রাজনীতি
সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল
জাতীয় নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতা- আন্দোলনে মুক্ত পরিবেশে এই সরকার (অন্তবর্তীকালীন সরকার) দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই প্রথম আমাদের সঙ্গে আজকে তারা বসেছেন। আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কি কি করা যায় এ বিষয়ে আমাদের মতামত দিয়েছি। তারা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন কি কি করেছে, কি কি করতে যাচ্ছেন।’বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আমরা মনে করি, এই সরকারকে সহায়তা করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের একমাত্র কর্তব্য।’মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মহলটি যারা বাংলাদেশের অধিকার হরণ করে নিয়েছিল, তারা আবার বাইরে থেকে বিদেশ থেকে… এখান থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশের যে বিজয় অর্জন হয়েছে জনগনের সেই বিজয়কে নস্যা করার জন্য চক্রান্ত শুরু করেছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলেছি যে, এখানে তথাকথিত মাইনোরিটির ওপরে নির্যাতনের যে একটা গল্প ফাঁদা হয়েছে সেই গল্পটা পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যমূলক, বাংলাদেশকে ম্লান করা, সরকারকে ম্লান করা, ছাত্র্র-জনতার বিপ্লবকে নস্যাৎ করে দেওয়ার আরেকটি চক্রান্ত।’সোমবার (১২ আগস্ট) বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনায়’ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই বৈঠক শুরু হয়।
এক ঘণ্টার এই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও মস্য ও প্রাণি সম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।বৈঠকে ‘যমুনা’ থেকে বেরিয়ে এসে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে নির্বাচন নিয়ে আমরা কথা বলিনি। আমরা আগেও বলেছি আপনারা জানেন যে, একটা নির্দিষ্ট সময় লাগবে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে। তাদেরকে সেই সময়টি আমরা অবশ্যই দিয়েছি। আমরা তাদের(অন্তর্বতীকালীন সরকারের) সব বিষয়গুলোতে সমর্থন দিয়েছি।’‘আমরা একটা কথা খুব পরিস্কার করে বলেছি যে, বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া তোলা হচ্ছে এগুলোতে জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয় এবং জনগণ ঠিক পূর্বের মতোই সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে অক্ষুন্ন রেখে, তাদের নিরাপত্তাকে অক্ষুন্ন রেখে তারা যেন সরকারকে সহায়তা করে এবং আমরাও পুরোপুরিভাবে তাদেরকে সেইভাবে সহায়তা করছি।’‘দেশের স্বার্থ বিরোধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, এতো হত্যা, এতো নির্যাতন, এতো নিপীড়ন, এতোগুলো ছাত্রদের হত্যা করার পরও সেই দলটি(আওয়ামী লীগ) আবারও তারা বিভিন্নরকমভাবে কথা বলছে, যা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি সরকারের এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’‘আমরা মনে করি, সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলবে। কিন্তু হত্যাকারীর সঙ্গে যারা ছাত্রদের হত্যা করেছে, যারা শিশুদের হত্যা করেছে, যারা রাজনৈতিক নেতাদেরকে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ আছে এবং এই ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে গেলে আমরা সরকারকে অবশ্যই সমর্থন দেবো।’বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান
৬৬১ দিন আগে
যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, 'আমি তাদের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) অনুরোধ করছি, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের অবস্থা তৈরি করুন।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের প্রতিশোধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন: ফখরুল
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে যেসব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো মোকাবিলা করে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
পরিবর্তনের জন্য ছাত্রজনতার আন্দোলনকে দুর্বল করতে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে সফল হবেন অধ্যাপক ইউনূস: ফখরুল
৬৬১ দিন আগে
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জয়ের
আগামী ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, 'আপনার ও আমার শ্রদ্ধা নিবেদনই তারই প্রতিবাদ।’
ফেসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন: জয়
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের প্রটেস্টর বলব না, আমি তাদের মব বলব। তারা জাতির পিতার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।’
জয় বলেন, ধানমন্ডির বাসায় জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এটি একটি জাদুঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন, '৭৫ সালের খুনিরাও ওই বাড়িটি ধ্বংস করার সাহস দেখাতে পারেনি।’
ওয়াশিংটনে বসবাসরত জয় বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দলীয় বিষয় নন।
তিনি বলেন, ‘তিনি জাতির পিতা, তাকে ছাড়া আমরা বাংলাদেশি হতে পারতাম না, আজ পাকিস্তানি হয়ে থাকতাম।’
তিনি বলেন, বাঙালি জাতির প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা যদি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, ৩২ নম্বরে (ধানমন্ডি ৩২) ফুল দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।’
তিনি সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার চেতনা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাদের তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং তার তিন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান।
৬৬২ দিন আগে
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের পদ স্থগিত
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (১১ আগস্ট) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
৬৬২ দিন আগে
৯ বছর পর ভারত থেকে দেশে বিএনপির সালাহউদ্দিন
দীর্ঘ ৯ বছর ভারতের শিলংয়ে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (১১ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
গত ৬ আগস্ট গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার তার ট্রাভেল পাস ইস্যু করায় তার দেশে ফেরার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে পাওয়া যায় এই সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে।
সেসময় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
পরে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে শিলং থানা পুলিশ।
বিএনপির অভিযোগ, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে গোয়েন্দা সেজে একদল লোক সালাহউদ্দিনকে অপহরণ করে।
২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয় শিলংয়ের একটি আদালত।
উচ্চতর আদালত ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই রায় বহাল রাখে। এই রায়ে ভারত সরকারকে তার বাংলাদেশে ফেরার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
৬৬২ দিন আগে
আওয়ামী লীগের প্রতিশোধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন: ফখরুল
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ এখন প্রতিশোধের নীলনকশা নিয়ে সক্রিয় হওয়ায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ও তার মিত্ররা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিজয়ী ছাত্রদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার নীলনকশা নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি।’
