রাজনীতি
সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।’
আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে।
‘একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, আপনারা সকলে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করুন। গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’
২৩ দিন আগে
গুজব ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বার্তা
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে এক বার্তায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে (শেরপুর-৩ ব্যতীত) গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভয়ে ভোট প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
২৩ দিন আগে
ভোট পড়তে পারে ৬৮ শতাংশ: ইনসাইট ইন্টারন্যাশনালের জরিপ
দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এখন কেবলই ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। তবে ভোটের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে অনেকের মনে রয়েছে সংশয়।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল দিয়েছে আশাব্যঞ্জক তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির একটি জরিপ বলছে আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে না থাকলেও ভোটার উপস্থিতির হার হতে পারে ৬৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মডেলভিত্তিক এই অনুমান বহুস্তরীয় বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে (এমআরপি) তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের এ জরিপে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন জেলার ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটার।
জরিপে জেলা পর্যায়ে ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়েছে। তুলনামূলক বেশি ভোটার জরিপে অংশ নেওয়া জেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতির পূর্বাভাস মোটামুটি স্থিতিশীল হলেও স্বল্প ভোটার অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি ধরা পড়েছে। উপস্থিতির হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর (৮৫.৫ শতাংশ), সাতক্ষীরা (৮০.৭ শতাংশ) এবং ঢাকা (৭২.২ শতাংশ)।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গবেষক জাহিদ হাসান জানান, এই হার সরাসরি জরিপের মৌলিক সংখ্যা নয়, বরং বয়স, লিঙ্গ ও জেলা কাঠামো অনুযায়ী পরিসংখ্যানগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনসংখ্যা-স্তরের বিশ্লেষণধর্মী পূর্বাভাস।
গবেষণায় ভোটদানে আগ্রহ বৃদ্ধির সঙ্গে কয়েকটি সম্পর্কিত বিষয় পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপাত্ত বিশ্লেষক আরমান হোসেন। তিনি বলেন, তরুণ ও প্রথমবার হওয়া ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ অধিক হারে লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার উৎসাহ সবচেয়ে বেশি।
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ভোটদানের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে বলে জরিপের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেখা গেছে, যারা আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে উপস্থিতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি; বিপরীতে যারা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি বা অনুসরণ করেননি, তাদের ভোট দেওয়ার আগ্রহ অপেক্ষাকৃত কম।
ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকির বিষয়টিও জরিপে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে। নির্বাচনের দিন সহিংসতার আশঙ্কা ভোটদানে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। যেসব উত্তরদাতা ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্যে ভোটদানের ইচ্ছাও তুলনামূলক কম।
মডেলভিত্তিক পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় প্রতি ১০ জনে একজন উত্তরদাতা বলেছেন, ভোটের দিন নিজ ভোটার এলাকায় থাকা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন ভ্রমণ ব্যয়, কাজের চাপ, সময়ের অভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের মতো কিছু বিষয়। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এই আশঙ্কা ও অনীহা বেশি দেখা গেছে।
জরিপের গবেষকরা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের চূড়ান্ত উপস্থিতি নির্ভর করবে মূলত তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ের ওপর—একেকটি কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক ভোটার দেখা যাচ্ছে কিনা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপদ পরিবেশ। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলে অনিচ্ছুক ভোটাররাও ভোট দিতে যেতে উৎসাহিত হবে। আবার ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিরাপদ থাকলে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়বে।
ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়াতে গবেষণায় কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভোটকেন্দ্রে দৃশ্যমান নিরাপত্তা জোরদার, ভোটার তথ্য প্রচার বৃদ্ধি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি কেবল তাদের অংশগ্রহণের প্রতিফলন নয়; এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ও জনগণের ম্যান্ডেটকেও শক্তিশালী করে।
রাত পোহালেই ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। তবে ইনসাইট ইন্টারন্যাশনালের এই জরিপ আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কত ভোটার তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।
২৩ দিন আগে
গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশায় ঐতিহাসিক ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এখন কেবলই ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা নিয়ে ১৭ বছর পর অর্থবহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো জাতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।
সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কমিশন। প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ নির্বাচনকর্মীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটাররা ২ হাজার ২৮ জনের মধ্য থেকে ২৯৯ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
ভোটারের হিসাব-নিকাশ
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী। জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।
পোস্টাল ভোট
এবার প্রবাসী, সরকারি কর্মচারী এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, সেগুলো গণনা করা হবে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে ১১ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ১২০টির বেশি দেশ থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯২ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৬ জন। এসব ভোটের ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৮টি ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
এ ছাড়াও ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোটকর্মী ও বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।
গণভোট
নতুন কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে অনন্য এবারের নির্বাচন। দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট।
গতানুগতিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এবার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হাইব্রিড ডাক ভোটের প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণের সময় ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টা করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম বা প্রতীকসংবলিত ভোটার স্লিপ বিতরণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে এবার।
এ ছাড়াও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার) প্রথমবারের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৬৪ জেলা প্রশাসকসহ মোট রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৯ জন।
ব্যবহার করা হচ্ছে ভোট পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও ড্রোন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি
