রাজনীতি
চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের সঙ্গে পরামর্শ করেনি: ডা. শফিকুর রহমান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সই করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির তার পোস্টে বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনও চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
শফিকুর রহমান তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেই দাবিগুলোকে আমলে নেয়নি। অতএব, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনও ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই।’
এর আগে, গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে আকস্মিকভাবে সই হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা করা হয়েছিল এবং উভয় দলই চুক্তি সইয়ের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল।
৭ ঘণ্টা আগে
দুই সাবেক উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তারা ভেবেছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং জনগণ বুঝতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি। রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।
সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি।
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপস্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সেই আলোকে গণভোটেও জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। সরকার তখন জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে বলবে, আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালতকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই, এই যুক্তি দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কিন্তু কোন সংবিধান মেনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন? যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেই সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ।
জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা না করে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যারা আমাদের চরম বিরোধী, তারাও একবাক্যে স্বীকার করে, জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিয়োজিত।
৯ ঘণ্টা আগে
১৩ সচিব পদ এখনও খালি
বিএনপি সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়, এমন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। এরা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রশাসনে ১৩টি সচিবের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই।
আবার জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদও শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার এক দিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
৬ দিন আগে
গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলি করা হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলো করা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর শহরের হাজিপাড়ায় হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে আমি এমনিতেই ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। নির্বাচনেও তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তাদের সমর্থনের কারণেই আজ আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ক’দিন হয়েছে, ১৭ তারিখে আমরা ক্ষমতা নিয়েছি। এখন দেশের পরিস্থিতি আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো রয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কাজ করছি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সচল করার কাজ চলছে।
পুলিশ হত্যার যে ঘটনাগুলি রয়েছে তা তদন্ত হয়েছে। বিএনপি নতুন করে আবারও এগুলো তদন্ত করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছে সেটাই হবে। যেহেতু এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, দরকার হলে আবারও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়টিতো এখনও আদালতে রয়েছে।
এটি একটি মীমাংসিত বিষয়, এটি নিয়ে কেন এত বাড়াবাড়ি এনসিপির এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি তারাই ভালো জানে, তাদেরকেই প্রশ্ন করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। এই নির্বাচনের মধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ভোটের ব্যবধানে যাদের হারানো হয়েছে এটা ইচ্ছাকৃত। দুয়েক জায়গায় ঘোষণা দিয়েও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি লোকে আমাদের বলে, আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের তিনটি লাভ হয়েছে। এক. এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটা অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে, আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। এবার আমাদের নেতৃত্বে হয়েছে। দুই. এই প্রথম আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো এবার আমরা ৬টা শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সকলেই তা জানেন। এই ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু তা আমরা বুঝে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, এই ছয় শক্তি নিয়ে তারা আমাদের সাথে পারত না, যদি অন্যকিছুর আশ্রয় না নিত। এই অন্য কিছুর আশ্রয়ের কথা এখন কেবল আমরা বলছি না, টিআইবি বলেছে, সুজনও এ কথা বলছে, আরও অনেকে বলতে শুরু করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আবার লড়তে হবে। এখন থেকেই আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বস্তিতে টাকা, ওয়াদা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি, ফলাফলে তা দেখা গেছে। এসবের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশে, আগামীর বাংলাদেশ ইসলামীর বাংলাদেশ হবে, মুক্তি পাগল মানুষের বাংলাদেশ হবে।
তিনি বলেন, আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।
দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো, সমাজের সে সমস্ত জায়গাগুলো থেকে ভালো লোকদের বের করে তাদের হাতে ওই জায়গাগুলোকে (স্থানীয় সরকারের) তুলে দিতে চাই। আমাদের এই জায়গায় অনেক কনসিডারেট (বিবেচনাশীল) ও সেক্রিফাইসিং (আত্মত্যাগী) হতে হবে।
৭ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট হতে পারে ৯ এপ্রিল
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হতে পারে আগামী ৯ এপ্রিল।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের এক জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিকেলে দুটি আসনে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ দুই আসনের প্রবাসী এবং দেশের ভেতরে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা পোস্টাল ব্যালটে যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হবে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
এখন নতুন তফসিলের মাধ্যমে এ আসনে ভোট করতে হবে। অন্যদিকে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়ী হলেও সংসদে একইসঙ্গে একাধিক আসনে সদস্য থাকা যায় না বলে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। শূন্য এ আসনে এখন উপনির্বাচন করবে ইসি।
১০ দিন আগে
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ
আগামী ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এই প্রথম অধিবেশন শুরু হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতির এই আদেশ জারির তথ্য জানানো হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ২৭ ফাল্গুন মোতাবেক ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২ মার্চ এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
নবনির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এটি। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
১১ দিন আগে
বরিশালে আ. লীগের সাবেক এমপি ইউনুসের জামিন
২০১৭ সালে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিট্রন আদালতে তিনি হাজির হলে আদালতের বিচারক এসএম শরীয়াতুল্লাহ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ মে নগরীর অনামী লেনে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালে বিএনপি কর্মী মো. সরোয়ার হোসেন কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর সভাপতি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর, জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসসহ ২১০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত ইউনুসের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে জামিন পাওয়ার পর ইউনুস কারও সঙ্গে কথা না বলে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে, জামিন মঞ্জুর করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলিরা।
১১ দিন আগে
সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়মকানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে… সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি হবে না বলে জানান।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে; দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’
১১ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে। তাই আমাদের নিকট জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে আমরা দ্রুত আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, প্রথমে তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নতকরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট মঞ্জুরির বিষয়ও রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।
তিনি বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে আমাদের একটি সঠিক পরিকল্পনা দরকার। মন্ত্রী এসময় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা তৈরির নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা যে সংস্কার করতে চাই, তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (নিয়মিত দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, আইজিপি বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনু্বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে