বাংলাদেশ
চীনের স্বপ্ন ও সোনার বাংলা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত: লিউ জিয়ানচাও
বাংলাদেশে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও আগামী জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রসমূহে সম্পৃক্ততা সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) ঢাকায় চীনের দূতাবাসে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সফররত চীনের মন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, 'আমি নিশ্চিত, এই সফরে আমাদের সম্পর্ক আবার উন্নত হবে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অসামান্য অবদানের জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
মন্ত্রী জিয়ানচাও বলেন, আজ চীন ও বাংলাদেশ আরও ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বের জন্য নতুন ভিত্তি তৈরি করছে, কারণ উভয় দেশ দ্রুতই উন্নতি করছে। একই সঙ্গে উভয় সরকারই জনগণের জন্য আধুনিকীকরণ যাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক গভীরতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী কূটনীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই চীনের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়, যা দুই নেতার দিকনির্দেশনায় ক্রমাগত অগ্রগতি অর্জন করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার লড়াইয়ের সময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস গড়ে উঠেছে। এই বন্ধুত্বের শুরুটা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
আরও পড়ুন: জিডিসির সমাপনী অধিবেশনে ডিজিটাল রূপান্তরে বিমসটেকের সহযোগিতার আহ্বান ঢাকার
রাজধানীর রেনেসাঁ হোটেলে 'লুকিং টুয়ার্ডস দ্য ফিউচার অব চায়না-বাংলাদেশ রিলেশনস: এ কনভারসেশন উইথ দ্য সিপিসি ডেলিগেশন: শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে ঢাকাস্থ চীনের দূতাবাস।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা এবং ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও মিডিয়া কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিনির্ভর আলোচনায় অংশ নেন এবং অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এই অনুষ্ঠান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উদযাপনের চেয়েও বেশি কিছু; গভীর সংযোগ গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক বৃদ্ধির পথগুলো অন্বেষণ করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি বলেন, 'চীন ও বাংলাদেশ সৌহার্দ্যের একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত হচ্ছে।’
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, 'আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের অবস্থা আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা এবং আমাদের জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ফল। এই সংলাপ আমাদের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসাবে কাজ করে।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
উদ্বোধনী বক্তব্যে লিউ জিয়ানচাও বাংলাদেশ সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'এখানে আসার আগে থেকেই আমি এই সফর নিয়ে সত্যিই রোমাঞ্চিত ছিলাম। শুধু তাই নয় যে আমি কখনো বাংলাদেশে আসিনি, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমি এই মহান দেশটির অর্থনৈতিক বিস্ময়ের কথা শুনে আসছি। গত দুই-তিন দিন ধরে আমি ঘুরে বেড়িয়েছি, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, চীনের চুক্তিবদ্ধ বা সমর্থিত পদ্মা সেতু ও বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর প্রকল্প পরিদর্শন করেছি।’
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
তিনি বলেন, 'আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্ব অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে। আগামী বছর আমরা ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছি, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের অর্ধ-শতাব্দী।’
তিনি আরও বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে উভয় দেশ ধারাবাহিকভাবে একে অপরকে সম্মান, বিশ্বাস ও সমর্থন দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, 'আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে সমতা, পারস্পরিক সুবিধা ও শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। চীনের স্বপ্ন এবং সোনার বাংলা একে অপরের সঙ্গে একাত্ম এবং একে অপরের সাফল্যকে কাজে লাগাতে পারে।’
তিনি ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। সেসময় এই সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছিল। তিনি গত আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মধ্যে বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন। সেসময় বৈঠকে তারা কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার, উচ্চমানের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ প্রচার এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের বিনিময় এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন।
লিউ জিয়ানচাও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার বাস্তব সুফল তুলে ধরেন। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলসহ ১৪টি বড় অবকাঠামো প্রকল্প ব্যবহার করা হয়েছে বা দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো আমাদের দুই দেশের জনগণের জন্য প্রকৃত সুবিধা প্রদান করেছে এবং আমাদের ভবিষ্যত সহযোগিতার জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছে।’
তিনি ভিশন-২০৪১ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীনের প্রস্তুতির কথা ব্যক্ত করে অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, ক্লিন এনার্জি, জলবায়ু প্রতিক্রিয়া এবং শিল্প উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে চীনের কূটনৈতিক নীতির রূপরেখা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
লিউ জিয়ানচাও ব্যাখ্যা করে বলেন, 'অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লেনদেন করার ক্ষেত্রে আমরা তিনটি প্রধান নীতি সমুন্নত রাখি। প্রথমত, আমরা কখনই মতাদর্শগত সীমা নির্ধারণ করি না এবং সে কারণেই সারা বিশ্বে আমাদের বন্ধু রয়েছে। দ্বিতীয়ত, অন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারা ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক। তৃতীয়ত, আমরা মতপার্থক্য দূর করা, একে অপরকে সম্মান করা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার সময় সাধারণ ভিত্তি খোঁজার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি উল্লেখ করেন, চীন পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘চীন প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেল এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিপিসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে এবং এটিই বিশ্বের একমাত্র রাজনৈতিক দল যার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ সমঝোতা স্মারক সই করেছে।’
