রাজনীতি
শেখ হাসিনা ঢাকার বড় কসাই, তার কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রেখেছে সরকার: প্রেস সচিব
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথাও ঝটিকা মিছিল বা সভা-সমাবেশ করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঢাকার কসাই; আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ। যারা ঝটিকা মিছিল বা সভা-সমাবেশ করতে চাইবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। যারা মিছিল করবেন বা মিটিং করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে সে নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।’
ভারত থেকে হাসিনার দেওয়া বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনা পাশের দেশে বসে কী করছেন, তা পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। শত শত মানুষকে হত্যা করায় শেখ হাসিনাকে “বুচার অব বেঙ্গল” বলে অভিহিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ—আইসিটিসহ সব জায়গায় নিষিদ্ধ। হাসিনার উসকানিতে যারা মিছিল-মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমে অংশ নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনাকে নানা বিষয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে, এমনকি তিনি জুলাই বিদ্রোহে যোগ দেওয়া মানুষদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবে।
এ বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, রায়টি (হাসিনার বিরুদ্ধে) ঘোষিত হোক। তারপর আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি ভারতের সঙ্গে উত্থাপন করবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে হাসিনার অপরাধের সুস্পষ্ট নথি রয়েছে এবং সাংবাদিকদের তা পড়ার অনুরোধ জানান।
গত ৬ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশরি বলেন, এটি একটি ‘বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া’ এবং এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে ‘আলোচনা ও পরামর্শ’ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আমরা আগ্রহী।’
এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলা এই মুহূর্তে ‘সংগত নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক সাংবাদিক জানতে চান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও জাতিসংঘের উদ্দেশে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে যে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে, সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জবাবে প্রেস সেক্রেটারি আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি ইউএনডিপিকে প্রশ্ন করবেন। আপনি ইউএনডিপিকে জিজ্ঞেস করবেন।’
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সিনিয়র সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ফয়েজ আহম্মদ এবং সহকারী প্রেস সেক্রেটারি সুচিস্মিতা তিথি উপস্থিত ছিলেন।
১২১ দিন আগে
এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেসব আসন থেকে লড়বেন, সেখানে এনসিপি কোনো প্রার্থী নাও দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেন তিনি।
৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা খুব স্পষ্টভাবেই এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমাদের সংস্কার ও জুলাই সনদের দাবির সঙ্গে কোনো দল সংহতি প্রকাশ করলে জোটের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তিনটি আসন থেকে লড়বেন। এসব আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী নাও দিতে পারে। বিএনপির চেয়ারপারসনসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের সম্মানে আমরা প্রার্থী নাও দিতে পারি।”
এর আগে, মঙ্গলবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিপক্ষে এনসিপি কোনো প্রার্থী দেবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এবার বাংলাদেশের নির্বাচনের সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে চাই। আমরা দেখি, যাদের টাকা আছে, যারা এলাকার গডফাদারগিরি করেন, তারাই নির্বাচন করেন।”
তিনি আরও বলেন, “একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে এলাকার শিক্ষক রয়েছেন, ইমাম রয়েছেন, গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—তাদের আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চাই।”
এ সময় শাপলা কলির বিজয়ের জন্য তিনি জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
১২১ দিন আগে
নির্বাচনে কোনো জোট গঠন করবে না জামায়াত: শফিকুর রহমান
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কোনো জোট গঠন করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের জোট করার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে’।
আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হবে বলেও জানান জামায়াত আমির। অন্যথায় দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি নিজের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিদেশে প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। প্রবাসী বাংরাদেশিরা তাদের বুকের উষ্ণতা ও ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে এসেছেন। তাদের বুকভরা ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। তাদের আকাশ সমান প্রত্যাশা এই জাতির কাছে। তারাও জাতি বিনির্মাণে অবদান রাখতে চান। এই জাতির কাছে তাদের পাবার কিছু নেই। তারা একটু সম্মান চান।’
শফিকুর রহমান তৃতীয়বারের মতো দলের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেটে এলেন।
১২১ দিন আগে
১০ নভেম্বরের পর ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে না
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটারের ঠিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোটারদের বাসস্থান পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটার ঠিকানা স্থানান্তরের আবেদনের সময়সীমা ঘোষণা করে ইসি।
ইসির অফিস আদেশ অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১০ নভেম্বর। এর পর ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তন (রিলোকেশন) সংক্রান্ত কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এ ছাড়া নিবন্ধন কর্মকর্তাদের ১৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদনগুলো অনুমোদন বা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
১২২ দিন আগে
এনসিপিসহ ৩ দলকে প্রতীক ও নিবন্ধন দিয়ে ইসির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ তিনটি রাজনৈতিক দলকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে ‘হ্যান্ডশেক’ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-কে ‘কাঁচি’ প্রতীকে নিবন্ধন দিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সই করা আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এই তিন দলের নিবন্ধনের নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ কারণ উল্লেখপূর্বক ১২ নভেম্বরের মধ্যে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করেছে ইসি। এরপর উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি করে ১৪-১৫ নভেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরপর জুলাই সনদসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলটি সরব রয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন কারাগার থেকে বেরিয়ে গত ১৭ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি’ নামে নতুন দলের সূচনা করেন। তবে কাছাকাছি নামের আরেকটি দল আপত্তি তোলায় দলটি নাম পাল্টিয়ে হয় ‘বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি’।
