রাজনীতি
অসুস্থ খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকিতে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘হঠাৎ’ ভর্তি হওয়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন এখন ঝুঁকিতে।
তিনি বলেন, 'ভোরে তিনি (খালেদা জিয়া) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা বারবার বলে আসছি, তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছেন।’
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও বিদেশে তার চিকিৎসার বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘তার জীবন এখন বিপন্ন। আমরা মনে করি, তারা (খালেদা জিয়া) ইচ্ছাকৃতভাবে এটা (চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না) করছে।’
এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোমবার (৮ জুলাই) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি একটি জাতীয় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে আটকে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়ার রোগগুলো ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঘন ঘন হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বিএনপির অভিনন্দন
তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তাদের অসুস্থ দলীয় প্রধানকে বিদেশে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ট্রিটমেন্ট সেন্টারে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা (সরকার) রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে (শর্ত ছাড়া) মুক্তি দিচ্ছে না।
এদিকে সোমবার ভোরে খালেদা জিয়াকে আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন,‘ম্যাডাম অসুস্থবোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে ভোর সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি এখন চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে একটি কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান জাহিদ।
এর আগে গত ২২ জুন রাতে বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার হৃদযন্ত্রে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিএনপি নৈতিক সমর্থন করে: ফখরুল
এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত ২ জুলাই থেকে তিনি গুলশানে নিজ বাসভবন 'ফিরোজা'য় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস, হার্ট এবং চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।
২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বারবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর থেকে তার চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার পেট ও বুকে পানি জমে যাওয়া ও লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিপস প্রসিডিউর) নামে পরিচিত হেপাটিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: আবারও হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া
৬৯৬ দিন আগে
আবারও হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুলাই) ভোর সোয়া ৪টার দিকে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'ম্যাডাম অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কেবিনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসক জাহিদ।
এর আগে গত ২২ জুন রাতে খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার হৃদযন্ত্রে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়।
এরপর ২ জুলাই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে নিজ বাসভবন 'ফিরোজা'য় ফেরেন তিনি।
৬৯৬ দিন আগে
সবার সঙ্গে দেশের সুসম্পর্ক দেখে গাত্রদাহ হচ্ছে বিএনপির : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক দেখে বিএনপি’র গাত্রদাহ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই নীতিটাই অনুসরণ করে চলেছেন অত্যন্ত সফলভাবে। সেজন্য তারা উল্টাপাল্টা বলা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, 'ভারত থেকে আসার পর বিএনপি বলতে শুরু করেছে, আমরা নাকি দেশটা ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন চীন থেকে আসার পর তারা বলে কিনা, চীনের কাছেও দেশটা বিক্রি করে দিয়েছি। যেখানেই যাই তারা বলছে দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। বিএনপির কাছে আমার আমার প্রশ্ন, দেশটাকে কয়বার বিক্রি করা যায় ?'
শনিবার (৬ জুলাই) রাত ৮টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে প্রীতি সাংবাদিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিভাগ এটির আয়োজন করে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা অত্যন্ত সফলভাবে সেটি করে চলেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন সেখান থেকে এসে কিছুদিনের বিরতিতে তিনি এখন চীন সফরে যাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে যেমন অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক, চীনের সঙ্গেও আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। আমাদের সঙ্গে রাশিয়ার যেমন অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আমাদের অত্যন্ত চমৎকার ও ভালো সম্পর্ক।আরও পড়ুন: রাজনীতিতে পরজীবী হয়ে গেছে বিএনপি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, আমরা নিকট প্রতিবেশী ভারত যারা আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখেছে, তাদের সঙ্গে যেমন ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছি, যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আমাদের পাশে ছিল না তারাও আমাদেরকে সহায়তা করছে আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখছে, আমাদের উন্নয়নে অবদান রাখছে। এটি আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সফলতা। এটি বিএনপিসহ অনেকেই বুঝেও না বোঝার ভান করে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সরকার মাথা উঁচু করে চলে। শেখ হাসিনা কারো কাছে মাথা নোয়াবার নয়, এটি মনে রাখতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খেপাটে মেজাজের রিজভী কী বলল, ঢুলঢুলে মেজাজে গয়েশ্বর বাবু কী বলল, শিক্ষিত হয়েও মির্জা ফখরুল অশিক্ষিতের মতো কথা বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষা করে, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করে চলেছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি কানেক্টিভিটির মর্ম বোঝে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬৯৮ দিন আগে
