রাজনীতি
হাদির পরিবারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ, সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাস
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় ওসমান হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের তিন নেতা—আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ সময় ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারা দেশ তার জন্য দোয়া করছে। তার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সবাই চেষ্টা করছে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যদি তাকে দেশের বাইরে পাঠাতে হয়, সেক্ষেত্রে যেখানে পাঠানোর প্রয়োজন হবে, সরকার সেখানেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’
ওসমান হাদির বোন বলেন, ‘সে ছোটবেলা থেকেই দেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। ছোটবেলা থেকেই সে বিপ্লবী। বিদ্রোহী কবিতা তার প্রিয়, সে বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসে। তার একটি ১০ মাসের সন্তান আছে। হাদি আমাদের মেরুদণ্ড।’
তিনি বলেন, ‘ওর অনেক কাজ, ওকে বেঁচে থাকতে হবে। আপনারা বিপ্লবী সরকার, যে করেই হোক জুলাই বিপ্লবীদের বাঁচিয়ে রাখবে হবে। তা না হলে এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে।’
৮৩ দিন আগে
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের তফসিল ঘোষণার দুই দিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করতে পারেন।
এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর গতকাল (শুক্রবার) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরবেন।
৮৩ দিন আগে
ভয়ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান সিইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘আমাদের জাতির ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে দেশবাসীকে সমস্ত ভয়ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১১) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণাকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল মালিকানা প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে মানসম্মত নির্বাচনের অনুপস্থিতি প্রায়ই আমাদের ঐতিহ্য এবং সামষ্টিক প্রত্যাশাকে ম্লান করেছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। আমাদের ভাইবোন, সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে, একটি সুষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠান, যা জাতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা একই প্রত্যাশা ধারণ করেন এবং একই অঙ্গীকারে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের জাতির ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রশ্নে সিদ্ধান্তের নির্বাচন এটি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে যা একটি নতুন অভিজ্ঞতা।
‘দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট সকল রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্বাচন হচ্ছে সক্ষমতা প্রমাণ করে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের অনন্য সুযোগ। তৃতীয়ত, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে সৌহাদ্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ধারা প্রবর্তনের দাবি রাখে এই নির্বাচন।
‘চতুর্থত, প্রায় অকার্যকর পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে পরিমার্জন করে এই নির্বাচনে একটি কার্যকরী রূপ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের অন্যতম চালিকাশক্তি, আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের প্রথমবারের মতো ভোটের আওতায় আনা হচ্ছে। একইভাবে প্রথমবারের মতো ভোটের আওতায় আসছেন আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণ। এ ছাড়াও নিজ নির্বাচন এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণও পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে এবার ভোট দেবেন।’
ভোটারদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘ভোট আপনার শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সচেতনভাবে আপনারা পালন করবেন—এ আমার বিশ্বাস । যে কোনো ভয়নীতি, প্রলোভন, প্রবঞ্চনা এবং সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসঙ্কোচে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’
নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপদ ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহ্বান জানান, ‘ধর্ম-গোত্র-গোষ্ঠী-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলে এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করুন। পরিবারের প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও সন্তান সম্ভবা মাসহ সকলকে নিয়ে ভোট দিতে আসুন। আমি আশা করি, আপনাদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নেবে।’
প্রবাসী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসে বসবাসত প্রিয় ভোটারগণ প্রবাস থেকেই ভোটদানের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম গত ১৮ নভেম্বর থেকে চলমান আছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে ভোটদানের জন্য আপনারা নিবন্ধন করতে পারবেন। আপনারা এই সুযোগ গ্রহণ করে ভোটে অংশ নিন, দেশ গঠনে আপনাদের অধিকার বুঝে নিন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসত্য তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। প্রতিপক্ষ দল ও প্রার্থীকে হেয় করার পাশাপাশি নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা আমাদের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন এবং নির্বাচনকে কলুষিত করে।’
