বাংলাদেশ
আন্দোলনকারীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার, বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দ্রুত বাতিল
রবিবার প্রথম পূর্ণ কর্মদিবসে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল উল্লেখযোগ্য।
উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আহত আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার সম্পূর্ণ বহন করবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেই অনুযায়ী সব হাসপাতালকে নির্দেশ দেবে।
একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকেও সাহায্য করবে সরকার।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও জনগণের সমর্থনে বিক্ষোভ করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত ৫৭ প্রবাসীর মুক্তির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে পরামর্শ শুরু করবে। প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে দেশটির সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন।
চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু বিতর্কিত চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা হবে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ দিতে মুসলিম চৌধুরী, আহসান এইচ মনসুর ও নজরুল ইসলামের সমন্বয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের জঘন্য হামলা প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে প্রধান উপদেষ্টা অবিলম্বে প্রতিনিধি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে বসবেন।
এছাড়া আগামী শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে মেট্রোরেল চালু হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে মেরামত না হওয়া পর্যন্ত কাজীপাড়া এবং মিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলোতে থামবে না।
৬৬২ দিন আগে
মেট্রোরেল চালু হচ্ছে আগামী শনিবার
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসসতার মাঝে বন্ধ থাকার প্রায় এক মাস পর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনদুটি বাদ রেখে আগামী শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে ফের মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হবে।
রবিবার (১১ আগস্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেরামত না হওয়া পর্যন্ত মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত দুটি স্টেশনে ট্রেন থামবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় ওই স্টেশনদুটিতে ভাঙচুর চালানো হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১৮ জুলাই মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সোমবার থেকে মালবাহী, মঙ্গলবার থেকে চালু হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন
৬৬২ দিন আগে
সোমবার থেকে মালবাহী, মঙ্গলবার থেকে চালু হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসসতায় বন্ধ হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর সোমবার (১২ আগস্ট) থেকে পণ্যবাহী ট্রেন দিয়ে রেল পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এছাড়া ১৩ আগস্ট (মঙ্গলবার) থেকে যাত্রীবাহী মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১৫ আগস্ট থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. নাহিদ হাসান খানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তবে পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল আরও কিছুদিন বন্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকাল ৫টা থেকে অনলাইনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে।
৬৬২ দিন আগে
আল্টিমেটামের ৪ ঘণ্টার মধ্যেই জবি উপাচার্যের পদত্যাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট ও দুই হাউজ টিউটরসহ ১৮ জন পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গোলাগুলি, আহত ৫
ড. আইনুল বলেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমিও পদত্যাগ করেছি। শুধু ট্রেজারার পদত্যাগ করেননি।’
উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি। রাষ্ট্রপতি বরাবর আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকারসহ দুজন হাউজ টিউটর পদত্যাগ করে নিজেরাই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।
আরও পড়ুন: জবি উপাচার্যকে পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবি
৬৬২ দিন আগে
ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২০২
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আরও ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: দেশে আরও ৩৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন, আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৮ জন রোগী।
এছাড়া, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২০৪
৬৬২ দিন আগে
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কুবি উপাচার্যের পদত্যাগ
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে রবিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আমাকে ভিসি স্যারের পদত্যাগপত্র মেইল করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৬৬২ দিন আগে
২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) উপাচার্য নাসিম আখতার ও অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১১ আগস্ট) চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এই দাবি জানান।
আরও পড়ুন: অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁবিপ্রবির প্রথম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম হোসেন খান ও তাজনীন তাজ ছোঁয়া।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, কোটা সংস্কারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরুতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে সড়কে অবস্থান নেন। ওই সময় আমাদের নিরাপত্তা না দিয়ে উপাচার্য নাসিম আখতার বিরোধিতা করেছেন। আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দেননি এবং ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এতেও তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দিয়েছেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ফোন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এতে আমাদের অবস্থাটা কীরকম হয়- বুঝতে চেষ্টা করুন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্য আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বলপ্রয়োগ করে বন্ধ করেছেন ও আমাদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আমাদের নিরাপত্তা দিতে চেষ্টা করেননি। যে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই উপাচার্যকে আর দায়িত্বে দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের যে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার আছেন, তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের নতুন উপাচার্য ও স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করে দিতে হবে। উপাচার্য পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগের মধ্যবর্তী সময়ে আমাদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবেদন থাকবে, খুব দ্রুত স্থায়ী ক্যম্পাসের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান উপাচার্যের কাচে এই বিষয়ে বারবার বলা হলেও তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২০ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত যতগুলো বাজেট এসেছে, সেই বাজেটের টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে তার একটি যৌক্তিক প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাশা করি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন, এনটিভির চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
এর আগে, শনিবার (১০ আগস্ট) চাঁবিপ্রবি উপাচার্য ড. নাসিম আখতার ইউএনবিকে বলেন, যারা আন্দোলন করছেন, তারা যৌক্তিক মনে করছেন বলে পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তবে আমার মনে হয় না পদত্যাগের মতো কিছু ঘটেছে। আমাকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। আমি নিজ থেকে পদত্যাগ করব না। নতুন সরকার যদি মনে করে এই ভিসিকে রাখব না, তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব; নচেৎ নয়।
আরও পড়ুন: জবি উপাচার্যকে পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবি
৬৬২ দিন আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নুরুন নাহার
নতুন গভর্নর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।
দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় রবিবার (১১ আগস্ট) তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর কিছু অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) চার ডেপুটি গভর্নর এবং প্রধানও বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরেছেন।
এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব আফসানা বিলকিসের সই করা এক আদেশে বলা হয়, নতুন গভর্নর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নুরুন নাহার গভর্নরের দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখাশোনা করবেন।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের পদত্যাগজনিত কারণে ১১ আগস্ট থেকে নতুন গভর্নর যোগদানের আগ পর্যন্ত ডেপুটি গভর্নররা স্ব স্ব ক্ষেত্রে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই দিন পর বুধবার বিক্ষোভের মুখে চারজন ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ প্রধান নিজেদের অফিস ছেড়ে চলে যান।
তারা হলেন- কাজী সায়েদুর রহমান, নুরুন নাহার, খুরশীদ আলম ও ড. মো. হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের চাপে কাজী সায়েদুর রহমান সাদা কাগজে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। বিএফআইইউ প্রধান ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার মাসুদ বিশ্বাসও চাপের মুখে অফিস ত্যাগ করেন।
৬৬২ দিন আগে
বদলে যাচ্ছে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নাম: উপদেষ্টা আসিফ
শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ ভেন্যু হওয়ার ক্ষেত্রে হুমকির মুখে আছে। এ বিষয়ে আমরা বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
রবিবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন: ভুল যতটা কমানো যায়, সে চেষ্টা করা হবে: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা
সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘যেহেতু গণহত্যার সঙ্গে শেখ হাসিনার নাম জড়িয়ে গেছে তাই আমরা নাম পরিবর্তন করতে চাই। আমরা ইনস্টিটিউটটির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট করছি।’
তিনি বলেন, ‘নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়ে আমরা বিসিবির সঙ্গে কথা বলেছি। ইস্যুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্টেট লেভেল থেকে কিছু কাজ করার আছে। আমি এ বিষয়ে যমুনায় গিয়ে ইউনূস স্যারের সঙ্গে কথা বলব। তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। তিনি অবশ্যই আমাদের সহযোগিতা করবেন। স্টেট লেভেল থেকে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতিসংঘের সঙ্গেও আমরা কথা বলব। কিছু দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি যাতে সমাধান করা যায়। অবকাঠামাগত কিছু উন্নয়নের ব্যাপার আছে, মাননীয় সচিব সে বিষয়ে আমাকে নিশ্চিত করেছেন, সেগুলো সম্পন্ন হবে এর মধ্যেই।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত ফেডারেশন, তাই সিদ্ধান্তটা আমরা দিতে পারব না। তাদের কাছ থেকে সুপারিশ নিতে পারব, তাদের পরামর্শ দিতে পারব। বিসিবি সভাপতি অনুপস্থিত আছেন। আমরা বিসিবির পরিচালকদের অনুরোধ করেছি, তারা আইসিসির লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করতে পারেন। বিসিবি সভাপতি হিসেবে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কাউকে নিয়োগ করা যায় কি না। তারা পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ের রিপোর্ট করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ঢেলে সাজাতে চাই। ব্যক্তির জায়গা থেকে নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আমরা সিস্টেমটাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যাতে যে ব্যক্তিই আসুক না কেন, সিস্টেম ফলো করার মাধ্যমে যে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো যাতে আর কখনও ফিরে আসতে না পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ আমাদের সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছে। যতদিন প্রয়োজন, দায়িত্ব পালন করার জন্য আমরা ততদিন থাকব। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের যারা আছেন, তাদের ক্ষমতা ধরে রাখা কিংবা ক্ষমতায় থাকার অভিলাষ নেই।’
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ইন্টারনেট বন্ধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: উপদেষ্টা নাহিদ
৬৬২ দিন আগে
জবি উপাচার্যকে পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টায় জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে সভা শেষে এ দাবি উত্থাপন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলনকারী সন্দেহে জবির ৩ শিক্ষার্থী আটক
সোমবার (১২ আগস্ট) বিকাল ৩টার মধ্যে উনাদের পদত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অবিলম্বে জবি উপাচার্যসহ প্রশাসনে যত আওয়ামী লীগের দোসর আছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। আর যদি তারা পদত্যাগ করতে না চান, তাহলে কীভাবে তাদের পদত্যাগ করাতে হবে তা ছাত্রসমাজের জানা আছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছে। কিন্তু আমাদের ভিসি কেন এখনও পদত্যাগ করছেন না, তার পেছনে যদি কারও হাত থাকে ছাত্রসমাজ তাদেরও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক স্বর্ণ আক্তার রিয়া বলেন, ‘আমরা সোমবার বিকাল ৩টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক দীপিকা রানী, প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যদি উনারা সোমবার বিকাল ৩টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’
এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন জবি সমন্বয়ক
শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবিগুলো হলো-
১. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবির ভিসি, প্রোক্টরসহ সম্পূর্ণ প্রোক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট, ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের প্রধান ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে হবে।
২. ক্যাম্পাসের ভেতরে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। (ক্যাম্পাসের বাইরে তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। এটা যে কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্ত, ক্যাম্পাসের ভেতরে সবাই সাধারণ ছাত্র)।
৩. আন্দোলনে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সার্বিক খরচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
৪. আগে যারা ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে যারা ক্যাম্পাসে চাকরি পেয়েছেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ যারা এখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা শহীদ ও আহত সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঠাট্টা-টিটকারি করেছেন তাদের আগামী দুইদিনের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে হবে।
৫. আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নীতিমালা প্রণয়ন করে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. দখল হওয়া হলগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। এছাড়া মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দিতে হবে।
৭. জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ক্যাম্পাসের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
৮. শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
৯. ক্যাফেটেরিয়ার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন ক্যাফেটেরিয়ার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
১০. নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমের মান উন্নত করতে হবে; নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. ক্যাম্পাসের আশপাশে চাঁদাবাজি ও রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১২. পোষ্য কোটা বাতিল ও রাজনৈতিক নিয়োগ-বাণিজ্য আজীবনের জন্য বন্ধ করতে হবে।
১৩. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে।
আরও পড়ুন: নিহত তামিমের পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা জবি প্রশাসনের
৬৬২ দিন আগে