ফখরুল আরও বলেন, সকল জঘন্য অপরাধের জন্য অন্যায়ভাবে বিএনপিসহ সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে দোষারোপ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফখরুল বলেন, একটি চিহ্নিত মহল এই উদ্দেশ্য হাসিল করতে প্রতিবেশী দেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও নিউজ চ্যানেলকে ব্যবহার করছে।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে সফল হবেন অধ্যাপক ইউনূস: ফখরুল
তিনি বলেন, 'হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও সম্পদকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পরিকল্পনা হলো বিভেদের বীজ বপন করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়া। তারা সকল বিজয়ী শক্তি ও জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতেও বদ্ধপরিকর।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন এবং সকল নাগরিক এসব বিষয়ে সজাগ থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের দল বিএনপি ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বিএনপির নামে কেউ এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক ও তার দোসরদের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে আমি দেশি-বিদেশি সহায়ক শক্তির পাশাপাশি দেশবাসীকে সতর্ক করতে চাই।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে দেশের জনগণ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে বিএনপিতে সতর্কতা
৬৬৪ দিন আগে
সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত: অলি আহমদ
স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, স্বৈরশাসকের পতনের পর জাতি-ধর্ম-রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। একনায়কতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং নিষিদ্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সাম্প্রতিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ রাতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগাম শুভেচ্ছা জানান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।
তিনি নতুন সরকারের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনা করেন।
এলডিপি সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেপ্তার ও আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, এসব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীসহ অপহরণ, নিহত ও জোরপূর্বক গুমের ব্যক্তিদের তালিকা অবশ্যই প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের আমলে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।’
অলি আহমেদ বলেন, ১৯৯৬ সালের পর যারা অবৈধভাবে ও অযৌক্তিকভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের নাম বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংশোধন করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো আসামি যেন পালাতে না পারে কিংবা স্থল, নৌ ও আকাশপথে কোনো অপরাধীও যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে যুক্ত সব অভিযুক্ত ও পলাতককে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে তাদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাতে হবে।
এলডিপি সভাপতি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলেই শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে এবং কমপক্ষে পরবর্তী চারটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় করতে হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী ও প্রজাতন্ত্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ) শীর্ষ নির্বাহী পদে থাকতে পারবেন না।
৬৬৫ দিন আগে
কোটা আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ করে টাকা দেবে জামায়াত
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহত ছাত্রদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকালে ফেনী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির এ কে এম শামসুদ্দিন বলেন, 'প্রত্যেক শহীদের পরিবারকে এক লাখ করে টাকা দেওয়া হবে।’
শামসুদ্দিন শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তারা। 'আমরা তাদের আত্মত্যাগ সবসময় মনে রাখব।’
তিনি শহীদ শিক্ষার্থীদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান জানান এবং তাদের পরিবারকে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য তারা লড়াই করেছে, তা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না গেলে এবং লুটপাট বন্ধ না হলে তাদের সব আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।’
শামসুদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে অনেক আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বহন করা হচ্ছে।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের পরিবারকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখব।’
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করল সরকার
জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সব থানায় জনবলের অপ্রতুলতা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। 'শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
এ কে এম শামসুদ্দিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মন্দির রক্ষাসহ শৃঙ্খলা রক্ষায় জামায়াতের টিম সব উপজেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'হিন্দুরা এই দেশে সংখ্যালঘু নয়। আমরা সবাই ভাই ভাই এবং মিলেমিশে একসঙ্গে থাকব। বিভ্রান্তি ছড়াতেই মন্দিরে হামলার গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, মহানগরী জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ফেনী জেলা ও মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমাম হোসাইন ও শরিফুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ১৩ বছর পর কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলল জামায়াতে ইসলামী
৬৬৫ দিন আগে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ড. কামালের অভিনন্দন
দেশের সংকটকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের পর এক যৌথ বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ড. কামাল ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।
বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি বা ষড়যন্ত্র যেন মহান মুক্তিযুদ্ধে পাওয়া স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।’
দেশের সৎ ও পরীক্ষিত ব্যক্তিবর্গ নিয়ে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফলতা কামনা করেন তিনি।
৬৬৫ দিন আগে
অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে বিএনপিতে সতর্কতা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কঠোর হতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপির কোনো কমিটিতে ঢুকতে পারবেন না।’
বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলতে দলের সব নেতা-কর্মীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবার আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে শুক্রবার (৯ আগস্ট) জুমার নামাজের পর সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং সারা দেশের সব মুসলমানকে নামাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে সফল হবেন অধ্যাপক ইউনূস: ফখরুল
৬৬৫ দিন আগে