বিশেষ-সংবাদ
উন্নয়নের পদযাত্রায় আজও আড়ালে উপেক্ষিত গৃহকর্মীরা
ঢাকার অসংখ্য বাড়ির উঁচু দেওয়ালের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে এক অদৃশ্য পরিশ্রমী শ্রেণি; তারা নিরলসভাবে দিনরাত খেটে চলেছেন। তাদের শ্রম স্বীকৃত নয়, নিয়ন্ত্রিত নয় এবং সুরক্ষিতও নয়।
যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা গৃহকর্মী। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী, আবার কিশোরীও হয়ে উঠতে না পারা অনেক মেয়ে রয়েছে। তারা রান্না করেন, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেন, শিশুদের দেখাশোনা করেন— মানুষের বাসার এমন অসংখ্য কাজের দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তবে সমাজে তাদের এই অবদান উন্নয়ন কিংবা শ্রমিক অধিকারবিষয়ক বৃহত্তর আলোচনায় বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যায়।
এই তো গত ১৬ জুন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক গৃহকর্মী দিবস পালিত হলো। অথচ দেশের এই শ্রমজীবী শ্রেণির অবস্থানে কোনো অর্থবহ স্বীকৃতি বা পরিবর্তন আসার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি।
বাড়ছে সংখ্যা ও ঝুঁকি
সরকারি জরিপ বলছে, এই খাতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সালে যেখানে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, তা ২০১৬-১৭ সালে বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ ছাড়া, ২০১১ সালে ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস নেটওয়ার্কের (ডিআরডব্লিউএন) হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ গৃহকর্মী নিয়োজিত, যাদের অনেকেই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা অল্পবয়সী মেয়ে।
আরও পড়ুন: কিশোরী গৃহকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু: ক্ষোভের জন্ম, ন্যায়বিচারের দাবি
বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা আরও বিস্ময়কর। প্রকাশিত তথ্যমতে, সারা বিশ্বে প্রায় ১০৫ লাখ মানুষ বেতনভুক্ত গৃহকর্মী—যা কানাডার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের সমান।
বাংলাদেশে এই শ্রমিকরা মাসে গড়ে মাত্র ১৫ ডলার (প্রায় ১৭৫৫ টাকা) আয় করেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস)।
২০২২ সালে অক্সফামের এক সমীক্ষা জানায়, ৯৩ শতাংশ নারী গৃহকর্মী তাদের কর্মস্থলে হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার, ৬১ শতাংশ মৌখিক নির্যাতন এবং ২১ শতাংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার।
নেই চুক্তি, নেই সুরক্ষা
শহুরে পরিবারগুলোতে এই গৃহকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের অধিকাংশই কোনো আনুষ্ঠানিক চাকরির কাঠামোর আওতায় নেই। বিআইএলএসের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ শতাংশের বেশি গৃহকর্মীর কোনো লিখিত চুক্তি নেই।
১২ বছর বয়স থেকেই ধানমণ্ডির এক বাড়িতে কাজ করা ১৬ বছর বয়সী রিনা বলেন, ‘কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নাই। ভোরে উঠি, কাজ শেষ হয় গভীর রাইতে। অসুস্থ হইলে বা সামান্য ভুল করলে গালাগালি বা মার খাই। অভিযোগ করারও কেউ নাই।’
বন্ধ দরজার আড়ালে নির্যাতন
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আবারও গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা ও অপমানের বিষয়টি সামনে এনেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গৃহকর্মীদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নিপীড়ন, মৌখিক অবমাননা, এমনকি যৌন সহিংসতার ঘটনাও নথিভুক্ত করছে। ভয়ে, কিংবা জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ঘটনাগুলো প্রকাশ পায় না।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বনশ্রীতে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার, সংঘর্ষ-গাড়িতে আগুন
