রাজনীতি
যখন যে ক্ষমতায় এসেছে দেশকে তছনছ করে দিয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে এ দেশকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রায় ১২টার দিকে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন আসল, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারা পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এ তো মজলুম একটা সংগঠন—নেতৃবৃন্দকে খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোরা হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুঁশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। এরপরে আর হুঁশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে।’
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সমস্যার দিকে দৃষ্টি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে আপনাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম উপর থেকে দেখছিলাম— পদ্মা গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে তখন উপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল উপচে উপচে পড়ে, দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বশান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আল্লাহর এই নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বৎসর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভিতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না, খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন এই একই কাজ তারা করেছেন।’
৩৯ দিন আগে
১৪ ঘণ্টায় ৬ জনসভায় সম্পন্ন তারেকের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনি প্রচার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি জনসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করেছেন। এসব সভায় তিনি তার দলের প্রার্থী ও জোটের শরিকদের পক্ষে ভোট চান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠে তার শেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি তার গুলশানের বাসভবনে ফিরে আসেন। এর আগে, তিনি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় অংশ নেন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের পোলোগ্রাউন্ডে মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজী মাঠ, দাউদকান্দি ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালুরমাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন।
প্রতিটি জনসভায় তিনি বিএনপি ও জোট প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট চান এবং ক্ষমতায় এলে দেশ পুনর্গঠনে দলের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে নারীসহ হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক তার বক্তব্য শোনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘যেদিন ভোট, সেদিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে যে যার ভোটকেন্দ্রের সামনে যাবেন। ওখানে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের নামাজ পড়বেন। ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে একদম ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন।’
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যে শনিবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান এবং সেখানে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। রবিবার দিনের শুরুতে তিনি একটি ইয়ুথ পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে তারেক রহমান সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জে মোট ৭টি জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, আজ (সোমবার) বিকেল ৪টায় তিনি ভার্চুয়ালি নোয়াখালীর হাতিয়ায় একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের। সেখানে তিনি নোয়াখালী-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের পক্ষে ভোট চাইবেন।
৩৯ দিন আগে
নির্বাচনি জনসভা: আগামীকাল কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ উপলক্ষে নির্বাচনি সমাবেশ করতে আগামীকাল (সোমবার) কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত এ তথ্য জানায়।
জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতের নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশটি সকাল ৯টায় শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত আমির হেলিকপ্টারে চড়ে কুষ্টিয়ায় আসবেন। তিনি পুলিশ লাইনসের হেলিকপ্টার প্যাডে অবতরণ করে সেখান থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে যাবেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। কর্মসূচি শেষে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
আব্দুল গফুর বলেন, সমাবেশ সফল করতে মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ ইতোমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আজকের মধ্যেই বাকি প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হবে। সমাবেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশাল জনসমাগম ঘটবে। সমাবেশটি যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই দিনে ডা. শফিকুর রহমান কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা সফর করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দর, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার তারেক রহমানের
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে এবং জননিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে দুর্নীতি একটি অপরাধ। যে-ই দুর্নীতি করুক না কেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। ইনশাআল্লাহ, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ দুর্নীতি দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনগণের প্রতি তাদের প্রধান অঙ্গীকার বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমনকি দলের নিজস্ব নেতা-কর্মীরা অন্যায় করলেও তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি।
দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের কেউ সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানকার মানুষসহ সারা দেশের জনগণ একটি নিরাপদ পরিবেশ চায়, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে। একই সঙ্গে তারা চায় তাদের সন্তানরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করুক।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি ছিল চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। বিএনপি সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। গত ১৫ বছরে এই উদ্যোগ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া বাণিজ্যিক রাজধানীর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
