রাজনীতি
নারীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে করা ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে এই মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়।
গতকাল (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ করা হয়। নারীদের নিয়ে ওই পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় তারা ‘শফিক তুই জানিস নাকি, দেশের শক্তি অর্ধেক নারী’, ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’, ‘শফিক তুই ক্ষমা চা, নারী নয় পতিতা’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
৩৩ দিন আগে
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন করতে পারবেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রবিবার (১ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে, মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন।
মঞ্জুরুল মুন্সীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ উত্থাপন করলে ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল মুন্সী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তবে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরাসরি রিটটি খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে একই আসনের অপর প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
৩৩ দিন আগে
প্রবাসীদের ভোটে কারচুপির সুযোগ নেই: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে। ফলে খাম খোলা ও সঠিকভাবে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। ভোটকেন্দ্রে শুধু প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কলম নিয়ে যেতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেনন্সিল নিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট চলাকালীন প্রতি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে। ভোট কেনাবেচা বন্ধে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সত্য এবং সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান করেন তিনি।
এছাড়া বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান। নির্দেশনার পরও কোনো কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি হবে কঠোর।’
তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেখানে অনিয়ম হবে সেখানে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
৩৩ দিন আগে
সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি।
বৈঠকটি আজ (রবিবার) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুরু হয়।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন— বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
৩৩ দিন আগে
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন ওআইসিসহ ছয় সংস্থার আরও ৬৩ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসিসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩২ জন ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষকের সঙ্গে যোগ হচ্ছেন তারা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টোর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য নিশ্চিত হওয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা গত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিগুণেরও বেশি।
এর আগে দ্বাদশ, একাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ ও ৪।
দুই সদস্যের ওআইসির পর্যবেক্ষক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন ওআইসির নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বন্দর। এছাড়াও এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) থেকে ২৮ জন পর্যবেক্ষক, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৫ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাত জন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন পর্যবেক্ষক তাদের ব্যক্তিগত ক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রিত বেশ কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।’
আমন্ত্রিত যেসব দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।
দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম (ফেম্বোসা) শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদের তালিকা ঘোষণা করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে একইসঙ্গে হবে।
নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন বলেছে নির্বাচন কমিশন।
গেল ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো আশাদুল হক জানান, দেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সাত হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
৩৪ দিন আগে
ঐক্যের সরকার গড়তে চায় জামায়াত, বিরোধীদেরও দেবে অংশগ্রহণের প্রস্তাব
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি; আগামীতে ঐক্যের সরকার গড়ব। আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলে, যারা এখন আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরও প্রস্তাব দেব দেশ চালাতে ভূমিকা রাখার জন্য। তবে শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি করতে পারবেন না, জুলাইকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় মজলুমের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর আলাদা কোনো বিজয় চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়। যে আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক থাকবে সেখানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেতে হবে, যাতে ৩০০ আসনেই বিজয় নিশ্চিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়, তাদের হাতে দেশের ৯ কোটি মা–বোন কখনোই নিরাপদ নয়। মা–বোনদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ সময় বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, মজলুম কীভাবে জালিমে পরিণত হয়? আপনারাও তো একসময় মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হলেন?