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (এএসকে) মামলার দায়িত্বে থাকা ফারজানা আখতার বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযোগ পাই, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের কাছ থেকে যাদের কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শহরে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অতি দরিদ্র পরিবার থেকে আসে। কেউ কেউ পড়াশোনার আবার কেউ ভালো জীবনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসে। তবে আসার পর আটকে পড়ে শোষণ-নির্যাতনের ফাঁদে।’
গৃহকর্মী নিয়োগে অস্বচ্ছতা
এই অল্পবয়সী শ্রমিকদের অনেককেই শহরে আনা হয় দালালদের মাধ্যমে, অর্থাৎ অপ্রাতিষ্ঠানিক ‘নিয়োগ এজেন্ট’ বা দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে। এরা কোনো আইনি কাঠামোর আওতায় পড়েন না, বরং কমিশন খেয়ে মেয়েদের অনিরাপদ ও অপরিচিত ঘরে পাঠিয়ে দেন।
এমনই একজন সাবেক দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, ‘এটা এক ধরনের ছায়া বাজার। কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই, সরকারের নজরদারি নেই। চাহিদা আর যোগানের খেলা। কিছু মেয়েকে তো জিনিসের মতো হাতবদল করা হয়।’
সম্প্রতি ঢাকার কিছু কিছু এলাকায় কয়েকটি প্রশিক্ষিত গৃহকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, যারা তুলনামূলক ভালো পারিশ্রমিক দেয়। তবে এসব উদ্যোগ এখনও খুবই সীমিত।
কাগজে নীতি, বাস্তবে শূন্যতা
২০১৫ সালে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ চালু করে। ওই নীতিতে ন্যূনতম মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও ছুটির ব্যবস্থা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ও আইনি অভিযোগের সুযোগের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হলেও, তার বাস্তবায়ন কার্যত শূন্য। গৃহকর্মীদের শ্রম আইন ২০০৬-এর আওতাভুক্ত না করায় এই নীতি মেনে চলার জন্য নিয়োগকর্তার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
আরও পড়ুন: সিলেটে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় মিলল গৃহকর্মীর লাশ
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. নাজমা আক্তার বলেন, ‘কেবল আলাদা একটি নীতিই যথেষ্ট নয়। আইনগত বাধ্যবাধকতা ও প্রয়োগ ছাড়া কিছুই বদলাবে না।’
এ কারণে অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই গৃহকর্মকে শ্রম আইনের আওতায় আনতে দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিপদের মুখে একটি প্রজন্ম
আইনি ও অর্থনৈতিক লড়াইয়ের বাইরেও এই অনিয়ন্ত্রিত খাত আরও গভীর প্রভাব ফেলে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে বাস্তবতা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
শিক্ষা ও সহায়তার সুযোগ না থাকায় হাজার হাজার শিশু অল্প বয়সেই শ্রমে নিযুক্ত হচ্ছে, যা দারিদ্র্যের চক্রকে আরও জটিল করে তোলে।
১৪ বছর বয়সী মুন্নি তৃতীয় শ্রেণি পড়ার পর স্কুল ছেড়েছে। সে বলে, ‘আমি শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি অন্যের সন্তান সামলাই, আর আমার নিজের বাচ্চা গ্রামে আমার মায়ের কাছে রয়েছে।’
সম্প্রতি ১৫ বছর বয়সী আরেক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয় তার কর্মস্থলের সামনে থেকে; এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
তাছাড়া, বহু গৃহকর্মীর সন্তান বড় হয় তার মায়ের থেকে দূরে কোনো গ্রাম বা বস্তিতে। বিষয়টি আর্থিক কষ্টের পাশাপাশি গৃহকর্মীদের মানসিক চাপও বাড়ায়।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশ যখন উন্নয়নের পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে, তখন প্রশ্ন থেকে যায়— কার উন্নয়ন?