এছাড়া, ২০১৩ সালে ১২ এপ্রিল বাসদের তৎকালীন সাধারণ খালেকুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে দলের আদর্শচ্যুতির অভিযোগ এনে বেরিয়ে যান ওই সময়কার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ও শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী। ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে মুবিনুল হায়দারকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় বাসদ (মার্কসবাদী)।
তিনটি দলই ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯০ (খ) অনুচ্ছেদের আওতায় নিবন্ধিত হয়েছে।
১২২ দিন আগে
মনোনয়নের জেরে সহিংসতা: সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪ নেতাকে বহিষ্কার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও সড়ক অবরোধে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বাবর, সীতাকুণ্ড পৌরসভার আহ্বায়ক মো. মামুন, যুবদলের সোনাইছড়ীর সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পরে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কদমরসুল, ভাটিয়ারী বাজার, জলিল গেট এলাকায় সহিংসতা, হানাহানি ও রাস্তা অবরোধসহ নানাবিধ জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় ওই চার নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতারা বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম-৪ আসনে মনোনয়ন পাননি।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের চেয়ারপারসনের অফিসে ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১২২ দিন আগে
২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী–০১, বগুড়া–০৭ ও দিনাজপুর–০৩ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুসারে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করবেন বগুড়া-৬ আসনে। আর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে।
মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি সেগুলো পরে ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে কিছু আসন শরিকদের ছাড়া হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পরে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। বিএনপির পক্ষ থেকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সারা দেশে সব ইউনিটে কাজ শুরু করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে যেসব আসনে তাদের প্রার্থী দিতে চান, সেখানে আমরা প্রার্থী দিইনি। তারা এসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
১২৩ দিন আগে
বিএনপির দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তে বৈঠক শুরু
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। বৈঠকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। বৈঠক শেষে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির জেলা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দল ও জোটের একক প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা।
এমন এক সময়ে এই বৈঠকের ঘোষণা এসেছে, যখন এর একদিন আগে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান ঘোষণা দেন যে শিগগিরই দলীয় প্রার্থীদের নাম পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দল যাকে যে আসনে মনোনীত করবে, তাকে বিজয়ী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওত পেতে রয়েছে। সুতরাং নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ, বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না যাতে প্রতিপক্ষ আপনাদের মধ্যকার বিরোধের সুযোগ নিতে পারে।’
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি সব মনোনীত প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র আরও জানায়, প্রথম ধাপের মনোনয়ন তালিকায় প্রায় ২০০টি আসনের প্রার্থী থাকতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় দুই শত আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি মনোনীত ও অমনোনীত সব প্রার্থীকে দলীয়ভাবে অনুমোদিত প্রার্থীর পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
১২৩ দিন আগে
অবশেষে ‘শাপলা কলি’ নিতে রাজি এনসিপি
নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’র জন্য অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে ‘শাপলা কলি’ নিতে রাজি হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা শাপলা কলি নেব। এখন এখানে আপনাদের একটা বিষয় থাকতে পারে, শাপলা নিয়ে কিন্তু আমরা এখনো ব্যাখ্যা পাইনি। নির্বাচন কমিশনের যে স্বেচ্ছাচারী আচরণ, কিন্তু এখন কি তাইলে আমরা প্রতীক নিয়ে পড়ে থাকব? আমরা কি ইলেকশন ফেজে (পর্যায়ে) ঢুকব না? তো সে জন্য আমরা বৃহত্তর স্বার্থটা চিন্তা করেই এই ডিসিশনটা (সিদ্ধান্ত) নিচ্ছি।’
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘শাপলা, সাদা শাপলা ও শাপলা কলিকে দলের প্রতীক হিসেবে চেয়ে ইসিতে চিঠি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। শাপলা কলি দেওয়া হলে এনসিপি নেবে। তৃণমূল কলিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমরা শাপলা কলি নিয়েও কিছু পজিটিভ সাড়া পেয়েছি। এটা শাপলার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে শাপলা কলি হয়েছে। অর্থাৎ শাপলাও আছে, কলিও আছে। সে জায়গায় নির্বাচন কমিশন আমরা যতটুকু চিন্তা করেছি, তারা একধাপ একটু বাড়িয়ে চিন্তা করে সেখানে কলি ও শাপলা যুক্ত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদেরকে (ইসি) আমরা আহ্বান জানিয়েছি যে দ্রুত গতিতে যাতে এনসিপির যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া এটা সম্পূর্ণ করে। আমরা যাতে আমাদের মাঠে প্রতীক নিয়ে যেতে পারি, সে বিষয়ে সুরাহা বা সমাধান করার জন্য। আগামীতে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ এবং শাপলা কলির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’
১২৪ দিন আগে
তৃণমূল ও মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে বিএনপির ৭ কমিটি
মূলধারার মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতে সাতটি টিম গঠন করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে একজন তত্ত্বাবধায়ক ও সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দলটি, যা ইতোমধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সাত টিম ও টিম প্রধানের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সমন্বিত কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ ছাড়া মুখপাত্র (স্পোকসপারসন) করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনকে। আর প্রেস দেখাশোনা করবেন সাংবাদিক সালেহ শিবলী।
টেলিভিশন ও রেডিও সমন্বয় করবেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের যে নেটওয়ার্ক, তার নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করবেন দলটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপোলো। কনটেন্ট জেনারেশন তত্ত্বাবধান করবেন ড. সাইমুম পারভেজ এবং রিসার্চ ও মনিটরিংয়ের বিষয়টি দেখবেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা রেহান আসাদ।
১২৫ দিন আগে