রাজনীতি
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির অনেক উন্নতি হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আজকের বক্তব্যের মধ্যে এ প্রশ্নের জবাব রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীকালকের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আনিসুল হক বলেন, আমি কিছুক্ষণ পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বসব। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন আইনি প্রক্রিয়ায় এটা হবে। সেটা যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব, তখন বলব।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
এর মানে আগামীকালের মধ্যেই কি এই সিদ্ধান্ত হবে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ।
চলমান আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করলে সরকার আবার ঝামেলায় পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, দেখেন এই যে নৃশংসতা, যেটি গত ১৬ জুলাই থেকে চালানো হয়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন তারা কিন্তু জানিয়েছেন এই সহিংসতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই....। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে তথ্য-উপাত্ত আছে, জামায়াত-বিএনপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদলের যারা জঙ্গি তারাই এটা করেছে।
তিনি বলেন,‘কোনো দলকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, সেটি নির্বাহী আদেশেই হয়। সেটি কোনো বিচার বিভাগীয় আদেশে হয় না।’
আরও পড়ুন: আগামীকালের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করা হবে: আইনমন্ত্রী
৬৭৪ দিন আগে
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
সোমবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'দেশের স্বার্থে ১৪ দলীয় জোট দেশবিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও জোটের ঊর্ধ্বতন নেতা রাশেদ খান মেনন বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলন ও সহিংসতায় ড. ইউনূসের 'সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা' খতিয়ে দেখা দরকার: কাদের
যদিও দলটির নিবন্ধন দীর্ঘদিন ধরে বাতিল করা হয়েছে, 'জামায়াত-শিবির' ট্যাগটি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের অনুসারীদের বোঝায়। এটি দেশের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী দল। আর জামায়াতের ছাত্রসংগঠন হলো ইসলামী ছাত্রশিবির।
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেছেন, ‘জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হলে তারা সংবাদ সম্মেলন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবে না।’
আরও পড়ুন: কোনো আন্দোলন হলেই অনুপ্রবেশ করে সেটাকে সরকারবিরোধী প্রচারণায় পরিণত করে বিএনপি: কাদের
৬৭৫ দিন আগে
সরকার কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র-মিথ্যাচার করছে, পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার সত্যকে আড়াল করতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মিথ্যাচার করছে এবং ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচারে লিপ্ত হচ্ছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ হলো, রংপুরে আবু সাঈদ গুলিতে নয়, বরং ইটের আঘাতে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। যদিও দেশ-বিদেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সহিংসতার সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে এবং জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার এ ধরনের মিথ্যাচার করে এবং প্রতারণামূলক কৌশল ও নির্যাতন করে জনগণের কাছ থেকে সত্য গোপন করতে পারবে না।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে: মির্জা ফখরুল
ফখরুল আরও দাবি করেন, সরকার ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের নাম ও সংখ্যার যে তালিকা দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনেক বেশি।
এছাড়া নিহত কিশোর এবং এর আগে নিহতদের নাম সরকারের তালিকায় নেই বলেও জানান তিনি।
অবিলম্বে হতাহতের সুষ্ঠু তালিকা প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন 'অনির্বাচিত ও অবৈধ' আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
ফখরুল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলন দমনের নামে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাসের কারণে কয়েকশ ছাত্র ও নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ‘যারা নিহত বা আহত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের ছোঁড়া বুলেটে বিদ্ধ হয়েছেন।’
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজধানীর ৩১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে ‘জাতীয় ঐক্যের’ আন্দোলন শুরু বিএনপির
তিনি বলেন, 'আহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি সরকারের নির্দেশে নিহতদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে অনেক নিহত মানুষকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা বারবার বলছেন, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করবেন। ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো- প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের দমনে মনোযোগী হয়েছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিরোধী দলের নেতাদের রিমান্ডে নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী এবং কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সাদা পোশাকের পুলিশ ধরে নিয়ে গেলেও এখনো তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর মায়াকান্না জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আরেকটি নজির: ফখরুল
৬৭৫ দিন আগে
কোনো আন্দোলন হলেই অনুপ্রবেশ করে সেটাকে সরকারবিরোধী প্রচারণায় পরিণত করে বিএনপি: কাদের
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এই নিন্দা জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোটা সংস্কারের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র করাই তাদের ক্ষমতা দখলের একমাত্র কৌশল হয়েছে।’
তিনি বলেন, যখনই কোনো আন্দোলন হয়, তখনই বিএনপি নেতারা সেখানে অনুপ্রবেশ করে সেটাকে সরকারবিরোধী প্রচারণায় পরিণত করে।
সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল এখন সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
এই দাবিকে কেবল ‘সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী’ বিএনপি-জামায়াত জোটের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হয়।
তিনি বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সাংবিধানিকভাবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নানা উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও সরকার বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও সহিংসতা থেকে জনগণকে রক্ষা করে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম দেখিয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও তিনি বলেন, 'কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে’ গ্রেপ্তার বা নির্যাতন করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুধু সন্ত্রাস ও সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের বলেন, সাইবার অপরাধীরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে দেশের বদনাম করার চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা মেট্রোরেল স্টেশন ও বিটিভির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। জনমনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ দৃঢ়তা প্রদর্শন করবে।’