যতদিন না প্রতিদিন লাখ লাখ পরিবারকে সচল রাখা গৃহকর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার আওতায় আনা হবে, ততদিন এই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থেকে যাবে অসম্পূর্ণ ও কষ্টদায়ক।
৩৪৫ দিন আগে
ভালো ফলনেও মুখে হাসি নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের
প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন চলছে পাকা আমের ভরা মৌসুম। আম বাগান ও আম বাজার জুড়ে চলছে কর্মচাঞ্চল্য। গত বছরের চেয়ে এবার আমের ফলনও ভালো হয়েছে, কিন্তু তারপরও আমের দাম নিয়ে মুখে হাসি নেই আমচাষিদের। চাষিরা বলছেন, দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলোতে চলছে গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে সেই আম বাজারে পাঠানোর কাজ। আম বাগানে যেমন কর্মাঞ্চল্য বিরাজ করছে, তেমনি আম বাজারগুলোতেও চোখে পড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি।
জেলার কানসাট, ভোলাহাট ও রহনপুর আম বাজারে এখন বাহারি জাতের আমের সমারোহ। গোপালভোগ আম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে খিরসাপাত, লংড়া, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ফজলিসহ আরও কয়েক রকমের গুটি জাতের আম মিলছে বাজারে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন আমের ব্যাপারিরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। বর্তমানে এসব আম ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আম নামার শুরুর দিকে বৈরী আবহাওয়া, এর পরপরই ঈদের লম্বা ছুটি, পরিবহন ও ব্যাংক বন্ধ ছিল। সেই সঙ্গে অত্যধিক গরমের কারণে এবার কয়েক জাতের আম একসঙ্গে পেকে যায়। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম বাড়েনি।
আরও পড়ুন: বৈচিত্র্যময় আমে সয়লাব নাটোরের হাটবাজার, দামও নাগালের মধ্যে
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের অনেকে। তারপরও গত বছরের তুলনায় এবার আমের দাম কম। তার ওপর এ বছর বাগান পরিচর্যায় সার, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশকের দাম এবং সেচ ও শ্রমিকের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনের খরচ বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা।
৩৪৫ দিন আগে
দাম কমে যাওয়ায় ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা বিপাকে
পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরের চাষিরা। জেলার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ টাকায়। তবে চাষিরা বলছেন, অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দর না পেলে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি তোলা কষ্টকর হয়ে যাবে।
রবিবার (২২ জুন) সকালে সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া পেঁয়াজ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ছয়টা থেকেই ভ্যান, নসিমন ও অটোরিকশাযোগে, কিংবা মাথায় বস্তা, ধামা বা ঝুড়িতে পেঁয়াজ নিয়ে হাটে আসছেন চাষিরা। হাটে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররাও দরদাম করে পেঁয়াজ কিনছেন। সপ্তাহে রবি ও বুধবার বসা এই হাট চলে দুপুর পর্যন্ত।
হাটে মানভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম উঠছিল দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। জেলা শহর ও আশপাশের বাজারগুলোতেও একই চিত্র।
আরও পড়ুন: বৈচিত্র্যময় আমে সয়লাব নাটোরের হাটবাজার, দামও নাগালের মধ্যে
চাষিরা জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সেই হারে দর বাড়েনি। এ মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদও বেশি হয়েছে।
৩৪৭ দিন আগে
করোনা পরীক্ষার কিট সংকটে ভুগছে বাগেরহাটের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো
বাগেরহাটের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মহামারি করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার কিট নেই। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে, যে কারণে করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের মধ্যে কেউ পজিটিভ আছেন কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। কখনো আবার সন্দেহ হলে রোগীদের সরাসরি ওইসব হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে নিয়মিত কিটের চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) পর্যন্ত তা আসেনি। কেবল বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে এসেছে মাত্র ১৫০টি অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্ট কিট, যা রোগীদের সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, গত কয়েক দিন ধরে দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন এবং করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর খবর বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার কিট না থাকায় জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দা, চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে, ওয়ার্ডে, প্যাথলজির সামনে এবং লিফটের ভেতর ও বাইরে নানা বয়সের নারী-পুরুষ রোগীতে ঠাসা। রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় এত বেশি যে একে অপরের শরীরের সঙ্গে রীতিমতো ধাক্কা লাগছে। তাদের অধিকাংশের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মানার অভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।