এবারের সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে ১ লাখ সেনাসদস্য, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ, ৯ হাজার ৩৪৯ জন এসআইএফ (সাবেক র্যাব) এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
যান চলাচল
ভোটের দিন যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ থাকবে। মোটরসাইকেল চলাচলে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা যে যানবাহন ব্যবহার করবেন, তাতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকর্মী
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং অর্ধলক্ষাধিক পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
সরাসরি ভোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে এবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯৯টি পৃথক কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা হবে। সব মিলিয়ে এবার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, যেটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি ব্যালট।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট নিয়ে ইসির প্রস্তুতির কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষ, যেখানে মার্কিং প্লেস বা ভোটে সিল দেওয়া হয় সেখানে ভোটার ফোন দিতে পারবেন না। ভেতরে ভোটার ছাড়া কেউ যেতে পারবেন না। এমনকি ভোটারও ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এটা একদম পরিষ্কার করে দিলাম। কারণ মোবাইল এখন আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।’
তিনি জানান, ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনি কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, জুলাই মাসে যে নীতিমালা করা হয়েছে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের জন্য তা অনুযায়ী তারা সবকিছু ব্যবহার করতে পারবেন। নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, একজন সাংবাদিক মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে তো ঢুকতে পারবেনই, এমনকি উনি কক্ষে ঢুকে ভিডিও করতে ও ছবি তুলতে পারবেন। তাকে অনুমতি দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি এসব করতে পারলেও কক্ষের ভেতরে গিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে বা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটারসহ সবাইকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ‘অতি প্রতীক্ষিত’ নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তাতে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ভোটার তরুণ। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কেন্দ্রমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভোটের ফল
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে পৃথক ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল গণনা করবেন এবং প্রাপ্ত ফলাফল (ফর্ম-১৬ ও গণভোটের ফলাফল) সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। সেখান থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্যগুলো কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং স্থানীয়ভাবে বড় পর্দায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভিপিএন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার ফলাফল সংগ্রহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিটিসিএলের বিশেষ ভিপিএন (VPN) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে টেলিটক ও গ্রামীণফোনের উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা মোবাইল অ্যাপ বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে ফলাফল সরাসরি আপলোড করবেন, যা একই সঙ্গে সংসদীয় আসনভিত্তিক এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের হার হিসেবে সংরক্ষিত হবে।
দুই ঘণ্টা পরপর তথ্য দেওয়ার বিষয়ে ইসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল চূড়ান্ত ফলাফল নয়, কাল ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হারের তথ্যও মিডিয়া সেন্টারে জানানো হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।
জনসাধারণের জন্য ফলাফল দেখার সুযোগ সারাদেশের মানুষ যাতে ঘরে বসেই দ্রুত ফলাফল জানতে পারে, সেজন্য ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপে লাইভ আপডেট দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে বেসরকারি ফলাফল প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা সম্পন্ন হলে মধ্যরাত থেকেই সংসদীয় আসনভিত্তিক প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে ভোটগ্রহণের পরদিন সকালেই দেশের বেশিরভাগ আসনের ফলাফল জানা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
২৩ দিন আগে
নাটোরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ
রাত পোহালে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুম থেকে নাটোর-২ আসনের নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানোর কাজ।
নাটোর-২ আসনের ১৫৬টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফ আদনানের কাছ থেকে নির্বাচনি সামগ্রী বুঝে নেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২ জন পর্যবেক্ষক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তবে তারা মিডিয়ায় কোনো কথা বলেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন জানান, নাটোর জেলার ৪টি আসনের ৫৬৬টি ভোটকেন্দ্রের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব আনসার মিলিয়ে ১০ হাজার ১৭১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
২৩ দিন আগে
রংপুর বিভাগে ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, ৬ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৬ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি থাকবে বডি ক্যামেরা পরিহিত পুলিশবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইনসে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্যারেড শেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাব সেক্টর ও সেক্টর ভাগ করে ভোটার, ভোটপ্রত্যাশী ও নির্বাচনে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশের কাছে থাকবে বডি ক্যামেরা।
মারুফাত হুসাইন বলেন, নির্বাচনের মাঠে পুলিশের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআইএফ (সাবেক র্যাব), আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। রংপুর জেলায় ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, রংপুর জেলার নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ভালো, এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমরা আশা করছি এটি বজায় থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, অতিঝুঁকিপূর্ণ ৮২৭টি
পুলিশ সুপার জানান, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে চরাঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা ও কোনো কোনো প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব কেন্দ্রে অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি। এছাড়া বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থাকছে ভিজিলেন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জ উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৮ জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৩০টি পৌরসভা ও ৫৩৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র ৪ হাজার ৫৪৬টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৮২৭টিকে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যার লাইভ মনিটরিং করা হবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে।
রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১৬
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি ও ৮ উপজেলায় ৯৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা বেশি, ইতোপূর্বে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়িসংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী ও জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) জানিয়েছে, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩টি আসনের আংশিক অংশে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসব স্থানের ২০৪টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বে ৩০টি মোবাইল পেট্রোল টিম ও ৭৮টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স কাজ করবে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুর জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রস্তুত সেনাবাহিনীর কমান্ডো গ্রুপ
