নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি নদীর তলদেশে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া উচ্চমাত্রায় ধরা পড়েছে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার হিসেবে গ্রহণ করছে। এর ফলে বিষাক্ত ভারী ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রচুর বর্জ্য পড়ছে কুশিয়ারা নদীতে। বিভিন্ন খাল-নালা থেকেও নদীতে মিশছে বর্জ্য। ফলে দিন দিন বিষাক্ত ধাতুতে ভারী হয়ে উঠছে নদীর তলদেশ।
পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, এই নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ‘ক্লাস ভি’ পর্যায়ের। ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য এবং সরাসরি নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ বলেন, ‘দিন দিন নদীর মাছ কমছে। পানি ভালো না। জাল নিয়ে নদীতে এলে মাছ পেতাম। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বেঁচে থাকাই কষ্ট।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, কুশিয়ারা নদীতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বাধাহীনভাবে পড়ছে। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর দূষণমুক্ত ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে আমাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, কুশিয়ারা নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পাওয়ায় ক্ষয়সাধন ও পরিবহন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে গভীরতাও কমেছে। নদীর আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশী দরকার নদী তীরবর্তী মানুষের সচেতনতা। তিনি বলেন, এখন থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
৯ দিন আগে
ফোন দিলেই পৌঁছে যাচ্ছে মাদক, দৌলতপুর সীমান্তজুড়ে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত গলে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন আর মাদকসেবীদের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয় না; একটি ফোন কলেই ‘হোম ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে চাহিদা অনুযায়ী মাদক হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
পুলিশের একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ও অসাধু কিছু ব্যক্তি জড়িত। এদের মধ্যে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সদস্য, নামধারী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানো ব্যক্তিদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার সীমান্ত এবং উদয়নগর বিওপি-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্তের একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদয়নগর সীমান্তকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।
এছাড়া আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ও পশ্চিম ধর্মদহ, প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর ও বিলগাতুয়া, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া ও ভাগযোতসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করেও দেশে মাদক প্রবেশ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক কারবারি জানান, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে বহন করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে ‘হোম ডেলিভারি’ সিস্টেমে কেনা বেচা করা হচ্ছে।
বিজিবির দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫৫ পয়সায় সংগ্রহ করা এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেট দেশে এনে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহী ও অপরিচিত মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদকসেবনের প্রবণতা বাড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
৯ দিন আগে