তারেক রহমান জানান, ‘চট্টগ্রামে অবস্থিত ইপিজেডগুলো বিএনপির শাসনামলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আরও নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে—পাহাড় বা সমতল, মুসলিম বা অন্য ধর্মাবলম্বী—একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
বিএনপির নির্বাচনি স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ ওয়াসিমসহ জুলাই শহিদ এবং সব শহিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের দিনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সমর্থকদের পরামর্শ দেন যেন তারা তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ পড়ে ভোর হওয়ার আগেই ভোটকেন্দ্রে লাইনে গিয়ে দাঁড়ান।
এর আগে, তারেক রহমান তার বক্তব্যে শুরুতে বলেন, ‘আজ আমরা সবাই একত্র হয়েছি একটা লক্ষ্য সামনে রেখে। অর্থাৎ, একটি পরিবর্তন সামনে রেখে আমরা একত্র হয়েছি। এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি নগরের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নেন। আজ (রবিবার) সকাল ৯টায় তিনি সেখানে ‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তিনি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পোলোগ্রাউন্ড মঞ্চে উপস্থিত হন এবং দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি ও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সমাবেশে অংশ নেবেন।
৪০ দিন আগে
ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরাও করব, সেটা যেন না হয়: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ বছর আমাদের ওপর বহু জুলুম-নির্যাতন গেছে আমাদের ছেলেদের ওপর। এমন কোনো মামলা নাই যে দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে একশরও বেশি মামলা হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছি। সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি।
তিনি বলেন, কিন্তু আল্লাহর হুকুমে আমরা রাস্তাটাকে ছাড়ি নাই। আমাদের লক্ষ্য একটাই, এই দেশে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবই। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আমার দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ হাজার মামলা হয়েছে। কিন্তু কেউ দমে যায়নি, কেউ আওয়ামী লীগে যায়নি। কারণ আমরা সঠিক পথে ছিলাম, সত্যের পক্ষে ছিলাম। সত্যের পক্ষে ছিলাম বলেই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর আমরা একটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাতে একটু আরাম করে ঘুমাতে পারে। আগে কেউ ঘরে ঘুমাতে পারত না। পুলিশের ভয়ে, খোলা মাঠে রাতে ঘুমাত। এখন আমাদের দায়িত্ব, সুন্দর একটা দেশ তৈরি করা; ভালো দিন তৈরি করা; পাল্টা মামলাবাজি না করা। ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরা যে পাল্টা মামলাবাজি করব সেটা যেন না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন কোনো প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়, হিংসা নয়। আসুন আমরা সবার সঙ্গে ভালোবাসা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করি। এগুলা বললে আবার কিছু কিছু মানুষ স্যোশাল মিডিয়ায় বলে, আমরা নাকি আপোস করেছি। এটা আপস নয়, এটা হচ্ছে ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন সমাজ তৈরি করা, হিংসা তৈরি না করা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু-বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ আছে। ধর্ম টেনে আনলে পক্ষপাতিত্ব হয়ে যাবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক নয়। এই নতুন নির্বাচন যে আমরা করতে যাচ্ছি, প্রথম কথা হচ্ছে আমরা আপনাদের শান্তি দিতে চাই, নিরাপত্তা দিতে চাই। হিন্দু ভাই-বোনরা অনেক সময় বলেন, নিরাপত্তার সমস্যা। তারা বলেন, ‘জিতলেও আমাদের মারেন, হারলেও আমাদের মারেন।’ হিন্দু ভাই-বোনদেরকে বলতে চাচ্ছি, আপনারা আগে নিজেরা শক্ত হোন; বুকের মধ্যে সাহস আনুন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য হলো, বিএনপি পরীক্ষিত দল। আমাদের আপনারা সবাই চেনেন। ক্ষমতায় এলে মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড দিয়ে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, আটা পাবেন। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাবেন। সন্তানদের শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। সার-বীজ ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের জন্য এর আগেও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজ করেছি। সংসদে গিয়েও কাজ করেছি। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। আমার নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। আমার গোটা পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না। আপনাদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। আপনারা অভিযোগ করেছেন, এখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বৃত্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, এগুলো আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
৪০ দিন আগে
লুকোচুরির কোনো ব্যাপার নাই, নির্বাচন হবে স্বচ্ছ: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা চাই, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন। এখানে লোকচুরির কোনো ব্যাপার নেই। এটাই আমরা কূটনীতিকদের বুঝিয়েছি। তারা খুশি এবং তারা আস্থাশীল যে আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারব।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে কূটনৈতিকদের নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিং শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, কূটনৈতিকদের সঙ্গে আলোচনা খুব সুন্দর হয়েছে। এখানে যত কূটনৈতিক রয়েছেন তারা এসেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য কী কী প্রস্তুতি নিয়েছি এবং কী কী কাজ করেছি, তা তাদের বুঝিয়েছি। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড পুরোটা ব্রিফ করেছি।
তিনি বলেন, ‘তারা খুবই খুশি। আমরা চাই যে মোস্ট ট্রান্সপারেন্ট (সর্বোচ্চ স্বচ্ছ) একটা ইলেকশন (নির্বাচন), ক্রেডিবল (বিশ্বাসযোগ্য) একটা ইলেকশন; এখানে লুকোচুরির কোনো ব্যাপার নাই, এটা তাদের আমরা বুঝিয়েছি, সেটা তারা সাধুবাদ জানিয়েছে।’
