বাংলাদেশ
১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধন করবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
উপজেলাগুলো হলো— টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লার আদর্শ সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আগে প্রাথমিক বাস্তবায়ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
৫৪ দিন আগে
সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, নেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ার হাসপাতালে
দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
দুদিনের সফরে লালমনিরহাটের উদ্দেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঢাকা থেকে বিমানে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান মন্ত্রী। তবে বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি অসুস্থ বোধ করেন।
আজ (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক।
তিনি বলেন, আজ সকালে দুদিনের সফরে লালমনিরহাটে আসার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন মন্ত্রী। সেখানেই তিনি অসুস্থবোধ করায় তাকে দ্রুত পুনরায় ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে নির্ধারিত সফরে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বিমান থেকে নামার পর মুহূর্তেই তিনি শারীরিক অস্বস্তি ও অসুস্থতা অনুভব করেন। সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মী ও চিকিৎসকদের পরামর্শে কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা পৌঁছানোর পর তাকে সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রীর আকস্মিক অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার নিজ নির্বাচনি এলাকা লালমনিরহাটসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় স্থানীয় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
৫৪ দিন আগে
কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সরকার এ শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে পার্থক্য গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা প্রদান করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সময় অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সামাজিক বৈষম্যহীন একটি একক শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে এবং সেই জ্ঞান দেশের উন্নয়নে সরাসরি কাজে লাগাতে পারবে।
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, এ ধরনের শিক্ষা মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে যা তাদের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি দেশের উন্নয়ন, পরিবারের অগ্রগতি এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদ। পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।
আয়োজকরা জানান, আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনে ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সেখানে এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে ছয়টি প্রকল্প আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হবে।
৫৪ দিন আগে
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
গত মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। মোট প্রাণহানির মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি যেখানে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ৭৯ জন পথচারী (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং ৬৬ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার যানবাহনভিত্তিক চিত্র
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৪৫ জন (৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।
সড়কের ধরন
দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৬টি (২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩১টি (৪০ দশমিক ১০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি (১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (১ দশমিক ৯০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি এবং অন্যান্য যানবাহনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ
দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২ দশমিক ৯২শতাংশ)। এছাড়া রাতে ২১ শতাংশ, বিকেলে ১৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার তুলনামূলক বেশি, আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পেশাভিত্তিক নিহত
নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ১৭ জন, এনজিও কর্মী ১২ জন, ব্যবসায়ী ২৭ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৩ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর্যালোচনা ও কারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিকতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।
৫৪ দিন আগে
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা সবাই বিপদে আছি। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। এমনকি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আমাদের বহুপাক্ষিকতা হ্রাসের মতো আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। দিল্লি এই অনুরোধটি সহজভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকতে পারি, তবে বাইরে থেকে আসা ঝড়গুলো মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। বর্তমান সংকটের প্রভাব যদি ৭০-এর দশকের ধাক্কার চেয়েও বড় হয়, তবে আমরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে আছি তা কল্পনা করা যায়। এটি একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা, তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যে প্রেক্ষাপটে এটি ঘটছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বিশ্ব যা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল ছিল না ঠিকই, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। তবে তা এখন গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহুপাক্ষিকতার ওপর আঘাত এবং বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে একতরফা পদক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাঠামো এই ইস্যুগুলো মোকাবিলায় আমাদের আর কার্যকরভাবে সাহায্য করছে না। তাই আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখন সম্মিলিত পদক্ষেপের সময়, কারণ একক কোনো দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ মরিশাসে এই নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতা, নীতি-নির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।
৫৫ দিন আগে
হজযাত্রীদের নিষিদ্ধ পণ্য বহন না করার অনুরোধ
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিংবা হজ এজেন্সি বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় যেকোনো ধরনের নিষিদ্ধ পণ্য বহন থেকে বিরত থাকতে সকল হজযাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সৌদি আরবের আইনানুযায়ী হজযাত্রীর লাগেজে নেশাজাতীয় ওষুধ, তামাক পাতা, জর্দা, গুল, পানপাতা, শুঁটকি, রান্না করা খাবার এবং পচনশীল দ্রব্যাদি বহন নিষিদ্ধ। বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইনেও উল্লেখ রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সৌদি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বারবার সতর্ক করার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ বিষয়ে হজযাত্রীদের সতর্ক থাকার ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সৌদিতে কোনও হজযাত্রীর লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সে দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এমন কাজে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর হজ পালনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এমনকি হজ করার সুযোগ নাও পেতে পারেন তিনি। এ কারণে কোনোভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বহন করা যাবে না।
উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীরা সৌদি গমন করবেন।
৫৫ দিন আগে
ইরানের অনুমতি না মেলায় দেশে ফিরতে পারছে না ‘বাংলার জয়যাত্রা’
ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আপাততে দেশে ফিরতে পারছে না।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছার পর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এক মাস ১০ দিন ধরে আটকে থাকা বিএসসির জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে জাহাজটি। কিন্তু এরপরই ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিনই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হলে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসসির জাহাজটি। পরে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় জাহাজটিকে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা চলছে। জয়যাত্রা এখনও হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে এর জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়া বেসিকের সমপরিমাণ যুদ্ধকালীন ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির অপর এক কর্মকর্তা জানান, জেবেল আলি বন্দরে মাল খালাসের সময় কাছাকাছি একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি প্রথমে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে নোঙর করে এবং পরে ঝুঁকি বিবেচনায় শারজাহতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
৫৫ দিন আগে
বেলজিয়াম ও ইইউতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রণয় ভার্মা
বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রণয় ভার্মা খুব শিগগিরই তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের নাম এখনও ঘোষণা না হওয়ায় প্রণয় ভার্মা আরও এক বা দুই মাস এখানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এর আগে, ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন।
১৯৯৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক হংকং, সান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু এবং ওয়াশিংটনে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রণয় ভার্মা ২০১৭ সালের জুন থেকে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি পরমাণু শক্তি বিভাগে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক যুগ্ম সচিব হিসেবে ভারতের পরমাণু কূটনীতির বিষয়টি দেখভাল করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রণয় ভার্মা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী।
ভারতীয় পররাষ্ট্র সেবায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভারতের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টাটা স্টিলে তার পেশাদার জীবন শুরু করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার ওপর তার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে।
৫৫ দিন আগে
শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ ৫ জনের সাজা
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির করানোর দায়ে তিন জনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ মোট পাঁচজনকে সাজা দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় দেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— মো. রমজান ও সাদ্দাম।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। অন্য সবাই পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে নির্জন স্থানে নিয়ে তার লিঙ্গ কর্তন করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন তারা।
পরে শিশুটির মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
৫৬ দিন আগে
গণমাধ্যমের সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও নাগরিক উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সরকারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গণমুখী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য রাখেন।
৫৬ দিন আগে