বাংলাদেশ
মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ আদালতের
দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (তদন্ত) ও তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান, মেয়ে ফারজানা রহমান ঈশিতা ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে মোট ২ হাজার ৩৬৭ শতাংশ জমি এবং ঢাকার মিরপুরে প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে চারটি ফ্ল্যাট।
অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেশের ১১৬টি ব্যাংক হিসাবে জমা ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১ টাকা। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের ১১৬টি ব্যাংক হিসাব ও ২৩টি বিও হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আবেদনে দুদকের উপপরিচালক উল্লেখ করেন, মতিউর রহমান তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
আরও পড়ুন: সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউরকে সোনালী ব্যাংকের বোর্ড থেকে অপসারণ
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর ও অর্থ পাচারের চেষ্টা করছিলেন। তাই তাদের এ ধরনের চেষ্টা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্দেশের প্রয়োজন ছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ২৪ জুন একই আদালত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
গত ৪ জুলাই মতিউর রহমানের চারটি ফ্ল্যাট ও ৮৬৬ শতক জমি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: বেনজীর-মতিউরের সম্পদের বিবরণী চেয়ে দুদকের নোটিশ
৬০৩ দিন আগে
কোটা সংস্কার: রায়ের কার্যকরী অংশ প্রকাশ
চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধাসহ বিদ্যমান কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের মূল অংশ (অপারেটিভ পার্টট) ও নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক পৃষ্ঠার এই সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশিত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার যদি বিদ্যমান কোটার হার পরিবর্তন করতে, কমাতে অথবা বাড়াতে চায়, তাহলে এই রায় বাধা হবে না। অর্থাৎ সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করতে পারবে।
তবে আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন, সেজন্য হাইকোর্টের রায় আপাতত কার্যকর করা যাবে না।
কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ও আইনগত কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে এই রায়ে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে করা ২৩৫ নম্বর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশ এবং যে রায়টি ২০৬২/২০১৩ নম্বর লিভ টু আপিলের মাধ্যমে সংশোধিত আকারে আপিল বিভাগে বহাল রাখা হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতিদের কোটা পুনরায় বহাল করার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং একই সঙ্গে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী, উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য যদি থাকে সেক্ষেত্রে কোটা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
এছাড়া এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব, সেটা আদেশের কপি গ্রহণের সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। যেভাবেই হোক, যদি উপরোক্ত সব ক্ষেত্রে কোটার হার পরিবর্তন করতে, কমাতে অথবা বৃদ্ধি করতে চায়, তাহলে বিবাদীদের (সরকারের) জন্য এই রায় ও নির্দেশনা বাধা হবে না। যদি কোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটা পূরণ না হয়, সেক্ষেত্রে শূন্য পদ সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণ করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের স্বাধীনতা থাকবে বলেও বলা হয়েছে।।
রায়ের ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের মূল অংশটুকু প্রকাশিত হয়েছে, যা হাতে এসেছে। গতকাল আপিল বিভাগ কোটার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। আগামী ৭ আগস্ট শুনানির দিন রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে আপাতত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না।’আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সীমা লঙ্ঘন করছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হাইকোর্টে রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী রায়ের বিষয়ে বলেন, রায়ে সব কোটা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে সরকার তা কমাতে বা বাড়াতে পারবে। আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। ফলে এ রায় এখনই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটায় ৫৬ শতাংশ পদ সংরক্ষিত রাখা কোটা পদ্ধতি ২০১৮ সালে বাতিল করা হয়। ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীরা এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
পরে সরকার ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার: পুলিশের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ঢাকায় সড়ক অবরোধ
৬০৩ দিন আগে
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেট, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা
টানা তিন দফা বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটে এবার শুরু হয়েছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে নগর ও শহরতলীতে। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও শোচনীয়। এদিকে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগসংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অন্তত ৮ বার লোডশেডিং হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে লোডশেডিং।
গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেট শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। যার ফলে বাসা-বাড়িতে ভোগান্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি-বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে চাহিদা ছিল ১৮৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩৯ মেগাওয়াট। আর লোডশেডিং হয়েছে ৪৮ মেগাওয়াট। সিলেট জেলায় চাহিদা ছিল ১২২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৯৪ মেগাওয়াট। আর লোডশেডিং হয়েছে ২৮ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
নগরীর লালাজারের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যে এভাবে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল থেকে কিছু সময় পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।
জালালাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাকিল আহমদ বলেন, ‘গরমে চরম ভোগান্তির মধ্যে বিদ্যুৎ নেই। এ কয়দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। আজ (বৃহস্পতিবার) তো সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ বার বিদ্যুৎ চলে গেল। বিদ্যুৎ না থাকায় এখন বাসায় পানি সংকট তৈরি হয়েছে।’
নগরীর মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন সবুজ বলেন, প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ৬ বার বিদ্যুৎ গিয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে কোনো কাজই করা যাচ্ছে না।