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বিএনপির অভিনন্দন
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিএনপি।
শনিবার (৬ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিনন্দন জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেসব দেশে গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে সেসব দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি ব্যাপক ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছে। লেবার পার্টির প্রধান স্যার কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।’
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে টুইটারে কিয়ার স্টারমারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ‘আমি দলের পক্ষ থেকে তাকে আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা হলো সেখানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি অনেক দেশের গণতান্ত্রিক ঘাটতি ও সংকট মোকাবিলায় তার (স্টারমার) জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
আরও পড়ুন: সরকারের সঙ্গে পেনশন বিরোধে শিক্ষকদের পাশে বিএনপি, আন্দোলনকে 'যৌক্তিক' বললেন রিজভী
তিনি আরও আশা করেন, স্টারমার তার যোগ্য নেতৃত্বে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।
১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল লেবার পার্টি ব্যাপক বিজয়ের পর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কিয়ার স্টারমার।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তার নেতৃত্বে ইরান এগিয়ে যাবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী সাঈদ জালিলিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন সংস্কারপন্থী প্রার্থী মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা ও বিক্ষোভের মধ্যে পেজেশকিয়ান পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার এবং ইরানের বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রয়োগ শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিএনপি নৈতিক সমর্থন করে: ফখরুল
৬৯৮ দিন আগে
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিএনপি নৈতিক সমর্থন করে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিএনপি নৈতিকভাবে সমর্থন করে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার 'প্রত্যয়' স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আন্দোলন ও সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিএনপি উস্কানি দিচ্ছে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: রেল করিডোর ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার: ফখরুল
তিনি বলেন, 'তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) যা বলছেন তা অযৌক্তিক। আন্দোলনে বিএনপির উস্কানি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না এবং বিএনপি আন্দোলনকারীদের ওপর নির্ভর করছে না।’
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী সম্পর্কে বিএনপি অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তিনি বলেন, 'তারা (শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা) তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে । এখনও তা অব্যাহত থাকবে। আমরা কি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারি না?
শিক্ষকদের জন্য 'প্রত্যয়' পেনশন স্কিম বাতিল এবং সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে এনে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতীয় রেল নেটওয়ার্ক আত্মঘাতী হবে: ফখরুল
৬৯৮ দিন আগে
বিএনপি কানেক্টিভিটির মর্ম বোঝে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপি কানেক্টিভিটির মর্ম বোঝে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘যেই বিএনপির নেত্রী বলেছিলেন সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হলে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে, সেই বিএনপি কানেক্টিভিটির মর্ম বোঝার কথা নয়।’
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি ও সমঝোতা স্মারক সই নিয়ে বিএনপির সমালোচনাকে অবান্তর উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ইউরোপে কোনো সীমান্ত চৌকি নেই। সেখানে কী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়ে গেছে? ভারতের ওপর দিয়ে আমরা নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করছি, এতে কি ভারতের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়ে গেছে? আমরা কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতা করেছি। নেপালের সঙ্গেও কানেক্টিভিটি হবে।
আরও পড়ুন: অপশক্তিকে রুখে দিতে দেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান কাদেরের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও অর্থাৎ আমরা 'রিজিওনাল কানেক্টিভিটি' বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এই কানেক্টিভিটির মর্ম বিএনপি বোঝে না, বোঝার কথাও নয়।
তিনি বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমদের মূল শক্তি হচ্ছে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ও শেখ হাসিনা। তার দূরদৃষ্টি, সাহসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষণতা, সমস্ত সংকটে অবিচল থেকে সেটিকে মোকাবিলা করা।
তিনি আরও বলেন, সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপড়ে ফেলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্বের ক্ষমতা, দলীয় ঐক্য ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অগাধ আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন রয়েছে। আর তাদের মেধা ও শ্রমের কারণেই পরপর চারবার এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মোট পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