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, অসত্য এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারিত কোনো তথ্যে কান দেবেন না এবং গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন, অসত্য তথ্য শেয়ার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থী ও দলগুলোর উদ্দেশে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আসুন, আমরা আচরণবিধি মেনে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে ভোটারদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনই হোক আপনাদের লক্ষ্য।’
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আহ্বান, ‘নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। কমিশনের অংশ হিসেবে আপনারা নির্ভয়ে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। মনে রাখবেন, এ ব্যাপারে কোনো শিথিলতা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা অপরিসীম। আপনারা স্বাধীনভাবে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
সবশেষে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ভোটারদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফল করে ‘আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়’ ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৮৫ দিন আগে
তফসিল ঘোষণা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে একই দিন। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
বৃহস্পতিবার (১১) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১১ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো। আর গণভোটের ব্যালটের রং হবে গোলাপি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গতকাল (বুধবার) বিকালে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার। রেকর্ড করা ওই ভাষণ আজ (বৃহস্পতিবার) প্রচার করা হয়।
তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এ এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর আগে, গত ৭ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেন সিইসি। বৈঠকে কমিশন জানায়, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য তাদের সব প্রস্তুতি যথাসময়ে এগোচ্ছে। নাগরিকদের অংশগ্রহণে নির্বাচনি পরিবেশও তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোতে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী দেশে এখন মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এই ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।
৮৫ দিন আগে
জনগণকে হ্যাঁ-না ভোট বোঝানো বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্য সচিব
আগামী নির্বাচনে জনগণকে হ্যাঁ-না ভোটের বিষয়টি বোঝানো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেছেন, জনগণ এই নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় সহজ ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য সচিব বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতেও তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
গত ১৫ বছরের নির্বাচনি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে ভোট ও নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে, বিশেষ করে তরুণ, নারী ও অনগ্রসর এলাকার ভোটারদের।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ ও না ভোটের বিষয়টি জনগণকে সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ তারা এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন।’
গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধেও তথ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন মাহবুবা ফারজানা। এ ছাড়া তিনি কর্মকর্তাদের নির্বাচনি আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রচার-প্রচারণার কাজ করবে। পাশাপাশি ৩০টি জেলায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর।
৮৫ দিন আগে
তারেক রহমান যেদিন ফিরবেন, দেশ যেন কেঁপে ওঠে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘শিগগিরই’ দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের তাকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে দলের মহাসচিব এ কথা জানান।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই কর্মশালায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশের সব এখানে উপস্থিত আছেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত আছেন; আমি আপনাদেরকে জানাতে চাই, আমাদের নেতা খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে আসবেন।
‘আমাদের নেতা যেদিন আমাদের কাছে আসবেন, যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন; সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এই কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে…পারবেন তো? ইনশাআল্লাহ, সেইদিন আমরা গোটা বাংলাদেশের চেহারাকে বদলে দিতে চাই।’
১৭ বছর ধরে নির্বাসিত বিএনপি নেতা তারেক রহমান নভেম্বরে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরবেন বলে দলটির নেতারা বলে আসছিলেন। এর মধ্যে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তারেকের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হলে তার দেশে ফেরার আলোচনা জোরালো হয়।
তবে গত ২৯ নভেম্বর তারেক নিজেই ফেইসবুক পোস্টে বলেন, দেশে ফেরার বিষয়টি তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন’ নয়। তার এমন বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।
ফখরুল বলেন, ‘আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই, প্রগতির দিকে এগোতে চাই। বাংলাদেশকে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাদের নেতার যে চিন্তাভাবনা, তাকে বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেদে ভাষণ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।
এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ এসেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ এসেছে, যা বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।’