এদিকে সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।
পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
৬০৩ দিন আগে
শাহবাগে কোটা আন্দোলনের খবর সংগ্রহের সময় হামলার শিকার সাংবাদিক
শাহবাগে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক তামিম ও ক্যামেরাম্যান প্রিন্স আরেফিন হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। এতে বলা হয়, আরেফিনের ভিডিও ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ হামলার ভিডিও চিত্র সময় টিভির কাছে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। 'আবির' নামে কালো জার্সি ও বাংলাদেশের পতাকা সম্বলিত হেডব্যান্ড দিয়ে চিহ্নিত এক যুবক তামিমকে বারবার আঘাত করেন।
আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ডিএমপির
এক পর্যায়ে ওই যুবক অপর এক ব্যক্তির হেলমেট কেড়ে নিয়ে আরও আঘাত করার জন্য তামিমের দিকে এগিয়ে যান।
বিকাল ৪টা থেকে শাহবাগের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। বিকাল ৫টার কিছু আগে ছাত্ররা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগের দিকে মিছিল শুরু করেন, কিন্তু প্রথমে পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়, যার ফলে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড় ও মেট্রো স্টেশনের নিচের এলাকা দখল করে নিলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিছু শিক্ষার্থী পুলিশের গাড়িতে উঠে স্লোগান দিতে থাকে।
বিক্ষোভের কারণে শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোড, বাংলামোটর, মৎস্য ভবন ও টিএসসি পর্যন্ত যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার: পুলিশের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ঢাকায় সড়ক অবরোধ
৬০৩ দিন আগে
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক রিট্রিটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় বিমসটেক রিট্রিট সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফর শেষে বুধবার রাতে বেইজিং থেকে সরাসরি দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই রিট্রিটে বিমসটেক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিমসটেক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা এবং আসন্ন ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনকে সফল ও ফলপ্রসূ করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। নেপালের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের পররাষ্ট্র সচিব।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আঞ্চলিক এই জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংযোগ ও সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
বৈঠকের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান ভারত ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশে নিত্যপণ্য আমদানিতে অব্যাহত সুবিধা বজায় রাখা ও তিস্তা প্রকল্পের জন্য কারিগরী দল পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
অপরদিকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন। নেপালের পররাষ্ট্র সচিব সেওয়া লামসাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
উল্লেখ্য, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৭টি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড নিয়ে এই জোট গঠিত হয়।
আরও পড়ুন: জিডিসির সমাপনী অধিবেশনে ডিজিটাল রূপান্তরে বিমসটেকের সহযোগিতার আহ্বান ঢাকার
২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় বিমসটেকের সদর দপ্তর উদ্বোধন করেন।
বিমসটেকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পোশাক ও চামড়া শিল্পসহ আরও অনেকগুলো ক্ষেত্র বিমসটেকের আওতাভুক্ত।
আরও পড়ুন: এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশকে জিরো ট্যারিফ সুবিধা দেবে চীন
৬০৩ দিন আগে
অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের বর্জনের মধ্যে অনলাইনে মুদ্রানীতি বিবৃতি প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
ঐতিহ্য থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের বর্জন এড়াতে মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) অনলাইনে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঐতিহ্যগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য উপস্থিত থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং খাতের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নের জবাব দেন।
তবে এই ঐতিহ্য ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অনলাইনে হালনাগাদের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। সংবাদ সম্মেলনের পরিবর্তে আগামী ১৮ জুলাই বিকাল ৩টায় মুদ্রানীতি (এমপিএস) অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।আরও পড়ুন: খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনতে 'এক্সিট পলিসি' চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আগে মুদ্রানীতি প্রকাশের সম্মেলন কভার করতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিল।
তিনি বলেন, 'আমরা এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করি না, যেখানে কর্মকর্তাদের অনুমতি পেলেই কেবল সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কথা বলার জন্য একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। ইআরএফ এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগের মতোই ঝামেলামুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকারের দাবি পূরণ না করলে ইআরএফ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠান বর্জন অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: আইএমএফের পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ২০.৪৬৭ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক
৬০৩ দিন আগে
গ্যাস সংকট: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে দেশ।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ১ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিয়ে দিন শুরু করে। আর দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ১ হাজার ৭৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়।
সেসময় দেশে ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যায় দেশের চাহিদা সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উঠবে।
কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
ঢাকা নগরীতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। কারণ, অনেক এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন তারা বিভিন্ন সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
বিদ্যুৎ সরবরাহের এই পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিদ্যুৎ ইউটিলিটি কর্মকর্তারা।
