বাংলাদেশ
চাকরিতে কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ২ শিক্ষার্থীর আবেদন
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন দুই শিক্ষার্থী। এই দুই শিক্ষার্থীর আবেদনের ওপর বুধবার (১০ জুলাই) আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।
আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের আদালত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে এফিডেভিট দায়েরের জন্যে ওই দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে আবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী আন্দোলন: রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের কঠোর ‘বাংলা ব্লকেড’
চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এফিডেভিট দাখিলের জন্যে অনুমতি দেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করা হয়।
আবেদনকারী দুই শিক্ষার্থী হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আলসাদি ভূঁইয়া ও আহনাফ সাঈদ খান।
তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়।
আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ
রিট আবেদনকারীপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন সর্বোচ্চ আদালত।
এ আদেশের পর কোটাবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চাইলে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারেন। এমন মন্তব্যের পর মঙ্গলবার দুইজন শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের পক্ষে আবেদন করেন। আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন হাইকোর্ট নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা গত ৯ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ৪ জুলাই শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
সেই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। ক্রম অনুসারে বিষয়টি উঠলে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী অন রেকর্ড মো. জহিরুল ইসলাম একদিনের (নট টুডে) সময়ের প্রার্থনা জানান।
৬০৫ দিন আগে
কোটাবিরোধী আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে ১২০ থেকে ১৪০ জন শিক্ষার্থী।
এসময় কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে সংবাদ বিবৃতি দেয় তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন তাই এক সময় পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু তাদের উত্তরসূরিরা একই বিষয়ের মধ্য দিয়ে যায়নি। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় কোটা পদ্ধতির সংস্কার জরুরি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এছাড়াও ১০ শতাংশ নারী কোটা খুবই লজ্জাজনক নারীদের জন্য। তাই এই কোটা পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে।’
৬০৫ দিন আগে
বিশ্বমানের লেনদেন সেবা দিতে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নগদ-হুয়াওয়ে চুক্তি
দেশের সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেন অভিজ্ঞতা বদলে দিতে একসঙ্গে কাজ করবে নগদ ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি চুক্তি সই করেছে। যা দেশের মানুষকে নগদের মাধ্যমে উপহার দেবে বিশ্বমানের স্মার্ট লেনদেনের অভিজ্ঞতা।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ের শাংরিলা হোটেলে বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের মধ্যে এ বিষয়ক একটি চুক্তি সই হয়।
এই চুক্তির ফলে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও নগদ মোবাইল আর্থিক সেবার বিদ্যমান সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হবে বিশ্বসেরা সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ফলে দেশের প্রথম ডিজিটাল ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে নগদের গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে আন্তর্জাতিক মানের লেনদেন সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
নগদের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর এ মিশুক।
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হুয়াওয়ের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যান জুনফেং। এ সময় চীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নগদের অভাবনীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’র ভাইস মিনিস্টার অব কমার্স লি ফেই।
আরও পড়ুন: নাটোরের সিংড়ায় পশুরহাটে ক্যাশলেস লেনদেনে নগদ
চুক্তির বিষয়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদ খান বলেন, ‘মোবাইল আর্থিক সেবা হিসেবে নগদ গত ৫ বছরে বাংলাদেশের আর্থিকখাতে বড় রকমের বিপ্লব ঘটিয়েছে। এখন এটিকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। নগদ ও হুয়াওয়ে যৌথভাবে বাংলাদেশে কাজটি করবে। নগদ ডিজিটাল ব্যাংক এক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখবে; যার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় অগ্রগতি ঘটবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শতভাগ ক্যাশলেস সমাজ গড়তে যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার, তা নিশ্চিত করতেই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তি হল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা বিশ্বমানের সেবার অভিজ্ঞতা পাবেন। ফলে ডিজিটাল লেনদেন হবে আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাশ্রয়ী।’
আগামী বছর বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে গত ৮ জুলাই থেকে চীন সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে। ৮ বছর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং যখন বাংলাদেশ সফরে আসেন।
২ দেশের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নগদের সঙ্গে হুয়াওয়ে-এর এই চুক্তি, যা ডিজিটাল লেনদেনের বৈশ্বিসক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির ফলে গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশে একেবারেই নতুন কিছু আর্থিক সেবা ও পণ্যের প্রচলন শুরু হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ধরণ বদলে দেওয়ার মতো ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির লাইসেন্স পেল নগদ
৬০৫ দিন আগে
কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সারা দেশের সঙ্গে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর কোটা বাদে সব কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানান।
এ কারণে মহাসড়কে অন্তত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ ববি শিক্ষার্থীদের
