বাংলাদেশ
‘দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যম অপরিহার্য’
দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত, স্বাধীন, সক্রিয় ও নির্ভীক গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সমাজের সার্বিক অধিকারকেই হুমকির মুখে ফেলে।
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হয়েছে গণমাধ্যম সম্মিলন।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতায় আসে, তা কখনোই অপরাধ হতে পারে না। যখন গণমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করা হয় বা স্তব্ধ করার চেষ্টা চলে, তখন তা পুরো সমাজের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করে, সেগুলোকে দমন করতে আইন, বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নুরুল কবির বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার নয়। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম যদি কাজ করতে না পারে, সক্রিয় থাকতে না পারে এবং কথা বলতে না পারে, তাহলে সমাজের নানা স্তরের অধিকার অনিবার্যভাবেই দমে যাবে।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশ পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।’ সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’
তিনি বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’
আয়োজকেরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে জনতার সহিংসতার ঘটনার মাধ্যমে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা গণতান্ত্রিক পরিসর ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকদের সম্মিলনে অংশ নেন।
৪৮ দিন আগে
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্রটি সামষ্টিকভাবে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ: ইনতা লাসে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্রটি সামষ্টিকভাবে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইনতা লাসে বলেন, নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে দিন। সেইসঙ্গে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আমরা সবাই জানি, বিশ্বের কোথাও শতভাগ নিখুঁত নির্বাচন হয় না।
বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক জানান, আজ (শনিবার) বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে লাসে বলেন, আপনারাই মাঠে কাজ করছেন, বাস্তবতা দেখছেন এবং প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হচ্ছে তা ঢাকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের জানাচ্ছেন। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে আপনাদের প্রতিবেদন ও মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরও বলেন, আমি জানি যে মাঠে পর্যবেক্ষকদের অনেক দীর্ঘ সময় কাজ করতে হবে, তবে এটি ফলপ্রসূ হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।
ইনতা লাসে বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা ২ জনের একেকটি দল হয়ে কাজ করবেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ইইউ কর্মকর্তারা জানান, পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন। তাদের মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই মিশনটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মিশনটিকে আরও জোরদার করা হবে। তখন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক এই মিশনে যুক্ত হবেন।
পূর্ণ সক্ষমতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের একটি মূল বিশ্লেষক দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, নির্বাচনের ঠিক আগে মোতায়েনযোগ্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্যরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে পর্যবেক্ষকেরা থাকবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূলনীতি। ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৪৮ দিন আগে
২০ জানুয়ারিই শাকসু নির্বাচন, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি মেনে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই এই নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা–২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ এ তথ্য জানায় ইসি।
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
ইসির পত্রে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে দেশের সকল সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন স্থগিত করায় শাকসু নির্বাচনও ১২ ফেব্রুয়ারির আগে আয়োজন না করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল ইসি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এই খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন শিক্ষকদের একটি বড় অংশও। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতির জন্য অনলাইনে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইসি এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৪৯ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৪৯ দিন আগে
মার্কিন অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে কৌশল ঠিক করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে আজকে উপদেষ্টা পরিষদে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো কারণ দিয়েছে। সেই কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এটা গতকালই মাত্র এসেছে। কাজেই আমরা নিশ্চয়ই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা যারা আছেন, তারা এটা নিয়ে একটা কর্মকৌশল বের করবেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এঙ্গেজ করবেন।
কয়েকদিন আগে ছিল ভিসা বন্ডিং ইস্যু। সপ্তাহ পেরোতে আবার অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে জটিলতা। ৭৫টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। আমাদের কি কোথাও গ্যাপ থেকে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা কি বাংলাদেশকে টার্গেট করে করেছে? আসলে যে সমস্ত দেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) বেশি যায় বা যে সমস্ত দেশ থেকে মানুষ গিয়ে পরে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চায়, যে সমস্ত দেশ থেকে মানুষ গিয়ে ওদের সোশ্যাল সার্ভিসের (সামাজিক পরিষেবা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই তাদের সরকার ঠিক করেছে যে সেই সমস্ত দেশের ব্যাপারে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো, এই শর্তগুলো তারা আরোপ করবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা (অভিবাসী ভিসা স্থগিত) তাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমার কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কী করণীয়—এখন আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলব।’
৫০ দিন আগে
মগবাজারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে লোহার পাইপ পড়ে নির্মাণশ্রমিক নিহত
