বাংলাদেশ
চলমান আন্দোলনের কারণে ঢাকায় তীব্র যানজট, ডিএমপির দুঃখপ্রকাশ
দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সংগঠন একযোগে কর্মসূচি শুরু করায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে ঢাকায় ব্যাপক জনভোগান্তি ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (২ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অপ্রত্যাশিত যানজট এবং জনসাধারণের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ডিএমপি।
এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সংগঠন ও গোষ্ঠী একযোগে কর্মসূচি শুরু করে। এতে করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় রাজধানীর কোথাও কোথাও ব্যাপক জনভোগান্তি ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এমপিওভুক্তির দাবিতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তিকরণ, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বেশ কয়েকটি সংগঠন অবস্থান করছে। এছাড়া চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট ও ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নন-ক্যাডারে নিয়োগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চলছে। ফলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।
এতে শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, পল্টন ও মতিঝিলের মতো প্রধান এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী যানজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে যাত্রীরা ও অফিসগামীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে যানজট বৃদ্ধির ফলে যে জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে, সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশও করেছে।
১২৪ দিন আগে
নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘নভেম্বর রেইন’
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘নভেম্বর রেইন’ হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে।
নভেম্বর মাসের প্রথম দিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা হয়ে আসে। বিকেলের দিকে আকাশ আরও কালো হয় এবং সাড়ে ৪টার দিকে যেন সন্ধ্যা নেমে আসে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির শুরু হয় এবং ৫টার পর ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় রাস্তায় চলাচলকারী গাড়িগুলোতে হেডলাইট জ্বলতে দেখা যায়। অনেকে ছাতা না নিয়ে বের হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন, বিশেষ করে অফিসফেরত সাধারণ মানুষের কাকভেজা হয়ে বাসায় ফিরতে হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
১২৫ দিন আগে
৯ মাস পর দুয়ার খুললেও প্রথম দিন সেন্ট মার্টিন যায়নি কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ
দীর্ঘ ৯ মাস পর আজ (১ নভেম্বর) থেকে সেন্ট মাটিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রথম দিন কোনো জাহাজ সেন্ট মার্টিনে না যাওয়ার কারণে পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারেননি।
হাজারো পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে জাহাজ মালিকরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন শর্তের কারণে পর্যটকদের আগ্রহ না থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে সরকারের কোনো বাধা নেই। লিখিতভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে দিনে গিয়ে দিনেই চলে আসতে হবে; রাতে থাকা যাবে না।
এদিকে রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় পর্যটকরা যেতে আগ্রহী হচ্ছেন না। কারণ দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে দ্বীপে গিয়ে আবার সেদিনই চলে আসতে হবে। এ কারণে জাহাজ মালিকরাও জাহাজ চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, জাহাজ মালিকরা যদি জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখেন, সেটা তাদের ব্যাপার। সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন।
তিনি বলেন, আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করবে।
সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে গেলে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে পর্যটকরা কিছুই ঘুরে দেখতে পারবেন না। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি ব্যবসার জন্যও তা অলাভজনক। এ কারণেই অনেক পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাত্রিযাপন করার সুযোগ না থাকলে সেন্ট মার্টিনের পর্যটন মৌসুম জমে না। পর্যটকরা রাতের সৈকত দেখতে চান, ঢেউয়ের শব্দ শুনতে চান। সেটাই তো সেন্ট মার্টিনের আসল আকর্ষণ।
পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
১২৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে টানা বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে আধাপাকা ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার মাঠজুড়ে রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমনচাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিতে সব উপজেলার কিছু এলাকায় আমন ধান নুয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৮৬ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ হয়ে আসা ধানের শীষ মাটিতে লেগে গেছে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামের কৃষক ছালাম মিয়া জানান, তিনি এক একর জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। ১৫ দিন পর ধান কাটার কথা ছিল।
তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে আবাদ করেছি। এখন কাটার সময় এলো, তখনই টানা বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে নষ্ট হচ্ছে, ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব ধান নুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব।
১২৫ দিন আগে
কয়েদিদের ফুল দিয়ে বরণ করে খুলনায় নতুন কারাগার চালু
পুরাতন কারাগার থেকে ১০০ বন্দি স্থানান্তর করে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন খুলনার নতুন কারাগার। শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম।
এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরাতন কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে বন্দিদের নতুন কারাগারে আনা হয়। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. মনির আহমেদ, খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, ডেপুটি জেল সুপার আবদুল্লাহ হেল আল আমিন, জেলার মুহাম্মদ মুনীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে ১০০ বন্দির স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে। নতুন জেল হওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হবে।”
নতুন কারাগারে রয়েছে পাকা রাস্তা, রঙিন ভবন, টাইলসের ফুটপাত, মসজিদ, হাসপাতাল ও পার্কিং সুবিধা। বন্দিদের জন্য নির্মিত প্রতিটি ভবনের চারপাশে রয়েছে পৃথক সীমানাপ্রাচীর, যাতে এক শ্রেণির বন্দি অন্য শ্রেণির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।
মোট ৫৭টি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি বন্দিদের থাকার ভবন। নিরাপত্তা জোরদারে পুরো কারাগারের চারপাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল নির্মিত হয়েছে।
নবনির্মিত কারাগারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে ফাঁসির মঞ্চ, যা দেশের ‘সবচেয়ে আধুনিক ফাঁসির মঞ্চ’ বলে দাবি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
খুলনা সিটি বাইপাস (রূপসা ব্রিজ রোড) সংলগ্ন ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত নতুন কারাগার কমপ্লেক্সের প্রাথমিক বাজেট ছিল ১৪৪ কোটি টাকা। ২০১১ সালে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় এবং ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে সময়সীমা ও বাজেট দুবার সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ২৮৮ কোটি টাকায়। কারাগারটির মোট ধারণক্ষমতা ৪ হাজার বন্দির হলেও বর্তমানে ২ হাজার বন্দি রাখার উপযোগী অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে।
১২৫ দিন আগে
সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচন পর্যন্ত বিদেশি সফর এড়ানোর নির্দেশ সরকারের
আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিপালন নিয়ে পরিপত্র জারি করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
এ পরিপত্রের কপি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সব উপদেষ্টার একান্ত সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এর আগের পরিপত্র এবং অর্থ বিভাগের গত ৮ জুলাইয়ের এক চিঠিতে বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পরিপত্রগুলোতে জারি হওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে বিদেশ ভ্রমণের ঘটনা ঘটছে। মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একই সময়ে বৈদেশিক সফরে যাচ্ছেন।আবার একই মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাও একসঙ্গে বিদেশে যাচ্ছেন।
এ ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হচ্ছে, যা আগের দেওয়া নির্দেশনাগুলোর পরিপন্থি বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।
একারণে এর আগে জারি করা সব বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিপালন এবং এখন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয় নতুন পরিপত্রে।
১২৫ দিন আগে
আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে ১০টির বেশি সিম
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একজন ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি সক্রিয় সিম আজ থেকেই বন্ধ করে দেবে অপারেটরগুলো।
আজ শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হচ্ছে বিটিআরসির এই নতুন নির্দেশনা।
সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, নভেম্বর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।
যেসব ব্যবহারকারী নিজেরা অতিরিক্ত সিম বন্ধ করবেন না, তাদের এনআইডিতে নিবন্ধিত গুরুত্বপূর্ণ সিমকার্ডও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এর আগে একজন নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম ব্যবহার করতে পারতেন। গত ৩০ জুলাই বিটিআরসি ঘোষণা দেয়, এই সংখ্যা কমিয়ে ১০টিতে আনা হবে এবং নভেম্বর থেকে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা শুরু হবে।
অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী গণমাধ্যমকে বলেছেন, “শনিবার (১ নভেম্বর) থেকেই অপারেটররা অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা নিশ্চিত করব, কোনো এনআইডির নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় থাকবে না।”