এ সময় আন্দোলন সফল করতে যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বিএম কলেজ শিক্ষার্থী হুজাইফা রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশকে মুক্ত করা হলেও আজ কোটা পদ্ধতি পাকিস্তানী শোষণ-বৈষম্য বহন করছে। অতি সত্তর আমরা এ কোটা পদ্ধতি থেকে মুক্তি চাই।’
আমাদের দাবি হলো, ‘মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হোক। আমরা শিক্ষার্থীরা আগের মতো ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। তাই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আমাদেরকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিন।’
আরও পড়ুন: কোটা বাতিলের দাবিতে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ
৬০৫ দিন আগে
একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন উভয় দেশের জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করার এখনই সময়।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ করার এখনই সময় আমাদের। একসঙ্গে আমরা এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি, যাতে লাভবান হতে পারে আমাদের দেশ ও জনগণ।’
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেইজিংয়ে চায়না ওয়ার্ল্ড সামিট উইংয়ের শাংগ্রি-লা সার্কেলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ বিষয়ক এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মেলনটি বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, বিডা, বিএসইসি ও সিসিপিআইটি’র আয়োজন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অংশীদারিত্ব অবারিত প্রতিশ্রুতি বহন করে, কারণ উভয় দেশই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নিরন্তর উন্নয়নের জন্য আমাদের মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি গঠন করেছে।’
তিনি চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফর, সুযোগগুলো খুঁজে দেখা ও আমাদের জনগণের উষ্ণতা ও আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত সমর্থন ও সহায়তা আমাদের মধ্যে পাবেন। আসুন আমরা আরও শক্তিশালী, আরও সমৃদ্ধ ও আরও সংযুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করি। এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এসেছে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের হাত যুক্ত হয়ে আমরা একসঙ্গে বড় কিছু অর্জন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম অংশীদার, বছরের পর বছর বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ছে।
তবে তিনি বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করতে ও আরও ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনে আরও পণ্য যেমন টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই, যা আমাদের রপ্তানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনতে ও বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করতে সহায়তা করবে।’
ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে শেখ হাসিনা চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠনে উৎসাহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বিকাশ ও বাজারে প্রবেশাধিকার সহজতর করবে। উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার বিকাশের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি ও একাডেমিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চীনা কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে চীনের সমর্থন চাই। উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে চীনা বিশেষজ্ঞ বিনিময়কে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।
প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের মূল খাতগুলো বিবেচনার জন্য উৎসাহিত করেন এবং অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে চীনা বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু-সহনশীল স্মার্ট ফার্মিং চীনের সঙ্গে ‘বাই-ব্যাক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ৩টি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছি, যেখানে চীন রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে।’
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আমাদের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সেগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই হচ্ছে উদ্দেশ্য। আমরা একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমরা ‘ডেরিভেটিভ’ পণ্য প্রবর্তনের প্রান্তে রয়েছি, যা আমাদের আর্থিক বাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রশস্ত করবে।’
চীনে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ উন্মুক্ত হস্তে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে, তাই সরকার আইসিটি খাতের প্রবৃদ্ধিকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে, স্টার্টআপদের জন্য প্রণোদনা দিচ্ছে, প্রযুক্তি পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করছে এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করে এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্ব মঞ্চে তাদের চিহ্ন তৈরি করছে এবং আমরা আপনাকে এই উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রার অংশ হতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং সরকার বিশ্বাস করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন আন্তঃসংযুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ প্রযুক্তির অসংখ্য সুযোগ প্রদান করি।’
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনারা আবিষ্কার করবেন- বাংলাদেশ আপনাদের ব্যবসা পরিচালনাকে লাভজনক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে পরিবেশগতভাবে দায়বদ্ধ ও টেকসই হওয়া।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘চীন আমাদের অবকাঠামো প্রকল্প, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আমাদের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খুব অল্প কয়েকটি অর্থনীতির মধ্যে একটি যা মহামারি চলাকালীন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটি এখন ২০২৬ সালে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে।
তিনি বলেন, ‘এই রূপান্তর বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা প্রদর্শন করে।’