রাজধানী রমনা মগবাজার মোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ওপর থেকে লোহার পাইপ নিচে পড়ে তাইজুল ইসলাম (২০) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের সহকর্মী আলতাব হোসেন জানান, মগবাজার মোড়ে এবিসি কোম্পানির একটি নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবনের নিচে তাইজুল বালুর কাজ করার সময় হঠাৎ ৬ তলা থেকে লোহার একটি পাইপ তার মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, তাইজুল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বর থানার আকন্দ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে ওই নির্মাণাধীন ভবনেই থাকতেন তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৫০ দিন আগে
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করল সরকার
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে সরকার। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তিনটি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর এই তিনটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশ করে সরকার।
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের সন্নিহিত এলাকার সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার জন্য ওই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
৫১ দিন আগে
ব্রাকসুর সকল কার্যক্রম স্থগিত, অনিশ্চয়তায় নির্বাচন
আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু)। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল আবারও স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনার আলোকে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুর থেকে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাকসু ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-সংক্রান্ত চলমান সকল নির্বাচনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে পরবর্তী সময়ে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও নির্বাচনি কার্যক্রম পুনরায় আরম্ভ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারছে না এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই চান না যে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
সুমন সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের রক্তের ওপর অধ্যাপক শওকাত আলী ভিসি হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বোঝার চেষ্টা করেননি, বরং ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছেন।
একই কথা বলেন ছাত্রদলনেতা আল আমিনও। তার ভাষ্য, এই ভিসি আওয়ামী দোসর। তিনি কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের ধারা ফেরাতে চান না।
ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেই শুনতে পারেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করায় তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ডিসি এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে সমস্যা বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর শওকাত আলী বলেন, সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ওই নিবার্চনের পরে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, ব্রাকসু নির্বাচনের এখন পর্যন্ত চারবার তফসিল পরিবর্তন করে পাঁচটি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বারবার তফসিল পরিবর্তন ও নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবারও তা স্থগিত ঘোষণা করায় ২৫ ফেব্রুয়ারিও হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
৫১ দিন আগে
শিপিং করপোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যেভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানই আরও শক্তিশালী হয়, বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হয়।’
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। চেক হস্তান্তরের ওই অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএসসির বহরে আরও জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী দিয়ে ধরে রাখতে হবে যাতে তারা বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে পারে।
এ সময় কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বিএসসির জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ছয়টি জাহাজ ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি হয়। এর অর্থায়নে ছিল বাংলাদেশ সরকার ও চীনের চায়না এক্সিম ব্যাংক। সেই ঋণের পরিমাণ ১১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।
ওই ঋণ পরিশোধের জন্য ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসির মধ্যে অপর একটি ঋণ চুক্তি করে। সেই প্রেক্ষিতে দুই হাজার ৪২৫ দশমিক দুই কোটি টাকা ১৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবে বিএসসি। চুক্তি অনুযায়ী, গ্রেস পিরিয়ডকালীন মোট সুদের পরিমাণ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৯ টাকার চেক ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএসসি সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে, যা ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লাভ। বিএসসির ক্রমাগত এই অগ্রগতিতে প্রকল্পের মাধ্যমে বহরে সংযুক্ত পাঁচটি জাহাজের ভূমিকা অপরিসীম।
৫১ দিন আগে
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ঘোষণা
দাবি বাস্তবায়নের জন্য ফের আন্দোলনে নেমেছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তারা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ চার মাস ধরে কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কাছে সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক বা সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে কলেজের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শাটডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলোর সমাধানে আমরা আগ্রহী। তবে যুক্তিসংগত ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি কাঠামো বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) মডেলের আদলে স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিতের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মডেলের আদলে একটি কার্যকর, টেকসই ও স্বায়ত্তশাসিত কমিশন গঠন এবং প্রতিটি সরকারি প্রকৌশল কলেজের একাডেমিক স্বাতন্ত্র্য ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সময়োপোযোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তার আগে, ২৪ মে সমন্বিত পরীক্ষাপদ্ধতি বাতিলসহ ৯ দাবিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শাটডাউন করে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সে সময়ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত সিদ্ধান্ত না দিলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
৫১ দিন আগে