রাজনীতি
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
১৯ দিন আগে
কুমিল্লায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, আর টিকেছে ২৬ জনের। এ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রায় ৬৮ শতাংশেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা-১ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৭ জনের।
এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আবুল কালাম, এবি পার্টির মো. সফিউল বাসার ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান।
কুমিল্লা-২ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম ও জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন।
কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৭ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান, বিআরপির মো. এমদাদুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার ও এনডিএমের রিয়াজ মো. শরীফ।
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম।
কুমিল্লা-৫ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৮ জনের। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তানজিল আহমেদ, এনপিপির মো. আবুল বাসার, জাতীয় পার্টির মো. এমরানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও জেএসডির শিরিন আক্তার।
কুমিল্লা-৬ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জেএসডির ওবায়দুল করিম মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী, বিএমএলের মো. ইয়াছিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী।
কুমিল্লা-৭ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২ জনের। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. এহতেশামুল হক এবং মুক্তিজোটের সজল কুমার কর।
কুমিল্লা-৮ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান, বিএসপির মোহাম্মদ গোলাম মোরশেদ, বাসদের মো. আলী আশ্রাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলাম ছাদেক ও বিআরপির মফিজ উদ্দীন আহমেদ।
কুমিল্লা-৯ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ জনের, প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর ছিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদের।
কুমিল্লা-১০ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— মুক্তিজোটের কাজী নুওে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ।
কুমিল্লা-১১ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৫ জনের। এই আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেম কংগ্রেসের আ ফ ম আবদুর রহিম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন।
১৯ দিন আগে
দলে ফিরিয়ে নিন, নাহলে শপথ নেব না: হান্নান
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ী বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ী প্রতীক) এম এ হান্নান বলেছেন, ‘আমাকে আমার প্রিয় দল বিএনপিতে ফিরিয়ে নিন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় আমি শপথে অংশ নেব না।’
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তিনি এই আকুতি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশীদ পাঠান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রেসক্লাব সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ।
হান্নান বলেন, আমি ছাত্রজীবন সময় থেকে প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান, তার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শ্রদ্বা করি ও ভালবাসি। আমার প্রাণের দল বিএনপি। আমরণ এ দলে আছি, থাকব। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্বে ষড়যন্ত্র করে আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করে।
এ ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুঃখকে বুকে নিয়ে কুচক্রীদের সমুচিত জবাব দিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমি এমপি ইলেকশনে নামি ও জয়লাভ করি। কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহান আল্লাহ ও উপজেলা, পৌরসভা ও ১৬ ইউনিয়নের আপামর জনগণ আমার সঙ্গে আছে।
তিনি আরও বলেন, তাই দলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আমাকে আমার প্রিয় দলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে নিন। না হয় আমি শপথ অনুষ্ঠানে যাব না। শপথও নেব না।
‘ভোটে কারচুপি করে জয়ী হয়েছেন’—ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী হারুনর রশীদের এমন অভিযোগকে তিনি (হান্নান) ‘ঢাহা মিথ্যা, মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, রমজানে তিনি উপজেলার সকল ইউনিয়নের ছোটবড়, ময়মুরুব্বি—সবার সঙ্গে দেখা করবেন।
নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করব।
এ সময় তার সঙ্গে ফরিদগঞ্জের সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
সিলেটে বিএনপির তিন প্রবাসী প্রার্থীর জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন প্রবাসী। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা জয়ও পেয়েছেন। এসব বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আছেন।
সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির যুক্তরাজ্য শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ–৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ও মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম মনোনয়ন পান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সিলেট–৩ আসনে এম এ মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪।
সুনামগঞ্জ–৩ আসনে মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৪২ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন তালা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার–২ আসনে ৮৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মো. সওকতুল ইসলাম। জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক ও কয়ছর আহমদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৎপর হন।
এম এ মালিক দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত ১৭ অক্টোবর দেশে আসেন। এর আগে প্রবাসে থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলায়, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি প্রবাসে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নিয়মিত বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে দলের ভেতরে–বাইরে আলোচিত হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে প্রায় এক যুগ পর দেশে ফেরেন কয়ছর আহমদ। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় শক্তিশালী প্রার্থী তেমন ছিলেন না। সে কারণেই তিনি সহজেই ভোটের মাঠ দখলে নিয়ে নেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম অনিয়মিতভাবে দেশে আসতেন। তিনি ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সওকতুল ইসলাম এলাকায় থেকে নানা কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেন।
১৯ দিন আগে
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার বিকেলে, এমপিদের সকালে
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একইদিন (মঙ্গলবার) সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকারপ্রধান করার অনুরোধ করবেন। রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
১৯ দিন আগে
জনগণ বিশ্বাস-ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার প্রতিদানের পালা: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছে এবার তার প্রতিদান দেওয়ার পালা।
তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এ বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পালা। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল–এর গ্র্যান্ড বলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ আবারও বিএনপিকে বিজয়ী করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। তবে মনে রাখতে হবে, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি... এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।
‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে...এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলতঃ গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ... এই দীর্ঘ সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেসব বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।
জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারাদেশে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।
সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়েছিলেন। স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপোষ করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল, অবিচল। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি, আমি—আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে... এ জন্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আমি সারাদেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।
তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত... প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা আশা করছি। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রতি আবারও বিজয়ের অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেল ও চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
২০ দিন আগে
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে দিলেন নবনির্বাচিত এমপি
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এলাকায় ব্যাপক হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে নিজ দলের পাঁচ কর্মীকে পুলিশে দিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনে নব-নির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের ওই ৫ কর্মীকে চাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করেন তিনি।
তারা হলেন— শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকার নাহিদুল ইসলাম জনি, মোবারক হোসেন বেপারী, জনি গাজী, মনির ও ফাহিম। তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন চলাকালীন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হানাহানি, উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (১৪ ফেব্রুয়ারি) মো. ফয়েজ আহমেদ ইউএনবিকে জানান, শুক্রবার রাতে আটক ৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদেরও আটকের জন্য অভিযান চলছে।
২০ দিন আগে
নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা—এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনি পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ—এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
২০ দিন আগে
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
২০ দিন আগে
জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্যে, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
২০ দিন আগে