এদিকে রংপুরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডো গ্রুপ। নির্বাচনের দিন বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার যেকোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঘটলে তারা হেলি ড্রপ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবেন।
চার জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন
এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি রক্ষায় রংপুর বিভাগের ৪ জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর সেক্টরের অধীনে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ২৬টি বেজ ক্যাম্পে ৭৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট স্থাপনসহ মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজিবি।
নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা দিতে বিজিবির তল্লাশি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ডগ স্কোয়াড স্থাপন করা হয়েছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় ২ হাজার ৫৭২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজিবির সমন্বয়ক টিমের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।
এদিকে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ছাড়াও র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে।
২৩ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা: রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার
কোনো ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ৫ মিনিটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার এ কথা বলেন।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনভাবে মোতায়েন করেছি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছি, তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কম।
তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটার এক কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫০৪টি যার মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগজুড়ে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য যার মধ্যে রয়েছেন ১০ হাজার সেনাসদস্য, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩ সদস্য, রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬ সদস্য, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫ সদস্য, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্সের (সাবেক র্যাব) ১ হাজার ৬ জন এবং ৭২ হাজার ৭৩৬ জন আনসার। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসি টিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
২৩ দিন আগে
ভোট পর্যবেক্ষণে এসেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, ১৯৭ সাংবাদিক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ৩৯৪ জন বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন সাংবাদিক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন, ২৩৯ জন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন এবং ৫১ জন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত স্বতন্ত্র ব্যক্তি।
এ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে দ্বাদশ, একাদশ এবং দশম জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র ৪ জন।
নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো থেকে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে ১ জন পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছে।
অন্যান্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে— অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) থেকে ২ জন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস (আইসিএপিপি) থেকে ২ জন এবং ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে ১ জন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি আরও ২১টি দেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান (৮), ভুটান (২), শ্রীলঙ্কা (১১), নেপাল (১), ইন্দোনেশিয়া (৩), ফিলিপাইন (২), মালয়েশিয়া (৬), জর্ডান (২), তুরস্ক (১৩), ইরান (৩), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), চীন (৩), জাপান (৪), দক্ষিণ কোরিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২) এবং নাইজেরিয়া (৪)।
এছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার ৫১ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে সহায়তাকারী জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সাড়ায় আমরা অভিভূত। এটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের সংখ্যার বাইরেও তাদের যোগ্যতা বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক। অনেক পর্যবেক্ষক বিশ্বজুড়ে নির্বাচন দেখার ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং উচ্চ যোগ্যতা রাখেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশ্বস্তকর।’
উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো; যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সাবেক সরকারি ডেপুটি চিফ হুইপ লর্ড রিচার্ড নিউবি; ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা; বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল; মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা রামলান বির হারুন এবং ইরানের সংসদ সদস্য বেহনাম সাইদি।
এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী সংসদীয় আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
২৩ দিন আগে
সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কমিশন: সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ এবং সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন এনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা জোরদার করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশব্যাপী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন অংশীদাররা সহযোগিতা করেছে।
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ফেরত এসেছে।
নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন দিবস উপলক্ষে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণ চলছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
ভোটারদের সুবিধার্থে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।
লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি নির্বিশেষে সব ভোটারকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো বিরোধ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব স্বীকৃতি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
নির্বাচন সামনে রেখে তিনি কমিশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিইসি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৩ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমনওয়েলথ ও তুরস্কের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া তুরস্ক থেকে আসা আরেকটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ৭ সদস্যের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তুরস্কের পার্লামেনটারি সদস্যদের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেন টার্কিশ-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারপারসন মেহমেত আকিফ ইলমাজ।
এর আগে গতকাল (সোমবার) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যায় কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ারপারসন ও ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ ই নানা আকুফো-আডো নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতের দুদিনই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে