রাজনীতি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে নির্দলীয়, অপকর্মে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রশাসনে রাখা যাবে না: রিজভী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল ধারণাই হলো নির্দলীয়তা উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাই প্রশাসনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা উপদেষ্টা থাকতে পারে না।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গত ১৫ বছরে নানা ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত এবং যারা ফ্যাসিস্টদের রক্ষা করতে গিয়ে বেআইনি কাজ করেছেন, তাদের প্রশাসনে রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অনেকে প্রকাশ্যেই সহযোগিতা করেছিলেন। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপ নেবে, তখন তা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত; তাহলে বিগত ১৬ বছর যারা ভোটে বিশ্বাস হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে আস্থা ফিরবে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি মামলায় সাবেক ও বর্তমান ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এসব বিষয় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। যারা অপরাধী তাদের বিচার হওয়া উচিত, তবে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যেন না থাকে। আদালতের কাছে প্রমাণিত হলে তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে—আইনের চোখে সবাই সমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বা জুলাই মাসে গৃহীত জাতীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি এখন সর্বজনীন। দেশে চরম দলীয়করণের ফলে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী, কিন্তু ৫ আগস্টের পর বাস্তবতা বদলেছে, যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।’
পরিবেশ রক্ষায় বিএনপির উদ্যোগের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন— বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। দেশের পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় আমরা কাজ করব।’
১৩৫ দিন আগে
ভোটের সময় ৮ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আট দিনব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইসি। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির চার কমিশনার, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘মূলত পাঁচ দিনের ডেপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম করা হয়। সেখানে একটা প্রস্তাব এসেছে, এটা যেন আট দিন করা হয়। নির্বাচনের আগে তিন দিন নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে চার দিন। আমাদের ইনিশিয়াল প্রোগ্রামিং ছিল পাঁচ দিন। এখন প্রস্তাবনাটা আসছে, এটা আমরা পরীক্ষা করে দেখব।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আনসার-ভিডিপি থেকে আসবেন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ সদস্য।’
এ ছাড়াও নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য মাঠে কাজ করবে। তবে আরপিও সংশোধনের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, আইজিপি মহোদয় জানিয়েছেন যে, দেড় লাখ পুলিশ এই ইলেকশনে কাজ করবেন এবং সবচেয়ে বড় বাহিনীটা আসবে আনসার ভিডিপি থেকে। হোম সেক্রেটারি বলেছেন—বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে। কাজেই ভিজিলেন্সটা অনেক বেশিই হবে।’
সেনাবাহিনী ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে থাকবে, নাকি তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে থাকবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আরপিওটা সংশোধন হয়ে আসুক। দুটো মতামতই আছে, কিন্তু তাদের কন্টিনিউয়েশনের পক্ষেই আলোচনা হচ্ছে। ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার যেটা আছে...তার সঙ্গে আরপিও’র সাংঘর্ষিক যেন না হয়, সে জিনিসটা আমরা লক্ষ্য করব।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে, বৈঠকে কোনো শঙ্কার কথা আসেনি।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনেক কিছু নির্বাচনে বাজেটের উপর নির্ভর করবে। বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি লেফট্যানেন্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, নৌ-বাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বিমান বাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দিন আসাদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আনসার ভিডিপি অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, র্যাব হেডকোয়ার্টার মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান, এসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও অর্থ) জি এম আজিজুর রহমান, সিআইডি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিবগাত উল্ল্যাহ।
১৩৭ দিন আগে
‘কাউকে খুশি করার জন্য’ শাপলা প্রতীক দিচ্ছে না ইসি, দাবি সারজিসের
