বিশেষ-সংবাদ
রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে মশার উপদ্রব, নগরজুড়ে উদ্বেগ
মাসউদুল হক, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)— রাজধানীতে সম্প্রতি মশার উপদ্রব উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। মশার এই উপদ্রবে শুধু ঘুমের ব্যাঘাতই হচ্ছে না; ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু শনাক্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। বছরজুড়ে এই রোগে প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
মশক নিধন কার্যক্রম কখনোই খুব শক্তিশালী ছিল না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাই এর সুফল সেভাবে পায় না নগরবাসী। প্রতি বছর মশা নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ কম।
সিটি করপোরেশন যা বলছে
সম্প্রতি মশার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগ, কিউলেক্স মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কেউ। আগে সপ্তাহে একবার মশার ওষুধ ছিটালেও এখন এক মাসেও তাদের দেখা মেলা ভার। ফলে দিন-রাত বাসাবাড়িতে মশায় কামড়ায়। সারা দিন বাসায় কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টানিয়ে রাখতে হয়।
আরও পড়ুন: দেশে প্রথমবারের মতো ৫ জনের শরীরে রিওভাইরাস শনাক্ত
তবে এসব অভিযোগ পাশ কাটিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দাবি, মশা নিধনে তারা প্রতিদিনই ওষুধ ছিটায় এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযানও অব্যাহত আছে।
এমনকি মানুষকে সচেতন করতে নানা সময় জরিমানাও করা হচ্ছে, কিন্তু যে হারে মশার উপদ্রব বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব নিজাম উদ্দিন ইউএনবিকে বলেন, ‘মশা নিধনের জন্য ঢাকার দুই সিটিকে (করপোরেশন) প্রতিনিয়ত মশা নিধনে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। যেহেতু এখন নির্বাচিত কেউ (সিটি মেয়র) নেই, তাই আমাদের দুই প্রশাসক প্রতিটি জোন ভাগ করে দিয়েছেন; সে অনুযায়ী কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘মশা নিধনে যা করণীয়, আমরা তা-ই করব। এজন্য মানুষকেও সচেতন হতে হবে। যেকোনো জায়গায় ময়লা, পানি জমিয়ে রাখাসহ যেসব কারণে মশার বৃদ্ধি ঘটে, সচেতনভাবে সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তারপরও যারা অবহেলা করছেন তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।’
শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে নয়, বছরব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কোভিড ল্যাবসৃষ্ট ভাইরাস: আস্থা কম সিআইএ’র সিদ্ধান্তে
বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার ইউএনবিকে বলেন, ‘জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে নগরীতে কিউলেক্স মশা বাড়ছে। এভাবে আগামী মার্চ পর্যন্ত মশা বাড়বে।’
‘মশা বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর কষ্ট সহজেই অনুমান করা যায়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দুই সিটি করপোরেশনের উচিত ডেঙ্গুর মতো কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া। তা না করলে এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সমঝোতা স্মারকে বেশ কয়েকটি শর্ত ছিল, যার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। শুধু একটি শর্ত তারা পালন করছে, সেটি হলো—ডিএনসিসির পাঁচটা জোনে শুধু গবেষণা করা। অর্থাৎ ওয়ার্ডগুলোতে মশার লার্ভা কেমন আছে, কোনটাতে বেশি, কোনটাতে কম, কোন ওয়ার্ডে বেশি ওষুধ ছিটাতে হবে বা কোন ধরনের ওধুষ ছিটাতে হবে—কেবল এসব নিয়ে কাজ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আমরা ডিএনসিসিতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। তবে তারা কাজ করছে কিনা, তা জানি না।’
নগরবাসীর ক্ষোভ
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাইনুদ্দিন ইউএনবিকে বলেন, ‘আগে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করতেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। তবে গত ৫ আগস্টের পর সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় এখন মশার উপদ্রব নিয়ে কারও কোনো জবাবদিহি নেই। কে মশা নিধন করবে—আমরাও আসলে জানি না। বর্তমান সরকারের উচিত, রাজধানীর বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া।’
বাড্ডায় বসবাসকারী জুনায়েদ বলেন, ‘মশা এখন প্রতিটি সময়ের সাথী। দিনেও মশারি লাগে, রাতেও মশারি, কী একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে! অথচ মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখছি না। মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ। এখন তা চরম আকার ধারণ করেছে।’
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ৬
মিরপুরের বাসিন্দা শহীদুল হক ইউএনবিকে বলেন, ‘এডিস মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। এখন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা বা গলিতে দাঁড়ালেই মৌমাছির মতো চারদিক থেকে ঘিরে ধরে মশা। মশার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’
সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ
মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এছাড়া মশা নিধনে নতুন ওষুধও আমদানি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।এমনকি, পানি জমে থাকলে ভবন ও স্থাপনার মালিকদের জরিমানা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর মধ্যে ডিএনসিসি বলছে, রাজধানীর ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৫৪টি ওয়ার্ড ডিএনসিসির আওতাভুক্ত। চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে প্রায় ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে তারা। এর মধ্যে মশা নিধনে কীটনাশক কিনতে রাখা হয় ৬৫ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ ফগার, হুইল, স্প্রে মেশিন ও পরিবহন, ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ও মশা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি কিনতে বরাদ্দ রাখা হয়। এই টাকা দিয়েই ডিএনসিসির সবগুলো ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছিল। তবে তার পর থেকে মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় এই কার্যক্রম স্থবির পড়ে। এখন যারা মশার ওষুধ ছিটান, তাদের তেমন কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি কিউলেক্স মশাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
অপরদিকে, এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে বছরব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
তাদের দাবি, সে অনুযায়ী কার্যক্রমও চলছে। তারপরও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এজন্য ২০ থেকে ৩১ জানুয়ারি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে তারা।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মশা নিধনে ডিএসসিসি চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রেখেছে ৪৪ কোটি টাকা। তবে প্রয়োজনে বরাদ্ধ আরও বাড়ানো হবে।
মশা নিধনে ডিএসসিসির কার্যক্রম অব্যাহত আছে জানানো হলেও বাস্তবে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। ৫ আগস্টের পর থেকে মশক নিধন অভিযান চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে নগরবাসী বারবার প্রশ্ন তুললেও এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এ অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পেতে নগরবাসীর নিজেদেরই সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এবং নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশন সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করলেই মিলবে সত্যিকারের সমাধান। আর এমন কিছুরই আশায় দিন-রাত মশার কামড় সহ্য করে চলেছে রাজধানীতে বসবাসরত বিপুল জনগোষ্ঠী।
৩৮২ দিন আগে
তিস্তা ব্যারাজে হঠাৎ বেড়েছে পানি, ফসলহানির আশঙ্কা
লালমনিরহাটের ডালিয়ার তিস্তায় ব্যারাজে হঠাৎ বেড়েছে পানি। নিমিষেই তলিয়ে যাচ্ছে জেগে থাকা বালুচর। ফলে ব্যারাজের চারটি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার পর থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বাড়তে শুরু করে। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫০ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, যা শুষ্ক মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ সেন্টিমিটার বেশি।
এদিকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা পারে ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।
আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে জেগে উঠা বালুচরের রসুন, পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, ডাল-বাদামসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।
সাহেদ মিয়া বলেন, ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে যখন তিস্তার পানি নিয়ে আমরা আন্দোলন করতে যাচ্ছি, ঠিক তখনই ভারত পানি ছাড়ছে। এটা ভারতের চাল। কারণ এই মৌসুমে কখনো ভারত পানি ছাড়ে না।
তিস্তা পাড়ের আরেক বাসিন্দা হাদিকুল ইসলাম বলেন, বিকাল থেকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করেছে। তিস্তা ব্যারাজ এলাকার বিভিন্ন চরগুলো ডুবে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারী বর্ষণে পানি বাড়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট
তিস্তা পাড়ের জেলে সবুর আলী বলেন, জেগে উঠা চড়ে তিন বিঘা আলু রসুন ও পেঁয়াজ ফুলকপি আবাদ করছি। ভারত পানি ছাড়লে আমার খেত ডুবে যাবে। এখন ফসল নিয়ে আশঙ্কায় আছি।
এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপ অপারেটর নুরুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বাড়ছে। কি পরিমাণ পানি আসবে তা বলা যাচ্ছে না। আগামীকাল বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে তিস্তা নদীরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি শুনেছি। পানি বাড়লেও ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পারে ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
