রাজনীতি
রংপুরে নৌকা সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ জন সমর্থক আহত
রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার জায়গীরহাট বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ট্রাক মার্কার সমর্থকরা জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময়
ট্রাক ও নৌকার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পীরগঞ্জের জনসভায় আগমনকে কেন্দ্র করে ট্রাক মার্কার প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের সমর্থকরা উপজেলা শঠিবাড়ী বন্দরে একত্রিত হয়। সেখানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়।
অনুষ্ঠার শেষে জায়গীর ও রাণীপুকুর এলাকার ট্রাক মার্কার সমর্থকরা একটি অটোতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে নৌকা মার্কার সমর্থকরা ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে প্রায় ১০জন আহত হন।
আহতরা হলেন- সাইদুল ইসলাম (৪৫), শাহিন মিয়া (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), আব্দুল মালেক (৩৫) জমারেজ মিয়া (৪০), জাহজাহান মাস্টার (৫০)। তবে বাকী কয়েকজনের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনার পর ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরা জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে এসে প্রতিবাদ ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা লাটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রাক মার্কার সমর্থকদের ওপর আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন: হিরো আলমের উপর ফের হামলার অভিযোগ
এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
হামলায় আহত সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে আমরা বাড়ি ফিরছিলাম। জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে আসা মাত্র নৌকা মার্কার কিছু সমর্থক আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে তারা।
ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমার সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় নৌকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে এসে এর প্রতিবাদ করেছি।
এ বিষয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থী রাশেক রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-৩ আসন: হামলায় আ. লীগ প্রার্থীর ২ সমর্থক আহত
৮০১ দিন আগে
একটি ভোটও জাল হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হবে: ইসি আহসান হাবিব
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে একটি ভোটও জাল হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আহসান হাবিব খান।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি জায়গায় দায়বদ্ধতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। কোনো কেন্দ্রে একটিও যদি জাল ভোট হয়, সেই কেন্দ্র বন্ধ হবে। কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাসপেন্ড হবে। কোনো ক্রমেই কোনো অস্বচ্ছতা, অসততা ও অসতর্কতাবশেও এসব ভুলকে অ্যাক্সেপ্ট করা হবে না।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভোলার চারটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় ইসি বলেন, গণতন্ত্র, সংবিধান, দেশ ও অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদের, বিদেশিদের নির্বাচন কমিশনের (ইসি), সরকারের এবং আমার টিমের; সবার উদ্দেশ্য এক। অবাধ ও সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন।
আরও পড়ুন: শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি, আগের রাতে ভোট হবে না: সিইসি
তিনি বলেন, অতীতকে আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা কিভাবে সুন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে পারি সেটাই আমরাদের বিবেচ্য বিষয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রার্থী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জমিল হাসান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামানসহ সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ ভোলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন: ৪ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে ইসি
জাতীয় নির্বাচন: হবিগঞ্জের ডিসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ইসির
৮০১ দিন আগে
শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি, আগের রাতে ভোট হবে না: সিইসি
শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি, আগের রাতে ভোট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেন, ‘আগের রাতে ভোটসহ যেসব কথাবার্তা হয়েছে আমরা ৯৯ নয়, শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি সেটি কোনো অবস্থাতেই হবে না। এজন্য অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকালে যাবে।’