আরও পড়ুন: করোনায় আরও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ৪
জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা কয়েক দিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভব করছেন। তাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। চিকিৎসকরা দেখার পর তাদের ব্যবস্থাপত্রও দিয়েছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা হলে তারাও জানান প্রায় একই কথা।
তারা বলেন, শরীরে কয়েক দিন ধরে জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে এসেছিলাম, কিন্তু কিট না থাকায় পরীক্ষা করাতে পারিনি। চিকিৎসকরা উপসর্গের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা দিয়েছেন।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মনি শংকর পাইক বলেন, জ্বর নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী হাসপাতালে আসছেন, কিন্তু কিট না থাকায় কারও করোনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। যাদের নিয়ে বেশি সন্দেহ হচ্ছে, তাদের পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য এক হাজার পিস অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্টের কিট চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিট আসেনি।
আরও পড়ুন: সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের করোনা শনাক্ত
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, জ্বরসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার একজন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তিনি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন বলেই সন্দেহ করা হচ্ছিল, কিন্তু কিট না থাকায় পরীক্ষা করা যায়নি। পরে উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দিয়ে তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তার দুদিন আগে আরও এক রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে কিটের অভাবে তারও পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ডা. মো. শাহীন আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমাদের এখানে করোনা পরীক্ষার কিট নেই। এখানে অন্তত এক হাজার পিস র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের চাহিদা রয়েছে। গত ১০ জুন কিট চেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত তা আসেনি।’
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘হাসপাতালে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট ছিল না। পরে গত ১৬ জুন মাত্র ১৫০টি অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট এসেছে। তবে এখনও ওই কিট দিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হয়নি।’
তিনি জানান, কিটের স্বল্পতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে যাদের করোনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, শুধু তাদের পরীক্ষা করানো হবে। আর করোনার আরটি-পিসিআর টেস্টের জন্য রোগীদের খুমেক হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। তবে কিট বেশি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সবার করোনা পরীক্ষা সম্ভব হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের টিকা নেই, পুরনো মজুদ ৩২ লাখ
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহারও অনেক বেশি। বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম জানান, বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ছাড়া জেলার ৯টি উপজেলার একটিতেও করোনা ভাইরাস পরীক্ষার অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্ট কিট নেই। প্রতিটি উপজেলা থেকে কিট চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কিটের স্বল্পতা থাকায় কেউ করোনা পরীক্ষা করতে চাইলে যাচাই-বাছাই করে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় ৩২ হাজার ৭১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে আট হাজার ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৮৭৮ জন।
৩৪৮ দিন আগে
সাঁকো ভেঙেছে এক মাস, সাঁতরে নদী পার হচ্ছে ৮ গ্রামের মানুষ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর ২২০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের মানুষ। প্রায় এক মাস ধরে কেউ এক বুক পানি মাড়িয়ে, কেউবা সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা। এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে ভাঙা সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ীর বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর নবিউলের ঘাট বা আমিন মেম্বারের ঘাট এলাকায় ২২০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটির দক্ষিণ দিকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট দীর্ঘ অংশ ভেঙে পড়েছে। ফলে দুপাড়ের বাসিন্দাদের কেউ কেউ এক বুক পানি পাড়ি দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছেন, অনেককে আবার সাঁতরিয়েও নদী পারাপার হতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে বারোমাসিয়া নদীটি তারা পাড়ি দিয়ে আসছিলেন ছোট ছোট ডিঙি ও মাঝারি নৌকা দিয়ে। সেই সময় থেকে করিমের, নবিউলের এবং সর্বশেষ আমিন মেম্বারের ঘাট ইজারাদারের মাধ্যমে পারাপার হতো দুপাড়ের মানুষ। পরবর্তীতে নদীর আকার ছোট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর ধরে ওই সাঁকোটিই ছিল তাদের পারাপারের একমাত্র উপায়।
