রাজনীতি
বাংলাদেশের আর্থিক খাত রেড জোনে: অলি আহমেদ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখন রেড জোনে প্রবেশ করেছে।
শনিবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে নিজ দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কর্নেল অলি বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় মুদ্রার তারল্য সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের রিজার্ভ এখন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় ব্যবসায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। গত দুই বছরে স্থানীয় মুদ্রার ৩৮-৫১ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে নগদ প্রবাহও কমেছে। বাংলাদেশের আর্থিক খাত রেড জোনে প্রবেশ করেছে- যা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।’
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। ‘আমরা মনে করি, এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা অনিবার্য বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে। এমনকি এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ছাত্রলীগ ও এলডিপির সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২, এলডিপি মহাসচিব আটক
দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার জন্যও দেশের বর্তমান অবস্থাকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত ১৫ বছর ধরে বাকশালী নীতিতে দেশ শাসন করছে। আমি তাদের বলব, আল্লাহর ওয়াস্তে, এটা বন্ধ করুন এবং জনগণকে তাদের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ দিন।’
তাকে ছাড়া দেশ চলবে না- এমন ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান এলডিপি নেতা।
সাবেক মন্ত্রী কর্নেল অলি ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হার, বৈদেশিক ঋণ, খেলাপি ঋণ, দুর্নীতি, অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য, মাদকের বিস্তার, রাস্তাঘাটের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানো ও মিথ্যা মামলায় জেলে ঢোকানোর মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করে দেশের করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও দমন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার ইচ্ছামতো নতুন আইন প্রণয়ন করছে। ‘দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশে আর কখনো শান্তি ফিরে আসবে না, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কখনো শেষ হবে না।’
আরও পড়ুন: গুলির ঘটনায় এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ানের জামিন নামঞ্জুর
এমতাবস্থায় তিনি কৃষক, শ্রমিক, যুবক, ছাত্রসহ সর্বস্তরের জনগণকে দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্নেল অলি বলেন, বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দল শিগগিরই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এই বাকশাল সরকারকে উৎখাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি ভারত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী।
অলি বলেন, ‘ভারতের জনগণের প্রতি আমাদের কোনো নেতিবাচক মনোভাব নেই। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের জনগণ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেবে। ভারত সরকার কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে মেলামেশা করা থেকে বিরত থাকবে।’
আরও পড়ুন: কর্নেল অলি আহমদের গাড়িতে ‘ছাত্রলীগের’ হামলা ?
৭৪৭ দিন আগে
সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের প্রয়োজন নেই, সব তথ্য ওয়েবসাইটে আছে: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কোন দেশে অবাধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢোকা যায়? যে কেউ কি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারে? সবকিছুই ওয়েবসাইটে আছে। কেন আপনার প্রবেশ করা দরকার?’
আরও পড়ুন: সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতিতে স্থানীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে: হাছান মাহমুদ
শনিবার(১৮ মে) রাজধানীর ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'নৈশভোজের পর সাংবাদিকদের সামনে তার বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে একবার কথা বললেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) হয়তো মার্কিন আসিসট্যান্ট সেক্রেটারিকে এটি (নিষেধাজ্ঞা) প্রত্যাহার করতে বলেছেন।’
বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থান প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, তিনি গণমাধ্যমে দেখেছেন বিএনপি তাদের ভারতবিরোধী অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে। ‘বিরোধিতা না করে তারা কি মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে পারে? তাদের হাতে কোনো বিষয় নেই, তারা তাদের অস্তিত্বের জানান দিতেই কিছু নিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান থেকে সরে এসে তাদের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির সমাবেশ মানেই অগ্নিসংযোগ-ধ্বংসযজ্ঞ-রক্তপাত: ওবায়দুল কাদের
৭৪৭ দিন আগে
ডোনাল্ড লুকে প্রশ্ন করার সময় সাংবাদিকরা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন: বিএনপি
দেশের দুটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক বাংলাদেশে সফরকারী দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দলের বরাতে প্রশ্ন করার সময় সম্পূর্ণরূপে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (১৭ মে) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫১ নেতা বহিষ্কার
এতে বলা হয়, বিএনপিকে হেয় করতেই প্রথম আলো ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা অবান্তর প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একটি বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, ভারতের মধ্যস্থতায় প্রভাবিত হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান নরম করেছে।’
এতে দাবি করা হয়, বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাই কখনো কোথাও এ ধরনের মন্তব্য করেননি বা বক্তব্য দেননি। এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য প্রকাশ করা বড় ধরনের ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করে।