এই রাজনীতিক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ একটি বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। ভোটের দিন ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখে যে নতুন অধ্যায় শুরু হবে, তার ভরকেন্দ্রে থাকবে যুবসমাজ এবং দেশের মা-বোনেরা।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি এবং আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনও জালিম হবো না।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মা-বোনেরা কোনো জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন; চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন। আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাব, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেব, পারলে ঠেকাও।
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।
জামায়াতে ইসলামীর এ নির্বাচনি জনসভায় এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
৩৪ দিন আগে
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া থেকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুরে আবু সাঈদের গ্রামে যান তিনি। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই আবু হোসেন সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেকসহ রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মর মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন।’
‘আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আজ দেশের সব মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যই শুধু নয়, আবু সাঈদ শিখিয়েছেন, কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়তে হয়, সেই শিক্ষাও আবু সাঈদ শিখিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেবল আবু সাঈদকে মৃত্যু দিবসে স্মরণ এবং তার কবর জিয়ারতের মধ্যে থাকলেই চলবে না, তার আত্মাত্যাগের শিক্ষাটাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য আমাদের সবাইকে উজ্জীবিত হতে হবে। তাহলেই আমার মনে হয়, আবু সাঈদের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রংপুরের ঈদগা মাঠের উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান রংপুরে গেলেন।
৩৫ দিন আগে
সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, গণভোট নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানুষকে অবহিত করতে পারবেন এবং সচেতন করতে পারবেন। তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণভোট নিয়ে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি, আমরা গণভোট নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা দেইনি। আমরা শুধু আইনকে রেফার করে দিয়েছি। ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর ২১ নম্বর ধারায় বলা আছে, সাধারণ নির্বাচনে যা যা নিষিদ্ধ রয়েছে তা গণভোটের জন্যও নিষিদ্ধ। সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পক্ষ বা বিপক্ষ করার সুযোগ নেই। আমরা শুধু এই ব্যাপারটাই স্পষ্ট করে দিয়েছি। তার মানে এটা দাঁড়াবে এ রকম— সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধু সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে পারবেন, সচেতন করতে পারবেন তবে হ্যাঁ অথবা না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি আছে। পটুয়াখালীতে নির্বাচনের প্রস্তুতি দেখে আমি খুব সন্তুষ্ট। আশা করছি এখানে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ বছর নির্বাচনের পরিস্থিতি অনেক ভালো।’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী। সভায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার।
৩৫ দিন আগে
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। অতীতের বস্তাপঁচা, দুর্নীতিযুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে— এই নীতির পরিবর্তন। যোগ্য ব্যক্তির যথাযথ মূল্যয়ন করে যোগ্যতা ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে রিকশা চালকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অতীতের বস্তাপঁচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে এবং দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।’
এ সময় বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাথা গরম না করে মা-বোন ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। শহিদ হাদি, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ আমাদের চেতনা। বীরেরা পালায় না, তারা সাহসিকতার সাথে বুক পেতে দেয়। আমরা বেকার ভাতা নয়, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ মর্যাদা দিতে চাই। ঘরে ও কর্মস্থলে নারীদের সম্মান দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসার সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিগত ১৬ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যা, আলেম-ওলামা হত্যাসহ অপশাসন কায়েম করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এই অপশাসনের হাত থেকে দেশবাসী মুক্তি পেয়েছে। ফেনীতে সংঘটিত স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আমি এসেছিলাম দুর্গত মানুষকে সহযোগিতা করে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াতে। আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলায় তাকে খুন করা হয়েছিল। তাই ফেনীবাসী তাকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ফেনীসহ ৩১টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, ফেনী নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ, অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মিলেমিশে একাকার হয়ে বিজয়ী করতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও জুলাইযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের লোকজনসহ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
পৈতৃক জমি বিক্রি করে রাজনীতি করছি, ব্যবসা করতে আসিনি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি; বরং রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।’
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুরসহ কয়েকটি এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আপনারা মা–বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে জমানো টাকার মালা বানিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘জমিজমাগুলো ছিল আমার বাবা চখা মিয়ার (মির্জা রুহুল আমিনের)। অর্ধেকের বেশি জমি শেষ—বেচে দিতে হয়েছে। এমনকি বাড়ির সামনের জমিটাও বিক্রি করতে হয়েছে।
‘আমি নিজে কখনো দুর্নীতিতে জড়াইনি। রাজনীতি ব্যবহার করে কখনো অর্থ উপার্জন করিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে, সংসার চালিয়েছে।’
নিজের সাদামাটা জীবনযাত্রার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় আমি যে গাড়িটিতে চড়ি, সেটি ২০ বছর আগের পুরনো। এখন পর্যন্ত সেই গাড়িটা বদলাতে পারিনি। আমরা কোনো দয়া বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না; বরং কাজের সুযোগ ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিচ্ছি।’
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। আমাদের পিটিয়েছে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অস্থির করে রেখেছে। সেই দুঃসময় পার করে এসেছি। এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।
প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিমানবন্দর চালু ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী থাকার সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প, গভীর নলকূপ চালু ও কৃষি উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এখনও ক্ষমা চায়নি, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলাম শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি; ইতিহাস বলছে, তারা ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক মানুষ এসব ইতিহাস জানেন না, কিন্তু বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ‘যে দল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা কি এই দেশকে নিরাপদে রাখতে পারবে? তারা ক্ষমতায় গেলে কি এ দেশের মানুষ ভালো থাকবে?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যে দল অতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনও সে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি, এমন দলকে সমর্থন করা যায় না। যারা বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের কখনোই ভোট দেওয়া উচিত নয়।’
স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো এলাকা তখনই এগোয়, যখন সেখান থেকে ভালো, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। নেতৃত্ব ভালো হলে উন্নয়ন আসবেই।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছরে ১১৭টি মিথ্যা মামলা ও নানা নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।
৩৬ দিন আগে