রাজনীতি
ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতির প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কৃতজ্ঞতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষে এক বার্তায় তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই—চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।
২২ দিন আগে
অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন স্থগিতের আবেদন
পটুয়াখালী-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচন স্থগিতের লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর এ আবেদন করেন।
লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলে। ভোটের আগের রাত থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এতে অনেক কর্মী এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ভোটের দিন সকালে একাধিক কেন্দ্রে নিযুক্ত তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। কয়েকটি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ফলে পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আব্দুল ওয়াহাব মিনারের এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অনিয়মের কারণে নির্বাচনের ফলাফল প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত করবে না।
তাই পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ পরিবেশে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২২ দিন আগে
নির্বাচিত হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়েই দেশ চালাতে চাই: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলনে যেসব দল আমাদের সঙ্গে ছিল নির্বাচিত হলে তাদের সঙ্গে নিয়েই দেশ পরিচালনা করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আমরা চাই কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।’
ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে তার দল জয়ী হবে বলে বিএনপি চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কতটি আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি, যেখানে খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।’
ভোটের ফলাফলে হেরে গেলে ফল মেনে নেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠ হয়, যদি নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন যদি বিতর্কিতহীন হয় তাহলে অবশ্যই, কেন মেনে নেব না?
‘কিন্তু অবশ্যই একটি শর্ত আছে যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, শান্তিপূর্ণ হতে হবে। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি- যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে সে এরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না। কেউই মেনে নেবে না।’
ফল গণনায় দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, কেন দেরি হবে? দেরি হবার কোনো কারণ নেই। সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে দ্রুত তাদের যে ভোট দিয়ে এসেছে তার ফল দ্রুতই চাইবে। আশা করব, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে দেশের মানুষ দ্রুত তার ভোট প্রদানের যে ফল সেটা পায়।’
২২ দিন আগে
সাড়ে ৬ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ: ইসি সচিব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
আখতার আহমেদ জানান, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলেছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখনও ৬ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রের ভোটের তথ্য কমিশনের কাছে পৌঁছেনি।
এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট সংগ্রহের তথ্য জানিয়েছিলেন ইসি সচিব। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে ভোট প্রদানের হার ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
সব কেন্দ্রে ভোট চালু আছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি।
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেগুলো এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নেই।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, ময়মনসিংহে বৃহস্পতিবার ভোরে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অসুস্থ হয়ে মারা যান। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফলে ওই ভোটকেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।’
২২ দিন আগে
সিলেটে সাড়ে ৬ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশ
সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিলেটে দুপুরে এ তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত সিলেটের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে নগরী ও তিনটি উপজেলার অন্তত ২১টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের দিকে তা বেড়ে যায়। দিনজুড়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক জানান, গতকাল রাতে দুয়েকটি স্থানে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আজকের ভোটগ্রহণে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রতি সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কিন্তু বিজয়ী হবেন ছয়জন। জনগণ যে রায় দেবেন, সেই ফলাফল সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, এবার সিলেটে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬১০ জন এবং ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৬টি।
২২ দিন আগে
কুমিল্লা-৬: অনিয়মের অভিযোগে ভোট স্থগিতের আবেদন জামায়াত প্রার্থীর
কুমিল্লা-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ভোটকেন্দ্রে জালভোট, কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনি এলাকার আলেকজান মেমোরিয়াল হাই স্কুল (কেন্দ্র নং-১৯), শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৬), চম্পকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৮), চম্পকনগর মদিনাতুল উলুম মাদরাসা (২৯), বামইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৫৩), বাখরাবাদ গ্যাস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৬৯), ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯৬), কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১১৮), তেলিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১২২ ও ১২৩), হাউজিং স্টেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২৬ ও ১২৭), চৌয়ারা মাদরাসা (১২৮), চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১২৯), তারাপাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩২), বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৬), শুভপুর মনোয়ারা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৫৯) ও বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৬১) কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।
অভিযোগে পত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বারবার প্রতিকারের চেষ্টা করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। তাই কেন্দ্রগুলোর ভোট স্থগিতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
২২ দিন আগে
ভোটকেন্দ্রে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়ে প্রবাসীকে ৫ দিনের কারাদণ্ড
হবিগঞ্জ-১ আসনের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও ব্যালট পেপার ছেঁড়ার অভিযোগে গোলাম রসুল রাসেল নামের এক ইংল্যান্ডপ্রবাসীকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধানের শীষের সমর্থক এবং তার পিতা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আজ বেলা ১১টার দিকে গোলাম রসুল ওই কেন্দ্রে গিয়ে হৈচৈ শুরু করেন। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেন।
পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
২২ দিন আগে
ভোলায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যালট ছিনতাই, আটক ১
ভোলা-১ (সদর) আসনের আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মাঠে ককটেল বিস্ফোরণ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘনটাস্থল থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একদল গুন্ডা লোক বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে কেন্দ্রের দায়িত্বরত অনেককে হেনস্তা করেছে। এ সময় তারা ৫৬টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় এবং ৭৬টি উল্টাপাল্টা সিল মেরে রেখে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সে সময় থেকে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।
এ খবর পেয়ে কেন্দ্রে ছুটে যান সংসদ সদস্য প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর দুপুর ২টার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
২২ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের কাছে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৬
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এসব ঘটনায় সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে প্রথম দফায় ককটেল বিস্ফোরণের পর সকাল সোয়া ১০টার দিকে মোল্লাকান্দির মহেশপুর থেকে নাহিদ নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জুবায়ের আহমেদ অর্ণব জানান, প্রথমে সকাল সোয়া ১০টার দিকে এক যুবককে আটক করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আবারও দুই দফা ককটেল বিস্ফোরণ হয়। খবর পেয়ে কিছুটা দূরে থাকা সেনা সদস্যরা ছুটে আসেন। সেনাবাহিনী দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া দিয়ে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
আটকরা হলেন— রহমত মাঝি (৪২), পারভেজ মাঝি (২৭), মো. কামাল (৩৭), আরশাদ মাঝি ও সালিম মাঝি। আর সকালে আটক হন নাহিদ।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তিতুমীর জানান, সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখনও ভোট গ্রহণ চলছে।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়, পরে কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছালে ৭-৮ মিনিট পর ফটক খুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ‘ফুটবল’ ও ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
খবর শুনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো মেনহাজুল আলম ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন আলী জানান, কেন্দ্রটিতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে গণনা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।
আজ সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। দেশের সব জেলায় এদিন কমবেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবশ্য ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাট হাতাহাতি, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের মতো খবর পাওয়া গেছে। দেশের চার স্থানে ভোট দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহিংসতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে।
কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের টাকাসহ আটক করে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।
এর আগে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
২২ দিন আগে