বাংলাদেশ
ঈদের আগেই কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আসন্ন ঈদের আগে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের সব বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর ইতিবাচক সুফল মিলবে।
তিনি জানান, স্পেনে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সময়মতো পৌঁছানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কাজ চলছে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
মতবিনিময় শেষে মন্ত্রীরা ভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গার নদী পরিদর্শন করেন। পরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান।
৬ দিন আগে
অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু কবর, মতিয়ার রহমান, আবু তালেব, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যারা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবে তাদের শুধু চাকরিই যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে জেলহাজতে নেওয়া হবে। কারণ আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। জনগণের জন্য বরাদ্দ টাকা কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। কেউ যদি এক পাই-পয়সা কমিশন বাণিজ্যও করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আপনাদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো দপ্তর এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তবে ওই দপ্তরের প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের মানের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কেউ সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নিম্নমানের করে, তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যদি কেউ কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করতে চান, তবে আপনারা আমাকে জানাবেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে।
এ সময় মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্ল্যাকলিস্ট (কালো তালিকাভুক্ত) করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আগামীতে যাতে কোনো কাজের কন্ট্রাক্ট (চুক্তি) না পায় সে ব্যবস্থাও নেব।
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহিদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নির্বাচন পেয়েছি, একটা সরকার পেয়েছি। জুলাই শহিদদের অমর্যাদা হয় বা তাদের আত্মা কষ্ট পায়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড এই সরকার বরদাশত করবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মোৎসর্গকারী ও আহতদের অমর্যাদাও মেনে নেওয়া হবে না।
এছাড়া বিচারক সংকট, মামলাজট ও জুডিশিয়ারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান সমস্যা আইনের আওতায় সমাধান করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী দুপুরে শৈলকুপা ডিগ্রী কলেজ মাঠে বিএনপির সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। এরপর বিকেলে বাগ্নি রাধা গোবিন্দ মন্দির দর্শন ও সন্ধ্যায় শৈলকুপা দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৬ দিন আগে
ছুটির দিনেও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করছেন। এ সময় নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনে গতি আনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী সকাল সোয়া ১০টার দিকে তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকালে তার গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তারেক রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ইসমাইল জাবিউল্লাহ, হুমায়ূন কবির, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম শামসুল ইসলাম এবং জাহেদুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী বিকেলে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি প্রতি শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। গত শনিবার প্রথমবারের মতো তিনি তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে কাজ করেন।
৬ দিন আগে
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৬ দিন আগে
ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: পানি সম্পদমন্ত্রী
পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, হাওর অঞ্চলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও রক্ষা করার জন্য বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ডুবে যাওয়া বাঁধগুলো প্রতি বছর মেরামতের ফলে এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন অনেকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জন্য হাওর অঞ্চলকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতি বছর যেন বাঁধ মেরামত হয় এবং দুর্নীতিমুক্ত হয় সেদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বেশি নজর থাকবে। ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় এ অঞ্চলের খোঁজখবর রাখছেন। আমরা দায়িত্ব নিয়েই আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষি কাজে সেচের ব্যবস্থা করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দেশব্যাপী খাল-পুকুর-জলাশয় খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে শুকনো মৌসুমেও সেচের মাধ্যমে কীভাবে ফসল উৎপাদন করা যায় সে উদ্যোগ নেবে সরকার। এখানে উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধান রক্ষা করতে বাঁধ জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়সর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দীন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
৬ দিন আগে
জুমার নামাজের পর শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
রাজধানীর বনানীতে জুমার নামাজের পর শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বনানীতে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে শিশু-কিশোদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার সময় শিশু-কিশোরদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও মসজিদের নারীদের জন্য নির্ধারিত আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন।
মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার আগে শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন কথোপকথনে তারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে বলে জানান রুমন।
আলাপচারিতার সময় এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে, ‘আঙ্কেল, আপনি রোজা রাখেন?’