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রার্থী এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ব্যালট পেপার সকালে না গিয়ে ১০ দিন আগে অথবা ১০ মাস আগেও যদিও যায়, তাহলেও প্রার্থীরা তাদের পোলিং এজেন্ট দিয়ে সকালে ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ বাক্সগুলো খালি কি না সেটি দেখে তারপর বাক্স বন্ধ করবেন। সেক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে অবৈধ কোনো ব্যালট বাক্স ঢোকার সুযোগ নেই। তারপরও আমরা বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জনের জন্য বলেছি ব্যালট পেপার সকালে পাঠাব।’ তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা অবশ্যই দাঁড়িয়ে থেকে দেখে নেবেন ব্যালট বাক্সগুলো খালি আছে কি না। তারা ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ গণনা ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। সবকিছু সঠিকভাবে হয়েছে কি না জানবেন। যদি গণনা যথাযথভাবে শেষ হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়ে গেল।’
আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচন: হবিগঞ্জের ডিসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ইসির তিনি আরও বলেন, ‘আর মাঝখানে যদি কোনো পেশীশক্তির উদ্ভব ঘটে, তাহলে প্রিজাইডিং অফিসারকে বলা হয়েছে তিনি ভোট বন্ধ করে দেবেন। তিনি যদি বন্ধ না করেন রিটার্নিং অফিসার অবহিত হলে তিনি বন্ধ করে দেবেন। তিনিও যদি বন্ধ না করেন, আমরা ঢাকা থেকে অবহিত হলে বন্ধ করে দেবো।’
সিইসি বলেন, ‘কথাগুলো বললাম কারণ আমাদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে একটা অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটি যাতে দূর হয়। আমরা নির্বাহী প্রশাসন ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। এখানে ওসি, ইউএনও, ডিসি ও এসপিদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো।’
ভোট নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কতগুলো বক্তব্য আমি আরও ৬টি স্টেশনে ঘুরে শুনেছি। একটি কথা কয়েকজনে বলেছেন ভোট দিয়ে কী লাভ, ভোট তো এক জায়গায় চলে যাবে। আবার কেউ কেউ নাকি মুখে মুখেও বলেছেন, আপনারা যে যেখানে ভোট দেন, ভোট জায়গামতো চলে আসবে। আমরা বিষয়টি শুনেছি। এর মধ্যে আমরা জেনে গেছি, এটি হয়তো ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার অথবা ভ্রান্ত ধারণা। ভোট যেখানেই দেন সেখান থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেটি আমরা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজনে সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নূরে আলম মিনা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ।
আরও পড়ুন: ৪ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে ইসি
একটি ভোটও জাল হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হবে: ইসি আহসান হাবিব
৮০১ দিন আগে
ভয়ভীতি সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে: কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।
তিনি বলেন, ‘ভয় আছে, তবুও আমি বলছি ভোটারদের ভোটদান সন্তোষজনক হবে।’
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় কাদের এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে দুই সদস্যের ইইউ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্ন। আর আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইইউ দল নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। আমরা বিএনপির নির্বাচনের পরাজয়ের সহিংসতার কথা বলেছি। বিএনপি সহিংসতা অবলম্বন করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জবাব দিচ্ছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারের জন্য সদস্যপদ বহিষ্কার ও স্থগিতাদেশ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘দলের যে কেউ একজন স্বাধীন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কিছু ভুল নেই। তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জেলা-উপজেলা কমিটির কাউকে বহিষ্কার বা সদস্যপদ স্থগিত করার অধিকার নেই। তারা কেবল কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠাতে পারে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনে বাধা দানকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান কাদেরের
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই এটি: ওবায়দুল কাদের
৮০১ দিন আগে
কোনো ‘অর্থহীন’ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ মানুষের নেই: বিএনপি
বিএনপির জে্যষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘অর্থহীন’ নির্বাচনে দেশের জনগণের ভোট দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই।
তিনি প্রশ্ন করেছেন, 'একতরফা' নির্বাচনে নাকি জনসাধারণের সমর্থন রয়েছে, তাহলে কেন কাউন্সিলরদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) মতিঝিল থেকে দিলকুশা রোডের পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করার সময় নজরুল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী নয়, কারণ তারা জানে এটি একটি অর্থহীন নির্বাচন ... এটি কোনো প্রকৃত ভোট বা নির্বাচন নয়।’
তিনি ভোটারদের ৭ জানুয়ারি কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের জীবন ও জীবিকা নিয়ে খেলা করছে এমন সরকারকে সহযোগিতা করবেন না।’
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার থেকে ৩ দিন গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল বলেছেন, কেন মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য ডামি প্রার্থীর প্রয়োজন। ‘সরকারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম এবং সুবিধাগুলোর সুবিধাভোগীদের কেন ভোট না দিলে তাদের কার্ড বাতিল করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে?
তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ ইতোমধ্যে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা ভোটদানও বর্জন করবে।
দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মারাত্মক সংকটে পড়েছে, তখন কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে এ জাতীয় অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই অবৈধ নির্বাচনের ব্যয় বন্ধ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি ... জনগণ এমন নির্বাচন চায় না যার সব প্রার্থীই আওয়ামী লীগের। আমরা এ ধরনের নির্বাচন চাই না।’
এই বিএনপি নেতা বলেন, তাদের দল এমন একটি নির্বাচন চায় যেখানে মানুষ নির্দ্বিধায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।
তাদের তিন দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নজরুলসহ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কিছু নেতা-কর্মী গণসংযোগ করেন এবং মতিঝিল অঞ্চলের সোনালি ব্যাংকের নিকটবর্তী পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার কেবিনে অজ্ঞাত যুবক ঢোকার চেষ্টা করেছে: রিজভী
বিএনপি-সমমনা বিরোধী দলের ডাকা দ্বাদশ অবরোধ চলছে
৮০১ দিন আগে
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ২৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর আরেক প্রধান দল বিএনপিসহ বেশ কিছু দল বর্জন করেছে এই নির্বাচন।
আরও পড়ুন: ‘বিরোধী দল নির্বাচনের বাইরে থাকুক এটা আমরা কখনোই চাইনি’
২০০৯ সাল থেকে গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে।
আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই: ড. মোমেন
৮০১ দিন আগে
সংসদ ভেঙে সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন চেয়ে পুনরায় রিট ইনসানিয়াতের
সংসদ ভেঙে দিয়ে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন চেয়ে পুনরায় রিট দায়ের করেছে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সহ অন্যান্যদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের ১০ নম্বর(এনেক্স) আদালতে রিটটি দায়ের করেন দলটির চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।
রিটে বলা হয়, মানবতা ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ইনসানিয়াত বিপ্লব মনে করে, ক্ষমতাসীন দলের অবৈধ প্রভাব ও জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন ও স্বাধীন ভোটাধিকারের প্রধান বাধা হলো সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।
দলটির চেয়ারম্যান ইমাম হায়াত বলেন, বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসন, পুলিশ ও নিজেদের সশস্ত্র লোকদের ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল ও অন্যদের ভোটদানে বাধার সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদ বহাল রেখে জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন অসম্ভব। প্রহসনমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের আদেশ চেয়ে আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।’
আরও পড়ুন: দল হিসেবে ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’কে নিবন্ধন দেয়ার নির্দেশ
ইমাম হায়াত বলেন, ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদ সদস্যদের পর সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা নিরাপত্তা। বিগত নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা দেখেছি প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জীবন হানিকর আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্রয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি-বোমা ইত্যাদি ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, বুথ থেকে গণনা পর্যন্ত আস্থাশীল সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন ব্যতীত নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পূর্ণ অসম্ভব।
ইমাম হায়াত বলেন, জালিয়াতিমুক্ত, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া যে কোনো প্রকার প্রহসনের নির্বাচন জনগণের নাগরিকত্ব ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা অস্বীকার এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংসাত্মক এবং গণতন্ত্রের উৎখাতের শামিল।
আরও পড়ুন: নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ করল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ
তিনি বলেন, মুক্ত স্বাধীন ভোটাধিকার, জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন এবং নিরাপদ নির্বাচন দেশ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণের সবার দাবি যা নিছক কোনো দল বা ব্যক্তির বিষয় নয়।
ইমাম হায়াত বলেন, দেশ রক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের অধিকার এবং মালিকানার স্বার্থে আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব সংসদ ভেঙে ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিশ্বাসযোগ্য ও নিরাপদ নির্বাচনের আদেশ চেয়ে এবং সংসদ না ভাঙ্গা পর্যন্ত ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর একই বিষয়ে দলটির দায়ের করা একটি রিট খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ইনসানিয়াত বিপ্লবের করা রিটের শুনানি বুধবার
৮০১ দিন আগে
গণতন্ত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই: ড. মোমেন
গণতন্ত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের বিকল্প কোনো উপায় নেই। কাজেই যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন তারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করেনা। এবারের নির্বাচন জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।’
সোমবার ( ২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এসময় মোমেন বলেন, বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য প্রক্সিযুদ্ধের কারণে ধ্বংসের মুখে। তাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্যও শেখ হাসিনা সরকারের দরকার আছে। আমরা এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে চাই।
