বাংলাদেশ
শেরপুরের সহিংসতায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: অন্তর্বর্তী সরকার
শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকার এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার ফলে প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে সরকার বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া সব রাজনৈতিক দল, নেতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সকলের প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৩৭ দিন আগে
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে মধ্যরাতে জাবি শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে নির্বাচনি সভায় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে বটতলা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে শাখা শিবিরের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা গুম-খুন ও দমন-পীড়নের রাজনীতির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, যার পরিণতিতে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না ফ্যাসিবাদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। আমরা তারেক রহমানকে বলতে চাই, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। বাংলাদেশে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার শক্তি আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন।’
জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ প্রায় দুই হাজার ভাই-বোনের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি থাকবে না। এসব অপকর্মে জড়িতদের জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না।’
জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হাজারও ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা আবার পুরনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দমনমূলক রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেরপুরে নির্বাচনি অনুষ্ঠানে হামলা ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ড কোনো সংঘর্ষ নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। নারী নির্যাতন, মা-বোনদের ওপর হামলা এবং মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘন এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। এসব ন্যাক্কারজনক কাজের জবাব জনগণ আগামী নির্বাচনে দেবে।’
এ ছাড়াও নির্বাচন কমিশন ও অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে এক নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
৩৭ দিন আগে
ধানমণ্ডিতে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত, গাড়িচালক নিহত
রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার তিন নম্বর রোডে ফুটপাতে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে রনি খন্দকার (৪৭) নামে এক গাড়িচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আজ (বুধবার) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায় পুলিশ।
ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজালাল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা খবর পেয়ে রাতে ধানমণ্ডির একটি আমরা বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে ধানমণ্ডির তিন নম্বর রোডের ফুটপাতে একটি পিঠার দোকানে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানদারের সঙ্গে ঝগড়া হয় ওই ব্যক্তির। একপর্যায়ে পিঠাওয়ালা তার পিঠে ও বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এসআই শাহজালাল।
নিহতের ছেলে মো. রায়হান খন্দকার বলেন, আমার বাবা একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি, পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই বিক্রেতা আমার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। কী কারণে ওই পিঠা বিক্রেতা বাবাকে ছুরিকাঘাত করেছেন, আগে থেকে কোনো শত্রুতা ছিল কি না—এ বিষয়ে আমরা বলতে পারি না।
তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলা চিতলমারী থানার শ্যামপাড়া গ্রামে। বর্তমানে রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন রনি খন্দকার।
৩৭ দিন আগে
রোডম্যাপ অনুসারে হজ কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনে নিরলস কাজ করছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, আসন্ন হজে এদেশের হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সকল এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মদিনা ও মক্কা উভয় স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। বাকি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে হজ এজেন্সিসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য রোডম্যাপ অনুসারে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক হজ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ধর্ম উপদেষ্টা এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আগামীতে আরও মজবুত ও সুসংহত করাসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
৩৭ দিন আগে
মোটরশ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
গোপালগঞ্জ মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চার আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুর রশীদ মোল্লা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ।
আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মিন্টু শেখ,কেনাই শেখ, আলীমুজ্জামান বিটু, প্রিন্স খাঁ। এ ছাড়াও, ইকবাল খা, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিব কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ ও শওকত শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় একদল হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। এরপর ওই বছরের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৩৭ দিন আগে
পর্যবেক্ষক না এলেও নির্বাচনের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে, অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের এক বৈঠক চলাকালে এ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন যে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কোনো পর্যবেক্ষক দল আসবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীন একটি দল আসবে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে, নিজেদের মতো করে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন।