এসব সহিংস ঘটনায় প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সরকার একটি কমিশন গঠন করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। ‘এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। নিহতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে মির্জা ফখরুলের দাবি মিথ্যা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে হতাহতের সংখ্যা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন।’
ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ফখরুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে অসম্পূর্ণ মন্তব্য করে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলন ও সহিংসতায় ড. ইউনূসের 'সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা' খতিয়ে দেখা দরকার: কাদের
৬৭৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান গণতন্ত্র মঞ্চের
দেশের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারকে দায়ী করে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ।
সোমবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী জোটটি এই আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের হত্যাসহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর মেহরাবাবা প্লাজায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দাবিগুলো তুলে ধরেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, 'অব্যাহত রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায় নিয়ে আমরা অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে, যা পুরো সরকারের পদত্যাগের পথ সুগম করবে। ‘এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা এই দাবি জানাচ্ছি।’
সাইফুল হক বলেন, ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ব্যর্থ হয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলনকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দল সম্পূর্ণরূপে দায়ী।
আরও পড়ুন: দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যেই 'গণতন্ত্র মঞ্চ' পুলিশের ওপর চড়াও হয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’
তিনি বলেন, হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মিথ্যাচার করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের সমাধান সরকার কোনোভাবেই করতে পারবে না। ‘এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে। তা না হলে দেশের মানুষের নিজের ও দেশকে রক্ষার জন্য সরকারকে উৎখাত করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
কয়েকটি বিরোধী দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- দ্রুত কারফিউ প্রত্যাহার এবং বিজিবিসহ সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষ বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণরূপে সচল করা, গণমাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, যারা আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং যারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছে এবং তা কার্যকর করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা, গ্রেপ্তার বিরোধী দলের নেতা ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি দেওয়া, ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের মুক্তি দেওয়া, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া;, ঢাকায় ব্লক রেইড বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া।
সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের উসকানি ও বিদ্বেষপূর্ণ নাশকতামূলক প্রচেষ্টা পরিহার করে বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলসহ সকল সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান সাইফুল হক।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা ফখরুলের
৬৭৫ দিন আগে
কোটা আন্দোলন ও সহিংসতায় ড. ইউনূসের 'সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা' খতিয়ে দেখা দরকার: কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সহিংসতায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ যারা বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের 'সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা' খতিয়ে দেখা দরকার।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস আগে গোপনে দেশের বিরোধিতা করতেন, এখন প্রকাশ্যে তা করছেন। তিনি বিদেশিদের আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক তাণ্ডবের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা দায়ী: ওবায়দুল কাদের
বিদেশ থেকে যারা বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের সরাসরি বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি-জামায়াত একাত্তরের মতো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা ক্ষমতার জন্য সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য করছে এবং সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা ভুক্তভোগী, অপরাধী নই।
তিনি আরও বলেন, 'শেখ হাসিনা সত্যিকারের উদ্বেগ থেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন, আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। আর বিএনপি-জামায়াত জনগণের কাছে না গিয়ে বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতি করছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণভবন দখলের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কারফিউ জারি না করলে শ্রীলঙ্কার মতো গণভবন দখলের চেষ্টা করত তারা।
তিনি বলেন, কারফিউ জারির পর থেকে সেনাবাহিনী একটি গুলিও ছুড়েনি।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দেশকে অস্থিতিশীল করতে পর্দার আড়ালে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে: কাদের
৬৭৬ দিন আগে
হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর মায়াকান্না জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আরেকটি নজির: ফখরুল
কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মায়াকান্না’ দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তিন সমন্বয়কারীকে একটি হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সেখানে তাদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ধরনের অমানবিক ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
সাম্প্রতিক দেশব্যাপী সহিংসতায় আহতদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি হাসপাতাল পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ ও পঙ্গু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া, মায়াকান্না দেখানো এবং সহায়তার কথা বলা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আরেকটি নজির।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তাই দেশ ও দেশের জনগণকে এর অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য সব হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, সরকার জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে এবং জনরোষ এড়াতে রেলসহ সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে।
