বাংলাদেশ
দিলারা হাফিজের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারা এ শ্রদ্ধা জানান।
আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে মরহুমার কফিন জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে আনা হয় এবং কালো কাপড়ে ঢাকা একটি মঞ্চে রাখা হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রথমে তার কার্যালয়ের সচিব খান মো. নুরুল আমিন কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মরহুমার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনও শ্রদ্ধা জানান।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপসহ অন্যান্য নেতারা মরহুমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
৬৬ দিন আগে
ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
রবিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় হয় বলে সোমবার নিশ্চিত করেছেন ডিবি যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি জানান, মিরপুর থানায় জুলাই আন্দোলনের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব পালনকালে হেফাজতে থাকাকালীন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।
৬৬ দিন আগে
ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে জাতীয় ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে তিনি এ কর্মসূচি চালু করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০টি খেলার ক্রীড়াবিদরা আনুষ্ঠানিক ভাতার আওতায় আসলেন।
অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ১ লাখ টাকা করে স্থানান্তর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেই আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা যা অনেক সময় মেধাবী ব্যক্তিদের ক্রীড়া জীবন ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি স্বীকৃত পেশা। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে—এ প্রতিশ্রুতি বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দিয়েছিল, যার বাস্তবায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার প্রথমবারের মতো তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনছে এবং ক্রীড়া ভাতা প্রদান শুরু করেছে। এতে খেলোয়াড়রা নিজেদের পছন্দের খেলাকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে নিতে পারবেন।
৬৬ দিন আগে
এলডিসি উত্তরণের পর নির্দিষ্ট সময় বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) পর্যায় থেকে উত্তরণের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের চতুর্দশ অধিবেশনের (এমসি১৪) তৃতীয় দিনের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ডব্লিউটিও সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, একটি কার্যকর, পূর্বানুমেয় এবং নিয়মভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও দ্বিস্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা আহ্বান জানান এবং আপিল বিভাগ পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা অপরিহার্য।
মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, যেখানে বড় মৎস্য আহরণকারী দেশগুলোর অংশীদারত্ব বেশি। তিনি ক্ষতিকর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ ও পৃথক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ন্যায্যতা ও স্থায়ীত্ব বজায় রাখতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ চুক্তি’ (ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট)–এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। এটি ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ।
৬৬ দিন আগে
অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচারকারীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সুযোগে দেশের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি না করে গোপনে মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, মাঠ প্রশাসন ইতোমধ্যে এ ধরনের একাধিক অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম এখনও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চোরাই বা অবৈধ মজুদদারির তথ্য প্রদানকারীদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পুরস্কারের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন। এই আর্থিক সম্মানী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদদারি বন্ধে বিপিসির এ উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পত্র পাঠানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
সরকার আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে জনগণ আরও সচেতন হবে এবং অবৈধ মজুদ ও পাচারজনিত কৃত্রিম সংকট অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
৬৭ দিন আগে
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে: ভূমিমন্ত্রী
সারা দেশে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীতে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের জন্য আয়োজিত চতুর্দশ উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত অষ্টাদশ উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভূমি অফিসে আসা জনগণের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। ভূমির সমস্যা নিয়ে আমাদের অনেক আইনকানুন রয়েছে যেগুলো মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রপ্ত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগামী দিনে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে মানুষকে ভূমি সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) মো. আব্দুর রউফ এবং অতিরিক্ত সচিব নাসরিন জাহান।
৬৭ দিন আগে
গণপরিবহনে অনিয়ম রোধে বসবে জিপিএস ট্র্যাকার
অনিয়ম রোধে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ট্র্যাকার বসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণে জিপিএস সিস্টেম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিপিএস সিস্টেম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব পরিবহন ও গণপরিবহনে জিপিএস থাকবে।
তিনি বলেন, জিপিএস থাকলে দেখবেন, পরিবহন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে ট্রাফিক আইন মানছে না, কে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে, মানে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের তুলে তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিয়ে চলে যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সকল বাস বা বাণিজ্যিক পরিবহনে জিপিএস ইন্সটল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জিপিএস ইন্সটল করলে যারা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাবে, তাদের প্রত্যেকের রেকর্ড ফুটেজ আমাদের কাছে আসবে। যে বাস বা যে পরিবহন এটা অমান্য করবে, সে অনুযায়ী জরিমানা চলে যাবে তার ঠিকানায়।
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো পরিবহন রুট অমান্য করলে বা নির্দিষ্ট রুটের বাইরে গেলে এটি দিয়ে মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর পর পর একটা বাসের ফিটনেস চেক করতে হয়। ফিটনেস নিয়ে চালাতে হয়। এখন ওইটা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে কারা কারা ফিটনেস নবায়ন করেনি। সে রাস্তায় না নামলে কিন্তু আমরা তাকে জরিমানা করতে পারি না। জরিমানা করলে বলে যে, আমি তো চালাইনি, আমি তো ফিটনেসের জন্য ওয়েট করছি, কিন্তু সে রাস্তায় নামালে ওই ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আনফিট বাসগুলো রাস্তায় নেমেছে কি না, জিপিএসের মাধ্যমে আমরা এটাও বের করতে পারব।
জিপিএস থাকা যানবাহন বিআরটিএসহ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবে। জিপিএসের কন্ট্রোল রেগুলেশন সফটওয়্যার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরা রেকর্ড দ্বারা, স্পিড ক্যামেরা রেকর্ড দিয়ে কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমে মামলা চলমান আছে। অতএব, আস্তে আস্তে এটা শৃঙ্খলায় আসবে বলেও জানান মো. সরওয়ার।
৬৭ দিন আগে
পুলিশ সংস্কারে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় মব নিয়ন্ত্রণে তারা সফল হতে পারেনি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহিনীটিকে কার্যকরভাবে রাখা হবে।
এ সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায় এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে ফ্রান্স সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করে চিঠি ইস্যু করেছে বলেও মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।
৬৭ দিন আগে
মানবপাচার বন্ধ ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারচক্র জড়িত। এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ নৌপথ ব্যবহার করছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের মিশনগুলো সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। যারা উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।
টাকা উপার্জনের নেশায় মানুষ এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাদের হাসপাতালে অথবা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করার পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬৭ দিন আগে
ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
৬৭ দিন আগে