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্রসচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ
৬১৯ দিন আগে
অষ্টম শ্রেণি চালুর জন্য প্রস্তুত আরও ১৫৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়: প্রাথমিক শিক্ষা সচিব
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার জন্য দেশের আরও ১৫৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেছেন, আগামী তিন বছরে আরও এক হাজার বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার অবকাঠামো আছে।
সচিবালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কথা বলেন।
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘সিদ্ধান্তহীনতা কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়ে আবারও তৎপর সরকার।’
মৌলিক শিক্ষা অধিকার: প্রাথমিক থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে উত্তরণে কাজ করবে দুই মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালুর অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে বলা আছে যে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এটি পর্যায়ক্রমে হবে। এটি আসলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘এখানে পলিসি মেকিংয়ে (নীতি নির্ধারণ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের সিদ্ধান্তে আমরা ৬৯৫ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি চালু করেছি। আমরা ৭০০-এর বেশি স্কুলে চালু করেছিলাম। তবে একসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণে নতুন স্কুলগুলো অন্তর্ভুক্ত করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় সভায় আবারও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত ও শতভাগ অবৈতনিক করা।’
‘আমরা হিসেব করে দেখেছি, ৬৫ হাজার ৫৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫ হাজারের কাছাকাছি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করতে পারি। এছাড়া মাধ্যমিকে ২৩ হাজারের কছাকাছি নিম্ন মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে, সেগুলো যদি তারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করতে পারে, তাহলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
ফরিদ আহাম্মদ আরও বলেন, ‘এটা করতে হলে তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে- অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও পদ সৃজন এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। কারণ আমরা আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।’
সচিব বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায় থেকে যে তথ্য উপাত্ত পেয়েছি, তাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে এই মুহূর্তে আরও ১৫৪ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি চালু করতে পারি। পাশাপাশি আগামী তিন বছরে আরও এক হাজার স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার মতো অবকাঠামো আছে। এটি একটি ধারাবাহিক ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়া।’
কবে নাগাদ সব স্কুলে পুরোপুরি অষ্টম শ্রেণি চালু হবে হবে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও পদ সৃজন এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে। এই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। আগামী তিন বছরের একটা টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘স্মার্ট প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫’ এর দিকে যাচ্ছি। সেখানেও এ বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি যাতে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। পিডিপি-৫ এর কাজ শুরু হলে এই কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে।’
আরও পড়ুন: বাজেট ২০২৪-২৫: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে
ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাসের জন্য স্থগিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম: হাইকোর্ট
৬১৯ দিন আগে
সুনীল অর্থনীতি এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার আরও বেশি বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এবং এদেশকে স্মার্ট ও উন্নত করে তুলতে হাইড্রোগ্রাফি, সমুদ্র বিজ্ঞান এবং সুনীল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর।’
মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মিলিটারি মিউজিয়ামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, পানি বিশেষজ্ঞ ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটরস অধ্যাপক ড. আইন নিশাত এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফি কমিটির চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আনোয়ার হোসেন বক্তৃতা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাংলাদেশের একচ্ছত্র সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়েছে। সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি সুবিশাল অর্থনৈতিক এলাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সুনীল অর্থনীতি বিকাশের লক্ষ্যে যেসব বহুমুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার অবারিত সুফল ভোগ করবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আর এ লক্ষ্যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কারিগরি বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিসকে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
‘বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ এবং স্মার্ট সরঞ্জাম সংযোজন করে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সুনীল অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট, নতুন এলএনজি টার্মিনাল, অফশোর রিনিউয়েবল এনার্জি প্রকল্প, সমুদ্র তলদেশের তেল ও গ্যাস সাপ্লাই পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের মেরিটাইম সেক্টরের অংশীজন এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে। সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সমুদ্রকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে দেশের সমুদ্র ব্যবহারকারী সব সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, হাইড্রোগ্রাফিক ইনফরমেশন- এনহ্যান্সিং সেফটি, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড সাস্টেইন্যাবিলিটি ইন মেরিন অ্যাক্টিভিটিস।
৬১৯ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে সবচেয়ে লাভজনক প্রস্তাবটিই গ্রহণ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জন্য কোনটি সবচেয়ে লাভজনক হবে তা বিবেচনা করে তিস্তা মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের অর্থায়ন প্রস্তাব গ্রহণ করবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এতে অর্থায়নের জন্য চীন ও ভারত পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে। অবশ্যই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে, যা আমাদের দেশের জনগণের জন্য আরও লাভজনক হবে।’
সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ জুন) গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন: ভারতে দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন এরইমধ্যে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে এবং ভারতও একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সেটিই বেছে নেব যা আমাদের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক।’
ভারত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'যেহেতু ভারতের সঙ্গে আমাদের তিস্তার পানির দাবি দীর্ঘদিনের, তাই ভারত আমাদের তিস্তা প্রকল্প করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
ভারত তাদের টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় দল এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে এটি মূল্যায়ন করবে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে তার বিষয় নিয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
এর আগে গত ২১ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর হলো।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং কাজী জাফরউল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান।
আরও পড়ুন: ভারত সফর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
৬১৯ দিন আগে
ভারতে দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) সম্প্রতি ভারত সফরের ফলাফল নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভারতে দল-মত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে আমার একটা সুসম্পর্ক আছে।’
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ইউএনবির নাহার খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধী ও তাদের সন্তান এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে তার বিষয় নিয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
তিনি বলেন, ‘প্রণববাবু ও তার সন্তানদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর পরিবার এবং আমাদের পরিবারের মধ্যে একটি পারিবারিক বন্ধনও রয়েছে, যা রাজনীতি ও সব কিছুর ঊর্ধ্বে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুন নয়া দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী।
লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হলো।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং কাজী জাফরউল্লাহ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন: ভারত সফর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসু: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
৬১৯ দিন আগে
ড. ইউনূসকে তার বিষয় নিয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার বিষয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এতে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি মাঠে এসে আমার সঙ্গে বিতর্ক করতে পারেন, যেমনটি যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে থাকে।’
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার ভারত সফরের ফলাফল নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইউনূস তার কাছ থেকে বেশিরভাগ আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন। এটা ঠিক যে আমরা তাকে উপরে তুলেছি।’
আরও পড়ুন: ভারত সফর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসু: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রিত্ব একটি সাময়িক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কারো প্রতি ঈর্ষা বোধ করে না। শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। অন্তত এই অবস্থানে কেউ আসতে পারবে না। আমিতো এটি নিয়ে গর্বিত বোধ করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় দেশের স্বার্থ রক্ষা করি। আমি কখনও দেশ বা দেশের স্বার্থ (কারও কাছে) বিক্রি করি না।’
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মাথা উঁচু করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং দেশের মানুষের জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুন নয়া দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী।
লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হলো।
আরও পড়ুন: অর্থ আত্মসাতের মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
৬১৯ দিন আগে
ভারত সফর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সাম্প্রতিক ভারত সফর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
তিনি বলেন, ‘এ সফর ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমি মনে করি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ সফর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।’
মঙ্গলবার (২৫ জুন) ২১-২২ জুন ভারতে তার রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই সফর দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সফরে যান শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন: ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু
বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
এছাড়া, ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর, কারণ ৯ জুন মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন।
২ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও সংহত করতে সফরকালে ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারক সই এবং আরও ৩টি সমঝোতা স্মারকের পুনর্নবীকরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিগত ১৫ বছরে একটি অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। যার সুফল দু’দেশের জনগণ ভোগ করছেন।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে ২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সফরকালে ভারতের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল নবনির্বাচিত দুটি সরকার কীভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে একটি রূপকল্প প্রণয়ন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ঢাকা ও দিল্লি নতুনভাবে পথ-চলা শুরু করেছে, সে ধারাবাহিকতায় ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মোদি বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বলেন, মোদি আশ্বাস দিয়েছেন- বাংলাদেশ তাঁদের ‘প্রতিবেশী প্রথম’, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’, ‘সমুদ্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতির কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার পথ এবং কার্যপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের দু’দেশের এবং জনগণের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আমরা অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে রাজনীতি ও নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে হতাহতের ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা, বাণিজ্য ও সংযোগ, অভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টন, জ্বালানি ও শক্তি এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি।
