ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।