রাজনীতি
মুন্সীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের কাছে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৬
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এসব ঘটনায় সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে প্রথম দফায় ককটেল বিস্ফোরণের পর সকাল সোয়া ১০টার দিকে মোল্লাকান্দির মহেশপুর থেকে নাহিদ নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জুবায়ের আহমেদ অর্ণব জানান, প্রথমে সকাল সোয়া ১০টার দিকে এক যুবককে আটক করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আবারও দুই দফা ককটেল বিস্ফোরণ হয়। খবর পেয়ে কিছুটা দূরে থাকা সেনা সদস্যরা ছুটে আসেন। সেনাবাহিনী দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া দিয়ে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
আটকরা হলেন— রহমত মাঝি (৪২), পারভেজ মাঝি (২৭), মো. কামাল (৩৭), আরশাদ মাঝি ও সালিম মাঝি। আর সকালে আটক হন নাহিদ।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তিতুমীর জানান, সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখনও ভোট গ্রহণ চলছে।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়, পরে কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছালে ৭-৮ মিনিট পর ফটক খুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ‘ফুটবল’ ও ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
খবর শুনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো মেনহাজুল আলম ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন আলী জানান, কেন্দ্রটিতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে।
১১২ দিন আগে
ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে গণনা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।
আজ সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। দেশের সব জেলায় এদিন কমবেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবশ্য ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাট হাতাহাতি, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের মতো খবর পাওয়া গেছে। দেশের চার স্থানে ভোট দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহিংসতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে।
কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের টাকাসহ আটক করে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।
এর আগে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
১১২ দিন আগে
গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, স্টেশনে পৌঁছাবেই: সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাবেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছে। নির্বাচনের দিনগুলোতে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে গ্রামে-গঞ্জে ছুটেছে। অনেক দিন পর ভোটের যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা মানুষকে উদ্বেলিত করছে।’
তিনি বলেন, চলমান নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। আস্থা না ফিরলে এত মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসতেন না।
নির্বাচনের ব্যাপকতার কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে। এই ইলেকশনটা কন্ডাক্ট করার জন্য সাড়ে ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় আট লক্ষ হচ্ছে যে পোল কালেক্টর যারা বুথ কালেকশন করবেন; এই সাড়ে ১৭ লক্ষ লোককে এক সুতোই গাঁথা এটা যে একটা কত কঠিন কাজ আপনারা একবার একটু কল্পনা করে দেখুন।’
তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিইসি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা জানি না সামনে আরও কী চ্যালেঞ্জ আসবে। ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। এবং বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে। গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’
তিনি জানান, কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। আমরা কারও পক্ষে না, আবার কারও বিপক্ষেও না।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা বলেছিলাম যে, এদেশে কোনো পাতানো নির্বাচন আর হবে না। এই পাতানো নির্বাচনের ইতিহাস আমাদেরকে ভুলে যেতে হবে। এখানে এই কেন্দ্র দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে। ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব আপাতত মোকাবিলায় আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি, তারপরও এসব গুজব মোকাবিলা করে শেষ করা যাচ্ছে না। এসব গুজবের বড় উৎস দেশের সীমানার বাইরে, যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আমরা সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়েছি।’
ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করার অনুরোধ জানান।
১১২ দিন আগে
ঢাকা-৯: নারী পোলিং এজেন্টদের হয়রানির অভিযোগ তাসনিম জারার
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী পোলিং এজেন্টরা হয়রানি ও প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধিদের বিভিন্ন অজুহাতে কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নারী প্রতিনিধিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু জটিলতার মধ্যে আমাদের যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বা বের করে দেওয়া হচ্ছে। বানোয়াট কিছু নিয়ম বানিয়ে এসব অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পোলিং এজেন্ট যারা আছেন, তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, উনারা এখানকার ভোটার না, কিন্তু এমন কোনো নিয়ম নেই যে পোলিং এজেন্ট হতে হলে ওই আসনের ভোটার হতে হবে। পুরুষ কেন্দ্রে নারী এজেন্টের নিয়ম দেখিয়ে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
‘বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে না। অথচ ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে, ব্যবহার করা যাবে না।’