তিনি বলেন, ‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে তার সুবিধাজনক সময়ে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৬১৯ দিন আগে
ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু
সাম্প্রতিক ভারত সফরের ফলাফল নিয়ে বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুন নয়া দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী।
লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হলো।
২ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও সংহত করতে সফরকালে ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারক সই এবং আরও ৩টি সমঝোতা স্মারকের পুনর্নবীকরণ করা হয়।
৬১৯ দিন আগে
ভুটানে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী কেন্দ্রের উদ্বোধন
ভুটানে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানী থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রদর্শনী কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় থিম্পুতে এই কেন্দ্র উদ্বোধন করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাসো শেরিং তোবগে এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক সচিবসহ ভুটান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ভুটান চেম্বার অব কমার্সের নেতা, বিপুল সংখ্যক ভুটানী ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং কারুশিল্প ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ভুটান এবং বাংলাদেশ দু’দেশের যৌথ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে থিম্পুতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীকেন্দ্র স্থাপিত হলো। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি পরিবেশ বান্ধব এবং বায়ো ডিগ্রেডেবল পাটপণ্য ভুটানসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পূরণের পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সে লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যে প্রদর্শনী কিন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ভুটান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শিবনাথ রায়।
আরও পড়ুন: ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি পাটজাতপণ্যের উপর বিশেষ প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর সুজন দেবনাথ। তিনি পাটজাত পণ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা এবং এই শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরেন।
উদ্বোধন শেষে ভুটানের নেতা ও ব্যবসায়ীরা প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং বাংলাদেশী পাটজাত পণ্য ঘুরে দেখেন। তারা বাংলাদেশের পাট থেকে উৎপন্ন বহুমুখী পণ্য যেমন-ব্যাগ, জুতা, কার্পেট, টিস্যুবক্স, কিচেন আইটেম, পোশাক, অফিস ফাইল, কনফারেন্স ফাইল, কলমদানী এবং গৃহসজ্জার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী দেখে অভিভূত হন। তারা অচিরেই ভুটানে বাংলাদেশী পাটজাত পণ্যের একটি স্থায়ী বাজার গড়ে উঠবে বলে মতামত প্রদান করেন।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে পণ্যের পরিমাণ এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ভুটানের বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে বিভিন্ন সময়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর ফলে ভুটানের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশী পাটজাহ পণ্যের বাজার গড়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেছেন ভুটানের রাজা
৬১৯ দিন আগে
মানব পাচারবিরোধী প্রচেষ্টার জন্য টিআইপি হিরো অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি আল-আমিন নয়ন
মানব পাচারবিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক আল-আমিন নয়ন যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সোমবার (২৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মানব পাচারবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
এরপর তিনি মানব পাচারবিষয়ক (ট্রাফিকিং ইন পারসনস বা টিআইপি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ এবং তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে ‘টিআইপি হিরো’ স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের সম্মাননা জানান তিনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক নয়ন বিমানবন্দরে বিদেশ-ফেরত ও পাচারের শিকার মানুষদের সহায়তায় কাজ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় নয়ন ছাড়া এ বছর আর কেউ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাননি। নয়ন ছাড়াও কেনিয়া, মালি, ফিলিপাইন, সার্বিয়া, স্পেন, সুরিনাম, বলিভিয়া এবং ইরাকের একজন করে মোট ৯ জন ২০২৪ সালে টিআইপি হিরোর স্বীকৃতি পেয়েছেন।
এ বছর অনুষ্ঠানে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘সারা বিশ্ব থেকে নির্বাচিত ৯ টিআইপি হিরোকে ধন্যবাদ। আমাদের এই নায়কেরাই সারা বিশ্বের মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।’
পাচারের শিকার থেকে টিআইপি হিরো হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে আল-আমিন নয়ন বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে আমি নিজে পাচারের শিকার হয়েছিলাম। পরে দেশে ফিরে অনিয়মিত অভিবাসন ও পাচারের শিকার মানুষের পাশে থাকার কাজে যুক্ত হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার হিসেবে বিদেশ-ফেরত অসহায় মানুষ ও সারাদেশে পাচারের শিকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করি। এই কাজ করতে গিয়ে বহুবার নানা বিপদে পড়তে হয়েছে। এমনকি জেলেও গিয়েছি। এই পুরস্কার আমাকে আরো বেশি করে মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে।’
বিশ্বজুড়ে মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিবেদিতভাবে কাজ করছেন—এমন ব্যক্তিদের ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর সম্মানিত করে আসছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরস্কারকে মানব পাচারবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী নয়ন সম্পর্কে বলা হয়-ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীরা কোনো বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যান নয়ন। ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে পাচারের শিকার হওয়া নয়ন আজ বিদেশ-ফেরত মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখান। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার হিসেবে বিদেশ-ফেরত ও পাচারের শিকার অন্তত: ৩৪ হাজার মানুষকে তিনি সহায়তা করেছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ‘আল আমিন নয়নের মতো পাচারের শিকার ও প্রবাসী অন্ত:প্রাণ নিবেদিত মানুষ বিরল। তিনি তার কাজ দিয়ে প্রবাসীদের ‘নয়ন ভাই’ হয়ে উঠেছেন। নয়ন, তার কাজের জন্য ২০২৩ সালে ব্র্যাকের সবচেয়ে সম্মানের ‘স্যার ফজলে হাসান আবেদ মূল্যবোধ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি পুরস্কার তাকে নিজের কাজে নতুন শক্তি দেবে। নয়ন আসলে আমাদের সবারই হিরো।’
৬২০ দিন আগে