শিশুটির সঙ্গে হাতে মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীও বলেন, ‘আমি? আমি তো রোজা রাখি।’
শিশুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ও কারও কারও মাথায় স্নেহভরে হাত রেখে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা রোজা রাখো?’
উত্তরে শিশুরা একসঙ্গে বলে, ‘আমরাও রাখি।’
অপর পাশ থেকে আরেক শিশু বলে ওঠে, ‘আঙ্কেল আমি সবগুলো রোজা রেখেছি।’
প্রধানমন্ত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘ভেরি গুড।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাসি-খুশিতে মেতে ওঠে শিশুরা। পরে মসজিদ থেকে জুবাইদা রহমান বেরিয়ে আসলে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে বিদায় জানান।
এ সময় শিশুরা বলে, ‘আঙ্কেল, আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী তাদের দিকে হাত নেড়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যান।
৭ দিন আগে
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আশাবাদী ওআইসি নেতারা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এ সময় তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাক্লিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি।
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব থেকে ফিলিস্তিন ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে এখন এই পদের জন্য বাংলাদেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছেন।
ওআইসি প্রতিনিধি দলের নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশাল বিজয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসাও করেন তারা।
বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সমৃদ্ধ হবে।
তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুলাক্লিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হবে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তুরস্কের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষই রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণ
সৌদি প্রতিনিধি দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন খাতে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং তার সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ওআইসি সচিবালয়ের সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি অটল সমর্থন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আরব-ইসলামিক দেশগুলোর সমর্থন থাকবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজিকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান ড. খলিলুর রহমান। উভয় পক্ষই চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। গাম্বিয়া ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভিগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভিগুলোকে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ এলাকা নান্দাইলে প্রেসক্লাব পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গত ১৭ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এবং নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি। তবে এখন থেকে সবকিছু নিয়মের ভিত্তিতেই চলবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি মোবাইল ফোনকে সম্বল করে যারা অনলাইন পোর্টাল পরিচালনা করছেন, তাদেরও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। তবে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্র বিকাশে অপরিহার্য—এমন অবস্থানই সরকারের।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নান্দাইলে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম নান্দাইল সফর।
নান্দাইলে পৌঁছার পর সদরে অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় নান্দাইলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত উপস্থিত ছিলেন।
প্রটোকল শেষে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি চৌরাস্তায় অবস্থিত নান্দাইল প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন। সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, নান্দাইল এবং গফরগাঁও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কল্যাণ তহবিল থেকে নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরপর প্রতিমন্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে তিনি নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
৮ দিন আগে
নৌপথে ঈদযাত্রা: অতিরিক্ত ভাড়ার আদায় নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
নৌপথে আসন্ন ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, অনুমোদিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক-চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীচাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় যাত্রীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোনোভাবেই ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অতিরিক্ত যাত্রী-মালামাল বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দিনরাত সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙি নৌকা চলাচল বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে।
১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা যায়।
ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করা হবে।
যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ঘাটভিত্তিক ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হবে।
দুর্ঘটনা মোকাবেলায় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভাসমান নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে।
চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ঘূর্ণাবর্ত এলাকা চিহ্নিতকরণসহ অন্যান্য নৌরুটে নাব্য চ্যানেল মার্কিং নিশ্চিত করা হবে। সব নৌচ্যানেল ও ফেরি রুট সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনন, পন্টুন স্থাপন ও ঘাট উন্নয়ন জোরদার করা হবে।
যাত্রীসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে নদীবন্দর ও টার্মিনালে পানীয় জল, স্যানিটেশন, মোবাইল চার্জিং, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সদরঘাটসহ সব নদীবন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে একযোগে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়। লঞ্চ ও ফেরিঘাট থেকে দেশের অভ্যন্তরে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির ফিডার বাস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় আটক ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের দেশে আনা হয়।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩০ জন এবং বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ১৪৫ জন রয়েছেন। তারা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
জানা যায়, তাদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
৮ দিন আগে