রাজনীতি
দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান তারেক রহমানের
দেশের নতুন রূপরেখা ও জাতি গঠনে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তাকে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমনকি রাস্তায় একটি ময়লা কাগজ পড়ে থাকলেও তা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।’
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রায় দেড় যুগ পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এসময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান।
এসময় কার্যালয়ের বাইরে ভিড় জমান বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী। তারেক রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বারান্দায় এসে নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
সেসময় তিনি লক্ষ্য করেন, কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও আশপাশে নেতা-কর্মীদের ভিড়ে সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে মাইক হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেহেতু আজকে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই, তাই জনদুর্ভোগ এড়াতে আমি আপনাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনাদের অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
একইসঙ্গে তিনি তার অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
এর আগে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহর নয়াপল্টনের উদ্দেশে রওনা হয়। নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় ঠেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে তার প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে। বিকেল ৪টার দিকে তিনি কার্যালয়ের মূল ফটকে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান রিজভী ও মিল্লাতসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের আগমনের খবরে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। তারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করেন। এ সময় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলটির কার্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।
১৫৭ দিন আগে
ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা, রয়েছে বিকল্প প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে এই আসনটিতে বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে দলটি। এ কারণে আসনটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক ও ওই আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফেনী-১ আসন থেকে এর আগে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ (সোমবার) খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, আলাল উদ্দিন আলালসহ জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীরা।
এই আসনে বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রাখার ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নেত্রী অসুস্থ থাকায় বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। যদি শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, তখন বিকল্প চিন্তা করা হবে। তবে খালেদা জিয়া মাঠে না থাকলেও তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের নেতৃত্বে গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুইবার), ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসনটি বরাবরই খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে এই আসনে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
একই সময়ে ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন; ফেনী-২ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া; ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফেনী-১ আসনে ১৩, ফেনী-২ আসনে ১৬ এবং ফেনী-৩ আসনে ১৬ জনসহ মোট ৪৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৫৭ দিন আগে
মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মির্জা ফখরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন পর আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা আবারো আমাকে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
এ সময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, যদি আমরা সুযোগ পাই, জনগণের ভালোবাসায় যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে নিশ্চয় এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন, সামাজিক পরিবেশ, এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাব এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করব। এ ছাড়াও কর্মসংস্থানকে সৃষ্টির বিষয়গুলোতে সবচেয়ে গুরুত্ব আরোপ করব। এর পাশাপাশি কৃষকদের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকার জনগণের কাছে আমার আবেদন ও অনুরোধ থাকবে, আপনারা দয়া করে এই অঞ্চলে আগে আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, এখনো সেইভাবে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মাওলানা দেলোয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
১৫৭ দিন আগে
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মনোনয়নপত্র জমা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জামায়াত আমিরের পক্ষে তিন সদস্যের একটি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অবস্থিত ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলীর হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও এবার ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডা. শফিকুর রহমান।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৫৭ দিন আগে
জামায়াতের ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিত
আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কৃষি ও কৃষি-প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আগামী ৩ জানুয়ারি দেশের ৯টি কৃষি ও কৃষি-প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
১৫৭ দিন আগে
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তার প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। তাকে অত্যাচার-নিপীড়ন করা হয়েছে। আমরা আপনাদের সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই। আগামী নির্বাচনে আমরা বিশ্বাস করি, উনি এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন এবং দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের যে আজকে একটা ক্রাইসিস, সংকট চলছে, সেটা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সচেষ্ট হবেন।
অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার।
এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনুর নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, রবিবার বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দিনাজপুর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শয়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং দলের সব প্রার্থী নিজ নিজ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৫৭ দিন আগে
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দিল এনসিপি
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ৮ দলের ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার আবদুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এতদিন ধরে আটটি দল একসঙ্গে কাজ করে আসছিল। আজ আরও দুটি দল আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও এনসিপি।’