প্রথম আলো ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির মতো বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের এ ধরনের অবাস্তব প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুনামকে ক্ষুণ্ন করে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বিএনপি বলেছে, বর্তমানে দেশের জনগণ ভয়াবহ দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট। বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবনবাজী রেখে, জেল—জুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি বদ্ধপরিকর।
বিএনপির বরাত দিয়ে যে বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন করা হয়েছে তা সমীচীন নয়। এটি জনমণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বলে এর প্রতিবাদ করেছে দলটি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ভারত: ফখরুল
৭৪৮ দিন আগে
বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ভারত: ফখরুল
প্রতিবেশী ভারত অভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
ভারতের সঙ্গে পানি সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে শুধু বিদেশি প্রভুর স্বার্থ হাসিলের জন্য।
ফখরুল বলেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের প্রতিবেশী (ভারত) জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সব সময় তাদের সব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু ফারাক্কা বাঁধ নয়, গঙ্গার পানি নয়, ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে বরাবরই গাফিলতি করছে। তারা সমস্যার সমাধান করছে না।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এবং কালক্ষেপণ করছে।
তিনি বলেন, ‘এই ব্যর্থতার মূল কারণ এটি সম্পূর্ণরূপে একটি আজ্ঞাবহ সরকার। অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় ভারতের সঙ্গে দর-কষাকষিতে জনগণের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিতে তারা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সুষ্ঠু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া আমদানি পণ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান বিএনপির
৪৮ বছর আগে জনপ্রিয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লংমার্চের স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
গঙ্গার পানি নিজ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবাহিত করতে ভারত সরকারের নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে ফেলার দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে এক বিশাল লংমার্চের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা। আর দেশের জনগণকে দমন করে নিজেদের এবং তাদের প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা ও ফারাক্কা সমস্যার সমাধান তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কীভাবে করবে? অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা কীভাবে সমাধান করবে? কারণ তারা অন্যদের স্বার্থ হাসিলের বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে।’
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫ নেতাকে বহিষ্কার
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নিজেদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপিসহ অনেক বিরোধী দল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ‘এর জন্য আমাদের অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আমাদের অনেককে অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করতে হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান দানবীয় সরকারকে বিদায় করতে বিভক্তি ও তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঊর্ধ্বে উঠে সব বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প এখন নেই। ‘আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিজেদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কেউ আমাদের জন্য এটা করবে না, এটা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।’
তিনি বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাদণ্ড দিয়েছে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধী দলের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তিনি বলেন, 'দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার এখনো চলছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে, কারণ তারা জানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তাদের ব্যাপক ভরাডুবি হবে।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫১ নেতা বহিষ্কার
৭৪৯ দিন আগে
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫১ নেতা বহিষ্কার
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চলমান উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের আরও ৫১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এ পর্যন্ত ১৯৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
বুধবার(১৫ মে) বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৩ নেতাকে বহিষ্কার
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৫১ জন নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ১৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর আগে গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের ৭৯ নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি।
এছাড়া আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ৬৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেশজুড়ে চার ধাপে ৪৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব মনে করে বিএনপি। ফলে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে দলটির হাইকমান্ড।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫ নেতাকে বহিষ্কার
উপজেলা নির্বাচন: নওগাঁয় বিএনপির আরও ২ নেতাকে শোকজ, এক নেত্রীকে বহিষ্কার
৭৫০ দিন আগে
উপজেলা নির্বাচন: চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করল ইসি
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে শুনানি শেষে ইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বুধবার নির্বাচন ভবনে তলব করে ইসি।
আরও পড়ুন: খুলনায় স্কুল পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১
ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন,চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেও কমিশন সন্তুষ্ট হয়নি।
এছাড়া বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল হাফিজ মল্লিক ইসিতে এসে ৮ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, কমিশনের শুনানিতে সংসদ সদস্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫ নেতাকে বহিষ্কার
