বাংলাদেশ
খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে হাজারো মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিদায়লগ্নে স্মৃতি, শ্রদ্ধায় আর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী।
জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই ঢাকায় আসতে শুরু কর মানুষ। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে নেমেছে ঢাকামুখী জনঢল।
বুধবার দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, বিএনপির গুলশান কার্যালয় এবং খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় বিপুল জনসমাগম দেখা গেছে।
এরই মধ্যে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার কফিনের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা।
৬৫ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে ঢাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির ২৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান এ তথ্য জানান।
শরিফুল ইসলাম বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও জিয়া উদ্যানজুড়ে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজ সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ। সকাল সোয়া ৯টার পর খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী লাল-সবুজ পতাকা মোড়ানো গাড়িটি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছায়।
খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আজ (বুধবার) দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশে বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাধারণ ছুটি পালিত হচ্ছে।
৬৫ দিন আগে
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু, আজ সাধারণ ছুটি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই শোক চলবে আগামী ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন এই নেত্রীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
রাষ্ট্রীয় শোকের প্রথম দিনে আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য আগামী শুক্রবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হবে।
এর আগে গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ।
জানাজাসহ শোক পালনের সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
৬৫ দিন আগে
নিরাপত্তার চাদরে খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফন সম্পন্ন হবে
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, জানাজা ও দাফন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য মাঠে থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনাও থাকবে।
জানাজার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করেছে। সম্প্রতি একটি বড় জানাজার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার আরও বৃহৎ পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।
শফিকুল আলম জানান, জানাজা ও দাফনের সার্বিক আয়োজন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, কোনো ধরনের উদ্বেগ নেই। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছানো পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের সব আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী। দেশের গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়লেও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে এবং প্রায় ৪৫ বছরের দীর্ঘ জনসেবার মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা অনন্য।
৬৬ দিন আগে
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত থাকবেন: জাবি উপাচার্য
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক ও অভিভাবককে হারাল।
কামরুল আহসান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের জন্য তিনি জনসাধারণের কাছে ‘আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু ইতিহাসের এক কিংবদন্তির প্রস্থান, যা কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সময়ের প্রয়োজনে তিনি কোটি মানুষের নেত্রীতে পরিণত হন। গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী এই নেতা দেশ, মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন অবিচল।
উপাচার্য বলেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অনন্য প্রেরণার উৎস। স্বভাবে ও আচরণে পরিমিত, পরিশীলিত ও সহনশীল এই নেতা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সব সময় সাহসী ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত থাকবেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন।
শোকবার্তায় উপাচার্য ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নির্মাণ করতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ওই ভাষণের মাধ্যমে তিনি ধ্বংস বা প্রতিশোধ নয়, বরং ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৬৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাকৃবি উপাচার্যের শোক
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক জানানো হয়।
শোকবার্তায় উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, আজ আমরা একজন সৎ, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আপসহীন নেত্রীকে হারালাম। তিনি দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তার অশেষ রহমতে মরহুমার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অনন্ত শান্তির আশ্রয় দান করুন, আমিন।
৬৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যু: পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সদস্যভুক্ত সব পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) পোশাক কারখানাগুলো সাধারণ ছুটি পালন করবে বলে আজ বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর (অব.) মো. সাইফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সরকার এ উপলক্ষে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত সব পোশাক শিল্প-কারখানায় আগামী বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
৬৬ দিন আগে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ রাশিয়ার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের সরকার প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়। তার নেতৃত্বকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা রাশিয়া কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রাখবে।
দূতাবাস খালেদা জিয়ার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং দলের সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
গত ২৩ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৬৬ দিন আগে
অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের ‘বীর প্রতীক’ পদবি বাতিল
খুলনার দৌলতপুরের অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নাম থেকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে যুক্ত করা ‘বীর প্রতীক’ পদবি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা—তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একটি বেসামরিক গেজেট প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে স্বামীর নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করার আবেদন করেন। ওই চিঠিতে অধ্যাপক আবু সুফিয়ান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন—এমন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দাবি করা হয়, তিনি যুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে কথিকা হিসেবে পাঠ করতেন।
জামুকার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিও লেটারের ভিত্তিতেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১৫ জুন একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করে।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০২য় সভায় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০২৩ সালের ১৫ জুন জারি করা সংশোধিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে এবং অধ্যাপক আবু সুফিয়ান প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে তাকে নোটিশ দেওয়া হবে।
জামুকা আরও জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৯৭৩ সালে ৪৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চারটি রাষ্ট্রীয় খেতাব—বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক প্রদান করে গেজেট প্রকাশ করে। ওই তালিকায় অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নাম নেই এবং পরবর্তী সময়ে নতুন করে কাউকে এসব রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত হওয়ায় জনমনে যে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল, পদবি বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটানো হলো।
৬৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।
পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত।’
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোক জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলতা, যকৃতের জটিল রোগ, অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
৬৬ দিন আগে