তিনি বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা গড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘দেশটির অর্থনীতি ২০০৯ সালে ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৩ সালে ৪৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি প্রসারিত হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উদার বিনিয়োগ নীতি প্রদান করছে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এক ছাদের নিচে বেশ কয়েকটি সেবা প্রদান করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি, প্রতিটি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সজ্জিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা ৫টি দেশ নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া ব্যবসা সহজীকরণ বাড়াতে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সরকার আরও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও অনুমানযোগ্য পরিবেশ সরবরাহ করতে একাধিক সংস্কার শুরু করেছে।’
৬০৫ দিন আগে
খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনতে 'এক্সিট পলিসি' চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের
খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনতে নতুন 'এক্সিট পলিসি' প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালায় ঋণখেলাপি ও খেলাপি ব্যবসায়ী উভয় গ্রাহকই সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে শিল্প ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সুবিধার জন্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ঋণের অর্থের কমপক্ষে ১০ শতাংশ অগ্রিম জমা দিতে হবে। ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই ধরনের শর্ত যুক্ত করে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, পুরোপুরি ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং প্রস্থান সুবিধা ব্যবহারকারী গ্রাহকরা এই সময়ের মধ্যে নতুন ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
আরও পড়ুন: শিল্প ও গৃহঋণের কিস্তির টাকার পরিমাণ না বাড়িয়ে সংখ্যা বাড়ান: বাংলাদেশ ব্যাংক
এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ব্যবসায়ী এ সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এসব গ্রাহক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন না।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে অনিয়ন্ত্রিত কারণগুলোর কারণে ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা বা প্রকল্পগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। যার ফলে ঋণ সংগ্রহ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং ঋণ পরিশোধের জন্য অপর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ দেখা দেয়। এতে এই জাতীয় ঋণগুলো খেলাপি হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়- তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জোর দেওয়া হয়েছে যে প্রকৃত প্রতিকূল আর্থিক পরিস্থিতি ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। তাই এক্সিট মেকানিজমের মাধ্যমে ঋণ আদায় বা সমন্বয়ের সুবিধার্থে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রয়োজন। কারণ ব্যাংকগুলো বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে।
এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাতে তারল্য প্রবাহ বজায় রাখা ও খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে নতুন নীতিমালায় আনা হয়েছে। দুর্বল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বা অনিয়ন্ত্রিত কারণে প্রকল্প বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এমন ক্ষেত্রে প্রতিকূলভাবে শ্রেণিবদ্ধ ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য নিয়মিত ঋণ প্রস্থান সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে হলে ঋণগ্রহীতাকে বিদ্যমান ঋণের ন্যূনতম ১০ শতাংশ এককালীন নগদে পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এসব আবেদন প্রাপ্তির ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
আরও পড়ুন: রপ্তানির সঠিক তথ্য প্রকাশে বাংলাদেশ ব্যাংক-এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয় করবে ইপিবি
৬০৬ দিন আগে
সিলেটে বন্যার মধ্যেই মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়ে সিলেট। এ কারণে সারা দেশের সঙ্গে ৩০ জুন পরীক্ষা শুরুর পরিবর্তে জেলাটিতে ৯ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা বলছেন, ঘরে পানি চলে আসায় পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি। পরীক্ষায় কী আসবে, কী লিখবে তার সবই অনিশ্চিত।
পরীক্ষা শুরুর আগের দিন সোমবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত সিলেটের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বন্যার পানি দেখা গেছে। এর মধ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ও বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও পানি রয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ সুরমা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি থাকলেও পরীক্ষার হলের ভেতরে পানি নেই। তাই পরীক্ষায় কোনো প্রভাব পড়বে না। আর বালাগঞ্জ ডি এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পানি থাকায় সেখানের বদলে বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
দেশজুড়ে গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সিলেট বিভাগের চার জেলায় পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েই সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, কলেজের প্রবেশপথে পানি রয়েছে তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তায় বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। সেগুলোতে পরীক্ষার হল রাখা হবে না।
বালাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, আমাদের এখানে দুটি কেন্দ্রের মধ্যে বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পানি রয়েছে। এই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে পরীক্ষা দেবে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এখন। কেন্দ্রের আশপাশে পানি থাকলেও কেন্দ্রের মধ্যে কোনো পানি নেই। এ কারণে ৯ তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত।
এদিকে পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে যেন বিঘ্ন না ঘটে, একইসঙ্গে নিরাপত্তার কারণে সিলেট মহানগরের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর ও শহরতলির ২৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে সমাবেশ ও মিছিলসহ কয়েকটি বিষয় নিষিদ্ধ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সোমবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হোসেন খানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সিলেট মহানগরী পুলিশ আইন-২০০৯ সালের ধারা ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ ধারায় পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
এই আদেশ পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