আরও পড়ুন: ‘যেমন নেত্রী তার তেমন সভাসদ’: বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরপর চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে আলস্য এসেছে, তা ঝেড়ে ফেলতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ, সংগঠন শক্তিশালী ছিল- উল্লেখ করেন ড. হাছান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি ও তাদের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক চক্র উন্মুখ হয়ে বসেছিল যে সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়। শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন এ পর্যন্ত ৮১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমিশনসহ ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টানা চারবার নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে কাজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে চিঠি লিখেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও সফুরা বেগম রুমি বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: রাজনীতিতে পরজীবী হয়ে গেছে বিএনপি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬৯৯ দিন আগে
রাজনীতিতে পরজীবী হয়ে গেছে বিএনপি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
'পেনশন, কোটাব্যবস্থাসহ অন্যদের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে বিএনপি পরজীবী হয়ে গেছে' বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার(৪ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাপ্তাহিক গণবাংলা ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারসাম্যের পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আন্দোলনের গতি হারিয়ে বিএনপি এখন পরজীবী দল হয়ে গেছে। তারা এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করে, শিক্ষকদের আন্দোলনে ভর করে। নিজেরা আন্দোলন করার ক্ষমতা হারিয়ে পরাশ্রিত আন্দোলন করছে। আর বিএনপিতে এখন ‘তারেক ভূত আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। দলটির কর্মীরা এখন আতঙ্কে থাকে, সকালবেলা উঠে দেখবে কি না যে পদ চলে গেছে!'
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর বিএনপির নানা মন্তব্য প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়নের ফলভোগ করেও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে। ফ্লাইওভার দিয়ে ১০ মিনিটে এয়ারপোর্ট নেমে বলে দেশে উন্নয়ন হয়নি। মেট্রোরেলে এসিতে চড়ে প্রেসক্লাবের সামনে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সফল ভারত সফরের পর বিএনপির নানা মন্তব্য হালে পানি পায়নি, এখন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর বিএনপি কি বলবে সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি 'কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব' উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, আমাদের সঙ্গে যেমন ভারতের চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি চীনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক। আমাদের সঙ্গে রাশিয়ার যেমন চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সুসম্পর্ক।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে এগিয়ে যাওয়া দুরূহ বিষয়, সহজ নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এই নীতিতে এগিয়ে চলেছেন।
আরও পড়ুন: অপশক্তিকে রুখে দিতে দেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান কাদেরের
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ইউরোপে কোনো সীমান্ত চৌকি নেই। সেখানে কি দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়ে গেছে? আমরা কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতা করেছি। নেপালের সঙ্গেও কানেক্টিভিটি হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও অর্থাৎ আমরা 'রিজিওনাল কানেক্টিভিটি' বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।
সরকারি চাকুরিতে কোটাব্যবস্থা পুণর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। এটি হয়েছিল আদালতের মাধ্যমে। যেহেতু শিক্ষামন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, আশা করি এর একটি সুন্দর সমাধান আসবে।
আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিমের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন টয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য লায়ন মশিউর আহমেদ প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ‘যেমন নেত্রী তার তেমন সভাসদ’: বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৭০০ দিন আগে
সরকারের সঙ্গে পেনশন বিরোধে শিক্ষকদের পাশে বিএনপি, আন্দোলনকে 'যৌক্তিক' বললেন রিজভী
নতুন সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা 'প্রত্যয়' বাতিলের দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যায়িত করে এ ধরনের গণবিরোধী নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে বিএনপি।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'আমরা মনে করি এটি একটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন। 'প্রত্যয়' প্রকল্পের বিধান অনুসারে, শিক্ষকরা তাদের নিজের বেতন থেকে তাদের পেনশন তহবিল করবেন এবং সরকার অর্ধেক... এটা এক ধরনের তামাশা।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষক ও শিক্ষাখাতের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করছে, যা শিক্ষার মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যয় পেনশন প্রকল্পের আড়ালে শিক্ষকরা যে ন্যায্য পেনশনের টাকা পেতেন, তা কেটে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রতিকূলতা ও অনাহারের দিকে ঠেলে দিতেই এটি একটি পদক্ষেপ মাত্র।’
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপিদের পাচার ও লুটপাটের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ না নিয়ে শিক্ষকদের পেনশনের অর্থ সংকোচনের জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।আরও পড়ুন: নাটোরে বিএনপির সমাবেশে হামলায় কেন্দ্রীয় নেতাসহ আহত ৭