শাপলা প্রতীক দিতে কোনো আইনি বাধা নেই উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন কাউকে খুশী করার জন্য এ সিদ্বান্ত দিচ্ছেন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপি দিনাজপুর জেলা শাখার সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন কাউকে খুশি করার জন্য এ সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের দেখাক, কোন আইনে শাপলা প্রতীক এনসিপিকে দেওয়া যাবে না। যে নির্বাচন কমিশন একটি রাজনৈতিক দলকে শাপলা প্রতীক দিতে সৎ সাহস দেখাতে পারে না, তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
আগামীতে এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের সঙ্গে অন্যায় করে তাহলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন বলেছেন যে জুলাই সনদে এনসিপি এবং চারটি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর না করলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না—এ বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সারজিস বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ঠিক করবে, প্রভাব পড়বে কি পড়বে না। জুলাই অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক দলগুলো হাহাকার করত। কর্মসুচি দিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো লোক ছিল না। বড় বড় রাজনৈতিক দলের অফিসগুলোতে ১০ জন কর্মী ছিল।’
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলে সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে। নাম-কা-ওয়াস্তে জুলাই সনদ একটা কাগজ চান, সেটা জনগণ মেনে নেবে না।’
এ সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রধান সমন্বয়কারী ফয়সল করিম সোহেব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিভাগীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক ড. আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুর আহাদ। সমন্বয় সভায় দিনাজপুরের ১৩ উপজেলা থেকে এনসিপি নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
১৩৮ দিন আগে
কিছু দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: সালাহউদ্দিন
কিছু দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার জানা মতে, এনসিপি এবং চারটি বাম রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যেতে পারেনি। বলব না, স্বাক্ষর করেনি; স্বাক্ষর করার সুযোগ উন্মুক্ত আছে। আশা করি, তারা ভবিষ্যতে সনদে স্বাক্ষর করবেন। আগামী নির্বাচনের জন্য এটা বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সহনশীলতা সবার মধ্যে আসবে। হয়তো তাদের কিছু দাবি দাওয়া আছে। সেটা সরকারের সঙ্গে আলাপ করবে। এক পর্যায়ে তারাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর গণতন্ত্রের মধ্যে তো সবাই একমত হবে এমন তো নয়। সেটা উন্মুক্ত আছে। ভিন্ন মত থাকতেই পারে।’
এ সময় ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এখনো নানা উপায়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা নামে একটি সংগঠন আমাদের ও ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের একটা যৌক্তিক দাবি ছিল। সেই যৌক্তিক দাবিটা পূরণের জন্য আমি নিজেও স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম। এবং সেটা ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ সঠিকভাবে এড্রেস করেছেন, সেটা প্রেসে বলেছেন এবং সংশোধন করেছেন। এরপরও তাদের অসন্তোষ থাকার কথা নয়।
‘যে সমস্ত বিশৃঙ্খলা হয়েছে আমরা খোঁজ নিয়েছি। এটা তদন্তনাধীন আছে। দেখা গেছে, এখানে জুলাই যোদ্ধাদের নামে কিছু সংখ্যক ছাত্র নামধারী, কিছু সংখ্যক উশৃঙ্খল লোক ঢুকেছে। সেটা ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী যে এখনো সমস্ত জায়গায় এই বিভিন্ন ফাঁক-ফোকরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তা দৃশ্যমান হয়েছে। আমার মনে হয়, এখানে এটির সঙ্গে কোনো সঠিক কোনো জুলাই যোদ্ধা বা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে না।’
এর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
১৩৯ দিন আগে
শিক্ষকদের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে তাদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে সহমত পোষণ করেছে বিএনপি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপুর সই করা এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সাথে নীতিগতভাবে একমত।
তিনি বলেন, সর্বস্তরের শিক্ষকদের জন্য আমাদের অগ্রাধিকার হলো— যুক্তিসঙ্গত আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাসহ চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংস্কার কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমরা যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের আর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, তবে শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনকে পুঁজি করে পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা প্রদর্শন করবে না।
১৩৯ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় ৪ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন থেকে একযোগে চার শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।