শিক্ষা বোর্ডসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভাগের চার জেলা। পুরো বিভাগের ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৫৯০ জন ছাত্র এবং ৪৯ হাজার ২০৫ জন ছাত্রী। এর মধ্যে সিলেটে ৩৫ হাজার ৬২০, সুনামগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৬৪, মৌলভীবাজারে ১৬ হাজার ৫০৮ ও হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৩ পরীক্ষার্থী রয়েছে।
বিভাগের চার জেলায় মোট ৮৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র যার মধ্যে সিলেটে ৩৩টি, সুনামগঞ্জে ২২টি, মৌলভীবাজারে ১৪টি ও হবিগঞ্জে ১৮টি।
গত ২৯ মে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সবশেষ ১৭ জুন শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সিলেটে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরীর ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। এ অবস্থায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট বিভাগের এইচএসসি, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে।
এদিকে সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জের ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
৬০৬ দিন আগে
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শাজাহান খান, এস.এম. ব্রহানী সুলতান মামুদ, মো. আসাদুজ্জামান ও মো. আব্দুল্লাহ আলোচনায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: আইওসি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক: আইওসিইন্ডিও কার্যক্রমের জন্য বাজেটের বিধান নির্ধারণ
সভায় দ্বিতীয় বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনীসহ সংশোধিত আকারে অনুমোদন ও নিশ্চিত করা হয়।
দ্বিতীয় বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ নারী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমঘন এলাকায় ডরমেটরি স্থাপনের বিষয়ে সম্ভাব্যতার সমীক্ষা করে আবাসন বরাদ্দের নীতিমালা প্রণয়ন ত্বরান্বিতের সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটি উবার-পাঠাও, কুরিয়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় আনার বিষয় নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেন এবং এটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়।
দেশের কলকারখানার জন্য প্রযোজ্য এক বছর মেয়াদি লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদে উন্নীতকরণসহ লাইসেন্স প্রাপ্তিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক- শ্রম অধিদপ্তরের, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বিনিয়োগের সম্ভাবনা
ঢাকা-রিয়াদ রাজনৈতিক বৈঠক: প্রাধান্য পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ক্রাউন প্রিন্সের সফর
৬০৬ দিন আগে
বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু জাপান: রেলপথমন্ত্রী
রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেছেন,বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু জাপান। বাংলাদেশ তার উন্নয়নের জন্য জাপানের কাছ থেকে অনেক বেশি পরিমাণে সরকার উন্নয়ন সহায়তা পেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও রেলওয়ের প্রকল্পে জাপানের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’
সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় রেল ভবনে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়াওমা কিমিনোরি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আরও পড়ুন: ট্রেন বন্ধ রেখে বাস মালিকদের সুবিধা দেওয়া বিকৃত মানসিকতার পরিচয়: রেলপথমন্ত্রী
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রেলপথমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এসময় রেলপথমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং রেলওয়ের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
রেলপথমন্ত্রী জাপানের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের মাতারবাড়ী রেলওয়ে প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে তা সম্পন্ন হলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে। এজন্য সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে সরাসারি রেলপথে কন্টেইনার পরিবহন করা যাবে এবং মাতারবাড়ী বন্দর থেকে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত পণ্য পরিবহন করা যাবে।’
জাপানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করা এবং ভবিষ্যতে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সুসম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সেই সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটবে।’
উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার: রেলপথমন্ত্রী
বিএনপির আমলে বন্ধ হওয়া রেললাইন আজ সচল হয়েছে: রেলপথমন্ত্রী
৬০৬ দিন আগে
বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে বিটাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: শিল্পমন্ত্রী
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, প্রশিক্ষিত জনবল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী শিল্পের বিভিন্ন ট্রেডে এটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন: বিএসটিআইকে আন্তর্জাতিক মানের করতে সরকার কাজ করছে: শিল্পমন্ত্রী
সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটাকের ‘হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ পূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১০তলা বিশিষ্ট ছাত্রবাস ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করে গড়ে তোলাসহ সারা দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিল্পোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং বিদেশ থেকেও প্রচুর বিনিয়োগ এ দেশে আসছে। এসব প্রেক্ষাপটে বিটাকের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পে আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজনের যে চাহিদা রয়েছে, সেটি পূরণে বিটাক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে অর্থ ও সময় উভয়ের অপচয় হয়।’
শিল্পমন্ত্রী এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিটাকের ছাত্রবাস নির্মাণ শেষ করার জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
বিটাকের মহাপরিচালক পরিমল সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা।
স্বাগত বক্তব্য দেন, বিটাকের পরিচালক ও এসইপিএ (ফেজ-২) প্রকল্পের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী।
আরও পড়ুন: জিআই স্বীকৃতির সঙ্গে গুণগত মানের দিকেও নজর দিতে হবে: শিল্পমন্ত্রী
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর
৬০৬ দিন আগে