তিনি বলেন, ‘অনেক বাধা আসবে, অনেক বিপত্তি আসবে, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক প্রচারণা হচ্ছে, হতে থাকবে। কিন্তু এই সবগুলোকে কাটিয়ে উঠে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। বিএনপি কোনোদিনই পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না।’
বিএনপিকে জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দল হিসেবে উল্লেখ করে ফখরুল নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আর অন্য কোনো কিছু আপনাদের সাফল্য দেবে না। আপনাদের সাফল্য দেবে আপনাদের মধ্যে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য এবং আপনাদের যে চেতনা সামনের দিকে যাওয়ার, যে জাতীয়তাবাদী দর্শনে আমরা দীক্ষিত হয়েছি, যে গণতন্ত্রের দর্শনে দীক্ষিত হয়েছি, সেদিকে এগিয়ে যাওয়ার এই চেতনা।’
এর আগে, গত ২৭ নভেম্বর বিএনপি ছয় দিনের এই কর্মশালার ঘোষণা দেয়। এতে ছাত্রদল, কৃষকদল, ওলামাদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নির্বাচনপূর্ব প্রচারের জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন রাখা হয়েছে।
আজ কর্মশালার পঞ্চম দিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় বিএনপি নেতারা অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। কর্মসূচিতে বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৮৫ দিন আগে
যারা সংস্কারের কথা বলছেন, তারা জানেনই না কী সংস্কার করতে হবে: মির্জা আব্বাস
যারা সংস্কারের কথা বলছেন তারা নিজেরাই জানে না কী সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, তারা শুধু জানে ক্ষমতায় যাবার সংস্কার।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালার চতুর্থ দিনের কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ৭ দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চতুর্থদিনের এই কর্মসূচিতে যুবদল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
মির্জা আব্বাস বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলেন, তারা জানেনই যে না কী সংস্কার করতে হবে। তার শুধু একটাই সংস্কার জানেন, তাদের এমন একটা সংস্কার করতে হবে, যে সংস্কার করলে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। এমন চিন্তাভাবনা তারা করে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আজকে আমি গভীল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব এই কারণে যে, তিনি এমন সব কাজ করেছিলেন, যেগুলো তিনি কখনো ঘোষণা দেননি। উনি গার্মেন্টস সেক্টরটা বাংলাদেশে আনলেন, অথচ কোনো (সংস্কারের) দফা ছিল না। এটাই একটা সংস্কারম বিশাল বড় সংস্কার। এ দেশের অর্থনীতি আজকে গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর করে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৫০ শতাংশ এখন গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল।
এই বিএনপি নেতা বলেন, কর্মক্ষম মানুষ বিদেশে রপ্তানি করাও জিয়াউর রহমানের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটিও সংস্কার। যুব মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাও তার সংস্কারের মধ্যে পড়ে। ঘোষণা ছাড়াই এমন বহু সংস্কার তিনি করেছেন।
এ সময় কীভাবে জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে, তার দিকনির্দেশনা দেন এই বিএনপি নেতা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
কর্মসূচিতে বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৮৬ দিন আগে
প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বিএনপি সমাধানে বিশ্বাসী: তারেক রহমান
সমাধানের পথে বিশ্বাস রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি আজ প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।
জাতীয় মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।
তারেক রহমান লিখেছেন, ‘১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানবাধিকারই মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত। আমরা আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনি- আর অসংখ্য শহীদের গল্প মনে রাখি, যেন ভবিষ্যতে এমন নিপীড়ন আর দায়মুক্তি আর কখনো ফিরে না আসে।’
১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘কেউ সেই অন্ধকারকে খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা। অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করেছে সেই প্রিয়জনদের জন্য, যারা আর কোনোদিন ঘরে ফিরে আসেনি।
‘এই বোঝা বিএনপির চেয়ে বেশি আর কেউ বহন করেনি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা—সব জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘরেই।’
‘কিন্তু অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ—সবাই সেই ভয়ঙ্কর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে। নূন্যতম মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত মর্যাদা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকারের মতো মৌলিক সব বিষয়গুলো ছিল হুমকির মুখে।’
তিনি বলেন, ‘এই বছরগুলোতে আমাকেও কথা বলার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে আমার কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়। দেশের কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া যেন আমার কোনো বক্তব্য প্রকাশ না করা হয়, এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবুও এই চাপিয়ে দেওয়া নীরবতার মধ্যেও আমি অধিকার, গণতন্ত্র আর মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছি, কারণ সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না।’
‘এই পুরো অন্ধকার সময়টায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের ধৈর্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস, তাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা—এ সবই পুরো দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন। তবুও তিনি তার গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি। তার বিশ্বাস একটাই— অধিকার সবার; ভয় দেখিয়ে দেশকে এগোনো যায় না।’
দেশকে বদলাতে হলে ঘৃণার পথ নয়, ন্যায়, নৈতিকতা আর ক্ষমাশীলতার পথই ভবিষ্যত গড়ে বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। তার মতে, ‘আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনীতির চেয়েও বড় কিছু—একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে সবার জন্য মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মত যেখানে হুমকি না হয়ে বরং গণতন্ত্রের অংশ হবে। যেখানে ভিন্ন মতের কারণে কাউকে নিপীড়িত হতে হবে না বা গুম হয়ে যেতে হবে না।’
ক্ষমাশীলতার সূত্র ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি আজ প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে, আমরা সমাধানের পথে বিশ্বাসী। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন আর আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান; যেখানে মানবাধিকার আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।’
৮৬ দিন আগে
বুধবার সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা: ইসি মাছউদ
আগামীকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় অথবা পরদিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি মাছউদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণায় রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আগামীকাল দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত—কোনো দলের প্রতীক থাকবে না বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
৮৭ দিন আগে
জনগণ দায়িত্ব দিলে বিএনপি আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বে: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতির রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই আছে এবং জনগণকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলটি আবারও এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসকে সামনে রেখে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি কিভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে—তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে কথা বললেই বুঝবেন। মাসের পর মাস ধরে একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকান। হাসপাতালে গিয়ে এক তরুণের পরিবার কিভাবে ভোগান্তিতে পড়ে, সেটা শুনুন।’
তিনি বলেন, ‘খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই—সব কিছুর পেছনে সেই একই কারণ: দুর্নীতি। এটা লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা আর অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন—যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। তারপর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়; নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা, আর পরিষ্কার নজরদারি।
সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে ‘দুদক’ গঠন; একটি স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি সবাই বলেছিল—এটা বাংলাদেশের জবাবদিহিতার বড় অগ্রগতি। টিআইবির জরিপেও দেখা গেছে—২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। মানুষ নিজেরাই বলেছে—দুর্নীতি কমেছে। এটা কোনো গল্প নয়, এটা তখনকার সংস্কারের প্রমাণ।
বিএনপি গর্ব করতে পারে কিছু বড় পরিবর্তনের জন্য:
· শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা: বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট, ব্যাংকিং ও মানি লন্ডারিং-বিরোধী আইন।
· স্বচ্ছ ক্রয় নীতি: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নিয়মের মধ্যে সরকারি ক্রয়-যা পরবর্তী সময় দেশের সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতার আইনের ভিত্তি তৈরি করে।
· উন্মুক্ত বাজার: টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন; যেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ায় দুর্নীতি কমে, সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়ে।
· ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসন কম জটিল, কম ইচ্ছাধীন, বেশি মানুষের কাছে জবাবদিহিতা।
· তাই কথাটা স্পষ্ট—দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই আছে।
· আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরো শক্তভাবে চালাতে বিএনপির পরিকল্পনা:
· প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন, সরকারি সেবা; কেউই যেন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে না থাকে।
· পুরোপুরি স্বচ্ছতা: উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট, শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন।
· বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্কার: পেশাদার পুলিশিং, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ।
· ই-গভর্ন্যান্স: লাইসেন্স, জমি, পেমেন্ট; সব অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো (বিশ্বমান অনুযায়ী ৩০–৬০% দুর্নীতি কমতে পারে)।
· হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা: অনিয়ম ফাঁস করতে যারা সাহস দেখায়, তাদের নিরাপত্তা প্রদান।
· নৈতিক শিক্ষা: স্কুল–কলেজ থেকেই সততার চর্চা পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করা।
· শক্তিশালী আর্থিক নজরদারি: ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং ও স্বাধীন অডিট, সংসদের কঠোর তদারকি।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, ‘বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’
৮৭ দিন আগে