৩৮৩ দিন আগে
থমকে আছে খুলনার গল্লামারী সেতুর নির্মাণ কাজ, জনদুর্ভোগ চরমে
শুরু থেকেই ধীর গতিতে চলছিল কাজ। নানা কারণে এক পর্যায়ে থমকেও যায় নির্মাণকাজ। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো- ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রযুক্তিগত মতানৈক্য, প্রকল্পের বাজেটের তারতম্য, অবস্থার প্রেক্ষাপটে(ভেরিয়েশন) বাড়তি কাজের ২০ শতাংশ অর্থ ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকার সুরাহা না হওয়া। খুলনাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং প্রত্যাশিত গল্লামারী স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের নির্মাণকাজ থমকে যাওয়ায় জনভোগান্তি উঠেছে চরমে।
প্রকল্পের বিভিন্ন জটিলতায় নির্মাণ কাজের ধীর গতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত সড়কের এক পাশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অন্য পাশে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। এতে প্রতিনিয়ত সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছে। তথ্যানুযায়ী ১৬ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ। বাড়তি ২০ শতাংশ অর্থাৎ ভেরিয়েশনের ১৩ থেকে ১৪ কোটির টাকার সুরাহা না হলে সেতুর নির্মাণ কাজের সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)'র প্রকল্প ব্যবস্থাপক।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা-চুকনগর- সাতক্ষীরা জাতীয় মহাসড়কের ময়ূর নদীর উপর ২ লেন বিশিষ্ট স্টিল আর্চ গল্লামারী সেতু নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) ৮ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করে। কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণ কাজ ১৮ মাসে অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় এরই মধ্যে কাজের মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, সড়ক বিভাগের সেতু নকশা বিভাগের এ জাতীয় স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ নির্মাণের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে ব্রিজের নকশার ত্রুটিগত সমস্যা সমাধানে নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। ব্রিজটির ডিজাইনার ভারতীয় পরামর্শক সন্দ্বীপ গুহানিয়োগী। সেতুর নকশার কাঠামোগত সঠিকতা নিরূপণের জন্য বাধ্য হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখন সেতুর নকশাকারী ভারতীয় ওই পরামর্শকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
দেখতে হাতিরঝিলের মতো হলেও গল্লামারী স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের ডিজাইনে অনেক পরিবর্তন আছে এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক উন্নতমানের হবে। এটিই হবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে নির্মিত দেশের প্রথম স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কার্যদেশ অনুযায়ী ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী সংযোগ সড়কসহ ২ টা সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে মোট ব্যয় হবে ৮২ কোটি টাকা।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গল্লামারী বাজারের কারণে নির্মাণ কাজের শুরু থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ব্যস্ততম সড়কটি বন্ধ করে বিকল্প সড়কে যান চলাচলের ব্যবস্থা না করে কাজ করতে গিয়েও বেশ জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রকল্পের কাজে ধীরগতি এবং নির্মাণ কাজ থমকে থাকা সম্পর্কে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অপূর্ব কুমার বিশ্বাস ইউএনবিকে বলেন, প্রকল্পের কাজে ৪০ মিটার পাইলিং ডিজাইনে ধরা ছিল যেটা পর্যাপ্ত ছিল না। এ কারণে প্রথম অবস্থায় লোড টেস্ট ফেল করে। পাইলের লেনথ ওভাবে কাজ করে গেলে প্রকল্পটি হুমকির সম্মুখীন থাকবে। এরপর ৪০ মিটার পাইলিংয়ের জায়গা ৮ মিটার বৃদ্ধি করে ৪৮ মিটার করে পাইলগুলো কাস্টিং করা হয়েছে। শুরুতে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে বা নকশাটি পুনরায় করার ফলে সময় ক্ষেপণ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যথাসময়ে আমাদের বলতে পারেনি এটা করতে হবে কিনা? এভাবে ৩ থেকে ৪ মাস সময় ব্যয় হয়েছে। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেতু পরিদর্শনে আসবেন। তিনি আসার পূর্বে অগোছালো প্রকল্পের সাইট পরিষ্কার রাখতে হবে। এ কারণে ২ থেকে ৩ মাস কাজ বন্ধ ছিল। এরপর পাইলিংয়ের কাজ শেষ করে যখন পাইল ক্যাপের কাজ করতে যাব, তখন আমরা দেখি গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ৪ মিটার নিচে নামতে হবে। এরকম একটা ব্যস্ত এলাকায় এরিয়ায় কোনো প্রত্যাশিত পরিস্থিতি যাতে তৈরি হতে না পারে, সেজন্য আমরা ১২ মিটার সিট পাইল ড্রাইভ করেছি। এর জন্য বাড়তি আমাদের ২ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। পাইল করার জন্য যে বাড়তি খরচ ধরা নেই সেটা আমাদের ধরে কাজ করে উঠে আসতে হয়েছে। বাড়তি এই টাকাগুলো আদৌ পাবো কিনা— সেটার সিদ্ধান্ত এখনও সুরাহা হয়নি। সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ তারা আমাদেরকে বলেছে বিবেচনা করবে।