৭৫০ দিন আগে
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির আরও ৫ নেতাকে বহিষ্কার
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের আরও পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পাঁচ নেতাকর্মীর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন- মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা মল্লিক, সাটুরিয়া মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মুন্নী আক্তার, খুলনার খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, নওগাঁর সাপাহার উপজেলা মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক সুমি আক্তার ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সখিনা বেগম।
নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এ পর্যন্ত ১৪৮ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর আগে গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের ৭৯ নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি।
এছাড়া ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ৪ মে ৬১ জন এবং ৬ মে ৬ জন তৃণমূলের নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি।
দেশজুড়ে চার ধাপে ৪৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব বলে মন্তব্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিএনপি।
৭৫১ দিন আগে
ইসরায়েলি এজেন্টদের সঙ্গে মিলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গত নির্বাচনে বিএনপির চক্রান্ত ভেস্তে যাওয়ায় তারা এখন আন্তর্জাতিক ইসরায়েলি লবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ও বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মানববন্ধনে' এ অভিযোগ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের হত্যা বন্ধে কোনো প্রতিবাদ না করে বিএনপি-জামায়াত ধর্মীয় "সেন্টিমেন্ট" নিয়ে অপরাজনীতি করছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে না দাঁড়িয়ে তারা ইসরায়েলের দোসরে পরিণত হয়েছে, নেতানিয়াহুর দোসরে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের এজেন্টদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।'
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িকতা ও কূপমণ্ডুকতা রুখতে দরকার দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক গণজাগরণ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, 'পুরো পৃথিবী গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অপচেষ্টা করে, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে তারা একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। কারণ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারে।'
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকা ইসলামি দলগুলোরও সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, কিছু ইসলামি দল আছে যারা কারণে-অকারণে বায়তুল মোকাররমে দাঁড়িয়ে যায়। এখন তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।
ড. হাছান প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনাদের কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? আপনারা কোথায় এখন? নির্বাচনের আগে সরকার নামানোর জন্য বায়তুল মুকাররমের সামনে এসে আন্দোলন করেন। ফিলিস্তিনি ভাইদের পক্ষে, ইসরায়েলের বিপক্ষে তো একটা বড় মিছিল করতে দেখলাম না আপনাদের।'
তিনি আরও বলেন, এরা ইসলামপ্রেমী নয়, এরা হলো মুখোশধারী ধর্ম ব্যবসায়ী। এদের মুখোশও উন্মোচন করতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, 'সরকারের সমালোচনাকারী নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনেকেরই দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়, শরীরের চেয়ে গাল বড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেককেই দেখি সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় ভাষণ দেয়, বিষোদগার করে। কিন্তু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তো তাদের কথা বলতে শুনলাম না।’
ফিলিস্তিনিদের প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও মানুষের অবস্থান সবসময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে। আমাদের নীতি ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন টয়েলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মানিক লাল ঘোষ, স্বাধীনতা পরিষদের নেতা ফরিদুজ্জামান, মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন পাঠান।
আরও পড়ুন: বিএনপি যে কখন তাবিজ-দোয়ার ওপর ভর করে সেটিই প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৭৫১ দিন আগে
বিএনপির নির্বাচন বর্জনের রাজনীতির নিন্দায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূলের ১৪২ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে পলাতক এই নেতার রাজপথে নামা ও নির্বাচন বর্জনের আহ্বান সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।
বিএনপির একের পর এক নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত দলটিকে ভোটারদের থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এই পদক্ষেপকে আত্মঘাতী ও অগণতান্ত্রিক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতায় যেতে জনসাধারণের ম্যান্ডেট অর্জনে দলের অনীহাকে আরও উন্মোচিত করেছে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের নির্বাচন বানচালের উদ্যোগ এবং পরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাদের অপপ্রচার।
নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তারেক রহমান 'ব্যালট নয়, রাজপথে দেশের গতিপথ নির্ধারণ' করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট মাসব্যাপী অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ অভিযান চালায়। এই কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার মুখে চপেটাঘাত বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা।
