হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত ন্যূনতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং সম্পাদিত সব চুক্তি আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতিতে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য গঠিত ‘নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও আজ চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করছেন না; বরং বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২–১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হলেও সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করার পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি, যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, এই প্রেক্ষাপটে গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকার ও মালিক পক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে সারা দেশের সংগঠনসমূহকে নিয়ে গঠিত হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সরকারঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং আগে সম্পাদিত সব চুক্তি ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনির হোসেন।