৪০ দিন আগে
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ চলছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় মহানগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এই জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
জনসভা শুরুর আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভোর থেকেই চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও জেলার ১৬ উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পলোগ্রাউন্ড ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। এতে পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে কোনো জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি।
মঞ্চে উপস্থিত আছেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। নেতা-কর্মীরা অধীর আগ্রহে তাদের নেতার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি নগরের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নেন। আজ (রবিবার) সকাল ৯টায় তিনি সেখানে ‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
চট্টগ্রামের জনসভা শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
৪০ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়টি ভিত্তিহীন: মাহদী আমিন
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এটা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা সম্ভব নয়। যেসব তথ্য একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।
গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেন, ১০ দলীয় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান আগামী নির্বাচন ঘিরে তিন শর্তে ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
এর জবাবে মাহদী জানান, ‘যদি জামায়াত নেতা ভুল তথ্য পেয়ে অথবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকেন, তা তার অজ্ঞতার পরিচায়ক। আমাদের বিশ্বাস, এটা হয় একটি কৌশল, নয়তো অজ্ঞতার বিষয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি প্রচারণার অংশ।’
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।
মাহদী আমিন জানান, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার যে পরিকল্পনা, ইতোমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত-সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদের অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।’
মাহদী আমীন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি আজ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমান যোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
তারেক রহমান আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’ এ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রামে সমাবেশের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে সমাবেশে অংশ নেবেন।
৪১ দিন আগে
আবু সাঈদদের আমানত জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহিদ আবু সাঈদেরা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই, তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা ঐক্য গড়ে তুলেছি। সরকারে যেতে পারলে আবু সাঈদের সব স্বপ্নই আমরা পূরণ করব।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না। যেভাবে আবু সাঈদেরা বুক পেতে দিয়েছিল, সেভাবেই বুক পেতে দিতে আমরা প্রস্তুত।
কবর জিয়ারত শেষে আবু সাঈদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে।
‘কঠিন সময়, দমন-পীড়ন কিংবা সংকট—কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে ছেড়ে যায়নি জামায়াতে ইসলামী; ভবিষ্যতেও যাবে না’—এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, কঠিন সঙ্কটেও আমরা আপনাদের ছেড়ে যাইনি, পালিয়ে যাইনি। পরিস্থিতি যেমনই হোক, জনগণের পাশেই থাকব।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জামায়াত আমির তার সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সকাল ১০টায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন তিনি।দুপুর ১২টায় বগুড়া শহর এবং দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সিরাজগঞ্জ শহরে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং উল্লাপাড়া উপজেলায় বিকেল ৪টায় নির্ধারিত জনসভায় অংশ নেবেন শফিকুর রহমান।
সিরাজগঞ্জের কর্মসূচি শেষে পাবনা জেলায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে সফরের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করবেন তিনি।
৪১ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন যশোর কারাগারের ১২৯ বন্দি
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১২৯ জন কারাবন্দি।
প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিরা এই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।
গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর এই নিবন্ধন শেষ হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, প্রথমে বিষয়টি বন্দিদের জানানো হলে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা অথবা অন্যান্য কারণে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকে। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদন করতে চাননি।
কারা সূত্র আরও জানায়, পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচন করছেন, সে তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে। এতে তারা প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
নিবন্ধিত বন্দিদের জন্য যথাযথভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ব্যালট পেপার। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করবেন।
কারাগারের নির্ধারিত স্থানে বসেই তারা ভোট দেবেন। পরে ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসহ কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করবে।
কারা সূত্র আরও জানায়, নিবন্ধিত বন্দিদের কেউ জামিনে মুক্তি পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তাকে কারাগারের ভেতরে নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে। ভোটপ্রদান শেষে তিনি পুনরায় কারাগার থেকে বের হবেন।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, নিবন্ধিত বন্দিদের ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
৪১ দিন আগে