আরও পড়ুন: বিএনপি যে কখন তাবিজ-দোয়ার ওপর ভর করে সেটিই প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কয়েকদিন আগে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে তারেক জিয়ার ভোট বর্জনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের নীতি প্রত্যাখান করে দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়েন। এটি প্রতীকী হলেও দলীয় প্রধানের মতাদর্শ প্রত্যাখ্যানের এটি শক্তিশালী প্রতিবাদ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় নির্বাচন বর্জনের যে সংস্কৃতি শুরু করেছিল, ২০২৪ সালেও তারা একই কৌশল অনুকরণ করেছে। কিন্তু এক দশকের মধ্যেও নির্বাচন বর্জনের নীতিতে জনসমর্থন পায়নি বিএনপি। তবুও তাদের মধ্যে সংশোধনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে স্থানীয় নেতাদের চাপে তারেক রহমানের অনুগতদের দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা চরম অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করেছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তারেক জিয়ার পছন্দের নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘দলীয় ক্যাডারদের নির্বাচন বন্ধ করতে বলার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভুল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তা মেনে নেওয়া এবং প্রথম দফার নির্বাচনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ১৬ জন নেতার মাধ্যমে কলুষিত হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা গ্রহণের পরিবর্তে তারেক ও তার অনুগতদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন বানচালের আহ্বান দলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। এটিকে অগণতান্ত্রিক চর্চাও বলা চলে।’
১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান প্রসঙ্গে মেসবাহ বলেন, ‘মনে হচ্ছে এক দশক ধরে তারেক রহমান দেশে নেই, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা থেকে তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপিকে গণ বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাশাপাশি বহিষ্কারের ধারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও দুর্বল করেছে।’
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচন: ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান বিএনপির
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অজয় দাশগুপ্ত নির্বাচন বর্জনের রাজনীতিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তারেক রহমানের পিতা জেনারেল জিয়ার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেন। জেনারেল জিয়া জনগণের ম্যান্ডেট দিয়ে নয়, শক্তি দিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অজয় আরও বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু করে জনগণের ম্যান্ডেট না পেয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের বৈশিষ্ট্য, শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি প্রহসনের গণভোট- গণতন্ত্র থেকে দলটির সরে দাঁড়ানোর প্রমাণ।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজী নাসিরউদ্দিন খোকন বলেন, জনসমর্থন আদায়ে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নির্বাচনকে কলঙ্কিত করতে মিথ্যাচার করছে।
জ্যেষ্ঠ গবেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, নির্বাচন বর্জনের বেশ কিছু পরিণতি আছে। প্রথমত, এর ফলে দলীয় কর্মীদের মধ্যে মোহভঙ্গ হয়, যারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হন এবং নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক মনে করেন। দ্বিতীয়ত, যে দল অবিরাম নির্বাচন বর্জন করে, সেই দলকে নাগরিকরা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না।
সৈয়দ বদরুল বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ, কারণ ক্রমাগত নির্বাচন বর্জনের ফলে সন্দেহ হয় যে দলটি ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে থাকা অন্য রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে, যা নির্বাচন এবং জনস্বার্থের পক্ষে অনুকূল নয়, কেবল ক্ষমতায় বসার জন্য এমন মনে করে।’
আরও পড়ুন: বিএনপির সমাবেশ মানেই অগ্নিসংযোগ-ধ্বংসযজ্ঞ-রক্তপাত: ওবায়দুল কাদের
২০১৪ সালের মতো, গত জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, বিএনপি ও জামায়াত জোট এক মাসব্যাপী অবরোধ করে। এর মধ্যে যানবাহন ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ছিল। পাশাপাশি জামায়াতের সঙ্গেও সম্পর্ক শক্ত করে দলটি সব আইন বাতিল করে শরিয়াহ আইন প্রবর্তনের প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিল।
এছাড়াও খালেদা জিয়া ও তারেকের নির্দেশে দেশ চালানোর ঘোষণার মতো নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখলের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে দলত্যাগ বিএনপি নেতার
৭৫১ দিন আগে
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: পাবনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের ওপর হামলা, আহত ১০
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান তানভীর ইসলামের সমর্থকদের ওপর আরেক প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম কামালের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের মতিগাছা এলাকায় এঘটনা ঘটে।
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- মতিগাছা এলাকার এলেম উদ্দিনের দুই ছেলে আফাই মোল্লা ও সইমুদ্দিন মোল্লা, সিরাজুল প্রামানিকের ছেলে আবুল কাসেম এবং আবুল কাসেমের ছেলে মাহাতাব প্রামাণিক। অন্যান্য আহতদের নাম ও ঠিকানা জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: যেসব ভোটকেন্দ্র জাল ভোট হবে সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হবে: ইসি
অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১০টার দিকে তানভীর ইসলামের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে তানভীর ইসলামের সমর্থকদের মারধর করে কামালের সমর্থকরা। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এবিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে চাঁদভায় আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে কামালের লোকজন। আজকে আমার সমর্থকরা অফিস উদ্বোধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে কামালের সমর্থকরা হামলা করেছে। এতে আমার বেশ কয়েকজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এর উপযুক্ত শাস্তি চাই।
তবে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম কামাল বলেন, আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ মিথ্যা ও কাল্পনিক। দেবোত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপরই হামলা করা হয়েছে। এতে আমার এক বৃদ্ধ ও নারী সমর্থক আহত হয়েছেন।
এব্যাপারে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাদিউল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনা শুনেছি। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬ শতাংশ: ইসি আলমগীর
৭৫৩ দিন আগে