রাজনীতি
নেত্রকোণায় ৪ ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ
নেত্রকোণা সদর ও পূর্বধলা উপজেলায় চারটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ ঘটনাগুলো ঘটে।
সদর উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলো হলো—পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন সরকার জানান, গতকাল রাতে দুর্বৃত্তরা সদর উপজেলায় তিনটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আগুন দেওয়া অপর কেন্দ্র হলো পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রটি আগুন দেয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
২৪ দিন আগে
এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবার আমরা স্বাধীনভাবে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, তবে কিছুটা তো শঙ্কা থেকেই যায়। আশা করছি, এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময়ই ফলাফল গ্রহণ করেছি। ২০০৮ সালে বিএনপি যখন ৩০টি আসন পেল, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছি। এবার আমরা আশাবাদী, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।’
জামায়াত ও প্রতিপক্ষের মাঠ গোছানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াত খুব কৌশলী দল। তারা খুব অপপ্রচার চালায়, ধর্মকে ব্যবহার করে, চরিত্র হনন করে। জামায়াত কৌশলগতভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে আমি জনগণকে বোকা ভাবি না। অপরদিকে বিএনপি ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষকে আমরা কোনদিনই দুর্বল মনে করি না। সে যেমনই হোক, তাকে সবল মনে করেই আমরা আমাদের কাজ চালাই।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী এবং প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের ভেতর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে এবং নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সদস্যসহ নির্বাচন কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি এ সভায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা শুরু হয় এবং দুপুর দেড়টার দিকে তা শেষ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাছিমুল গণি। সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। দেশের ইতিহাসে এত বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নির্বাচনে ব্যবহার হয়নি। এবারের নির্বাচন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে কখনো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ভেতরে যেতে পারত না। এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনে বাধাদানকারীদের কোনো প্রকার ছাড় নেই।’
বোরকা পরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে নারী আনসার সদস্য থাকবে। সন্দেহ হলে প্রয়োজনে তারাই ব্যবস্থা নেবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক) লে. জেনারেল আব্দুল হাফিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাছিমুল গণি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, র্যাবের মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তা, বিজিবি কর্মকর্তা এবং নির্বাচন অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা।
২৪ দিন আগে
নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় ইটভাটা বন্ধ, পাম্পে তেল বিক্রি সীমিত
গণভোট উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার ১২৫টি ইটভাটার কার্যক্রম ৫ দিন বন্ধ, একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গার ১২৫টি ইটভাটার কার্যক্রম ৫ দিন বন্ধ রাখতে মালিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জেলা প্রশাসক বলেন, জাল ব্যালট নিয়ে কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। প্রতিটি বুথে ব্যালট বাক্স একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে থাকবে, যাতে কেউ জাল ব্যালট ফেলতে না পারেন। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট প্রদান করা হবে এবং একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারবেন না।
সভায় এই সরকারি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এর মধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৪ প্লাটুন র্যাব ও ৪ প্লাটুন আনসার এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভে রাখা হবে। অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৭ প্লাটুন সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভ অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা তিন ধাপে মোকাবিলা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পুলিশ, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। চুয়াডাঙ্গার দুই আসনের নির্বাচন পরিচালনায় মোট ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সমন্বয় করা হবে। পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনাও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা নির্বাচনকালীন মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জেলা প্রশাসন সাংবাদিকদের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) তারিক উজ জামান, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ জেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
এক যুগ পর তারিক চয়নের বই ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ প্রকাশিত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে গুণীজনদের লেখা প্রবন্ধ নিয়ে ১৩ বছর আগে একটি বই সম্পাদনা করেছিলেন তখনকার সাংবাদিক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন। নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন বইটি অপ্রকাশিত থাকলেও অবশেষে সেটি আলোর মুখ দেখেছে। ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ নামের বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তারিক চয়ন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ফেরিফাইড আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘মোড়ক উন্মোচনের ইচ্ছে ছিল প্রিয় সুধীজনদের সম্মিলনে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। কিন্তু, ঘটনাপ্রবাহ সব সময় পরিকল্পনামতো যায় না।
‘এক যুগেরও আগে (২০১৩ সাল) তারেক রহমানের ওপর বেশ কয়জন লেখক-চিন্তক-রাজনীতিবিদদের লেখা প্রবন্ধ সংগ্রহ করেছিলাম। সেই সময়ের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মাঝেই প্রকাশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবদমন, নিগ্রহ, নিষ্পেষণ ও মিথ্যাচারের সংস্কৃতি ছাপিয়ে তারেক রহমান যে সার্বিক উন্নয়নমুখী রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন, তা জনপরিসরে তুলে ধরা। বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের মাঝে তার অহিংস ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চর্চার বিশ্লেষণ বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা।
‘বহু বাধার সম্মুখীন প্রবন্ধ সংকলনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপ্রকাশিত ছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই বেলা নির্বাচনের আয়োজন করছেন। তারেক রহমানও ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন। লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন।’
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেন সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পারেননি তার কারণ ব্যাখ্যা করে তারিক চয়ন লিখেছেন, ‘তিনি এসেই মাকে হারালেন। শোকের সাগরে নিমজ্জিত জাতি। এমন সময়ে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ করে এগিয়ে নেওয়া বইটি আত্মপ্রকাশ করার মন-মানস রইল না।