আরও পড়ুন: খুলনা এখন মাদক চোরাচালানের বড় রুট, যাচ্ছে ঢাকা ও সীমান্তের ওপারে
৩৮৩ দিন আগে
পুঁজিবাজারে উত্থানের জোয়ারেও কমেনি মন্দ শেয়ারের দৌরাত্ম্য
ঢাকার পুঁজিবাজারে গত এক সপ্তাহের লেনদেনে বেড়েছে সূচক ও মূলধন। তবে পুঁজিবাজার ইতিবাচক দিকে মোড় নিলেও কমেনি মন্দ কোম্পানির শেয়ারের দৌরাত্ম্য।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, গত পাঁচ কার্যদিবসে শীর্ষ শেয়ারের তালিকায় থাকা দশ কোম্পানির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি মাত্র দুটি।
বাকি আট কোম্পানির মধ্যে মধ্যম মানের ‘বি’ ক্যাটাগরির সংখ্যা তিন এবং লভ্যাংশ না দেওয়া এমন মন্দ কোম্পানির সংখ্যা পাঁচ।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে শীর্ষে উঠে এসেছে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সর্বশেষ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০২১ সালে। কোম্পানিটির সর্বশেষ বার্ষিক সভা হয়েছে ২০২২ সালে। এরপর থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে আছে কোম্পানিটি।
আরও পড়ুন: উত্থান দিয়ে সপ্তাহ শেষ হলো পুঁজিবাজারে
লেনদেনে শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড কোম্পানিটিও ‘জেড’ ক্যাটাগরির। কোম্পানিটি ২০১৬ সালের পর আর কোনো লভ্যাংশ না দিয়েও হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘তারল্য সংকটের মধ্যে সূচকের উত্থান হওয়ায় দ্রুত মুনাফা পাওয়ার আশায় অনেক বিনিয়োগকারী খারাপ শেয়ারে অর্থলগ্নি করছেন। এতে করে মন্দ কোম্পানির শেয়ার ফুলেফেঁপে উঠলেও ঝুঁকি বাড়ছে পুঁজিবাজারে।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সুবিধাভোগী কিছু কোম্পানি এসব মন্দ কোম্পানিকে টার্গেট করেই অর্থ লোপাটের পরিকল্পনা করছে। শুধু কোম্পানিই নয়; বাজার অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অনেক ব্রোকারেজ হাউজও জড়াচ্ছে কারসাজিতে।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রতারণামূলক সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চার ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে।
তবে সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে পিছিয়ে আছে ব্যাংক খাত। পাঁচ কর্মদিবসে এই খাতে শেয়ারের দাম কমেছে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত সপ্তাহে এ খাতের সূচক ৬৪৮ পয়েন্ট থেকে কমে ৪৯৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
ব্যাংকের পাশাপাশি দাম কমেছে বীমা খাতেও। পাঁচ কার্যদিবসে বীমা খাতে শেয়ারের দাম কমেছে ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজার: উত্থানে দিন শুরু হলেও পতনে শেষ
ব্যাংক-বিমা পিছিয়ে পড়লেও ভালো অবস্থানে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। এ খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এছাড়া জ্বালানি খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশের ওপরে।
সর্বোপরি পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসই'র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২২ পয়েন্ট, ব্লু-চিপ ডিএস-৩০ বেড়েছে ৬ এবং শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৭ পয়েন্ট।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ১৮৩ কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৬৬টির দাম এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইতে সপ্তাহ ব্যবধানে গড় লেনদেন ১ শতাংশের মতো কমলেও মোট বাজার মূলধন বেড়েছে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
প্রথাগত লেনদেনের বাইরেও সপ্তাহজুড়ে ব্লক মার্কেটে ১০৬ কোটি টাকার শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি করেছে এসিআই লিমিটেড। কোম্পানিটি পাঁচ দিনে ব্লক মার্কেটে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
সপ্তাহব্যাপী লেনদেনে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন এসেছে সিরামিক খাত থেকে। রিটার্নের হিসাবে তলানিতে আছে আর্থিক খাত, জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা। সর্বোপরি, মার্কেট রিটার্ন বেড়েছে দশমিক ৫০ শতাংশ।
গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্স বিএসইসির কাছে নিজেদের প্রাথমিক দুটি সুপারিশ জমা দেয়।
মার্জিন ঋণ এবং মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত এসব সুপারিশ আমলে নেয়া হলে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
৩৮৪ দিন আগে
