রাজনীতি
ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন
গত ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণার করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদেশ অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া মিলে পাবনা-২ আসন বলে গণ্য হবে।
আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করা হয়েছিল।
গত ৫ জানুয়ারি পাবনার-১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২৪ ডিসেম্বরের জারি করা গেজেট স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এরপর গত ৬ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।
পরে গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আবেদনে পাবনা-১ ও ২ আসনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ আবেদন করেন।
গত ২৪ ডিসেম্বরের গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, পাবনা-১ (নির্বাচনি এলাকা: ৬৮) আসনের সীমানায় সাথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাবনা-২ (নির্বাচনি এলাকা: ৬৯) আসনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সুজানগর উপজেলা এবং উল্লিখিত একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন (বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন) ব্যতীত বেড়া উপজেলা। ওই গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৪০ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক হবে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় নির্বাচনকালীন পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এটি হবে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এর আগে, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম একান্ত বৈঠক হয়। তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতি দেয়।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হলেও দেশে ফেরার পর আজকের বৈঠকই হবে দুজনের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংস্কার বিষয়ে গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গণভোট হওয়ার কথাও রয়েছে।
১৪০ দিন আগে
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রত্যেকটা ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরের শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুরের পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী।
রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাহীপ্রধান, একইসঙ্গে সংসদনেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্বও তার হাতেই থাকে। ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করার কারণেই ক্ষমতাসীনরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, এ কারণেই জুলাই সনদে এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠানবিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলোতে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা হয়েছে।
গণভোটের মার্কা ‘টিক চিহ্ন’ উল্লেখ করে সরকারের পক্ষে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের এই মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নের ওপর সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
‘যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয়, তারা ফ্যাসিস্টের পক্ষে’ উল্লেখ করেন সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এক দানবীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। বিদ্যমান সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণেই আমরা বারবার তাদের হাতে জিম্মি হয়েছি। তাই যারা ফ্যাসিবাদকে আবারও ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করে দিতে চায়।
মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ও সঠিক তথ্য জানাতে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
এ সময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন; মর্যাদা হারিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সুশাসনের পক্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই শাসন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
১৪০ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ঝিনাইদহ কারাগারের ৭৯ জন কয়েদি
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহ জেলার ২১ হাজার ১২১ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ কারাগারে বন্দি ৭৯ জন কয়েদি ভোট দিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে নিবন্ধিত পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের মধ্যে জেলা কারাগারে থাকা বন্দি ভোটার রয়েছেন ৭৯ জন। এছাড়া ঝিনাইদহের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য ভোটার রয়েছেন ১৪ হাজার ৫১১ জন। অপরদিকে বিভিন্ন দেশে ঝিনাইদহের প্রায় ৮৫ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৬ হাজার ৫৩১ জন।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪ হাজার ৬০ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে ৭ হাজার ১৩৮ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৫ হাজার ৪০৬ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৪ হাজার ৪৩৮ জন ভোটারকে আসনভিত্তিক ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাদের ভোট প্রধান করতে পারবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোস্টাল ব্যালট ভোটার মজনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবারই চাকরির কারণে এলাকার বাইরে থাকায় ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। এতে আমার মতো অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।’
আজ (বুধবার) জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন জানান, কর্মস্থল, বিদেশ বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আলমগীর হুসাইন জানান, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
১৪১ দিন আগে
ছাত্রদলে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
এর আগে, আব্দুর রহমান বাবু ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে তার অনুসারীদের জড়ো করেন। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাপ রসুল মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
সদ্য ছাত্রদলে যোগ দেওয়া আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। গত ১৬ মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলায় ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি আমাকে ফেনী জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছিল যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কাজ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারেনি। কিন্তু যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপির রাজনীতি আমার কাছে ভালো লাগে। তাই আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু জানান, বাবু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। আমি তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানাই। বাবু মনে করেছেন, তিনি যাদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই তিনি প্রথমে পদত্যাগ করেছেন, এরপর শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
১৪২ দিন আগে
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বার বার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।
এ কারণেই জুলাই সনদে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন জনগণ ও সকল দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে সেইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামত প্রতিফলিত হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সকল মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও আমরা সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় বিবেচনায় ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আমাদের তরুণরা তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আর যেন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় তা নিশ্চিতে দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের।
এই গণভোট আমাদের ভিত্তি তৈরি করার নির্বাচন উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, যদি আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনগুলো দেখতে চাই এবং একে আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে চাই তাহলে গণভোটের মাধ্যমে রায় দিতে হবে।
সভার বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, গণভোট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আপনার-আমার সন্তানকে আবার জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, পরেরবার খুব দ্রুতই ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যতকে নিরাপদ রাখতেই জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই আশ্বস্ত করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মনির হায়দার বলেন, গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই। গণভোট আমাদের সবার এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ তার বক্তব্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি উল্লেখ করে তিনি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
১৪৩ দিন আগে
খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মঈন খান
সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মতো সজ্জন ও ন্যায়পরায়ণ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আর আসবে না।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড কার্যালয়ে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এসএবিসিসিআই) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার স্মৃতির স্মরণে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী।
বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল মঈন খান বলেন, তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ছিল আমার জীবনের সেরা অর্জন। একবার সচিব নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমাকে ডেকে পাঠান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। একজন কর্মকর্তার নাম বলে তিনি জানতে চান সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিলে আমার কোনো আপত্তি আছে কিনা? ঘটনাটি বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মঈন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা আমি যতটা পরিবর্তন করেছিলাম তার সব কৃতিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার। তার রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশনেত্রীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম এবং অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে এসএবিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান সভায় উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আলোচনা শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
১৪৩ দিন আগে
আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট কট্রোল বোর্ডের (বিসিবি) সদস্যও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না; রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
‘সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বেটার।’
এ সময় সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কটা প্রস্তুত করবেন—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কুটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা, পদ্মা ও অভিন্ন নদী যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় দুটি দল নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার বেলা প্রযোজ্য নয়। এই দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন! যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেনশিয়াল ফরম থেকে পার্লামেন্টারি ফরমে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।
‘এখন যে সংস্কার কমিটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট (স্বয়ংসম্পূর্ণ) একটি রাজনৈতিক দল, যে অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সব ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে তখন, তার আগে বোঝা যাবে না। প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই রকম উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদি যে নির্বাচন চলাকালীন উন্নতি করবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪৩ দিন আগে
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা আজ
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনভিত্তিক কূটনীতিক, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
স্মরণসভাটির আয়োজক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্মরণসভায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
১৪৪ দিন আগে
গণভোট সম্পর্কে সচেতনতায় দেশজুড়ে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন
তৃণমূলে গণভোটের বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে ও সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি চলছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসাবে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বরিশালে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন। এতে গণভোট বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। আগামী কয়েক দিনে অন্য সব বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কর্মসূচিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী, ১৪ জানুয়ারি রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, ২২ জানুয়ারি সিলেটে এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি-সম্পাদক, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমিতি, এনজিও প্রধানগণ বা এনজিও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সম্পাদক, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। মতবিনিময় সভায় গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজনদের সচেতনামূলক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
১৪৪ দিন আগে