ফুলের মালা পরিয়ে নবাগতদের দলে বরণ করে নেন জামায়াত নেতারা। এ সময় বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সলকসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিনের হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ, সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাসুদ অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমান উদ্দিন।
১৪২ দিন আগে
বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে বাঁচান: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর আমি নিজেই বুঝি না। জনগণ বুঝবে কী! গণভোট হতে হবে বা পিআর হতে হবে, না হলে ভোট হবে না— এইগুলো বাদ দেন। দেশের মানুষ একটি নির্বাচন চায়। পিআর দেশের মানুষ বোঝে না। পিআরটা আবার কি? আগে ভোট হোক, তারপর কার কী দাবি আছে সেটা সংসদে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আপনারা দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না।’
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যে সব মতে দলগুলো একমত সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, বাকি মতের জন্য গণভোট হবে। দয়া করে নির্বাচনটা দিয়ে এসব অস্থিরতা কাটান। আর হিংসার রাজনীতি চাই না, হিন্দু-মুসলিমের বিভেদ চাই না; সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অতীতে সরকারে ছিলাম, কীভাবে পরিচালনা করতে হয় জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যকটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশটার ক্ষতি করবেন না। একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো মনে হয় না। আপনাদের দাবিদাওয়াগুলো আপাতত বন্ধ রাখুন। আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। পিআর নিয়ে মিছিল-মিটিং বন্ধ করুন। দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন। বাংলাদেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের অস্থিরতা কাটুক। আপনাদের কাছে অনুরোধ, সঠিক সিন্ধান্ত নিন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর সংস্কার সনদে সই হবে। কিসের সংস্কার? সংস্কার কাকে বলে? কী কঠিন কঠিন শব্দ! তারপরও আমরা করছি। কারণ সংস্কার হলো ঘরের টিন বদলানোর মতো। ঘরের দরজা বা টিন যেমন কয়েক বছর পরপর বদলাতে হয়, তেমনি রাজনীতিতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ছাত্ররা মনে করেছে দেশটাকে ঠিক করতে হলে সংস্কার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি চাই না। আমরা চাই একটি শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার সবাই মিলে সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি ১১ বার কারাগারে গেছি। শেখ হাসিনা আমাকে ভয় করত, যে কারণে কারাগারে পাঠাত। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের অনেক ছেলে প্রাণ দিয়েছে। তাই আসুন সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করি।’
এ সময় গড়েয়া ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমতভক্তিবিনয় স্বামী মহারাজ, লসকরা গৌড়ীয় মঠ এর ধর্মীয় গুরু স্বামী ভক্তিকেতন মহারাজ, বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গড়েয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম রেদো।
১৪২ দিন আগে
দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন তারেক রহমান: আমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় আমান উল্লাহ আমান এ কথা বলেন। ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন ইনশাল্লাহ হবেই। আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে এসে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দেবেন।’
ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলন নিয়ে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎবাণী সত্য হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, তারেক রহমান যে কথাগুলো বলেছিলেন সেই কথাগুলো সত্য হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে। ফয়সালা কিন্তু রাজপথেই হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে। স্বাধীনতার সময় যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তারা আজকে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির নামে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচন বানচাল করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন দেখেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী, এরশাদবিরোধী আন্দোলন দেখেছেন, এতে সবচেয়ে বেশি দুর্যোগে, দুর্বিপাকে, দুঃসময়ে জনগণের পাশে ছিল জিয়া পরিবার, পাশে ছিল বিএনপি।’
সভায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিশেষ করে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ভূমিকার কথা স্মরণ করেন আমানউল্লাহ আমান।
১৪৪ দিন আগে
প্রতীক হিসেবে অনুমোদিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘শাপলা’ চায় বাংলাদেশ কংগ্রেস
শাপলা প্রতীকের দাবিতে যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনড়, ঠিক এ মুহূতে দলীয় প্রতীক হিসেবে জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।