মানহীন হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিতে দেশ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে শহরাঞ্চলে ৫৫ শতাংশ কঠিন বর্জ্য থাকছে উন্মুক্ত অবস্থায়। যা দূষণ, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
প্রয়োজন মতো আইন প্রণয়নের মারাত্মক পরিণতি এবং একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা—এমনকি বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দেখভালেরও একটি নিবেদিত কর্তৃপক্ষ নেই।
দেশের মেডিকেল বর্জ্য উত্পাদন প্রতি বছর আনুমানিক ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিক বর্জ্য উত্পাদন প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। শুধু ঢাকায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা ২০৩২ সাল নাগাদ বেড়ে সাড়ে ৮ হাজার টনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টনেরও বেশি কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় এবং ১০ শতাংশেরও কম পুনরায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
'হেলথকেয়ার ওয়েস্ট ইন বাংলাদেশ: কারেন্ট স্ট্যাটাস, দ্য ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯' এবং সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট উইথ লাইফ সাইকেল অ্যান্ড সার্কুলার ইকোনমি ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, কোভিড-১৯ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা বাদ দিলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ হাজার টন মেডিকেল বর্জ্য (প্রতি শয্যায় ১ দশমিক ২৫ কেজি) উৎপন্ন করবে। যেগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৫ টন বিপজ্জনক হবে।
২০২২ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রতি শয্যায় মেডিকেল বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৩ কেজি থেকে ১ দশমিক ৯৯ কেজি। কোভিড-১৯ মহামারির পরে এটির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও স্থায়ী চ্যালেঞ্জ
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় পাঁচটি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা স্থাপন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ সত্ত্বেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর এলাকায়।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে মাসিক গোলটেবিল আলোচনা সিরিজ এসডিজি ক্যাফের ১২তম পর্বের আয়োজন করে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের ৩ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা– বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান অন্বেষণ করা হয় এবং এসডিজি ১১, ১২ এবং ১৩ তুলে ধরা হয়। এর লক্ষ্য হলো- ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরোধ, হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করা।
আরও পড়ুন: কোরবানির পশুর বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করেছে ডিএসসিসি
টেকসই সমাধানের উপর বিশেষজ্ঞদের অভিমত
অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ। তিনি তার প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরেন।
তিনি একটি বড় পরিবারের বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, প্রতি ১৫ বছরে বর্জ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, পৃথকীকরণের অভাব এবং দুর্বলভাবে পরিচালিত ল্যান্ডফিলগুলো পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে আরও বাড়াচ্ছে।
ড. মমতাজ তিনটি আর অর্থাৎ- হ্রাস, পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ওপর জোর দিয়েছেন। অতিরিক্ত উত্পাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) অবশ্যই একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো বিকাশের জন্য বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ করতে হবে।
ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন বলেন, ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু নিষ্পত্তি নয়; এটি আমাদের ভোগের ধরণগুলো পুনরায় আকার দেওয়া এবং স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ও।’
যদিও মেডিকেল বর্জ্য বাংলাদেশের মোট কঠিন বর্জ্যের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পুরো বর্জ্য প্রবাহকে দূষিত করে এবং বিপজ্জনক করে তোলে।
নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ সরকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনুশীলন বাড়ানোর জন্য জাতীয় থ্রিআর কৌশল প্রণয়ন করেছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উন্নত করতে এসব কৌশল অন্তর্ভুক্ত করেছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১-এ প্রথমবারের মতো এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই পণ্য উৎপাদনে দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিতে আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার
এই বিধিমালা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ এখনও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নিবেদিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এর পরিবর্তে প্রিজম বাংলাদেশ, ওয়েস্ট কনসার্ন, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি), এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং আইসিডিডিআর,বি'র মতো সংস্থাগুলো মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে ঢাকায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, হাসপাতালের কিছু কর্মী সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনপা নিশ্চিতের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মেডিকেল বর্জ্য (যেমন কাচের বোতল, সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ এবং ব্লাড ব্যাগ) অসাধু পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাছে বিক্রি করে। একটি চক্র ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে বিক্রি করার আগে প্রয়োজনীয় জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়াই এই উপকরণগুলো পরিষ্কার এবং পুনরায় প্যাকেজ করে বলে জানা গেছে।
২০০৮ সালের মেডিকেল বর্জ্য (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট) বিধিমালা অনুসারে, হাসপাতালগুলোকে পুনরায় ব্যবহার রোধ করতে প্লাস্টিকের টিউব এবং অন্যান্য বর্জ্য উপকরণগুলো কেটে বা ছিদ্র করে দিতে হয়। তবে টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ হাসপাতালে এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয় এবং ৪৯ শতাংশ হাসপাতালে সুই ধ্বংসকারী যন্ত্রের অভাব রয়েছে।
২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত 'গভর্নেন্স চ্যালেঞ্জেস ইন মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড' শীর্ষক এক গবেষণায় ৪৫টি জেলার হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষসহ ৯৩টি মেডিকেল বর্জ্য কর্মী এবং ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মকানুন মেনে না চলা এবং তদারকির অভাব রয়েছে।
যদিও ২০০৮ সালের বিধিমালা প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। এর পরিবর্তে সিটি করপোরেশন ও হাসপাতালগুলো লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারদের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আউটসোর্স করেছে।
স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের অভাব
ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ইউএনবির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে চায় না। অনেক হাসপাতাল এখনও উচ্চ বাছাই ব্যয় এবং প্রয়োগকারী ব্যবস্থার অভাবের কথা উল্লেখ করে সাধারণ আবর্জনা হিসাবে বর্জ্য অপসারণ করে।
তাছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ট্র্যাক করার কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ নেই। গবেষণায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মও উঠে এসেছে। সরকারি হাসপাতালে চাকরির জন্য এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব অগ্রগতিকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতার কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির অনেকাংশেই অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্ত করতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি
জরুরি সংস্কারের আহ্বান
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান পদ্ধতিগত সুশাসন ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে জবাবদিহিতার অভাব রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এবং প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশ বিপর্যয়ে ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালেই কার্যকর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার সংস্থা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে অধিকতর সচেতনতা, উন্নত কারিগরি সহায়তা এবং সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
কর্তৃপক্ষ, টেকসই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের জন্য বিদ্যমান নিয়ম-কানুনের কঠোর প্রয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বৃদ্ধি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলোতে সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য আরও ভাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পক্ষে পরামর্শ দিচ্ছে।
অবিলম্বে সংস্কার এবং একটি নিবেদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা না হলে— মারাত্মক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ।
৩৮৪ দিন আগে
‘সুন্দরবন দিবস’ আজ, জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনে ২৩ বছরেও মেলেনি সাড়া
বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি এই বন। অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল সুন্দরবন। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’। ২০০২ সাল থেকে সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় জেলাগুলোতে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।
বিগত বছরের মতো এবারও খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ে সুন্দরবন দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন-সংলগ্ন পাঁচটি জেলার ১৭টি উপজেলায় এ বছর সুন্দরবন দিবস পালন করবে যুব ফোরাম। তবে ২৩ বছরেও জাতীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
‘সুন্দরবন দিবস’ পালনে আয়োজকরা বরাবরই সরকারের কাছে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা হলে সুন্দরবনের গৌরব বৃদ্ধি পাবে এবং তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আর গৌরব বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবন সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে উঠেছে। নিজেই সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বন। সুন্দরবনের মোট আয়াতন ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলেমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গ কিলোমিটার এবং জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৩ বর্গ কিলোমিটার।
১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এর মোট আয়াতনের অর্ধেকের বেশি এলাকাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
৩৮৫ দিন আগে
চরম সংকটে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা
কেবল নামেই ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, বাগেরহাট। ১০০ শয্যার জনবল ও বরাদ্দ দিয়ে জোড়াতালিতে চালানো হচ্ছে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ৫৮টি পদের মধ্যে ৩৩টিই খালি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগে ৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একজন মাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট দিয়ে সারা হচ্ছে কাজ। চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগ, চোখ ও নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি। এমনকি মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় আইসিইউ বিভাগ খোলা হলেও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে। রোগীদের চাপ বাড়তে থাকায় শয্যা সংকুলান না হওয়ায় শীতের মধ্যেও প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবার বরাদ্দ না থাকায় ভর্তি হলেও ২৫০-র বেশি রোগীকে খাবার সরবরাহ করা হয় না। ফলে প্রতিদিন অন্তত দেড়শ রোগী হাসপাতালের খাবার পাচ্ছে না।
এত এত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে নার্সরাও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। একদিকে চিকিৎসকসহ জনবলের সংকট, অন্যদিকে ২৫০ শয্যার জন্য বরাদ্দ এখনও না মেলায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থান: আহতদের চিকিৎসায় আগত বিদেশি চিকিৎসকদের ভ্যাট অব্যাহতি
সরজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ৭ তলা ও পুরাতন ২ তলা চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম ভবনজুড়ে। এর মধ্যে নতুন ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বারান্দা, চলাচলের পথ, সিঁড়ির পাশে, নার্সদের কাউন্টারের পাশসহ বিভিন্ন জায়গায় মেঝেতে রোগীদের শয্যা পাতানো হয়েছে। দিনের পর দিন মেঝেতেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। মেঝেতে রোগীদের চাপ এতটাই যে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদেরও চলাচল করতে কষ্ট হয়।
৩৮৬ দিন আগে
১০ মাসের সন্তান বাড়িতে রেখে ট্রেন চালাচ্ছেন ফরিদা
ট্রেনের ছন্দময় গতিতে ছুটে চলা জীবন, আর সেই গতি পরিচালনার দায়িত্ব এক নারীর হাতে!
হ্যাঁ, লালমনিরহাট রেল বিভাগে একমাত্র নারী ট্রেনচালক (এলএম) হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ফরিদা আক্তার নামের এক নারী।
নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালনে অনড় ৪ সন্তানের জননী ফরিদা আক্তার। মাত্র ১০ মাসের সন্তানকে বাড়িতে রেখে নিয়মিত ট্রেন চালাচ্ছেন তিনি। তার সাহসিকতা আর আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ রেল বিভাগ।
ফরিদা আক্তার স্বামী টুটুলকে নিয়ে লালমনিরহাট রেল স্টেশনের সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাদের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। টুটুল লালমনিরহাটে বেসরকারি চাকরি করেন।
ফরিদা আক্তার বলেন, ‘এই কাজটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমি বেছে নিয়েছি। ছোট থেকে ইচ্ছা ছিল চ্যালেঞ্জিং পেশায় যাব। ২০১৪ সালে ট্রেনচালক হিসেবে রেল বিভাগে যুক্ত হই।’
তিনি বলেন, ‘পরিবার যদি সাপোর্ট না করে তাহলে আপনি এ পেশায় আসতে পারবেন না। পাশাপাশি একজন পুরুষ ট্রেনচালকেরও সাপোর্ট প্রয়োজন আছে। একজন নারী ট্রেনচালক হিসেবে সমাজে কে কী বলল—সেটা আমি ভাবি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। সবচেয়ে ছোট ১০ মাসের মেয়েকে রেখে আমি ট্রেন চালাতে আসি। কাজে বের হলেও তারা কোনোদিন বিরক্ত হয় না।’