এ অবস্থায় মানুষ 'কাজ না পেয়ে অনাহারে' রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, দ্রব্যমূল্য দিন দিন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ‘জাতি এ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চায় এবং এর রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।’
বিরোধীদের দমন করতে সরকার 'মধ্যযুগীয় বর্বরতার পথ' বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে রিমান্ডে নিয়ে আদালতে আনার যে চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে। রিমান্ডে তাকে এমন নির্যাতন করা হয়েছে যে, তিনি দাঁড়াতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে শুক্রবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরর এশিয়ার ঢাকা প্রতিনিধি সাঈদ খানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকার মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। আমরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। গ্রেপ্তারদের অবরুদ্ধ করে রাখতে নানা গল্প তৈরি করা হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে সরকার শুরু থেকেই 'ক্ষমতাসীন দলের গুণ্ডাদের' ব্যবহার করেছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তরুণ ছাত্রদেরও নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আইডি কার্ড দেখানোর পরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখলেই বোঝা যায়।’
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব তার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে 'ভুল তথ্য' প্রচারের জন্য সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যসহ আওয়ামী লীগের নেতারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক গল্প ছড়াচ্ছেন। কিন্তু দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না।’
৬৭৭ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ‘সন্ত্রাসীরা’ তাণ্ডব চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা না করায়, সেই সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা দেশে নৈরাজ্য চালিয়েছে। সেই তাণ্ডব মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’
শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’
সব নৈরাজ্যকারী ও চক্রান্তকারীর বিচার হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাশকতার ঘটনার তদন্ত হবে, আমাদের কাছে ফুটেজও আছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং বিচারের আওতায় আনা হবে।
ড. হাছান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ধৈর্য না ধরায়, দুর্বৃত্তরা এর সুযোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলব, তোমরা যাতে কারো প্ররোচনায় না পড় সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।'
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে পার্টির মহাসচিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন এবং মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, মুফতি আব্দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ, লক্ষ্মীপুরের পীর খাজা হারুনুর রশিদ মিরন বক্তব্য দেন।
বক্তব্য শেষে মাওলানা হারুন-রশিদ যুক্তিবাদী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
৬৭৭ দিন আগে
আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে ‘জাতীয় ঐক্যের’ আন্দোলন শুরু বিএনপির
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
ফখরুল বলেন, ‘জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, অধিকারবঞ্চিত মানুষের মুক্তি এবং বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে আমরা দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তিকে জাতীয় ঐক্যভিত্তিক এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ-আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি ফখরুলের
শুক্রবার(২৬ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো দলীয় প্যাডে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার স্বাক্ষর সম্বলিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে নিয়োজিত দল ও জোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বাম ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় ঐক্যের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা ও দলিল ইনশাল্লাহ জাতির মুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিতে ইচ্ছুক দল ও সংগঠনগুলো সময় ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে একটি সাধারণ বিবৃতির মাধ্যমে তাদের সম্মতি জানাতে পারে।
যারা সম্মতি প্রকাশ করবেন তাদের সবার স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ফখরুল।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে: মির্জা ফখরুল
৬৭৮ দিন আগে
সাম্প্রতিক তাণ্ডবের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা দায়ী: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সারাদেশে সাম্প্রতিক তাণ্ডবের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা দায়ী।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা শুধু নিজেদের দায় এড়াতে চাইছেন। ভয়াবহ সহিংসতার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য বিএনপির পরামর্শকেও কটাক্ষ করেন তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাম্প্রতিক সহিংসতার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছেন, কারণ তারা দেশ ও জনগণের ওপর আস্থা রাখেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘এবারও যেহেতু তাদের সন্ত্রাসী চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে, তাই তারা এ দায় থেকে মুক্তি পেতে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে বিশেষ করে ১৬ জুলাই থেকে দেশে যে সহিংসতা হয়েছে তাতে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততা উদঘাটিত হচ্ছে।
কাদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘তাদের সরকার উৎখাতের অপচেষ্টা সফল হবে না। এই অশুভ চক্রান্ত ব্যর্থ হবে ইনশাল্লাহ।’
আরও পড়ুন: দেশকে অস্থিতিশীল করতে পর্দার আড়ালে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে: কাদের
বিএনপি-জামায়াত একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদারদের কায়দায় লুটপাট ও হত্যা চালিয়েছিল। সরকার উৎখাতের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি মহল এখনও তৎপর।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মৃত্যুই অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কাদের বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংসতা হয়েছে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
শিগগিরই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি সহিংসতায় জড়িতদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে সত্য জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না।’
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রতিটি হামলার বিচার হবে, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬৭৮ দিন আগে