এ সময় নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের যারা পোলিং এজেন্ট আছে, তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু ভেতরে মানুষ ভোট দিচ্ছে, নির্বাচন হচ্ছে। এটা সুষ্ঠু প্রক্রিয়া কিভাবে হয়! যখন নিয়ম জানতে চাচ্ছি, তখন বলতেও পারছে না।’
জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনের অনেক কেন্দ্র থেকেও অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিব এবং এনসিপির জাবেদ রাসিনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১১২ দিন আগে
যাত্রাবাড়িতে ভোট দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে ভোটারের মৃত্যু
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলার দনিয়া অগ্রদূত স্কুলে ভোট কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে মো. আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে মো. ফারহান ইসরাক নিঝুম বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান আমার বাবা। ভোটকেন্দ্রের ৫ তলায় উঠার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, তার বাবা হার্টের রোগী ছিলেন এবং দুবার হার্ট অ্যাটার্কও হয়েছিল। মুগদার মানিকনগর এলাকার ৭৬/১ নম্বর বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন তারা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে সিঁড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন আবু সাঈদ। পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
১১২ দিন আগে
অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের আশা সেনাপ্রধানের, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিজ্ঞান ভবনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে আমাদের জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। আমরা গত দেড় বছর এ দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন হচ্ছে।’
তিনি জানান, সকাল থেকেই সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং ভোটগ্রহণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, ‘আমি সকালে খবর নিয়েছি, সারা বাংলাদেশে কোথায় কী ঘটছে। আমার কাছে যে খবর, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছে।
এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। সবাই নির্ভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে পোলিং স্টেশনে গিয়ে ভোট দিন।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘যারা ভোট দিতে পারছেন না মিডিয়ার লোকজন আপনারা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। সারা দেশের পরিস্থিতি জনগণকে জানাচ্ছেন। জনগণ আশ্বস্ত হচ্ছেন। তারা ভোট দিতে যাচ্ছেন। ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহী হচ্ছেন।’
সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।’
১১২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দায়িত্ব পালনকালে মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক পোলিং কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সরাইল সদরের জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে দায়িত্ব পালনের সময় তার মৃত্যু হয়।
মুজাহিদুল সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ইসলামি ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই মুজাহিদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১১২ দিন আগে
ফরিদপুরে ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা
ফরিদপুরে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তানজির ইসলাম। তিনি দেওরা এলাকার বাসিন্দা। বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ‘ধানের শীষের’ পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে আমরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্বাচনী আইন-২০২৫ এর ১৩ (চ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় তাকে নির্বাচনি আইন ১৯৭২ এর ৯১(বি)(২) ধারা মোতাবেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ দেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।
১১২ দিন আগে
নির্বাচনে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ আখতার হোসেনের
নির্বাচনে নিজ আসনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুললেন রংপুর-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ভোটের ফল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে রংপুরের ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন আখতার হোসেন। সেই কেন্দ্রে তার মা ভোট দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার হোসেন। তবে তার ভোট ঢাকায় থাকায় নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শাপলা কলির পক্ষে জোয়ার উঠেছে। রংপুর-৪ আসনের ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে শাপলা কলিকেই বেছে নিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, বিশাল ব্যবধানে জয়ী হব।’
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কপি প্রতীকে ১১ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান, বাসদ-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেস’র উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাহিদ হোসেন ও স্বতন্ত্র শাহ আলম বাশার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্যাম্যমাণ দল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
১১২ দিন আগে
দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নয় ঘণ্টাব্যাপী ভোটগ্রহণের প্রথমার্ধে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার উপস্থিতি ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
সব কেন্দ্রে ভোট চালু আছে জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেগুলো এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নেই।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, ময়মনসিংহে বৃহস্পতিবার ভোরে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অসুস্থ হয়ে মারা যান। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফলে ওই ভোটকেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।’
১১২ দিন আগে