‘দুইদিন বাদে নির্বাচন। ব্যস্ত সময়ের মাঝেই প্রকাশনাযজ্ঞ শেষ করে বইটি হাতে এসেছে এমন এক সময়ে যখন সমগ্র জাতি উন্মুখ হয়ে আছে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু, তারেক রহমান আবেগের স্রোতে ভেসে যাননি। তিনি জানাচ্ছেন দেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। বইটির লেখা ১৩ বছর আগের হলেও তার পরিকল্পনা এবং সদিচ্ছাগুলো যে এতদিন ধরে লালিত, সেটির প্রামাণ্য দলিল এই বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধ।
‘এই প্রাসঙ্গিক সময়ে তাই জনপরিসরে উন্মুক্ত করার চিন্তায় হাজির হলাম অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও রিজভী ভাই বইটির মুখবন্ধ লিখে দিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুব শিগগিরই একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বইটির লেখক-চিন্তক-রাজনীতিকদের সঙ্গে সংযোগ ও মতবিনিময়ের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের প্রেস সচিব।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে লেখা বই ‘লুণ্ঠিত ভবিষ্যৎ’-এর সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী নিবন্ধ ‘অর্থ পাচার’-এর লেখকও তারিক চয়ন। সেখানে তিনি ওই আমলে দেশ থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের চিত্র তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিসহ তুলে ধরেছিলেন।
২৪ দিন আগে
প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার শেষ, এখন ভোটের অপেক্ষা
দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন কেবলই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের অপেক্ষা।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারবেন না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। সারা দেশে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এবারের নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্য নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কমিশন। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটের দিন যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা যে যানবাহন ব্যবহার করবেন, তাতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছেন ২৯১ জন। ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন এবং ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন ৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে শুধু ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ৭৬ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন বড়। এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। এবার সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন এবং সর্বনিম্ন ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।
ভোট পরিচালনার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।
২৪ দিন আগে
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নেই: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে চার শ্রেণির নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া বাকিদের জন্য বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মোবাইল ফোনসহ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে কোনো সমস্যা হবে না।
এর আগে, নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এই আদেশ জারি করে ইসি।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং কির্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট ৩ শ্রেণির কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ওই ব্যক্তিরা হলেন— ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা
নির্দেশনার ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের পরিসীমার মধ্যে প্রার্থী বা সাংবাদিকদেরও মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না।
চিঠিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা সিদ্ধান্তটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ইসির এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আজ (সোমবার) নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়।
সংগঠনটির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরএফইডি। ইসিকে জানানো হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।’
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। এবার ৬৪ জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি; মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ওই দিন একযোগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ দিন আগে
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে নাহিদের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট করেছেন ঢাকা ১১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সমর্থিত প্রার্থী শামীম আহমেদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এ রিট করা হয়। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নেন। রিটটি গতকাল (রবিবার) দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামীম আহমেদের আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু মোল্যা।
তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।
আইনজীবী মজনু মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনি হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গুলশান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কোহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
২৫ দিন আগে
হেলিকপ্টারে করে খাগড়াছড়ির ৩ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনের অতি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৩টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারযোগে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্র ৩টি হলো— দীঘিনালা উপজেলার নাড়াইছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার শুকনাছড়ি ও ফুত্যাছড়ি কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি আসনের মধ্যে এসব কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি দুর্গম হিসেবে বিবেচিত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টার উড়ে যায় দুর্গম শুকনাছড়ি কেন্দ্রে। পরে পর্যায়ক্রমে একই হেলিকপ্টারে করে লক্ষ্মীছড়ির ফুত্যাছড়ি এবং দীঘিনালার নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জামই নয়, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদেরও ওই দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বিশেষ করে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে।
খাগড়াছড়ি আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ।
২৫ দিন আগে
বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে: তারেক রহমান
দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও বাস্তব পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর দেশের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যে দেশ একসময় দুর্ভিক্ষে জর্জরিত ছিল, সেই দেশ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, এমনকি খাদ্য রপ্তানিও করে।
নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর জনগণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তখন একটি উদীয়মান টাইগারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। আমরা স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশ গড়া।
তিনি বলেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে…।’
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।
‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে…এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’
২৫ দিন আগে