তিনি বলেন, তবে এটি আনুষ্ঠানিক কোনো পরিদর্শন নয়। তারা এমনিতেই দেখতে যাবেন—ভোটের অবস্থাটা কী। এ বিষয়ে আমাদের তাদের ইচ্ছাটা জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন সাদরে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, বৈঠকে তারা নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে উনাদের বেশি কৌতুহল ছিল পোস্টাল ব্যালট নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তাদের জানিয়েছি, সেইসঙ্গে নমুনা ব্যালট দেখিয়েছি। তারা বলেছেন যে এটি জটিল, বেশ কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। তবে তারা আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।
প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চান উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ। জবাবে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল, তদন্ত কমিটি এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযোগ মোকাবিলা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দূত জানতে চান। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কমিশন পর্যায়ে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোনো স্থানীয় সমস্যা থাকলে তা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা এটাও জানতে চেয়েছিলেন যে আমরা আমাদের আইনশৃংখলা ব্যবস্থাপনা কী হতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে আমাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করবেন।
ইসি সচিব জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তুষ্ট। তারা একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একযোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
৩৭ দিন আগে
জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ পক্ষ নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি এবং এর ফলাফল দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের, এবং শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।’
সিইসির সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনটি উৎসবমুখর হবে। আশা করি, এটি একটি আনন্দময় নির্বাচন হবে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং আপনারা একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একযোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।
আজ (বুধবার) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
৩৭ দিন আগে
ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ উদ্বোধন করলেন অধ্যাপক ইউনূস
দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আগামী বিশ্ব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের বিশ্ব। আমরা এখন যেগুলো চিন্তাও করতে পারছি না, সেগুলো বাস্তব হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। আমরা যদি নিজেদের গতি দ্রুত না করি, ওই গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান না করি, কী পরিমাণ দ্রুতগতিতে আমরা পিছিয়ে পড়ব, চিন্তাও করা যায় না।
তিনি বলেন, এই খাতটাই (প্রযুক্তি) হচ্ছে মূল খাত। এই খাত থেকেই ভবিষ্যত রচনা হবে। তাই এই খাতকে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এক্সপোতে উদ্ভাবন, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টস ও বি-টু-বি (B2B) জোনের পাশাপাশি পণ্যে বিশেষ ছাড় ও অফারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এক্সপোটি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর এক্সপোর থিম সং পরিবেশন করা হয় এবং একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন প্রদর্শিত হয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিসিএস সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং বিএইচটিপিএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার আশ্বাসও দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ডিজিটালি দক্ষ জাতি গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই বাংলাদেশ অন্য দেশের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্বকে নতুন প্রযুক্তি উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
এই এক্সপোর উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আকর্ষণ, সক্ষমতা ও সাফল্য তুলে ধরা এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া।
এক্সপোতে পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, অর্থায়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বুদ্ধিমান সমাজ গঠন, ইনোভেশন ইকোসিস্টেমে বিদ্যমান ব্যবধান দূর, ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন, উৎপাদন ও রপ্তানি ভিশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।
অনলাইন বা সরাসরি নিবন্ধনের মাধ্যমে সবার জন্য এক্সপোতে প্রবেশ উন্মুক্ত। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেন্যুটি সম্পূর্ণ ওয়াই-ফাই কভারেজের আওতায় থাকবে।
এই এক্সপো বিভিন্ন শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
৩৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
৩৮ দিন আগে
অবৈধভাবে সচিবালয়ে প্রবেশ, ৩ জনের জেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। এজন্য সচিবালয়ে প্রবেশ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে অবৈধভাবে সচিবালয় প্রবেশের কারণে ইতোমধ্যে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সচিবালয় প্রবেশ নীতিমালা–২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি সচিবালয়ে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের দায়ে দুইজনকে আটক করে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম।
আটকরা হলেন— মো. আলিফ শরীফ ও মো. আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সই জাল করে তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করেছিলেন যা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, মো. আলিফ শরীফ দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য অবৈধ পাস তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এর আগে একাধিক ব্যক্তিকে এ ধরনের পাস তৈরিতে সহায়তা করেছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. আলিফ শরীফকে ১ মাস এবং মো. আশিককে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ঘটনার সূত্র ধরে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো. দিদারুল আলমকে চিহ্নিত করা হয়। তাকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সচিবালয়ে অননুমোদিত যানবাহন প্রবেশের বিষয়টিও কঠোরভাবে নজরদারিতে রয়েছে। স্টিকারবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিকারযুক্ত গাড়ির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মনিটরিং ও অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩৮ দিন আগে