বাংলাদেশ
যেকোনো সময় ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি এ সময় সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ আরও বেশি সক্রিয় ও তৎপর থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৬১ দিন আগে
রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা ৮ জুলাই শহিদের পরিচয় শনাক্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহতদের অনেককে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলনের পর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ৯টি পরিবারের থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ওই ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ড. মরিস টিডবল-বিনজ বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিক্যাল ফরেনসিক টিমগুলোকে দুই দিনব্যাপি কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ইউএনএইচসিআর সহায়তায় ড. লুইস ফন্ডিব্রিডারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। কবর থেকে মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা ফারুক বলেন, এই শনাক্তকরণের ফলে শহিদদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছেন যে তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছেন। এটি তাদের এবং জাতির জন্য এক বিরাট মানসিক শান্তির কারণ হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম কেবল আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন নয়, এটি নিখোঁজ শহিদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা বলেন, যদিও এখনো কিছু শহিদের পরিচয় উদঘাটন বাকি রয়েছে, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং সকল শহিদকে তাদের আপনজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
পরে শনাক্ত হওয়া শহিদদের কবর তাদের আত্মীয়দের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে একটি করে গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ ছাড়াও উপদেষ্টা শহিদদের স্মরণে কবরস্থানে স্থাপিত নামফলকের উদ্বোধন এবং মোনাজাত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ সোহেল রানার মা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৬১ দিন আগে
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, সুস্থ হলে ফিরবে আবাসস্থলে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে আবাসস্থলে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (রবিবার) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের ভেতর ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত পরশু (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের পশুসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যায়। গতকাল সকালে দলটিসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে, এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে পশুসম্পদ কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
৬১ দিন আগে
‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত, ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।’
এর আগে, এই মামলার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে শনিবার (৩ জানুয়ারি) উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
৬১ দিন আগে
দাবি আদায়ে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্মীরা
হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত ন্যূনতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং সম্পাদিত সব চুক্তি আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতিতে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য গঠিত ‘নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও আজ চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করছেন না; বরং বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২–১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হলেও সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করার পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি, যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, এই প্রেক্ষাপটে গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকার ও মালিক পক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে সারা দেশের সংগঠনসমূহকে নিয়ে গঠিত হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সরকারঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং আগে সম্পাদিত সব চুক্তি ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনির হোসেন।
৬১ দিন আগে
এলপিজি সংকট কৃত্রিম, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থাকে ‘কৃত্রিম সংকট’ আখ্যা দিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লক্ষ করা যাচ্ছে খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
গতকাল (রবিবার) বিকেল ৩টায় এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে আলোচনায় পর্যবেক্ষণ গুলো তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। যদিও বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫ হাজার টন। অথচ ডিসেম্বর মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
সভায় জানানো হয়, দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ এলপিজির চাহিদা বেসরকারি খাতের আমদানিকারকদের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৫টি কোম্পানি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ ৫৮ হাজার ১৫২ দশমিক ৪৫ টন এলএনজি আমদানি করতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে বলে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইতোমধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির (এলসি সহজীকরণ, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা ইত্যাদি) বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলা হয়, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করবে।
তাছাড়া, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
৬১ দিন আগে
আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা
আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে যে, খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম, খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি, খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় আমরা কী বলি? দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও, যেকোনো দুটো দেশ, আমি বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-নেপাল এরকম বলছি না, ভারত-নেপাল, ভারত-মালদ্বীপ এটাও বলছি না, বলছি দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও, বলে যে সংস্কৃতির বিনিময়, খেলাধুলা—এগুলোর মাধ্যমে এটা কমিয়ে আনা যায়। এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজটা করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে...যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি এবং করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
৬২ দিন আগে
ফার্মগেটে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেট মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে ফার্মগেটসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন। দুপুর ১২টার দিকে ফার্মগেটে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
ডিসি জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরার চেষ্টা চলছে। রাজধানীর বাইরে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির দুটি দল একযোগে অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদে মাদক সেবন করতে দেখে সাকিব ও তার কয়েকজন বন্ধু মাদকসেবীদের বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে বিচার বসে। সেই বিচারে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোরশেদ তরুণসহ আরও অনেকে। কিন্তু তারা মাদক সেবনকারীদের পক্ষ নিলে হোস্টেলের ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে তারা ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে এসে হোস্টেলের প্রতিটি রুমে রুমে ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাকিব আহত হন।
তার মাথায় হাতুড়ি ও রড দিয়ে আঘাত করা। এতে মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সাকিবের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর গত ১০ ডিসেম্বর মালিবাগের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
৬২ দিন আগে
ডিসেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৫০৩ প্রাণ, মোটরসাইকেলেই ৪০.৫৫ শতাংশ
ডিসেম্বর মাসে দেশে ৫৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৭৮ জন। মোট নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২০৪ জনের, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত ২৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩১ জন পথচারী নিহত হন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, যা শতকরা ১২ দশমিক ৫২।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ১৪ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৪২ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৭ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২২ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার মধ্যে ১৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৮১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রাম ট্রাক, ডাম্পার, পুলিশভ্যান, তেলবাহী ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মোটরসাইকেলের অংশগ্রহণ ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং থ্রি-হুইলারের অংশগ্রহণ ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ডিসেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় মোট ৯৮৭টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২৬৩টি মোটরসাইকেল, ১৬৬টি থ্রি-হুইলার, ১২৩টি বাস এবং ১৩৭টি ট্রাক ছিল।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সকালে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, বিকালে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৫ শতাংশ এবং রাতে ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকায় ২৯টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের তথ্যে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ৮২ জন, বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধি ২৯ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২৬ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৯ জন, এনজিও কর্মী ১৬ জনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, নির্ধারিত বেতন-কর্মঘন্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দায়ী করা হয়েছে।
৬২ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার শোক
সুইজারল্যান্ডের ক্রঁ-মঁতানায় একটি স্কি রিসোর্টে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে সুইস প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকাবহ এই সময়ে সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের প্রতি এবং তার মাধ্যমে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি।
বার্তায় আরও বলা হয়, এই চরম শোকের সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা প্রার্থনাও করছি। সর্বশক্তিমান যেন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত দান করেন এবং তাদের পরিবারবর্গকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
আমরা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করছি।
শোকবার্তার শেষে সুইস প্রেসিডেন্টের প্রতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সৌজন্য জ্ঞাপন করা হয়।
৬৩ দিন আগে