তবে বর্ষাকালে নদীর স্রোতের কথা মাথায় রেখে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সাঁকোটির মেরামত করা হয়ে থাকে। এ বছরও সেই প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু মাসখানেক আগে তীব্র স্রোতের কারণে সাঁকোর নিচে জমে থাকা কচুরিপানার চাপে সেটি ভেঙে পড়ে।
তারপর থেকে চরম বিপাকে পড়েছেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাঁউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি ও নাওডাঙ্গা; শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হকবাজার এবং পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাহাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়াসহ ৮ গ্রামের হাজারো মানুষ।
আরও পড়ুন: পুকুরে যেতে কৃষকের সর্বনাশ করে রাস্তা বানালেন মেম্বার
৩৪৯ দিন আগে
বৈচিত্র্যময় আমে সয়লাব নাটোরের হাটবাজার, দামও নাগালের মধ্যে
চলছে ফল মৌসুম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলা উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। তবে প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় নানা জাতের আম উৎপাদনে নাটোর জেলা অন্যতম স্থান ধরে রেখেছে।
রাষ্ট্রীয় কৃষি পদক পাওয়া নাটোরের অন্যতম ফলচাষি সেলিম রেজা জানান, অবাণিজ্যিক বিভিন্ন জাতের আমের পাশাপাশি বাজারে এখন রয়েছে জনপ্রিয় গোপালভোগ বা কালুয়া, ল্যাংড়া, মোহনভোগ, লক্ষণভোগ, খিরসাপাত, রানীপছন্দ, মল্লিকাসহ নানা জাতের মৌসুমি আম। এ ছাড়াও কয়েকদিন পরই বাজারে আসবে আম্রপালি, নাগ ফজলি, সুরমা ফজলি ও মহারাজ ফজলি।
নাটোর জেলার গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার—সবখানেই আমের ছড়াছড়ি; দামও এ বছর নাগালের মধ্যে।
আরও পড়ুন: ঈদের লম্বা ছুটিতে আম নিয়ে বিপাকে নওগাঁর চাষি-ব্যবসায়ীরা
খুচরা ব্যবসায়ী লিটন জানান, হাটবাজারগুলোতে জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায়। জেলার প্রধান দুটি আম মোকাম—বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলার আড়তগুলো এখন আমে ঠাসা।
৩৫০ দিন আগে
খুলনায় খুন-লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে, জনমনে আতঙ্ক
খুলনায় নদ-নদী থেকে একের পর এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। অধিকাংশ লাশের হাতের টিস্যু পচে যাওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। ফলে এসব লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত ৪৭ দিনে খুলনায় ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে নদী থেকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানও চলছে। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, তাদের সহযোগী এবং কথিত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধরা পড়লেও থামছে না হত্যার ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে খুলনার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
গত ৯ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রূপসা উপজেলার আঠারোবেকী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন নদীতে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি ভেসে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে বটগাছ থেকে ট্রাকচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
নৌ-পুলিশ রূপসার ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পাইকগাছা নৌ-ফাঁড়ির আওতায় পড়লেও এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গেলেও হাতের টিস্যু পচে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
তার আগে ৮ জুন দুপুরে শ্রীফলতলা গ্রামের দাউদ মার্কেটের পাশের কলাবাগান থেকে ভ্যানচালক রবিউল মোল্লার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেই দিন সকালেই রূপসা উপজেলার আইচগাতি উত্তরপাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন জান্নাত (২৩) শ্বাসরোধে খুন হন। রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
৪ জুন সকালে সদর থানার মতিয়াখালী স্লুইচগেট খালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে, ২ জুন দিবাগত রাতে ময়লাপোতা হরিজন কলোনিতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সবুজ হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক নিহত হন।
আরও পড়ুন: মাছের ঘেরে যুবকের গলাকাটা লাশ, পুলিশ হেফাজতে ২
সদর নৌ-পুলিশের ওসি বাবুল আক্তার জানান, ৪ জুন অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এখন একজন এসে ওই লাশ তার আত্মীয়ের দাবি করায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ছাড়া, গত ১০ মে বিকালে খানজাহান আলী থানার ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ মে রাতে হিরনের ঘাট এলাকা থেকে আরও এক অজ্ঞাতনামা (৪২) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে রূপসা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, রাত ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
৭ মে হরিণটানায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে জান্নাতি আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ২৩ মে ভোরে লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড মেইন রোডে মোশারফের বাড়ির পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত আরও এক এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, মৃত ব্যক্তির নাম নাঈম মোল্লা।
২৬ মে রাতে রূপসা উপজেলার মোছাব্বরপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে কালো রনি (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হন। একই রাতে সোনাডাঙ্গা ২২ তলা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন গোলাম (২৫)। ১৭ মে দুপুরে মীরেরডাঙ্গা খেয়াঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ।
২৯ মে খালিশপুর থানাধীন ৬ নম্বর মাছ ঘাট এলাকা থেকে আরও একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মৃতের পরনে ছিল নীল রঙের গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট। পচে যাওয়া মুখ ও হাতের কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনার আঠারো বেকী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
২৭ মে কয়রা নদীর চর থেকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আব্দুল মজিদ সানার (৬০) লাশ উদ্ধার হয়। ২২ মে টুটপাড়া দারোগার বস্তির একতলা ভবন থেকে নিলু বেগম (৫৬) নামের এক নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসীর ধারণা, লুটেরারাই তাকে হত্যা করেছে।
২৩ মে রূপসায় স্ত্রীর প্রেমের ঘটনায় প্রতিবেশী আবদার শেখকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী মনি শেখ। ওই ঘটনায় স্ত্রী তানজিলাও গুরুতর জখম হন। ৩১ মে কয়রায় পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইকে হত্যা করে বড় ভাই শহীদুল গাজী গ্রেপ্তার হন।
সার্বিক বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড সিপি) খোন্দকার হোসেন আহমদ বলেন, ‘খুলনায় প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে। শহরে টহল টিম, সিটিএসবি ও ডিবি সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সুধী সমাবেশও করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
৩৫১ দিন আগে
করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের টিকা নেই, পুরনো মজুদ ৩২ লাখ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে সম্প্রতি সংক্রমিত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের কোনো টিকা নেই। তবে আগের মজুদ করা ৩২ লাখ টিকা আছে যার মেয়াদ কয়েক মাস।
গত এক মাসে নতুন করে দেশে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে ১ হাজার ৪০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।
সে হিসাবে শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কোভিড-১৯ পজিটিভ নমুনার সিকুয়েন্সিং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে আগে থেকে বিদ্যমান ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট XFG এবং XFC শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সাব ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ হার অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন অবধি মোট ৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যার সবকটি জুন মাসের প্রথম ১৭ দিনে। নতুন করে মহাখালীর বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন আক্রন্তরা, বাড়ছে পরীক্ষার চাপ।
আরও পড়ুন: দেশে আরও ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত
নতুন করে আবার করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে টিকা নিয়ে। আদৌ পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা মজুদ আছে কিনা, থাকলেও তার কার্যকারিতা কতখানি—এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন সাব ভ্যারিয়েন্টের এখনো কোনো টিকা আনা হয়নি দেশে, এমনকি কোনো টিকা কমিটিও গঠন হয়নি এখন পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ (সিডিসি) বিভাগের লাইন ডিরেক্টর হালিমুর রশিদ বলেন, ‘সব মিলিয়ে ৩২ লাখের মতো টিকা আছে। ২০২৪-২৫ সালের ইউএস-সিডিসির গাইডলাইন-মাফিক যেসব টিকা আছে, সেগুলো ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশের আগের টিকাও ব্যবহার করা যাবে।’
নতুন সাব ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা করে কোনো টিকা আনা হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে রশিদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নতুন সাব ভ্যারিয়েন্টের টিকা আসেনি, তবে টিকা আনার কাজ চলছে। শিগগিরই টিকা কমিটি গঠন করে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংক্রমণ বাড়লেও দেশের মানুষের টিকা দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে রশিদ বলেন, ‘টিকা নিয়া নানা ধরনের গুজব চালু আছে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মানুষ নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গেলেই টিকা দিতে পারবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ—প্রথম তিন মাসে মাত্র ৪৩ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৭, দ্বিতীয় ডোজ ৫, বুস্টার ডোজ ১৬ এবং চতুর্থ ডোজ নিয়েছেন ১৫ জন।