আরও পড়ুন: কর্মবিরতি প্রত্যাহার, দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৩৮৭ দিন আগে
তেঁতুলিয়ায় চতুর্থবারের মতো টিউলিপ চাষ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চতুর্থবারের মতো ফুটেছে টিউলিপ। টিউলিপ ফুলের বাগানের টানে এই উপজেলায় আসছে দলে দলে পর্যটক। পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে টিউলিপ বাগান। টিউলিপ চাষে লাভবান হওয়ায় স্বচ্ছলতা ফিরেছে নারী উদ্যোক্তাদের পরিবারে।
ইএসডিও ও নারী উদ্যোক্তারা জানান, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-ইএসডিও টিউলিপ চাষে এগিয়ে এসেছে। পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে এবার ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা এক একর জমিতে চতুর্থবারের মতো টিউলিপ ফুল চাষ করেছে।
টিউলিপ ফুল নেদারল্যান্ড বা ভারতের কাশ্মিরে চাষ হলেও শীতপ্রধান এলাকা হিসেবে তেঁতুলিয়ায় এর চাষাবাদ হয়ে আসছে। এ বছর সানি রাজকুমার, পিঙ্ক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড, কমলা ভ্যাব বরলশ, ফেরডেক্স, অ্যাপেলডুম, ব্লাশিং এলিট ও মেস্টিক ভ্যান ইউজক নামের ৯ প্রজাতির ফুল চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ও ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার দম্পতি ফিতা কেটে টিউলিপ বাগানে পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করেন
নানান রংয়ের ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে টিউলিপ বাগান। টিউলিপ ফুলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইকো টুরিজম ব্যবস্থা। চোখ ধাঁধানো, মন মাতানো বাহারি রঙ্গের টিউলিপ ফুল। বাগানে ঢুকতেই পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যায় নিমিষেই। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সীমান্তঘেঁষা এ গ্রামে রোপণ করা হয় টিউলিপ ফুল। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে কয়েক সারিতে ফুল ছড়িয়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে টিউলিপ। আগামী দুই মাস টিউলিপ ফুল তার রাজসিক সৌন্দর্য ও সৌরভ ছড়াবে। টিউলিপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন দেশি বিদেশি হাজারো পর্যটক। টিউলিপ ফুল দেখে মুগ্ধ দর্শনর্থীরাও। প্রতিদিন ভ্রমণে আসা ও বনভোজনে আসা পর্যটকরা ভিড় করছেন বাগানে।
আরও পড়ুন: ৩ দিবস ঘিরে জমজমাট গদখালি ফুলের বাজার, শত কোটির ফুল বিক্রির প্রত্যাশা
৩৮৮ দিন আগে
লাকসামে রেললাইনের পাশে বিদ্যালয়, ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী
শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয় প্রাথমিক স্কুল পা রাখার মাধ্যমে। আনন্দ ও উচ্ছাসের সঙ্গে শিশুরা শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চান অভিভাবকরাও। কিন্ত কুমিল্লার লাকসামের তপইয়া ময়ুরেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকরা।
তপইয়া ময়ুরেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই সীমানা প্রাচীর। পাশ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। এতে বিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষকরা। এমতাবস্থায় ঝুঁকির কথা ভেবে অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এখানে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাও।
সূত্রমতে, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের পাশে লাকসাম উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের তপইয়া গ্রামে তপইয়া ময়ুরেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ১১৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত হলে এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয়তো আরও বেশি হতো।
আরও পড়ুন: রেললাইন ছেড়েছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা, ট্রেন চলাচল শুরু
তপইয়া গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী আবদুল ওয়াদুদ খোকন বলেন, এখানে মনপাল, তপইয়া ও কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। এখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কৃষ্ণপুরের অভিভাবক রাশিদা খাতুন বলেন, ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। কখন না ট্রেন আসে। কখন আবার সে রেললাইনে উঠে পড়ে।
স্কুলের শিক্ষক বিদ্যুত পাল বলেন, ট্রেন এলে আমরা রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে যাই। যাতে শিক্ষার্থীরা রেল লাইনে উঠতে না পারে। এছাড়া এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তৎপর থাকেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে উপজেলায় আবেদন করেছি। দুই বছর ধরে এই বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সেটি অনুমোদন হবে।
আরও পড়ুন: নাটোরে আবারও ভেঙেছে রেললাইন
৩৮৮ দিন আগে