তিনি যুক্তি দেন, এই লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করে সরকার শিক্ষকদের পূর্ণ পেনশন নিশ্চিত করতে পারে। পুরো পেনশনের ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হতো না।
ব্যাপক দুর্নীতি ও ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মতো ভুল নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য করার জন্যও সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, আপনারা এখন লুটপাটের মাধ্যমে কোষাগার শূন্য করে শিক্ষকদের পেনশন সুবিধা খর্ব করছেন। এটা সম্পূর্ণ গণবিরোধী নীতি।
এর আগে সোমবার 'প্রত্যয়' পেনশন স্কিমের প্রতিবাদে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করলে তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সরকার প্রবর্তিত এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের 'ক্যাডাররা' সাধারণ মানুষ, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে সারাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনকালে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘জাতীয় তামাশা’: রিজভী
৭০১ দিন আগে
২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করা যায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’
এর আগে বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন উৎপাদনের টেকসই ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে উন্নত বিশ্বে চলমান গবেষণার ফলাফল এবং কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীনে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর সেল একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করবে।
এছাড়া ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট এ বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে ২০৪১ সালের মধ্যে ক্লিন এনার্জি (নবায়নযোগ্য) থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভোলা-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার ব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি করে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: কারিগরি ও অন্যান্য কারণে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে: নসরুল হামিদ
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সুষ্ঠু বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিম্ন আদালতে মোট ১ হাজার ৪২৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর (ফেনী-১) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৩ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ৫৮টি জেলা ও ৪৬৪টি উপজেলা সম্পূর্ণরূপে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী এই পাঁচটি বিভাগ এখন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত। অর্থাৎ এসব জেলা, উপজেলা ও বিভাগে কোনো ভূমিহীন গৃহহীন মানুষ নেই।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হকের (সাতক্ষীরা-৪) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ছিল। ৯ দশমিক ১২ গুণ বাড়িয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। যা মোট জাতীয় বাজেটের ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: মন্ত্রী
৭০১ দিন আগে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘জাতীয় তামাশা’: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান 'জাতীয় তামাশা' ছাড়া আর কিছুই নয়।
বুধবার (৩ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন হওয়ায় ক্ষমতার স্তর নির্বিশেষে ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিচারের ক্ষেত্রে কমিশন নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করবে।’
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র 'ডামি' প্রার্থীদের মতোই বিএনপির উপহাসমূলক শব্দ 'ডামি সরকার'।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি প্রধান আছাদুজ্জামান মিয়া ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মতো দুর্নীতির কুখ্যাত ব্যক্তিরা কীভাবে সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থাকলেন। প্রধানমন্ত্রী কি এর কোনো উত্তর দিতে পারবেন?
রিজভী বলেন, সরকার নিষ্ক্রিয় থাকায় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচারের নানা ঘটনা প্রত্যক্ষ করছে।
আরও পড়ুন: রেল করিডোর ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার: ফখরুল
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কমিশন রিপ ভ্যান উইঙ্কলের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে। যারা একতরফাভাবে জনগণের টাকা আত্মসাৎ ও লুটপাট করেছে তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে ডামি আওয়ামী সরকার। দুর্নীতিতে কলঙ্কিত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের অবস্থান 'জাতীয় তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সরকার বর্বর পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন,‘তথাকথিত স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন মেরুদণ্ডহীন বলেই শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধী দলগুলোকে দমন করাই আওয়ামী দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কাজ।’
রিজভী অভিযোগ করেন, ‘গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে সরকারের অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতি দুদক ধামাচাপা দিয়েছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগের দুদক সঠিকভাবে তদন্ত করবে বলে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। ’
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও সরকারের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিপুল সম্পদ অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, 'আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা বিলাসবহুল বাড়ি, অসংখ্য ফ্ল্যাট ও শত শত একর জমি কিনেছেন।’
আরও পড়ুন:নাটোরে বিএনপির সমাবেশে হামলায় কেন্দ্রীয় নেতাসহ আহত ৭
৭০১ দিন আগে