পেট্রোবাংলার সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমদানির এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২ হাজার ২৫৩ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি)।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩-৪ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে ও গ্যাস সরবরাহ জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে: নসরুল হামিদ
বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, পেট্রোবাংলার এলএনজি সরবরাহ ক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) থেকে ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটি নেমে এসেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আর চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার(৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'বাজেট-পরবর্তী' সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
নসরুল হামিদ বলেন, ৭০০ নদীর দেশ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরবচ্ছিন্ন রাখা সত্যিই কঠিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৫-১৬ জুলাই থেকে গ্যাস নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।’
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু করার পাশাপাশি আদানিও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটে ফের চাঁদপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত
৬০৩ দিন আগে
নিম্নমানের বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের বিষয়ে তদন্তে মন্ত্রণালয়কে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
নিম্নমানের বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটার কেনা হয়েছে কি না এবং মিটারের ওপর গ্রাহকের আস্থা আছে কি না খতিয়ে দেখতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ জানিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক কমিটি অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সভাপতি মু. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন- মো. আবু জাহির, তানভীর শাকিল জয়, সেলিম মাহমুদ, আব্দুর রউফ, মো. ওমর ফারুক ও কানন আরা বেগম।
বৈঠকে ভারত, নেপাল, ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি পরিস্থিতি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়াও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যেও পরিবেশবান্ধব বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বোর্ডের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানের ওপর জোর দেয় কমিটি।
বৈঠকে আরও ছিলেন- বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিবসহ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অন্যান্য অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৬০৩ দিন আগে
সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবকিছু করতে প্রস্তুত: জনপ্রশাসনমন্ত্রী
কোটার বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার পর সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবকিছু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী কমিশন গঠন করা হবে কি না- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আদালতের বিষয় আদালতে সমাধান হোক। এই সমাধানের পর যদি আরও কিছু আলোচনা করতে হয় সেটি আলোচনা করার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যা করা লাগে আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোটার বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী বিভাগের অংশ। এটি এখন আদালতে রয়েছে। বিচার বিভাগে কোনো বিষয় থাকলে সেটি বিচার বিভাগেই নিষ্পত্তি করতে হয়।'
বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যেটি যেখানে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন সেটি সেখানে নিষ্পত্তি করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কথা শুনে আদালত যে রায় দিয়েছে, এখানে কিন্তু সুযোগ রয়ে গেছে, প্রধান বিচারপতি সেই আহ্বান জানিয়েছেন। আদালত হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে আপনার কথা শুনে আসলে কী করতে হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।'
তিনি আরও বলেন, ‘কোর্টে না গিয়ে রাস্তায় আন্দোলন-সংগ্রাম করে, ব্যারিকেড দিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা- এটি অনুচিত ও অযৌক্তিক।'
কিছু কুচক্রী, কোনো পরামর্শদাতা বা কারো ইন্ধনের কারণে পানির মতো একটি সহজ জিনিসকে জটিল করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ হোসেন।
কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন ভিন্ন জায়গায় না যায় সে বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যথাযথ জায়গায় যাবেন। আপনাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আমি মনে করি সুন্দরভাবে সেটি সমাধান হওয়া সম্ভব।'
একটি গোষ্ঠী দেশের উন্নয়নের সমালোচনা করে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
কারা শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'যারা দেশের উন্নয়ন চায় না, যারা সেই সময়ে দেশে লুটপাট করেছে, যারা দেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে, তারা চাচ্ছে না। তারা বসে আছে যেকোনো বিষয়কে পুঁজি করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে।'
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসে মাত্র ১৭ শতাংশ নারীরা সুযোগ পেয়েছেন। ৪০তম বিসিএসে ৫৯ জেলা থেকে পুলিশে একজন নারী ও চাকরির সুযোগ পাননি। ১৭টি জেলায় নারী-পুরুষ কেউই সুযোগ পায়নি। এরকম যদি হয়, তাহলে একটা অসমতা তৈরি হয়। কোটার সংস্কার দরকার। কোটা কতটুকু থাকবে সেটা আলোচনা হতে পারে।’
উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে পরিপত্র জারি করে সরকার। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি হাইকোর্ট সেই পরিপত্র বাতিল করে। এতে ফের কোটা বাতিলে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছে। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এরমধ্যে কোটা বাতিলের রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করে আপিল বিভাগ। এরপরও আন্দোলন থেকে সরে আসেনি শিক্ষার্থীরা।
৬০৩ দিন আগে
কোটা সংস্কার: পুলিশের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ঢাকায় সড়ক অবরোধ
সড়ক অবরোধের বিষয়ে ডিএমপির হুঁশিয়ারির পরও কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার(১১ জুলাই) বিকালে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে যাত্রা করেন।
তারা কপালে জাতীয় পতাকা বেঁধে তাদের দাবির বিষয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস 'বাংলা ব্লকেড' পালন করবে কোটা আন্দোলনকারীরা
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিকাল ৫টার দিকে বাংলামোটরের দিকে মিছিল নিয়ে যান।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. মহিদ উদ্দিন বলেন, বাংলা ব্লকেডের নামে যারা সড়ক অবরোধ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বিদ্যমান আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সীমা লঙ্ঘন করছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৬০৩ দিন আগে