কমিশন ‘শাপলা’কে দলীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দিলে ‘ডাব’ প্রতীকের পরিবর্তে প্রথম দাবিদার হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরই ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলামের সই করা এ আবেদনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর জমা দেওয়া হয়। ইসিতে দলটির দপ্তর সম্পাদক তুষার রহমান আবেদনপত্রটি জমা দেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে তাদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিও সংযুক্ত করা হয়।
আবেদনে পত্রে বাংলাদেশ কংগ্রেস বলেছে, ‘আমরা ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কংগ্রেস দলীয় প্রতীক হিসেবে “শাপলা” ব্যবহার করে আসছি। দলের প্রথম প্রচারপত্রে ন্যাচারাল ডিজাইনে শাপলার ব্যবহার হয়। পরে শৈল্পিক ডিজাইন করে সকল কাগজপত্রে “শাপলা” দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০১৭ সালে নিবন্ধনের আবেদন করার সময় নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, “শাপলা” জাতীয় প্রতীক এবং এটা দলীয় প্রতীক হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের উক্ত কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা “বই” প্রতীক প্রস্তাব করে আবেদন জমা দেই, যদিও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র ও দলীয় লোগোতে তখনও শাপলার ছবি ছিল।’
এতে আরও বলা হয়, ‘পরবর্তীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের রায় অনুসারে যখন বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর নিবন্ধন দেওয়া হয়, তখন আমরা “বই” প্রতীক দাবি করি, কিন্তু গেজেটভূক্ত প্রতীকের বাইরে প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয় বলে আমাদের “ডাব” প্রতীক নিতে বাধ্য করা হয়।
‘ডাব’ প্রতীকের পরিবর্তে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল থেকে ‘শাপলা’কে দলীয় প্রতীক হিসেবে চাওয়া হচ্ছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় প্রতীক ‘শাপলা’কে যদি দলীয় প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম দাবিদার বাংলাদেশ কংগ্রেসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা “ডাব” প্রতীকের পরিবর্তে “শাপলা” প্রতীক বরাদ্দের আবেদন জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিবন্ধন যদি আমাদের দিতে হয় এবং নিবন্ধন প্রশ্নে সেটা শাপলা দিয়েই হবে। শাপলা ছাড়া এনসিপির নিবন্ধন হবে না। এনসিপিও শাপলা ছাড়া নিবন্ধন মানবে না।’
এর আগে, ৫০টি প্রতীক থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিজেদের মার্কা বাছাই করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যে তালিকায় ছিল না শাপলা।
যে ৫০টি প্রতীক থেকে এনসিপিকে তাদের মার্কা পছন্দ করতে বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাঁপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ী, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
১৪৪ দিন আগে
এনসিপি গণতন্ত্রে উত্তরণে পথে বাধা সৃষ্টি করবে না, প্রত্যাশা সিইসির
শাপলা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে এনসিপি গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এছাড়া নির্বাচনের সময় ফ্যাক্টচেক না করে কোনো সংবাদ পরিবেশন না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচনের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
পরিষ্কার ও স্বচ্ছ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এবার লুকিয়ে, রাতের আঁধারে কোনো ভোট হবে না।
এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এসসিপির ধারণা আছে। তাই গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে এনসিপি বাধা সৃষ্টি করবে না বলেই প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, ‘যারা এনসিপির নেতৃত্বে আছেন, তারা ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান চলাকালে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন। তারা গণতন্ত্রায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না— সেটা আমি বিশ্বাস করি।’
সিইসি বলেন, কোনো দল যখন নিবন্ধন পায়, আমাদের যে নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা, সেখান থেকে তাকে প্রতীক নিতে হয়। যেহেতু শাপলা আমাদের তালিকায় নেই, তাই দিতে পারিনি। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে কাউকে প্রতীক দেওয়া হয়নি।
নতুন করে প্রতীক যোগ করতে অসুবিধা আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ‘কোনো অসুবিধা নেই’ বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনের সময় ভোট বা নির্বাচন কমিশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিষয় নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে সংবাদ পরিবেশন করতে দেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতি এসময় আহ্বান জানান সিইসি।
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৪৫ দিন আগে