আরও পড়ুন: করোনায় আরও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ১৮
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যারা আগে কখনো কোভিডের টিকা নেননি, তাদের মধ্যেই টিকা নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে কম।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আতঙ্কিত হয়ে সবার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট শ্রেণির কিছু মানুষ আপাতত টিকা নিলেই চলবে।
৩৫১ দিন আগে
চুনিয়াগাড়ির বেহাল তিন সড়কে থমকে আছে সম্ভাবনা
নওগাঁ সদর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ গ্রাম চুনিয়াগাড়ি। চারপাশে ধানখেত, পুকুর আর শান্ত গ্রামীণ জীবনের ছবি; তবে গ্রামে ঢুকতেই বদলে যায় চিত্র। রাস্তা যেন ধানের জমি! খানাখন্দে ভরা কাদাপথ পেরিয়ে চলতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী আর দিনমজুরদের।
চুনিয়াগাড়ির বাসিন্দাদের এখন শুধু একটাই দাবি— ‘রাস্তা চাই’। কারণ এই তিনটি ভাঙাচোরা গ্রামীণ সড়ক যেন তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক অদৃশ্য বাধার দেওয়াল তুলে দিয়েছে।
চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার ৯ নম্বর চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত চুনিয়াগাড়ি গ্রামটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত। গ্রামের ছোট চুনিয়াগাড়ি থেকে বড় চুনিয়াগাড়ি যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত মাটির রাস্তা। যে রাস্তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই রাস্তার খানাখন্দ ভরে যায় বৃষ্টির পানিতে। তখন দেখে বোঝার উপায় থাকে না—এটি রাস্তা নাকি ফসলের জমি।
আবার গ্রামের বটতলি থেকে বিশ্ববাঁধ পর্যন্ত আরেকটি আধা কিলোমিটার সড়কেরও বেহাল দশা। এই সড়কে ইট বিছানো থাকলেও বহু বছর মেরামত কিংবা সংস্কার না করার কারণে সড়কের একাধিক জায়গায় ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট গ্রামীণ যানবাহন চলাচলের ঝক্কি পোহানো নো লাগেই, অনেকসময় গাড়ি উল্টে স্থানীয়দের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুন: বর্জ্যে বিপন্ন হাজীগঞ্জ, ডেঙ্গু-শ্বাসকষ্টে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ
এ ছাড়া, গ্রামের তালতলি থেকে বিশ্ববাঁধ সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশের অবস্থাও বেহাল। বর্ষার সময় এই সড়ক দিয়ে বাইরের কেউ চলাচল করতে চান না। কিন্তু গ্রামের বাসিন্দাদের সেই সুযোগ নেই। দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই প্রতিনিয়ত কষ্ট করেই গলার কাঁটা এই তিনটি গ্রামীণ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
প্রভাবিত হচ্ছে গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা
চুনিয়াগাড়ি গ্রামের তালতলি-বিশ্ববাঁধ সড়কের বেহাল দশার কারণে বর্ষা মৌসুমের পুরোটাজুড়েই ভয়ে শিক্ষার্থীরা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যায় না। এমনকি গ্রামের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক যোগদান করলেও দুর্গম পরিস্থিতির কারণে তারা অন্যত্র চলে যাওয়ার তোড়জোড় করেন।
ছোট চুনিয়াগাড়ি থেকে বড় চুনিয়াগাড়ি যাওয়ার সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচলের সময় রাস্তার গর্তের পানিতে পড়ে গিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাদায় লুটোপুটি খেতে হয় বলে জানান অভিভাবকরা।
অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় বাধা
চুনিয়াগাড়ির কৃষকরা ফসল ফলাতে পিছিয়ে নেই, কিন্তু তা বাজারে পৌঁছানো বিরাট এক ঝক্কির ব্যাপার।
সড়কের বেহাল দশার কারণে ছোট ছোট গ্রামীণ বাহনগুলো গ্রামে যেতে চায় না। ফলে এই গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে পরিত্যক্ত সেতু দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল, দুর্ভোগে ৩৫ গ্রামের মানুষ
সরেজমিনে দেখা যায়, বটতলী থেকে বিশ্ববাঁধ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তায় বিছানো ইট অনেক আগেই উঠে গেছে; তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে করে পোল্ট্রি খামারিদের মুরগি পরিবহন কিংবা কৃষকের ধান বিক্রি—সবকিছুতেই যুক্ত হয়েছে লোকসানের ঝুঁকি।
৩৫২ দিন আগে
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: তেলের দামে অনিশ্চয়তা, হুমকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি
ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত ক্রমেই বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এমতাবস্থায়, সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত উত্তেজনার ফলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো সারা বিশ্বে তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়া ও রেমিট্যান্স প্রবাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির গতিপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’
ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে ড. রায়হান বলেন, ক্রমবর্ধমান রপ্তানিমুখী অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ নির্বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্যের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশেরও বেশি। এটিও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ব্যাঘাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য নিরাপদ বাণিজ্য রুট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বাজারে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
ড. রায়হান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমদানির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সঙ্গে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শিপিং করিডোর—যা বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিচালনা করে। এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচলে যেকোনো ব্যাঘাত দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
পড়ুন: সয়াবিন তেলের দাম বাড়লো লিটারে ১৪ টাকা
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, তেল সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম এরই মধ্যে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয়ই রেকর্ড দাম বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯০ থেকে ১২০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভরশীল দেশগুলোকে এই ধরনের পরিস্থিতি আকাশচুম্বী আমদানি ব্যয় মেটাতে হতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর একজন বিশিষ্ট ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ‘আমদানি তেলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি সতর্ক করে দেন, তেলের দাম বৃদ্ধি ‘বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ব্যারোমিটার’ হিসেবে কাজ করবে। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাতে মুদ্রাস্ফীতি হবে ও পারিবারিক বরাদ্দেও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি উদ্বেগের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলকেও হুমকিতে ফেলবে। লোহিত সাগরে চলমান হুতিদের হামলা এরই মধ্যে ইউরোপে প্রধান জাহাজ চলাচল রুটগুলোকে ব্যাহত করেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ খরচ ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সম্ভবত এই ব্যাঘাতগুলোকে আরও খারাপ করবে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য আমদানির খরচ বাড়াবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য শিপিং খরচও বাড়বে। এটি তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতাকে কমাবে, যা সময় মতো ও সাশ্রয়ী সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল রুটগুলো আরও জটিল হয়ে উঠবে। যার ফলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন—উভয় ক্ষেত্রেই পরিচালন ব্যয় বাড়াবে।
পড়ুন: বাংলাদেশে সস্তায় তেল সরবরাহ করবে আরামকো: রিজওয়ানা
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ইউএনবিকে বলেন, জ্বালানি ঘাটতির মধ্যেও পোশাক শিল্প তার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জের পরে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মতো আরেকটি ধাক্কা ভয়াবহ হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং বৈদেশিক মুদ্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস রেমিট্যান্সও সম্ভাব্য ঝুঁকির সম্মুখীন, যদিও সেটি পরোক্ষ ঝুঁকি।
যদিও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা এই অঞ্চলে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর কর্মসংস্থান এবং উপার্জনকে প্রভাবিত করতে পারে।
যেসব দেশে বাংলাদেশি কমীরা কাজ করছেন সেসব দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে ক্রমবর্ধমান আমদানি পরিশোধের কারণে চাপে থাকা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও চাপে পরতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি পুনরুদ্ধার হয়েছে।
এই রিজার্ভ বাহ্যিক ধাক্কার ঝুঁকিতে রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও জাহাজ পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে দ্রুত কমে যেতে পারে রিজার্ভ। এর ফলে প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানো ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
অর্থনীতিবিদরা সরকারকে জরুরি কৌশল তৈরি করে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরি, বিকল্প বাণিজ্য রুট সন্ধান ও বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার আঘাত কমাতে তৈরি পোশাক খাতকে পরিকল্পিত সহায়তা দেওয়া।
পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে বাড়লেও মার্চে অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম
তারা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তীব্র প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে ও জনসংখ্যার উপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।
৩৫৩ দিন আগে