তিনি বলেন, একটু আগে আমাদের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। তারা বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এনসিপির নাহিদ ইসলাম আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের অবহিত করেছেন। তারা আলাদা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত ও আমাদের ঐক্যের ভিত্তি আপনাদের জানিয়ে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের একটি মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা। সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে আসন বণ্টন নির্ধারণ করেছি। যেহেতু দুটি দল একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে।
তিনি জানান, আরও কয়েকটি দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন। যেসব বিষয় সামান্য বাকি রয়েছে, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোও সুন্দরভাবে সমাধান করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
উল্লেখ্য, জামায়াতসহ আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ছিল। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যান্য দলগুলো হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
১৫৮ দিন আগে
ভোটার হলেন তারেক রহমান
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটার হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা সারার পরের দিনই তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেবের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাননীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।’
এর আগে, গতকাল (শনিবার) তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান আগাওগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন ও ভোটার হওয়ার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তারেক রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ভোটার নিবন্ধনে গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাড়ি তাদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
তিনি আরও বলেছিলেন, ভোটার নিবন্ধন আইন ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক, ভোটার হতে সক্ষম ব্যক্তিকে ভোটার করার এখতিয়ার কমিশনের আছে। তাদের (তারেক ও জাইমা) আবেদন আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে পেশ করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
১৫৮ দিন আগে
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠাই বিএনপির লক্ষ্য: ফখরুল
ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও শহরের মানব কল্যাণ পরিষদ চত্বরে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্ট আমরা সবসময় করে এসেছি।
‘আমি যখন চরমোনাই পীর সাহেবের সঙ্গে বসেছিলাম, আমরা ১০টা বিষয়ের মধ্যে একমত হয়েছিলাম। তার মধ্যে এটা একটা। অনেকেই আপনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য বলে, আমরা নাকি কুরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ! আমরা সবসময় কোরআন-সুন্নাহর মধ্যে থাকতে চাই। আমাদের বংশ সেটা, আমাদের রক্তের মধ্যে সেটা। আমি গর্বিত যে আমি একজন মুসলমান।’
তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমি আমার ইবাদত শান্তিতে করতে পারব, আমার ধর্মচর্চা শান্তিতে করতে পারব, আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব নির্বাসিত অবস্থা থেকে দেশে আসার পরে কীভাবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণ ঢাকার রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আলেম-ওলামারা সবাই সেটাকে পছন্দ করেছেন। তিনি সেখানে বারবার ইসলামের কথা বলেছেন, আল্লাহর কথা বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কে অনেকেই অনেক কথা বলে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আমরা এদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলমান। আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আমরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছি।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একটি ক্রান্তিকালের মধ্যে পার হচ্ছে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, আন্দোলন হচ্ছে। দেশকে অস্থির করার জন্য পেছন থেকে কিছু লোক কাজ করছে।
আবার যেন অন্ধকারের দিকে চলে না যেতে হয়, সেজন্য আমাদের এই সময়ে একটু সাবধান থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা যেন বিভেদ ও চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি। নাহলে দেশ আমাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনাও এসময় তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে যেতে পারি, তাহলে অবশ্যই ঠাকুরগাঁওয়ে পুনরায় বিমানবন্দর চালু করা হবে। আপনারা মেডিকেল কলেজের কথা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন, সবগুলোই প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এই ঠাকুরগাঁওয়ে যতগুলো স্কুল-কলেজ, মাদরাসা রয়েছে, আমি বিশ্বাস করি, তার ৯০ শতাংশে আমাদের অবদান রয়েছে।
‘আপনারা জানেন, বিএনপি একটা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে মাসিক সম্মানী-ভাতা দেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে। দক্ষতার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’
সবশেষে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে। এরপরে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা জানি না। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন যে আমি অতীতে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, কাজ করতে পেরেছি, তাহলে দয়া করে আমাকে (নির্বাচনে) সহযোগিতা করবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫৮ দিন আগে
এবার এনসিপি ছাড়লেন তাজনূভা জাবীন
এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করার কথা ছিল তার।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
দীর্ঘ পোস্টের একাংশে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি লিখেছেন, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।
তিনি লিখেছেন, এই দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দেবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স; কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে, সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এত ব্যস্ত যে এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।
তাজনূভা জাবীন বলেন, পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারো সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া কোনো উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যাই হোক, এটা কোনো রাজনৈতিক কৌশল না, এটাই পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, নিজেরও ভালো লাগছে না এভাবে ছেড়ে যেতে, কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই, তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে, তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে।…যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।
তিনি আরও বলেন, যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি, আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন্য সঠিক।
পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেবেন জানিয়ে তাজনুভা বলেন, আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
শেষে তিনি বলেছেন, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য। আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ আরো জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পড়ে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দেবে বাকিটা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাও পদত্যাগ করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে লড়বেন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার দলটি থেকে পদত্যাগ করেন এনসিপিতে জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।
১৫৮ দিন আগে