সাংবাদিকরা সামজের দর্পন ও বিবেক উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধীরগতির কারণ অনুসন্ধান করে প্রকাশের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: যারা নির্বাচন বর্জন করছে তাদের নেতৃত্বের গুণাবলীর অভাব রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সেইসঙ্গে হাওরাঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের উপযোগিতা, ইপিজেড অঞ্চলে স্থানীয়দের বিনিয়োগে ও স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রপ্তানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়গেুলো তুলে ধরারও আহ্বান জানান।
সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সহসাধারণ সম্পাদক রবিকিরণ সিংহ রাজেশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহসভাপতি আশফাক আহমদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক জনকণ্ঠের ব্যুরো চিফ সালাম মশরুর, সাবেক সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো চিফ সংগ্রাম সিংহ, দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্মা প্রমুখ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সেলিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সৈয়দ এপতার হোসেন পিয়ার, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি প্রমুখ।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছিল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকার রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৮০১ দিন আগে
নতুন কারিকুলাম নিয়ে কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবিক, সৃজনশীল ও বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতাসম্পন্ন জাতি গঠনে আমাদের দেশে নতুন কারিকুলাম চালু করা হয়েছে। কিন্তু কোচিং ব্যবসায়ী, গাইড ব্যবসায়ী এবং কিছু কুচক্রীমহল নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নতুন কারিকুলামের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এতে সব শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নতুন কারিকুলাম নিয়ে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা রমনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহিলা সমাবেশ ও নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
দীপু মনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে আমি যখন এই এলাকায় এসেছি, তখন কোনো দালান চোখে পড়ে নাই। শুধুমাত্র টিন দিয়ে তৈরি হতো ঘরবাড়ি। হাইমচরের মানুষ নদী ভাঙার আতঙ্কে অর্থবিত্ত থাকার পরও পাকা দালান করতো না। আপনাদের তিনটি দাবি ছিল নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, হাইমচর চাঁদপুর সড়ক সংস্কার, হাইমচর কলেজকে সরকারিকরণ ও ডিগ্রি কলেজে রুপান্তর।
তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আপনাদের তিনটি দাবি পূরণ করতে পেরেছি এবং আপনাদের দাবির চেয়েও অনেক বেশি কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। তাই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন হয়েছে।
নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
৮০১ দিন আগে
চট্টগ্রাম ১৬: আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসির মামলা
মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের মারধর ও নাজেহালের ঘটনায় চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসির নির্দেশে বাঁশখালীর নির্বাচনী কর্মকর্তা হারুন মোল্লা বাদী হয়ে নির্বাচনী আচরন বিধি আইনের ৮(খ) ধারায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি করেন।
আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা পিপি আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আদালত ফৌজদারী কার্যবিধি ২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রির্টানিং অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন এবং আগামী ৩ জানুয়ারির মধ্যে তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আসামি মোস্তাফিজুর রহমান গত ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে অবৈধভাবে শোডাউন দিয়ে পাঁচ জনের বেশি অর্থাৎ ১০০-২০০ লোক সমাগম করে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার সময় মনোনয়নপত্র জমা শেষে বেরিয়ে এলে উপস্থিত সাংবাদিকরা আসামির এমন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার বিষয় জানতে চান।
এ সময় ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন তাকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করতেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ কিল ঘুষি মারেন ওই সাংবাদিককে। এরপর ওই সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এই সময়ে আসামির সঙ্গে থাকা ২০-৩০ জন সমর্থক গণমাধ্যম কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করেন এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের হাতে থাকা মাইক্রোফোন ও ভিডিও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
একপর্যায়ে সিনিয়র সাংবাদিকরা আসামির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিরা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি চৌধুরী ফরিদসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে গলা ধাক্কা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দ্রুত চলে যান। আসামি ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিরা চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো ইনচার্জ অনুপম শীল ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১৬ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দেন এবং ওই আসামির বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করেন।
৮০১ দিন আগে