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬২ লাখ। অথচ প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারীর নামে ৫টির কম সিম, ৬ থেকে ১০টি সিম রয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশের, আর ১১টির বেশি সিম ব্যবহার করছেন মাত্র ৩ শতাংশ গ্রাহক।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও প্রতারণা রোধের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা চাইলে অনলাইনে বা *১৬০০২# ডায়াল করে নিজেদের এনআইডিতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা যাচাই করতে পারবেন।
সিম বন্ধ করার ক্ষেত্রে ‘দৈবচয়ন’ (র্যান্ডম সিলেকশন) নীতি অনুসরণ করা হবে। এর ফলে কারও এনআইডিতে নিবন্ধিত গুরুত্বপূর্ণ সিমকার্ডও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
১২৫ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে চোর সন্দেহে ইলেকট্রিশিয়ানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ৫
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার কাউন্সিল উত্তর শরীফপাড়া এলাকায় চোর সন্দেহে নামাজ পড়তে বের হওয়া এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন বাবু (৪৩) বিআইডব্লিউটিএ’র ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সকালের দিকে মিয়ার বাস মেরামতের গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
নিহতের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, তার ছোট ভাই সকালে নামাজ পড়তে বের হলে চোর সন্দেহে গ্যারেজে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে একটি গ্যারেজ থেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বিআইডব্লিউটিএ-এর ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তির পূর্বে মাদকাসক্তি সমস্যা ছিল এবং তাকে রিহ্যাব সেন্টারেও রাখা হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, তিনি হয়তো কোথাও চুরি করতে গিয়েছিলেন, সেই সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরো তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
১২৬ দিন আগে
সিলেটের হাওরে মিলেছে নিখোঁজ কৃষকের লাশ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর হাওরে কৃষক হানিফ মিয়ার লাশ পাওয়া গেছে।
তিনি পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চানপুর খেয়াঘাট গ্রামের মন্তাজ আলীর পুত্র। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাউটি বিল হাওর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় হানিফ মিয়া গরু নিয়ে ঘাস খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে রাউটি বিলে পাড়ে যান। সন্ধ্যার পরেও তিনি বাড়িতে ফিরেননি। পরে সন্ধ্যায় তার স্ত্রী বিলের কাড়ার পাড়ে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে গরু নিয়ে ফিরে আসেন।
এরপর বিষয়টি গ্রামবাসীকে তার স্ত্রী জানালে মসজিদের মাইকে নিখোঁজের বিষয়টি প্রচার করা হয়। রাতভর হানিফ মিয়াকে খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বিলে জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২৬ দিন আগে
সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ-বদলির পরামর্শ বিষয়ক কমিটি বাতিল
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে গঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি বাতিল করেছে সরকার।
সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম গত ২৭ অক্টোবর এক ফেসবুক পোস্টে এ কমিটির ভূমিকার সমালোচনা করার পর গতকাল (বুধবার) কমিটিটি বাতিল করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ছয় সদস্যের এ কমিটির সভাপতি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে ছিলেন— উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব। আর সদস্য সচিব ছিলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ যুগ্ম-সচিব ও এর উপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে গত ৮ জানুয়ারি ‘জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি’ গঠন করা হয়।
সে সময় কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিতে উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হলে গত ২০ মার্চ তাকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়।
এরপর ২৫ আগস্ট সদস্য থেকে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। একইসঙ্গে কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটি পুনর্গঠন করে সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পুনর্গঠিত কমিটির সদস্য পদ থেকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম গত ২৭ অক্টোবর ফেসবুক পোস্টে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসএসবির (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ওনারা ওখানে বসে কী করেন? কেবল যোগ্য অফিসারদের আটকানো নাকি? জনপ্রশাসন কমিটির কাজটাই বা কী? রুলস অব বিজনেসের বাইরে গিয়ে করা এই অন্যায্য কমিটি মোখলেসের এইসব দুর্বৃত্তায়নকে বৈধতা দিয়েছে কেবল! কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া সচিব তাদের হাত দিয়েই গেছে!
তিনি আরও লেখেন, ‘এখনও ৩৪ জন ফ্যাসিস্ট সচিব থাকে কী করে? অথচ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের অনুমোদনের পরও সিনিয়র মোস্ট যোগ্য কর্মকর্তাকে তার প্রাপ্য পদে বসতে দেননি এই মোখলেস গং। এতবড় অবিচার বাংলার ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। এই এসএসবি, এই কমিটি থাকায় মেধাবীদের দেশের জন্য কাজ করতে দেওয়া হয় না। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এত এত অন্যায় করতে আমরা হাসিনাকে তাড়াইনি। হিসাব দিয়ে যেতে হবে।’
১২৭ দিন আগে